Saturday, 28 September 2019

সৈয়দ আহমদ বেরলভী

বালাকোট থেকে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

মুহাম্মদ ওমর ফারুক

নবিংশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলাসহ সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এক সুসংগঠিত স্বাধীনতা আন্দোলন ভারতীয় মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সাইয়েদ আহমদ শহীদ। আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভারতে একটি অখণ্ড ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সুনিপুণ কর্মসূচি ও ঈমানী চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে এ আন্দোলনের কর্মসূচি পরিচালিত হলেও কতিপয় লোকের চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তা চূড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হতে পারেনি।
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত অবিভক্ত ভারতে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেস দেহলভীর চিন্তা চেতনায় যে ইসলামী রেনেসাঁর সৃষ্টি হয়েছিল, তার ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নসমূহের মধ্যে বালাকোটের ঘটনা অনন্য গুরুত্বের দাবিদার। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানী সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রায় বেরলভী) (১৭৮৬-১৮৩১), শিখ ও ইংরেজদের অধীনতাপাশ কাটিয়ে এবং তাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে স্বাধীন সার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে  নেতৃত্ব দেন। তিনি সাইয়েদ আহমদ বেরলভী নামেও সমধিক পরিচিত। তরিকতে মুহাম্মদী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি মুসলমানদের কাছে আমিরুল মোমেনীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অন্ধ্র প্রদেশ থেকে শুরু করে মর্দান পর্যন্ত এ বিশাল অঞ্চলে তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী শাসনব্যবস্থা চালু করেন।  মাওলানা সাইয়েদ মাজহার আলীকে প্রধান বিচারপতি, সুলতান মুহাম্মদকে গভর্নর জেনারেল, শাহ ইসমাইল মুহাদ্দিস দেহলভীকে প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত করে তার এ ইসলামী রাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
চরম মুসলিমবিদ্বেষী শিখ ও ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এ প্রচেষ্টায় ভীত হয়। তারা ছলেবলে কলা-কৌশলে উদীয়মান নবগঠিত এ মুসলিম প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এ জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তবর্তী কিছু বিশ্বাসঘাতকের সহায়তায় ১৮৩১ সালের ৬ মে ঐতিহাসিক বালাকোটের ময়দানে ইংরেজ সমর্থনপুষ্ট শিখদের বিশাল বাহিনী তাদের ষড়যন্ত্র সফল করে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এপ্রচেষ্টা সাময়িকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলেও এ ঘটনাটি ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখে যেতে সমর্থ হয়েছে।
সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) ১২০১ হিজরির ৬ সফর মতান্তর ১৭৮৬ সালে এলাহাবাদের রায়বেরলভীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স যখন ১৭-১৮ বছর তখন পিতা আলমুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ১৮০৪ সালের দিকে বিদ্যার্জনের জন্য তিনি দিল্লিতে শাহ আব্দুল আজিজ মোহাদ্দেস দেহলভীর নিকট গমন করেন। ১৮১৮ সালের দিকে তিনি পুনরায় দিল্লিতে আসেন। জীবনের এ সময়ে তিনি প্রায় ২ বছরকাল রোহিলাখণ্ড, আগ্রা, অযোধ্যার মিরাট, মুজাফ্ফার নগর, মুরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, লক্ষেèৗ, কানপুর ও বেনারসে অনেক মাহফিলে ধর্মীয় সংস্কার ও ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি আধ্যাত্মিক শিক্ষায় এত বেশি যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন যে, তৎকালীন বিখ্যাত উলামাগণ তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে মাওলানা ইমামুদ্দিন বাঙালি, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হাই, মাওলানা বেলায়াত আলী, মাওলানা ইয়াহইয়া আলী, বিপ্লবী আহমাদউল্লাহ এবং সুফী নূর মোহাম্মদ নিজামপুরীর মত ব্যক্তিরা তার আধ্যাত্মিক ও জিহাদী কর্মের সমর্থক ও অনুসারী ছিলেন।
তার আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের শিরক ও বিদআত মুক্ত করা, তৌহিদের মর্মবাণীর দিকে ফিরিয়ে নেয়া এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার পরিপূর্ণতা সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। সুফি তরিকা বা আধ্যাত্মিকতার প্রভাব তার আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
১৮২১ সালের দিকে প্রায় ৪০০ ভক্তসহকারে তিনি হজ পালনের জন্য মক্কায় গমন করেন। হজ থেকে ফিরে এসে তিনি দু’ভাবে তার সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
প্রথমত, সমাজ থেকে সকল কুসংস্কার ও যাবতীয় জুলুম নির্যাতন এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপ দূর করে মুসলমানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবন উন্নত করা।
দ্বিতীয়ত, ইংরেজ বেনিয়াদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠা করা।
সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) ভারতের প্রধান প্রধান শহরে তার প্রতিনিধি বা খলিফা নিযুক্ত করেন। পাটনাকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভারতের সর্বত্র জিহাদের প্রচারণা ও প্রস্তুতি শেষে তিনি জন্মভূমি রায়বেরলভী ত্যাগ করে কান্দাহার হয়ে নওশেরায় পৌঁছেন। মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকারী শিখদের ইসলাম গ্রহণ নতুবা বশ্যতা স্বীকার বা যুদ্ধের আমন্ত্রণ জানান। শিখরা যুদ্ধ করতে সম্মত হয়। মুসলমানরা এ যুদ্ধে জয়লাভ করে। ১৮২৪ সালের দিকে শিখদের আক্রমণে যখন মুসলমানদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ তখন তিনি ১৮২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হিজরতের জন্য রায়বেরলভী থেকে কাপলী, গোয়ালিয়র, ঠংকু, আজমীর, পালী, অসরকোট, হায়দরাবাদ, পীরকোট, মাজদাহী, শিকারপুর, বুলান, কোয়েটা, কান্দাহার, গজনী, কাবুল এবং জালালাবাদ হয়ে পেশোয়ারে পৌঁছান। পথিমধ্যে সাধারণ মুসলমানরা ছাড়াও তিনি ভাওয়ালপুর, বেলুচিস্তান, কান্দাহার ও কাবুলের শাসকদের জেহাদের জন্য আহ্বান জানান। পেশোয়ারবাসীরা শিখদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুুুরু করার জন্য তাকে অনুরোধ করে। স্থানীয় প্রায় লক্ষাধিক লোক তার বাহিনীতে যোগ দেয়। কিন্তু সীমান্তের সর্দাররা ছিল অর্থলোভী ও চরম স্বার্থপর। অর্থের প্রলোভনে উপজাতীয় মুসলিমরা শিখদের পক্ষাবলম্বন করলে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনী বিপর্যস্ত হয়। প্রায় ৭০০ জন মুজাহিদ নিয়ে ১০,০০০ মতান্তরে ২০,০০০ শিখ বাহিনীর মোকাবেলা করেছিল মুসলিমরা।
বালাকোটের যুদ্ধে শহীদ মুজাহিদদের সংখ্যা প্রায় ৩০০। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ৯ জন শীর্ষস্থানীয় মুজাহিদও ছিলেন। মাওলানা ইমামুদ্দিন বাঙালিসহ প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশী মুজাহিদ আহত হয়েছিলেন যাদের সকলে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। অন্যদিকে প্রায় ১০০০ শিখ নিহত হয়েছিল। শিখরা যুদ্ধশেষে বালাকোটের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে সেখানে তাদের নিহত শিখ সৈন্যদের দাহ করে। শিখদের অগ্নিসংযোগে মুসলমানদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিও সাধিত হয়।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাইয়েদ আহমাদ শহীদ ও ইসমাঈল শহীদের (রহ) প্রায় সকল রচনাবলি  ভস্মীভূত হয়।
উপমহাদেশের অন্য সকল স্থানের চেয়ে বালাকোট স্থানটি এ কারণে সর্বাধিক গুরুত্বের অধিকারী হয়ে রয়েছে যে, স্বাধীনতা আন্দোলন তথা ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষার পুনঃ প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের ইতিহাসে তা বিশেষ মর্যাদার আসন লাভ করেছে।

