Tuesday, 12 October 2021

চুল পরিপাটিকরণের ইসলামী পদ্ধতি নারী ও পুরুষ

চুল পরিপাটিকরণের ইসলামী পদ্ধতি

নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই চুলের সৌন্দর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাস্থ্যবান সুন্দর চুল শুধু সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না; বরং ব্যক্তিত্বের উপরও প্রভাব ফেলে। ইসলামে রয়েছে চুল পরিপাটি রাখার বিভিন্ন পদ্ধতি।

ইসলামে জন্ম পরবর্তী শিশুদের ক্ষেত্রে চুল ন্যাড়া করার বিধান প্রমাণিত [তিরিমিজী, আল-সুনান, ১৫২২]। চুল ন্যাড়া বলতে 'হালক' পদ্ধতি বুঝায়, যার অর্থ মাথার সমস্ত চুল ফেলে দেয়া। তবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আরবে ‘কাজা’  নামক একটি পদ্ধতি প্রচলিত ছিলো, তা একেবারে নিষিদ্ধ করা হয় [আবূ দাউদ, আস-সুনান, ৪১৪৭]। এটা হচ্ছে, মাথার কিছু অংশ মুন্ডন করা ও কিছু অংশ রেখে দেয়া। কপালের ওপরে কিছু চুল রেখে মাথার দু’পাশে চুল ফেলে দেয়া [বুখারী, আস-সহীহ, ৫৯২১]। ফলে বর্তমানে শর্ট কাট বা আন্ডার কাট, ক্লাসিক কাট, ফেড কাট, ক্রু কাট, বাজ কাট, লেয়ার স্পাইক, ইমো সুইপ ইত্যাদি সব-ই নিষিদ্ধ। চুল ছোট করতে হলে সমমাপে কাটতে হবে, যাকে কাসর পদ্ধতি বলা হয়। হজ্জ ও উমরা পালনকারীর জন্য হালক কিংবা কাসর দুই পদ্ধতির যে কোনো একটি করা আবশ্যক [আল-কুরআন, ২৭]। 

চুল কাটা-রাখার ক্ষেত্রে একটি নিয়ম কানের লতি পর্যন্ত চুল রাখা, হাদীসের তাকে ‘ওয়াফরা’ [আবূ দাউদ, আস-সুনান, ৪১৮৫] বলা হয়েছে। আরেকটি  ‘লিম্মা’ পদ্ধতি তথা ঘাড় ও কানের লতির মাঝামাঝি পর্যন্ত চুল রাখা [আবূ দাউদ, আস-সুনান, ৪১৮৭]। আরেকটি পদ্ধতির নাম ‘জুম্মা’ তথা ঘাড় পর্যন্ত চুল রাখা [আবু দাউদ, আস-সুনান, ৪১৮৩]। এ তিনটি পদ্ধতি আমাদের বাবরি পদ্ধতির সাদৃশ্যপূর্ণ। নবীজি (সা.) এ পদ্ধতিতে চুল রাখতেন-কাটতেন।

নবীজির (সা.) চুল মধ্যম প্রকৃতির ছিল; খুব কোঁকড়ানো নয়, আবার একেবারে সোজাও নয়। তা ছিলো দুই কাঁধ ও দুই কানের মাঝ বরাবর [মুসলিম, আস-সহীহ, ২৩৩৮]। তাঁর মাথার চুল দুই কানের অর্ধেক পর্যন্ত [মুসলিম, আস-সহীহ, ২৩৩৯] কিংবা লতি পর্যন্ত [আবূ দাউদ, আস-সুনান, ৪০৭২] বা দুই কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঝুলে থাকতো [বুখারী, আস-সহীহ, ৫৯০৩]। নবীজি (সা.) যেমন চুল ঝুলিয়ে রাখতেন, তেমনি মাথার দুই পাশের মাঝ বরাবর সিঁথিও কাটাতেন। সিঁথে কাটা ছিলো আরব মুশরিকদের পদ্ধতি আর ঝুলিয়ে রাখা ছিলো আহলু কিতাব ইহুদিদের পদ্ধতি। ইবন আব্বাসের (রা.) উপলব্ধি এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে নবীজিকে (সা.) কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি দু’টি পদ্ধতি-ই অনুসরণ করেছিলেন [বুখারী, আস-সহীহ, ৫৪৯২]। তিনি কখনো কলপ দেননি; তাঁর নিম্ন ঠোঁটের নীচের ছোট দাঁড়িতে এবং কানপট্টিতে আর মাথার মাঝে কিছু সাদা চুল ছিলো [মুসলিম, আস-সহীহ, ২৩৪১]।

