Wednesday, 31 October 2018

হাদিস বাস্তবায়ন

মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পড়তে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে।”
– (সহীহ বুখারী ৫৩৭১)


বিজ্ঞান বলে, পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।


মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “ভ্রু প্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত”
– (সহীহ বুখারী ৫৫১৫)


বিজ্ঞান বলে, ভ্রু হলো চোখের সুরক্ষার জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা কাটা পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল হতে পারে, অথবা মৃত্যুবরণও করতে পারে।


রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম”
– (সহীহ বুখারী ৬১২৪)


বিজ্ঞান বলে, ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়। ধুম্পান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায় এমনকি স্মৃতিশক্তি ও কমে যায়।


রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম।”
– (মুসলিম ১৬৫৫)


বিজ্ঞান বলে, স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা স্কিনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।


রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে।
– (সহীহ বুখারী ৩২৮০)


বিজ্ঞান বলে, ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে। আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরীরে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।


রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ।”
– (সহীহ মুসলিম ৪৯৩ ও ৪৯৪)


বিজ্ঞান বলে, দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।


আল্লাহ সুবনাহু তায়ালা বলেন, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ।”
– (বনি ইসরাঈল ৩২) নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ (মাইদাহ ৯০)


বিজ্ঞান বলে, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশায় যদি কেউ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়া পরিচালনা করার ইনটেলেকচুয়াল সেলগুলো থরথর করে কাপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল ও অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে। এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।


আল্লাহ বলেন, “আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।”
– (আরাফ ২০৪)


বিজ্ঞান বলে, কুরআনের সাউন্ড ওয়েব শরীরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং ক্যান্সার রোগীদের। আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে, ঠিক যেমন ভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারীকে সচল করা হয়।


Sunday, 28 October 2018

در منقبت قطب الارشاد حضرۃ الحاج پیر سید حافظ منیر الدین صاحب قدس سرہ العزیز

من چہ گویم وصف آں حافظ منیر الدین ما
شیخ فعال است بے شک بود آں اہل صفا۔

قطب ارشاد است بود او از براۓ ایں زمان
مثل او پیر مغاں ہرگز ندیدم در جہاں

صد ہزاراں آفریں از بہر آں سید منیر
بود از بہر مریداں بے گماں بدر منیر

بود ہم اکسیر اعظم از برائے مر ماں
مرشد راہ صفا و فخر قوم سنیاں

یاالہی جنت الفردوس او کن عطا
ایں دعا مقبول گرداں از طفیل مصطفی

مرشد حق زندہ ماند بعد مردن ہے نکیر
باد نازل رحمت حق تا قیامت بر منیر

آمد در آستانہ شیر بنگلہ پر خطا
یک نظر بہر خدا کن اے منیر حق نما

Tuesday, 23 October 2018

مناقبات علماء المتقنين

قال المحدث العلامه عبد الله بن مبارك رحمه الله تعالى في شأن ابي حنيفة رحمه الله
لقد زان بلاد ومن عليها + أمام المسلمين ابو حنيفة
لآثار وفقه في حديث + كآيات الزبور على الصحيفة
فما في المشرقين له نظير + ولا بالمغربين ولا بكوفة


قال الغوث الاعظم عبد القادر الجيلاني رضي الله عنه هجري ٥٠٩ سنه ٣٨  عند روضة النبي صلى الله عليه وسلم ـ
في حالة البعد روحى كنت ارسلها
تُقبِل الارضُ عني وهي نائبتي
وهذه نوبةالاشباح قد حضرت
فامدد يمينك كي تُحظي بها شفتي.