বালাকোটের শিক্ষা
৩৪০ ৩৩” উত্তর দ্রাঘিমাংশ এবং ৭৩০২১” পূর্ব অক্ষাংশের খাইবার-পাখতুনখায়  অবস্থিত মেনশেহরা শহরের ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি শহরের নাম বালাকোট। এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং খাইবার-পাখতুনখায়ার কাগান উপত্যকার প্রবেশদ্বারও বটে। লুলুসার হ্রদ থেকে উৎপন্ন কুনহার নদীটি এ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মিরের মুজাফ্ফারাবাদের ঝিলাম নদীতে গিয়ে মিশেছে। মূল যুদ্ধ ক্ষেত্রটি বালাকোট শহর বা জনপদ থেকে সাতবানে ঝরনার পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত, যেখান থেকে মেট্টিকোট ঝরণা ও মেট্টিকোট টিলার পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
আলোচ্য লেখার শিরোনাম ‘বালাকোট থেকে বাংলাদেশ’ দেখে অনেকে আশ্চর্যান্বিত হতে পারেন। তবে মূল শব্দ দুটোর মাঝে যে একটা বিশেষ মিল রয়েছে তা অস্বীকার করার কোন জো নেই। চেতনা আর লক্ষ্য উদ্দেশ্যের দিক থেকে বালাকোটের মুসলমানরা যে বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল, বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের মুসলমানরা আজো ইসলামবিরোধী শাসক ও মুসলিমবিদ্বেষী অমুসলিমদের নিকট থেকে তেমনি বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছে। আজ মুসলমানরা কাশ্মীরে ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুদের, ইরাক ও আফগানে ইঙ্গ-মার্কিন খ্রিষ্টানদের, ফিলিস্তিনে জায়নবাদী ইহুদিদের, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সমাজতন্ত্রী বৌদ্ধদের আক্রমণের শিকার। মুসলিম দেশগুলোতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দোসরদের অব্যাহত ষড়যন্ত্র ইসলাম ও মুসলিমদের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে প্রতিনিয়ত। বালাকোটের ময়দানে মুসলমানরা পরাজিত হওয়ার আগে যে রকম পরিকল্পিত আন্দোলন ও ঈমানী চেতনায় আন্দোলিত হয়েছিল আজ বিশ্বব্যাপী তেমন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মুসলমানদের বিশেষ করে আলেমদের প্রচেষ্টা প্রণিধানযোগ্য। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের যে অসীম সাহসিকতা প্রদর্শিত হয়, তা বালাকোট আন্দোলনেরই অংশ। ১৯৪৭ সালে মুসলমানদের জন্য আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা তথা পাকিস্তান এবং তারই পথ ধরে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সৃষ্টি, তার সবটাই বালাকোটের সুদূরপ্রসারী শিক্ষা।  মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার পশ্চাতে বালাকোটের আন্দোলনই ছিল সূচনাপর্ব। ঊনবিংশ শতকে এদেশে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজ বেনিয়াদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা মুসলমানরাই প্রথম শুরু করেছিল। আর সে জন্যই ইংরেজদের আক্রোশ ও আক্রমণের শিকার হয়েছিল মুসলমানরা। মুসলমানদের শাসন ক্ষমতা, জমিদারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি বাতিল করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে অমুসলিমদের ক্ষমতায়ন আর ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজিকে রাষ্ট্র ভাষা করে মুসলিমদের চাকরিচ্যুত করার যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করা হয়।
বালাকোটের ইসলামী আন্দোলন ভারতীয় উপমহাদেশের সকল সংগ্রামের জন্য অনুকরণীয় হলেও এর সাময়িক ব্যর্থতার পেছনে ইসলামবিরোধী শক্তির ঐক্যের গভীর মিল রয়েছে। আজকের মুসলিম বিশ্বে ইসলামী রেনেসাঁ ও ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রধান শত্র“ হচ্ছে স্বজাতীয় একশ্রেণীর স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতক বা বিভ্রান্ত গাদ্দার। তারা ইসলামী আন্দোলনের পদে পদে যে অন্তরায় সৃষ্টি করছে, বাইরের শত্র“রা তা আদৌ করতে পারে না।
অমুসলিম বা বাইরের শত্র“রা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে থাকে সাধারণত এসব মুসলিম নামধারী বিশ্বাসঘাতকের কাঁধে ভর করে।  সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ)ও তার ইসলামী আন্দোলনে  স্বজাতীয় শত্র“দের দ্বারাই বিপর্যস্ত হয়েছিলেন। ১৮৩১ সালের পর ১৭৯ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সে সময়কার শিখ ও ইংরেজ আশীর্বাদপুষ্ট জমিদার শ্রেণীর নির্যাতনের মতই আজকের মুসলিম উম্মাহর অবস্থা আরো বেশি সঙ্কটাপন্ন। বিশ্বব্যাপী মুসলিম মিল্লাতের এ করুণ দশা থেকে মুক্তি পেতে  আমরা  সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) এর শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারি।
সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) ইচ্ছা করলে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকার  মধ্যে ইসলাম প্রচারে কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে মহানবী (সা) এর জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলমানদের সাহায্য করেছেন। এমনকি ঈমান আকিদা রক্ষার্থে হিজরত পর্যন্ত করেছেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে জানমালের মায়া ত্যাগ করে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর চরম দুশমন আল্লাহদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বালাকোটের ময়দানে লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছেন। বর্তমান মুসলিম মিল্লাতের দুর্দিনে যারা ইসলামের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে চান, যারা ইসলামী জ্ঞানের ধারক ও বাহক আলেম সম্প্রদায়, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সর্বোপরি যারা নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন তাদের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বালাকোটের  সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) এর জীবন থেকে প্রকৃত ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা। তবেই মুসলিম জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বের বুকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ) এর আলোকিত জীবন হোক প্রাচুর্যের মিথ্যা মরীচিকায় ধোঁকা খাওয়া মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও অনুসারীদের জেগে ওঠার দুর্বার প্রেরণা।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্র সংবাদ