নারীদের ক্ষেত্রে হলক পদ্ধতি ইসলামের নিষিদ্ধ [নাসাঈ, আস-সুনান, ৫০৪৮]। হজ্জ ও উমরায় নারীদের ক্ষেত্রে হালক নেই; তারা শুধু কসর পদ্ধতি অনুসরণ করবে [আবূ দাউদ, আস-সুনান, ১৯৮৫]। তাদের সমগ্র মাথার চুল একত্রে ধরে এক আঙুল পরিমাণ কাটতে হবে [সাইয়িদ সাবিক, ফিকহুস-সুন্নাহ , খ. ১, পৃ. ৭৪৩]। নারীরা একমাত্র স্বামীর জন্য সজ্জিত ও পরিপাটি করে তুলবার জন্য চুল ছোট করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নবীজির স্ত্রীদের থেকে  ‘ওয়াফরা’ পদ্ধতির সদৃশ হওয়া প্রমাণিত হয়েছে [মুসলিম, আস-সহীহ, ৩২০]। কারো মতে, ওয়াফরা পদ্ধতিতে চুল কাঁধের একটু নীচে থাকে। কারো কারো মতে, চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছায়।

আমাদের পুরুষদের উচিত এ ক্ষেত্রে আমাদের নবীজিকে (সা.) আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা এবং আমাদের নারীদের ‍উচিত এ ক্ষেত্রে আমাদের আম্মাজানদেরকে (রা.) আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা।

ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মহিলারা মসজিদে নামায পড়া

 

হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা. থেকে বর্ণিত –
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ. (مسند احمد : ২৬৫৪২)
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম. ইরশাদ করেন-
মহিলাদের উত্তম মসজিদ তাদের ঘরের অন্দরমহল। [মুসনাদে আহমদ : ২৬৫৪২]
 
হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-
عن أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه و سلم قالت قال رسول الله صلى الله عليه و سلم صلاة المرأة في بيتها خير من صلاتها في حجرتها وصلاتها في حجرتها خير من صلاتها في دارها وصلاتها في دارها خير من صلاتها خارج. (رواه الطبراني في الاوسط ورجاله رجال الصحيح : ৯১০১)
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ‘মহিলাদের জন্য নিজের ছোট কামরার নামায বড় কামরার নামাযের চেয়ে উত্তম। বড় কামরার নামায ঘরের আঙ্গিনার নামায থেকে উত্তম। বাড়ির নামায বাড়ির বাইরের নামায থেকে উত্তম। [আল মুজামুল আওসাত : ৯১০১]
 
হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত-
عن عائشة قالت كان نساء بني إسرائيل يتخذن أرجلا من خشب يتشرفن للرجال في المساجد فحرم الله عليهن المساجد وسلطت عليهن الحيضة.(اخرجه عبد الرزاق في مصنفه : ৫১২৮)
বনী ইসরাঈলের মহিলারা উঁচু উঁচু কাঠের পা বানিয়ে নিতো। যাতে মসজিদে গিয়ে এগুলো ব্যবহার করে উঁিক মেরে পুরুষদের দেখতে পায়। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা অসুন্তুষ্ট হয়ে তাদের মসজিদে যাওয়া হারাম করে দিয়েছেন এবং তাদের উপর ঋতুস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। [মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক : ৫১২৮]
 
হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সুত্রে বর্ণিত –
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ ্র صَلاَةُ الْمَرْأَةِ فِى بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهَا فِى حُجْرَتِهَا وَصَلاَتُهَا فِى مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهَا فِى بَيْتِهَا গ্ধ.(رواه ابو داود : ৫৭০)
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মহিলাদের ঘরের অভ্যন্তরে আদায়কৃত নামায ঘরের আঙ্গিনায় আদায়কৃত নামাযের তুলনায় উত্তম। ঘরের ভেতরের ছোট কামরায় আদায়কৃত নামায ঘরের অভ্যন্তরে আদায়কৃত নামাযের তুলনায় উত্তম। [আবু দাউদ : ৫৭০]
 
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু. থেকে বর্ণিত-
وعن عبد الله بن مسعود قال : إنما النساء عورة وإن المرأة لتخرج من بيتها وما بها من بأس فيستشرفها الشيطان فيقول : إنك لا تمرين بأحد إلا أعجبتيه وإن المرأة لتلبس ثيابها فيقال : أين تريدين ؟ فتقول : أعود مريضا أو أشهد جنازة أو أصلي في مسجد وما عبدت امرأة ربها مثل أن تعبده في بيته
তিনি বলেন, মহিলারা আপাদমস্তক পর্দায় থাকার বস্তু। নি:সন্দেহে মহিলারা নির্দোষ অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়। অতঃপর শয়তান তার প্রতি কুদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে, তুমি যার সামনে দিয়েই অতিক্রম করবে তার কাছেই পছন্দনীয় হবে। মহিলারা যখন কাপড় পরিধান করে তখন পরিবারের লোকজন জিজ্ঞেস করে, কোথায় যেতে চাচ্ছ ? তখন সে বলে, কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাচ্ছি। অথবা মাইয়্যেতের জানাযা পড়তে যাচ্ছি। অথবা মসজিদে নামায পড়তে যাচ্ছি। বস্তুত: মহিলাদের অন্দর মহলে ইবাদতের চাইতে কোন ইবাদাতই উত্তম নয়। আল্লামা তবরানী রহ. হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণনা করেছেন। (আল-মু‘জামুল কাবীর: খ: ৪ পৃ: ৫৮৭ হাদীস নং ৯৩৬৭)
 
বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে
যে সব মসজিদে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব মসজিদে আসা-যাওয়ার পথ নিরাপদ কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার মসজিদে যাওয়ার ফলে নারী কিংবা পুরুষদের মাঝে ফেতনার ক্ষীণ সম্ভাবনাও যেন না থাকে। যদি এর খেলাফ হয় তবে নারীরা মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ আদায় করাই শ্রেয়।
 
উম্মুল মু'মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিদ্দিকাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন;" মেয়েরা যা শুরু করেছে অর্থাৎ যেসব নতুন চালচলন তর্জ-তরীকা সৃষ্টি করেছে, যদি হযরত হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের দেখতেন।অর্থাৎ তা যদি নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জামানায় হতো। তাহলে, অবশ্যই তাদেরকে মসজিদ হতে বিরত রাখতেন যেমন বনি ইসরাইলের মেয়েদেরকে বিরত রাখা হয়েছিল। হযরত ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি বর্ণনাকারিণী মহিলা উনাকে বললাম ;” বনি ইসরাইলের মেয়েদেরকে মসজিদে গমন করতে কি নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বলেন, হ্যাঁ। (সহীহ বুখারী শরীফ,হাদীস শরীফ নং- ৮৬৯, সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদীস শরীফ নং- ৪৪৫) (মুয়াত্তা ইমাম মালিক শরীফ, হাদীস শরীফ নং-৪৫৪)
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন -
আল্লাহ পাক উনার কাছে মহিলাদের সবচেয়ে ঐ নামাজ অধিক প্রিয় যা ঘরের অন্ধকারময় কামরায় আদায় করা হয়।
(সহীহ ইবনে খুযায়মা ১৬৯১)
 