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইসলামের আবির্ভাব

হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মগ্রহণের ৫০ বছর পরেই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। বর্তমান বাংলাদেশের…

মহানবী (সা.) বেঁচে থাকাকালীন বাংলাদেশে নির্মিত মসজিদ, জানেন কি সেই ইতিহাস?
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মগ্রহণের ৫০ বছর পরেই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। বর্তমান বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় আনুমানিক ৬২০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল। যার প্রমাণ মিলেছে বিভিন্ন ইসলামিক গবেষণার মাধ্যমে। লাল মনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস গ্রামের “মজেদের আড়া” নামক জঙ্গলে ১৯৮৭ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল প্রাচীন একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ। জঙ্গলটি খনন করে একটি ইট পাওয়া যায়।
এতে কালেমা তায়্যিবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। হিজরি ৬৯ অর্থ হলো ৬৯০ খ্রিস্টাব্দ। রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ হতে জানা যায়, রাসূল (সা.) -এর মামা বিবি আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০-৬২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)।
অনেকে অনুমান করেন যে, ৬৯০ খ্রিস্টাব্দের মসজিদটি আবু ওয়াক্কাস (রা.) নির্মাণ করেন। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরের পুরুত্ব সাড়ে ৪ ফুট।
মসজিদে চার কোণে অষ্টকোণ বিশিষ্ট স্তম্ভ রয়েছে। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ হতে পাওয়া যায় গম্বুজ ও মিনারের চূড়া (রংপুর জেলার ইতিহাস, পৃ. ১৬৪)।
এতে কালেমা তায়্যিবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। হিজরি ৬৯ অর্থ হলো ৬৯০ খ্রিস্টাব্দ। রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ হতে জানা যায়, রাসূল (সা.) -এর মামা বিবি আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রা.) ৬২০-৬২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)।
মতিউর রহমান বসনীয়া রচিত রংপুরে দ্বিনী দাওয়াত গ্রন্থেও মসজিদের এ মসজিদের বিশদ বিবরণ রয়েছে। লাল মনিরহাট জেলার এ প্রাচীন মসজিদ ও এর শিলালিপি দেখে আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের (১২০৪ খ্রি.) ছয়শ’ বছর আগেই বাংলা অঞ্চলে সাহাবী (রা.) দ্বারা ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিল।