মে ২০১১

Friday, 27 September 2019

উত্তম চরিত্রের অপরিহার্যতা

আল্লাহ তাআলা বলেন-

من قتل مؤمنا متعمدا فجزاه جهنم خالدا فيها و غضب الله عليه و لعنه و أعد له عذابا عظيما - نساء آية 93 

   # রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

 عن القعقاع بن حكيم عن أبي صالح عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : إنما بعثت لأتمم صالح الأخلاق 

অর্থাৎ হজরত কাকা ইবনে হাকিম আবি সাহেল থেকে আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেন; আমি কেবল সচ্চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।

সূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন –

 
عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الزُّبَيْرِ يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ  الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ.

অর্থাৎ হজরত জাবের (রাযি.) বলেন আমি রাসূল (সা.) থেকে শুনেছি তিনি বলেন- মুসলিম একমাত্র ওই ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ। এই হাদিসটি সিহাহ সাত্তার সবগুলো কিতাবেই বর্ণিত হয়েছে। 

বুখারি থেকে আরেকটি রেওয়াত পড়ছি,

عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه و سلم قال
: المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه

অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- মুসলিম একমাত্র ওই ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ। মুহাজির একমাত্র ওই ব্যক্তি যে, আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বেঁচে থাকে। (বুখারি পৃষ্ঠা নং ১/১৩)

বুখারি হাদিস- 

عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال : لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فاحشا ولا متفحشا وكان يقول (إن من خياركم أحسنكم أخلاقا) 

অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীল ছিলেন না, অশ্লীলতা পছন্দও করতেন না। তিনি বলতেন- তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র উত্তম, সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি। এমন স্পষ্ট কথার ব্যাখ্যা করা লাগে না। 
 

মহান আল্লাহ সেই কথাই বলছেন,

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ 

অর্থাৎ ‘হে নবী ওহির মাধ্যমে আপনার প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে তা পাঠ করুন আর নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই সর্বপেক্ষা বড় জিনিস। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা জানেন’ (সূরা আনকাবুত : আয়াত ৪৫)। 

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
 
عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال إن الرجل ليدرك بحسن الخلق درجة الصائم القائم 

অর্থাৎ ‘একজন মানুষ সুন্দর চরিত্র মাধুর্য দ্বারা মর্যাদার যে উচ্চাসনে পৌঁছে যান, সে উচ্চাসনে নিয়মিত নফল আদায়কারী ও রোজাদারও তার নামাজ ও রোজার দ্বারা পৌঁছতে পারে।’ (মুসনাদ, ৪৭০, আদাবুল মুফরাদ ১০৭, মুজামুল কাবির ১৬৯) 

Tuesday, 24 September 2019

কবর পাকা করা

মাযার নির্মাণ, কিছু লোক আছে মাজার পাকা নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলে ভালকরে নিচে দেয়া হলো একটু পরুন, মাজার নিয়ে বেয়াদবি করবেন না, বেয়াদবি করলে আল্লাহর গজব পরবে আপনাদে উপর।

(১) কবরের অভ্যন্তরীন অংশ পোড়া ইটদ্বারা পাকা করা এবং ওখানে লাকড়ী স্থাপন করা নিষেধ। তবে পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করা জায়েয আছে। কেননা লাকড়ী ও ইটের মধ্যে আগুনের প্রভাব রয়েছে। কবরের বহিরাংশ সাধারণ মুসলমানদের বেলায় পাকা করা নিষেধ। কিন্তু বিশেষ বিশেষ উলামা ও মাশায়িখের জন্য জায়েয।
(২) কবরের চৌহদ্দি একহাত থেকে বেশী উঁচু করা নিষেধ। তবে যদি আশে-পাশে উঁচু করে কবরকে একহাত পরিমাণ উঁচু করা জায়েয।
(৩) কবরের আশে-পাশে বা কবরের সন্নিকটে কোন ইমারত তৈরী করা সাধারণ মুসলমানদের কবরের ক্ষেত্রে নিষেধ। কিন্তু ফকীহ ও আলিমগণের কবরের বেলায় জায়েয। এর দলীল সমূহ নিম্নে প্রদত্ত হলো।

কোরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণ

(১) মিশকাত শরীফের কিতাবুল জানায়েযের الدفن শীর্ষক অধ্যায়ে আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে- হযরত উছমান ইবনে মযউন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে যখন দাফন করা হয়, তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কবরের শিয়রে একটি পাথর রাখলেন এবং ইরশাদ ফরমান-

اَعْلَمْ بِهَا قَبْرَ اَخِىْ وَاُدْفِنُ اِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ اَهْلِىْ

আমরা এর দ্বারা নিজের ভাইয়ের কবর সনাক্ত করতে পারবো এবং এখানে স্বীয় আহলে বাইয়েত লাশ সমূহ দাফন করবো।

(২) বুখারী শরীফে কিতাবুল জানায়েয الجريد على القبرশীর্ষক অধ্যায়ে অন্য হাদীছের সনদের সাথে সংযুক্ত একটি হাদীছ হযরত খারেজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন আমরা হযরত উছমানের যুগে জীবীত ছিলেন:

اَنَّ اَشَدَّ نَا وَثُبِةَ الَّذِىْ يَثِبُ قَبْرَ عُثْمَانَ اِبْنِ مَظْعُوْنٍ حَتّى يُجَاوِزَهُ

তখন আমাদের মধ্যে সেই বড় লম্ফদানকারী ছিলেন, যিনি উছমান ইবনে মযউনের কবরকে অতিক্রম করতে পারতেন।

মিশকাত শরীফের রেওয়ায়েত থেকে বোঝা গেল- হযরত উছমান ইবনে মযউনের কবরের মাথার দিকে পাথর ছিল এবং বুখারী শরীফের রেওয়াতে থেকে বোঝা যায় তাঁর কবরের উপরিভাগ ঐ পাথরের দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। উভয় রেওয়ায়েতটা এভাবে একত্রিতকরণ করা যায় যে মিশকাত শরীফে কবরের মাথার দিকে যেই পাথর স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে এর অর্থ হচ্ছে কবরের উপরই মাথার দিক থেকে এটা স্থাপন করা হয়েছে। বা ভাবার্থ এটাও হতে পারে যে কবরটা সম্পূর্ন উক্ত পাথরের ছিল, কিন্তু এ হাদীছে শুধু শিয়রের কথা উল্লেখ হয়েছে। এ দু’হাদীছ থেকে এটা প্রমাণিত হলো যে কোন বিশেষ কবরের চিহ্ন বহাল রাখার জন্য কবরকে কিছু উঁচু করে দেয়া হয় বা পাথর ইত্যাদি দ্বারা পাকা করে দেয়া হয়, তা জায়েয আছে, যেন বুঝতে পারা যায় যে এটা কোন বুযুর্গের কবর। এর আগে আরও দুটি মাসআলা জানা গেছে। অধিকন্তু ফকীহগণ বলেন- যদি মাটি নরম হয় এবং লোহা বা কাঠের বাক্সে লাশ রেখে দাফন করতে হয়, তাহলে ভিতরের অংশের চারিদিকে মাটির সাথে মিলিয়ে দিন। (ফতওয়ায়ে শামী, আলমগীরী ও অন্যান্য কিতাবের دفن الميتঅধ্যায়ে দ্রষ্টব্য) এর থেকে আরও বোঝা গেল যে কবরের নিম্ন ভাগ কাঁচা হওয়া চাই। দুটি মাসায়েলই প্রমাণিত হলো।