 নেক সুরতে ধোকার আরেকটা পথ খোলা হলো। আমাদের দেশের মানুষের নিরাপত্তা যেখানে খুবই কম, সেখানে মহিলাদের নামাজের দোহাই দিয়ে বাইরে আনার কাজ কোন শয়তানের বুদ্ধিতে? মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়া ফরজ/ওয়াজিব কিংবা সুন্নাতও না, অথচ পর্দা ফরজ।
 
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু. থেকে বর্ণিত-
عن ابن عمر عن النبي صلي الله عليه وسلم قال : صلاة المرأة وحدها تفضل على صلاتها في الجمع بخمس وعشرين درجة.(الجامع الصغير :২২৩/৪)
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মহিলাদের একাকী নামায জামাতের সাথে আদায়কৃত নামাযের থেকে পঁচিশগুণ বেশী ফযিলতপূর্ণ। [জামেউস সগীর : খ.৪ পৃ.২২৩]
 
বুখারী শরীফে আছে-
عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت لو رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أحدث النساء لمنعهن المسجد كما منعت نساء بني إسرائيل.فقلت لعمرة او منعهن؟ قالت نعم. (رواه البخاري في صحيحه : ৮৬৯)
হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, মহিলারা যেরূপ (সাজসজ্জা) সহ কিছু বিষয় বর্তমানে উদ্ভাবন শুরু করেছে তা যদি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যক্ষ করতেন; তাহলে অবশ্যই তাদের মসজিদে গমন করতে নিষেধ করতেন। যেমন বনী ইসরাঈলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছিলো। [বুখারী : ৮৬৯]
 
হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عن عائشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم “صلاة المرأة في بيتها خير من صلاتها في حجرتها وصلاتها في حجرتها خير من صلاتها في دارها وصلاتها في دارها خير من صلاتها فيما وراء ذلك” .(التمهيد لابن عبد البر : ৪০১/২৩)
মহিলাদের ছোট কামরার নামায বড় কামরার নামাযের চেয়ে উত্তম। বড় কামরায় নামায ঘরে আঙ্গিনার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর ঘরের আঙ্গিনার নামায অন্যান্য জায়গায় নামাযের তুলনায় উত্তম। [আত তামহীদ : খ.২৩ পৃ.৪০১]
 
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ‘ফাতওয়া’
عن عبد الله بن عباس أن امرأة سألته عن الصلاة في المسجد يوم الجمعة فقال صلاتك في مخدعك أفضل من صلاتك في بيتك وصلاتك في بيتك أفضل من صلاتك في حجرتك وصلاتك في حجرتك أفضل من صلاتك في مسجد قومك .(رواه ابن ابي شيب: ৭৬৯৭)
এক মহিলা ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু জুমার দিন মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমাদের শোয়ার ঘরে নামায আদায় করা ঘরে নামায পড়া থেকে উত্তম। ঘরে নামায পড়া আঙ্গিনার নামায থেকে । মহল্লার মসজিদে নামায আদায় করার চেয়ে। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ৭৬৯৭]
আরেক প্রকারের হাদীস হচ্ছে মহিলাদের মসজিদ গমন নিষিদ্ধ বিষয়ক। হাদীসগ্রন্থে অনেক হাদীস পাওয়া যায় যা দ্বারা মহিলাদের মসজিদে গমন নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়।
 
 

