Friday, 14 September 2018

শফিক্বীয়া দরবার শরীফের মূলনীতি

শফিক্বীয়া দরবার শরীফের মহামান্য মুর্শিদ কিবলা মদ্দা জিল্লুহুল আলী এর বিভিন্ন সময়ে অছিয়ত-নছিহত থেকে সংগৃহীত।
                    - মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন শফিক্বী
১) আল্লাহ তাআলা ও নবী - রাসূল আলাইহিমুস সালাম প্রতি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদায় পরিপূর্ণ বিশ্বাসী হতে হবে।
২) নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান-মানে বিয়াদবি হয়, এমন আকিদা ও আমল থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩) শরিয়তের উপর পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। কারণ, শরিয়তের অনুসরণ ব‍্যতিত তরিকতের দাবি করা মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছুই নয়।
৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আন্তরিক মহব্বত করতে হবে, যেহেতু রসূলের মহব্বত ইমানের অঙ্গ এবং সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আঁকড়ে ধরতে হবে।
৫) আহলে বাইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আন্তরিক মহব্বত করতে হবে যেহেতু, তাঁদের মহব্বত ইমানের পরিচায়ক।
৬) মহব্বত ছাড়া অনুসরণ হয়না, আবার অনুসরণ ছাড়া মহব্বত হয়না।
৭) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নামাজ ছেড়ে কোন তরিকত নেই। আছে শুধু, শয়তানিয়‍্যত।
৮) আমাদেরকে নামাজ পড়তে হবে যেহেতু, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে নামাজ পড়ে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, আহলে বাইতে রাসূলগণ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীগণ, তবয়ে তাবেয়ীগণ, ইমামগণ ও আল্লাহর অলীগণ নামাজ পড়েছেন।
৯) ফজর, মাগরিব ও এশা নামাজের পর তরিকতের নির্ধারিত নিয়মে, অজিফা পড়তে হবে।
১০ কোনো ওয়াক্তের অজিফা বাদ পরলে অন‍্য ওয়াক্তে আদায় করে নিতে হবে।
১১) প্রতি দিন এশার নামাজের পর তরিকতের নির্ধারিত নিয়মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আহলে বাইতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মহব্বত সহকারে দরুদ শরীফ পড়তে হবে।
১২) বিশেষত: যারা দশ সবকের উপরে সবক পড়ে তাদেরকে নির্ধারিত তরিকতের অজিফার সাথে দরুদে আহলে বাইত - "আল্লাহুম্মা চল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মদিন ওয়া আলা আহলি বাইতিহি আলিয়‍্যিন ওয়াল হাসানি ওয়াল হুসাইনি ওয়া ফাতিমাতাজ জাহরা" ১২৫ বার পড়তে হবে।
১৩) দরুদ শরীফ পড়ার সময় খেয়াল করতে হবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজা শরীফ আমার সামনে, আমার দরুদ শরীফ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতেছেন।
১৪) সমস্ত হক্কানী-রব্বানী অলীয়াল্লাদের মহব্বত করতে হবে। অলীদেরকে মাথার তাজ মনে করতে হবে।
১৫) কোন মানুষ, আল্লাহর অলী, তরিকত ও তরিকত পন্থীদের প্রতি হিংসা - বিদ্বেষ পোষণ করা যাবে না। ঝগড়া - ঝাঁটি করা যাবে না। মনে করতে হবে, আমিই সবচেয়ে বড় গুণাগার।
১৬) পিতা, মাতা, উস্তাদ ও মুরুব্বিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তাদের সাথে বিয়াদবি করে; তাদেরকে অমান‍্য করে হাজারো তরিকতের করলেও ঠিকানা জাহান্নাম।
১৭) সবসময়ই মনে রাখতে হবে যে, হাজারো এবাদত করলেও
ক- আল্লাহ তাআলা হুকুম অমান্য করলে ঠিকানা জাহান্নাম।
খ) রাসূল কারিম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতে রাসূলের শান-মানে বিয়াদবী করলে ঠিকানা জাহান্নাম।
গ) সত্যিকারের আল্লাহর অলীদের সাথে বিয়াদবী করলে ঠিকানা জাহান্নাম।
গ) পিতা-মাতা ও উস্তাদের সাথে বিয়াদবী করলে ঠিকানা জাহান্নাম।
আল্লাহ! আমাদেরকে আমল করে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে সুখে ও শান্তিতে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন, বহুরমতে সাইয়‍্যিদিল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইয়া মাওলা-না, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...