(৩) উলামা মাশায়িখ ও আওলিয়া কিরামের মাযারের আশ-পাশে বা এর সন্নিকটে ইমারত তৈরী করা জায়েয। কুরআনে কারীম, সাহাবায়ে কিরাম ও সাধারণ মুসলমানদের আমল ও উলামায়ে কিরামের উক্তিসমূহ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআন কারীম আসহাবে কাহাফের কাহিনী বর্ণনা প্রসংগে ইরশাদ করেন-

قَلَ الَّذِيْنَ غَلَبُوْا عَلى اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ علَيْهِمْ مَسْجِدًا

তিনি বললেন, তাঁরা যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন (ইবাদত বন্দেগীতে) তাঁদের সেই স্মৃতির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা হবে।

তফসীরে রূহুল বয়ানে এ আয়াতের بُنْيَانًا ব্যাখ্যা প্রসংগে উল্লেখিত আছে-

لَايَعْلَمُ اَحَدٌ تُرْبَتَهُمْ وَتَكُوْنُ مَحْفُوْظَةً مِنْ تَطَرُّقِ النَّاسِ كَمَا حُفِظَتْ تُرْبَتُ رَسُوْلِ اللهِ بِالْحَظِيْرَةِ

তাঁরা প্রস্তাব দিলেন, আসহাবে কাহাফের জন্য এমন একটি প্রাচির তৈরী করুন, যা তাদের কবরকে পরিবেষ্টিত করবে এবং তাদের মাযার সমূহ জনগণের আনাগোনা থেকে হিফাজতে থাকবে, যেমন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার রওযা পাককে চার দেয়ালের দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাব আগ্রাহ্য হলো, মসজিদই নির্মাণ করা হলো।

উক্ত রূহুল বয়ানে مَسْجِدًا এর তাফসীর এভাবে করা হয়েছে-

يُصَلِّىْ فِيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ وَيَتَبَرَّ كُوْنَ بِمَكَانِهِمْ

জনগণ সেখানে নামায আদায় করবে এবং ওদের থেকে বরকত হাসিল করবে।

কুরআন কারীম সেসব লোকদের দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন;

এক আসহাবে কাহাফের আস্তানার পাশে গম্বুজ ও সমাধি তৈরী করার পরামর্শ;
দুই, ওদের সন্নিকটে মসজিদ তৈরী করার সিদ্ধান্ত ।

কুরআন করীম কোনটাকে অস্বীকার করেননি। যার ফলে প্রতীয়মান হলো যে, উভয় কাজটা তখনও জায়েয ছিল এবং এখনও জায়েয আছে। যেমন উসুলের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রমাণিত আছে- شَرَائِع قَبْلِنَا يَلْزِمُنَا (আগের যুগের শরীয়ত আমাদের জন্য পালনীয়) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত রওজা মুবারক হযরত সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম  উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যেই করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ। যদি এটা নাজায়েয হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরাম প্রথমে ওটা ভেংগে ফেলতেন, অত:পর দাফন করতেন, কিন্তু তা করলেন না। হযরত উমর ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম স্বীয় খিলাফতের যুগে এর চারিদিকে কাঁচা ইটের দেওয়াল তৈরী করে দিয়েছিলেন। অত:পর ওলিদ ইবনে আবদুল মালিকের যুগে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ায়ালা আনহু সকল সাহাবায়ে কিরামগনের জীবীত থাকা অবস্থায় ঐ ইমারতটাকে খুবই মজবুত করেছেন এবং এতে পাথর স্থাপন করেছেন। যেমন সাইয়্যিদ সমহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় خلاصة الوفا باخبار دار المصطفے নামক কিতাবের ১০ম পরিচ্ছেদের ১৯৬ পৃষ্টায় হুযুরা সম্পর্কিত আলোচনায় লিপিবদ্ধ করেছেন-

বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েযের مَاجَاءَ فِىْ قَبْرِالنَّبِىِّ وَاَبِىْ بَكْرِ وعُمَرَশীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ওরওয়াহ থেকে বর্ণিত আছে- ওলিদ ইবনে আব্দুল মালিকের যুগে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত রাওযা শরীফ উনার একটি দেওয়াল ধসে পড়ে গিয়েছিল। যখন اَخَذُوْا فِىْ بِنَائِه সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন একে মেরামত করার কাজে নিয়োজিত হলেন-

فَبَدَتْ لَهُمْ قَدْم فَفَزِعُوْا وَظَنُّوْا اَنَّهَا قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