Tuesday, 5 October 2021

কুরআনের আজিব কারিশমা!! (এপোষ্ট কপিকৃত) ঘটনাটি আমেরিকার এক হসপিটালের।ঘটনাটির কারণে ওই হসপিটালের আমেরিকান ডাক্তার মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন।ঘটনাটি হলো এই হাসপাতালে একই দিনে দুটি বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়েছে।বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যিনি কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত থাকেন তিনি ঘটনাক্রমে সেইদিন উপস্থিত ছিলেন না।বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে প্রতিটা বাচ্চার হাতে একটি বেল্ট লাগানো হয়, যেখানে শিশুর মায়ের নাম সহ কিছু কোড নাম্বার লাগানো হয়। কিন্তু ঐদিন ডাক্তার উপস্থিত না থাকার কারণে হাতে কোন ধরনের বেল্ট লাগানো হয়নি। যেই কারনে বাচ্চা দুটো নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলো।কেননা একটি ছেলে সন্তান আরেকটি মেয়ে সন্তান।কোনটি কার সন্তান এটা নিয়ে পুরা হসপিটাল জুড়ে তোলপাড় শুরু হলো। ডাক্তার দের মিটিং ডাকা হলো এবং যিনি কর্তব্য রত ডাক্তার ছিলেন তিনি ডিউটি অবহেলার কারণে তাকে চাকরীচ্যুত করা হলো।কিন্তু যাদের সন্তান তারা এটা নিয়ে কিছুতেই সমঝোতা করতে রাজি নন। হসপিটাল এর এমডি যিনি ছিলেন তিনিও একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। তার এক বন্ধু ছিল মিশরীয় মুসলিম ডাক্তার তিনি তার শরণাপন্ন হলেন। তিনি তার বন্ধুকে বললেন ভাই আমরা বড়ই বিপদে রয়েছি।আশাকরি তুমি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে।তুমি সব সময় দাবি করো কুরআন যে কোন সমস্যার সমাধান করে থাকে।তাই সমস্যা নিয়ে তোমার কাছে এসেছি তুমি যে কোন উপায়ে এর একটা সমাধান খুঁজে বের করো।অতপর মিশরীয় ডাক্তার এই সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সফর করলেন। তিনি বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামের সাথে বৈঠক করলেন একজন বিজ্ঞ আলেম তাকে একটি আয়াত শুনালেন যা তার মনে ধরেছে।উল্লেখিত আয়াতের অর্থ হলো - একজন পুরুষের মিরাছের অংশীদারিত্ব দুজন মহিলার বরাবর। সূরা নিসা, আয়াত নম্বর ১১আয়াত শোনার পর তার মনে কম্পন সৃষ্টি হলো তিনি মনে মনে ভাবলেন নিশ্চয়ই এর মধ্যেই কোন সমাধান রয়েছে তিনি ভাবতে থাকলেন সারারাত ভাবার পর তিনি একটি ফয়সালায় পৌঁছালেন। এবং তার পরের দিনই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।তিনি আমেরিকায় পৌঁছে তার আমেরিকান বন্ধুকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন ইনশাআল্লাহ একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছি। আমেরিকান ডাক্তার আশ্চর্য হলেন বললেন সেটা কি? মিসরীয় ডাক্তার বললেন তুমি দুইজন মহিলার দুধ পরীক্ষা করাও।পরীক্ষা করতে হবে কার দুধের পরিমান কতটুকু?কার দুধে কতটুকু ভিটামিন রয়েছে?কার দুধে কতটুকু শর্করা রয়েছে?রিপোর্ট আশার পর দেখা গেলো একজনের চেয়ে দ্বিতীয় জনের দুধের পরিমান দ্বি গুন। ভিটামিন, শর্করা, মিনারেল সব কিছুই পরিমান প্রথম জনের তুলনায় দ্বিগুণ। আমেরিকান ডাক্তার হতভম্ব। কি ব্যপার এমন কেন?তখন তার বন্ধু মিশরীয় ডাক্তার তাকে কুরআনে কারীমার এই আয়াত শুনালো।"পুরুষের অংশ মহিলার চেয়ে দ্বিগুণ,বিস্তারিত বলার আগেই আমিরিকান ডাক্তারের সব বুঝা এসে গেল।মাই গড!! বলে তিনি চিৎকার করে উঠলেন।আর মিশরী ডাক্তার বলে উঠলেন আলহামদুলিল্লাহ। অর্থাৎ মেয়ে সন্তানের মায়ের চেয়ে ছেলে সন্তানের মায়ের সব দিক দিয়ে দ্বিগুণ বেশি।

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...