তখন একটি পা মুবারক দৃষ্টিগোচর হলো। এতে উনার ঘাবড়ে গেলেন এবং মনে করলেন এটা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পবিত্র কদম মোবারক।

حَتّى قَالَ لَهُمْ عُرْوَةُ لَا وَاللهِ مَاهِىَ قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَام مَاهِىَ اِلَّا قَدَمَ عُمَرَ

শেষ পর্যন্ত হযরত ওরওয়া বললেন, খোদার কসম, এটা হুযুর আলাইহিস সালামের কদম নয়, এটা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক।

“জযবুল কুলুব ইলা দেয়ারিল মাহবুব” গ্রন্থে শেখ আব্দুল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি লিপিবদ্ধ করেছেন যে, ৫৫০ হিজরীতে জামাল উদ্দিন ইষ্ফাহানী তথাকার উলামায়ে কিরামের উপস্থিতিতে দেয়ালের চারিদিকে চন্দন কাঠের জালী তৈরী করে দিয়েছিলেন এবং ৫৫৭ হিজরীতে কয়েকজন ইসায়ী ধার্মিকের ছদ্মবেশে মদীনা শরীফে এসেছিলেন এবং সুড়ংগ খনন করে লাশ (দেহ) মুবারক বের করে নিতে চেয়েছিলেন। হুযুর আলাইহিস সালাম তৎকালীন বাদশাকে তিনবার স্বপ্ন দেখালেন। অত:পর বাদশাহতাদেরকে কতল করার নির্দেশ দিলেন এবং রওযা পাকের চারিদিকে পানির স্তর পর্যন্ত ভিত্তি খনন করে সীসা ঢেলে একে ভরাট করে দিয়েছিলেন। আবার ৬৭৮ হিজরীতে সুলতান কালাউন সালেহী সবুজ গম্বুজটা, যা এখনও মওজুদ আছে, তৈরী করিয়েছিলেন।

উপরোক্ত ভাষ্য থেকে এটা বুঝা গেল যে, পবিত্র রওযা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম তৈরী করিয়েছিলেন। যদি কেউ বলে, এটাতো হুযুর আলাইহিস সালামের বিশেষত্ব, এর উত্তরে বলা যাবে, এ রওযা শরীফে হযরত সিদ্দীক আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনাকেও দাফন করা হয়েছে এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকেও দাফন করা হবে। সুতরাং এটা হযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বৈশিষ্ট বলা যায় না। বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েয এবং মিশকাত শরীফের البكاء على الميت শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যখন হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম যখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন- ضَرَبَتْ اِمْرَ أتُه الْقُبَّةَ عَلى قَبْرِه سَنَةতখন উনার আহলিয়া উনার মাজার শরীফ উনার  উপর এক বছর পর্যন্ত গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর তৈরী করে রেখেছেলেন।

এটাও সাহাবায়ে কিরামের যুগে সবার বর্তমানে হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেন নি। অধিকন্তু তাঁর স্ত্রী ওখানে একবছর পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন, অত:পর ঘরে ফিরে আসেন। এ হাদীছ থেকে বুযুর্গানে কিরামের মাযার সমূহের কাছে খাদিমের অবস্থান করাটাও প্রমাণিত হলো। এ পর্যন্ত কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত করা হলো।
ফকীহ, মুহাদ্দীছ, তাফসীরকারীগণের উক্তি সমূহ

রূহুল বয়ানের তৃতীয় খন্ডে দশম পারায় اِنَّمَا يَعْمُرَ مَسَجِدَ اللهِ مَنْ اَمَنَ بِاللهِএ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।

উলামা, আওলিয়া ও বুযুর্গানে কিরামের কবরের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয যদি মানুষের মনে শ্রেষ্ঠতম ধারণা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; যাতে লোকেরা ঐ কবরবাসীকে নগণ্য মনে না করে।

মিরকাত শরহে মিশকাতের কিতাবুল জানায়েযে دفن الميت অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-

পূর্বসূরী আলেমগণ, মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয বলেছেন, যাতে লোকেরা যিয়ারত করে এবং বসে আরাম পায়।

শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী শরহে সফরুস সা’আদাত কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

শেষ জামানায় সাধারণ মানুষ যখন বাহ্যিক বেশভূষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেল, তখন মাশায়িখ ও বুযুর্গানে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করার প্রতি বিশেষ অভিপ্রায়ে জোর দেয়া হয়, যেন মুসলমান ও আওলিয়া কিরামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে হিন্দুস্থানে, যেথায় হিন্দু, কাফির ও অনেক শত্রুর অবস্থান, তথায় পুণ্যাত্মা মনীষীদের শান-মান প্রকাশ, সেসব কাফিরদের মনে ভীতি ও আনুগত্য সৃষ্টির সহায়ক। অনেক কাজ আগের যুগে মাকরূহ ছিল কিন্তু শেষ জামানায় মুস্তাহাবে রূপান্তরিত হয়েছে।

ফতওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড الدفن অধ্যায়ে লিখা আছে-

وَقِيْلَ لَايَكْرَهُ الْبِنَاءُ اِذَا كَانَ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَشَائِخِ والعُلَمَاءِ وَالسَّادَاتِ

যদি কবরবাসী মাশায়িখ, উলামা বা সৈয়দ বংশ থেকে কেউ হয়ে থাকেন, তার কবরের উপর ইমারত তৈরী করা মাকরূহ নয়।

সেই এক অধ্যায়ে দুর্রুল মুখতারে উল্লেখিত আছে-

لَايَرْ فَعُ عَلَيْهِ بِنَاء وَقِيْلَ لَابَأسَ بِه وَهُوَ الْمُخْتَارُ

কবরের উপর ইমারত তৈরী করা অনুচিত। কেউ কেউ বলেছেন, এতে কোন ক্ষতি নেই। এবং এ অভিমতটাই পছন্দনীয়।

কতেক লোক বলেন যে, শামী ও দুর্রুল মুখতারে ইমারতের বৈধতার কথাটা যেহেতু শব্দ فِيْلَ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, সেহেতু এ অভিমতটা দুর্বল। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। ফিকাহ শাস্ত্রে فِيْلَশব্দ ব্যবহারটা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং কোন কোন স্থানে একটি মাসআলার জন্য দু’টি মতামত ব্যক্ত করা হলে উভয় মতামতই فِيْلَ শব্দ দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা যায়। তবে হ্যাঁ, যুক্তি বিদ্যায় فِيْلَ শব্দটা দুর্বলতার নিদর্শন। কবরে আযান শীর্ষক আলোচনায় فِيْلَশব্দের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। তাহতাবী আলা মরাকিল ফলাহ গ্রন্থে ৩৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-

মিসরের লোকেরা কবর সমূহের উপর পাথর স্থাপন করে, যাতে বিলীন বা উচ্ছেদ হয়ে না যায় এবং কবরকে যেন পলেস্তারা করতে না পারে আর যেন কবরের উপর ইমারত তৈরী করতে না পারে। কেউ কেউ এগুলোকে জায়েয বলেন এবং এটাই গ্রহনযোগ্য ।

‘মীযানুল কুবরা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের শেষ কিতাবুল জানায়েযে ইমাম শারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

অন্যান্য ইমামগণের মতামত হচ্ছে, কবরের উপর ইমারত তৈরী করা এবং একে চুন দিয়ে আলপনা করা যাবে না। তা সত্বেও ইমাম আবু হানীফার বক্তব্য হচ্ছে এসব জায়েয। সুতরাং প্রথম উক্তিতে কঠোরতা এবং দ্বিতীয় উক্তিতে নমনীয়তা প্রকাশ পায়।

এখনতো আর কিছু বলার নেই। স্বয়ং মযহাবের ইমাম হযরত আবু হানীফার অভিমত পাওয়া গেল যে, কবরের উপর গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।

আল্লাহর শুকর, কুরআন হাদীছ ও ফিকাহের বিভিন্ন ইবারত এমনকি স্বয়ং ইমাম আবু হানীফার উক্তি থেকে প্রমানিত হলো যে, আওলিয়া ও উলামায়ে কিরামের কবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।
সুবিবেচকের কাছে গ্রহণযোগ্য
প্রথমত

এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, সাধারণ কাঁচা কবরের প্রতি জনগণের মনে তেমন কোন আদব বা সম্মানবোধক থাকে না, তাতে না ফাতিহা পাঠ করা হয়, না শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় বরং জনগণ একে পদদলিত করে। কিন্তু যদি পাকা কবর সামনে পড়ে এবং এর উপর গিলাফ ইত্যাদি চড়ানো দেখে, মনে করে যে এটা কোন বুযুর্গের মাযার হবে। তখন সসম্মানে একে অতিক্রম করে এবং আপনা থেকে মুখে ফাতিহা পাঠ এসে যায়। মিশকাতশরীফের الدفن অধ্যায়ে এবং মিরকাতে উল্লেখিত আছে জীবীত কালে এবং ইন্তিকালের পর একই রকম সম্মান করা উচিৎ। অনুরূপ ফতওয়ায়ে আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়াত এবং আশআতুল লুমআত গ্রন্থে الدفنঅধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, মা-বাপের কবরকে চুমা দেয়া জায়েয। ফকীহগণ আরও বলেন যে, কবর থেকে এতটুকু দূরত্বে বসবেন, যে পরিমাণ দূরত্বে কবরস্থ ব্যক্তির সামনে জীবীত অবস্থায় বসতেন। এর থেকে বোঝা গেল ইন্তিকাল হওয়া ব্যক্তি তার জীবীত থাকাকালিন সম্মানের সমঅধিকার। ইহজগতে আল্লাহর অলীগণ বাধ্যতামূলক সম্মানের অধিকারী ছিলেন। সুতরাং ইন্তিকালের পরও তাঁরা সম্মানের অধিকারী। কবরের উপর ইমারত তৈরী করা হচ্ছে সেই সম্মান প্রকাশের মাধ্যম বিশেষ। তাই তাকে কমপক্ষে মুস্তাহাব ধরে নেয়া যায়।
দ্বিতীয়ত

সমস্ত ইমারত সমূহের মধ্যে সরকারী ভবন বা মসজিদসমূহ হচ্ছে বিশেষ খ্যাত। যাতে লোকেরা অনায়াসে সেগুলোকে খুঁজে বের করে উপকৃত হতে পারে। উলামায়ে কিরামের বেশভুষা ও পোষাক-পরিচ্ছদ জ্ঞানী সুলভ হওয়া চাই। যেন লোকেরা তাদেরকে সনাক্ত করে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারে। অনুরূপ মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহ অন্যান্যদের কবর থেকে উন্নততর হওয়া চাই, যেন লোকেরা সনাক্ত করে ফয়েজ হাসিল করতে পারেন।
তৃতীয়ত

আল্লাহর ওলীগণের মাযার আল্লাহর নিদর্শন স্বরূপ, যেমন আমি ইতিপুর্বে তফসীরে রূহুল বায়ানের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহর নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রয়োজন, যা কুরআন দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং কবরসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন উচিৎ । সম্মান প্রদর্শন স্থান ও কাল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। যে কোন প্রকারের সম্মান প্রদর্শন, যদি তা ইসলাম বিরোধী না হয়, জায়েয। হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র যুগে হাড় ও চামড়ার উপর কুরআন লিখা হতো, মসজিদে নববী ছিল কাঁচা এবং এর ছাউনি ছিল খেজুর পাতার, যেখানে বৃষ্টির সময় পানি টপকিয়ে পড়তো। কিন্তু পরবর্তী যুগে মসজিদে নববীকে খুবই শানদার করে এবং রওযা পাককে একান্ত যত্ন সহকারে তৈরী করা হয়েছে, কুরআন শরীফকে উন্নতমানের কাগজ দ্বারা ছাপানো হয়েছে।

দুর্রুল মুখতারে কিতাবুল কারাহিয়ায় البيع শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখ আছে-

وَجَازَ تَحْلِيَة الْمُصْحَفِ لِمَا فِيْهِ مِنْ تَعْظِيْمِه كَمَافِى نَقْشِ الْمَسْجِدِ

এ প্রসংগে শাশীতে اى بالذهب والفضة দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন কারীমকে সোনা-চান্দি দ্বারা অলংকৃত করা জায়েয। কেননা এতে এর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায়, যেমন মসজিদে কারুকার্য করা হয়।

সাহাবায়ে কিরামের যুগে নির্দেশ ছিল কুরআনকে আয়াত, রুকু এবং ইরাব (যের যবর, পেশ ইত্যাদি) থেকে মুক্ত রাখুন। কিন্তু পরবর্তী যুগে যখন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তখন এসব কাজ বৈধ বরং আবশ্যক হয়ে গেছে। সেই একই জায়গায় আরও বর্ণিত আছে-

وَمَارَوِى عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ جرِّدُوْ الْقُرْ انَ كَانَ فِىْ زَمَنِهِمْ وَكَمْ مِنْشَيْئ يختَلِفُ بِاِخْتِلَافِ الزَّمَانِ وَالْمَكَانِ

ইবনে মসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত আছে কুরআনকে ইরাব ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখুন। এ আদেশটা তৎকালীন যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল কিন্তু অনেক বিষয় কাল ও স্থানের পরিবর্তনের ফলে পাল্টে যায়।

একই জায়গায় শামীতে আরও উল্লেখিত আছে কুরআনকে ছোট করে ছাপাবেন না অর্থাৎ ছোট আকারের করবেন না বরং এর কলম মোটা, হরফ বড় এবং আয়াত চিহ্ন স্পষ্ট হওয়া চাই। এসব নির্দেশ কেন? একমাত্র কুরআনের মর্যাদার জন্যই এসব নির্দেশাবলী। অনুরূপ প্রথম যুগে কুরআন তিলাওয়াত, আযান ও ইমামতির জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম ছিল, যা হাদীছ ও ফিকাহ গ্রন্থে বিদ্যমান আছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন বোধে জায়েয করা হয়েছে। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যুগে জীবিতদের জন্য ঘর তৈরী নিষেধ ছিল। জনৈক সাহাবী একটি পাকা ঘর তৈরী করেছিলেন। এতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাখোশ হয়েছিলেন এমনকি তাঁর সালমের জওয়াবও দেননি। ওই ঘরটি ভেংগে ফেলার পরই সালামের জবাব দিয়েছেন। [1] একই পরিচ্ছেদে অন্যত্র বর্ণিত আছে যে, হুযুর আলাইহিস সালাম ইরশাদ ফরমান-

اِذَالَمْ يَبَارَكْ لِلْعَبْدِ فِىْ مَالِه جعَلَهُ فِى الْمَاءِوَ الطِّيْنِ

সম্পদে না বরকত হয়, যদি তা ইটের কাজে ব্যয় করে।

কিন্তু এসব নির্দেশ থাকা সত্বেও মুসলমানগণ পরবর্তী যুগে পাকা ঘর তৈরী করেছেন এবং মসজিদও পাকা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয়! যারা আল্লাহর ওলীদের কবর সমূহ পাকা করা বা ওগুলোর উপর গম্বুজবিশিষ্ট ঘর তৈরী করাকে হারাম বলে, তারা নিজেদের ঘর সমূহকে কেন আলিশান পাকা করে?

اَتُوْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنِ بِبَعْضٍ

তারা কি কতেক হাদীছকে বিশ্বাস করে আর কতেক হাদীছকে অস্বীকার করে?

আল্লাহ তাদেরকে বোধ শক্তি দান করুন।

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...