Saturday, 20 October 2018

হাদিসে নূরের উপর এক কলম

তাখলিকে নূরে মোহাম্মাদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত হাদিসটি তাসনীফ করেছেন হাফিজুল কবির,মুহাদ্দিস মশহুর,
ইমাম আবদুর রাজ্জাক বিন হুম্মাম বিন নাফে  আল সানআনি (রহঃ).যিনি ইমাম  আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর উস্তাদ ,, ইমাম বুখারীর (রহঃ) উস্তাদের উস্তাদ..তাঁহার এই মুসান্নাফ
১১০০ আগে লেখা হয়েছে.সুবহানাল্লাহ ..
নবীজির নূর হওয়ার হাদিস নং-১৮
প্রকাশনা- বৈরুত ,লেবানন..
হাদিসে নূর এর সনদ পর্যালোচনা::
উক্ত সহীহ হাদিসের সনদের রাবীগণ বিশ্বস্ত এবং সিহা সিত্তার কিতাবে তাঁহাদের বর্ণিত অনেক হাদিস রয়েছে..বিশেষ করে জলিল কদর তাবেয়ী হজরত মোহাম্মদ ইবনে মোনকাদির (রহঃ) তাঁহার উস্তাদ সাহাবী হজরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদি.) থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেন.. তাবে তাবেয়ী হজরত আবু উরওয়া মুয়াম্মার বিন রাশিদ (রহঃ) বিশ্বস্ত..তিনি তাঁহার উস্তাদ হজরত ইবনে মোনকাদির (রহঃ) থেকে এবং মুহাদ্দিস ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহঃ) তাঁহার উস্তাদ হজরত মুয়াম্মার (রাদি.) এই সহীহ হাদিস বর্ণনা করেন..
বিখ্যাত ছাহাবী হজরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত..
হাদীস শরীফ –
ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺻﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺑﺎﺑﻲ ﺍﻧﺖ ﻭ ﺍﻣﻲ ﺍﺧﺒﺮﻧﻲ ﻋﻦ ﺍﻭﻝ ﺷﻴﻲﺀ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﺠﻌﻞ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻳﺪﻭﺭ ﺑﺎﻟﻘﺪﺭﺓ ﺣﻴﺚ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﻟﻮﺡ ﻭﻻ ﻗﻠﻢ ﻭﻻ ﺟﺘﺔ ﻭﻻ ﻧﺎﺭ ﻭﻻ ﻣﻠﻚ ﻭﻻ ﺳﻤﺎﺀ ﻭﻻ ﺍﺭﺽ ﻭﻻ ﺷﻤﺲ ﻭﻻ ﻗﻤﺮ ﻭﻻ ﺟﻨﻲ ﻭﻻ ﺍﻧﺴﻲ …. ﺍﻟﻲ ﺍﺧﺮ
অর্থ: হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানি হোক,
আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু! নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম সব কিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই নূর মুবারক আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা অনুযায়ী কুদরতের মাঝে ঘুরছিলো।আর সে সময় লওহো, ক্বলম, জান্নাত, জাহান্নাম,
ফেরেশতা, আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য,
মানুষ ও জ্বিন কিছুই ছিলো না। (“সংক্ষেপিত)
এই হাদীসটি অনেক বড় তাই সংক্ষেপ করা হয়েছে.
এই হাদীসটি সহ নবীজির নূর হওয়ার  অন্যান্য রেওয়ায়েত এসেছে.
# 1.দালায়েলুন নবুওয়ত/মুহাদ্দিস কবির, ইমাম হাফেজ আবু বকর বায়হাকী শাফেয়ী  (রহঃ)
# 2.মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (রহঃ)
# 3.মিরকাত শরহে মিশকাত কৃত মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ)
# 4.দাকাইকুল আখবার কৃত মুজাদ্দিদে দ্বীন,হুজ্জাতুল ইসলাম , ইমাম আবু হামিদ গাজ্জালী শাফেয়ী (রহঃ)
# 5.শরহে শামায়েলে তিরমিযী কৃত শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী শাফেয়ী (রহঃ)
# 6.ফতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী কৃত শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী শাফেয়ী (রহঃ)
# 7.দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩
# 8 মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া,,ইমাম কুস্তুলানী (রহঃ) ১/৯
# 9 মাদারেজুন নবুওয়াত ২/২
# 10. যুরকানী শরীফ ১/৪৬
# 11.তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৭/১০৫
# 12.সীরাতে হালবীয়া ১/৩০
# 13. নি’ মাতুল কুবরা,,ইমাম ইবনে হাজার হায়তামী মক্কী (রহঃ)
# 14.হাদ্বীকায়ে নাদীয়া  আল্লামা  আব্দুল গনি নাবলুসি (রহঃ) ২/৩৭৫
# 15. দাইলামী শরীফ ২/১৯১
# 16.মকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং মকতুব
# 17.মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ
# 18 রুহুল বয়ান শরীফ সহ প্রভৃতি নির্ভরযোগ্য দ্বীনি কিতাবাদীতে

বিখ্যাত নুর সম্পর্কিত সম্পূর্ণ হাদীসটি হলঃ


বিখ্যাত নুর সম্পর্কিত সম্পূর্ণ হাদীসটি হলঃ-
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, “তিনি বলেন- আমি আরজ করলাম, হে রাসুল আল্লাহ্ (সঃ), আপনার উপর আমার পিতা মাতা উৎসর্গিত, আল্লাহতালা সর্বপ্রথম কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে নবী করিম (সঃ) বলেন– হে জাবের, আল্লাহতালা সর্ব প্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর আপন নূর হতে তোমার নবীর নূর পয়দা করলেন। তারপর আল্লাহ্র ইচ্ছানুযায়ী সেই নূর পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল লউহে-মাহফুজ, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোজখ, না ছিল ফেরেশতা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জিন জাতি, না ছিল মানবজাতী। অতঃপর যখন আল্লাহ্ তালা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্ত করলেন, তখন ওই নূর কে চার ভাগ করে প্রথম ভাগ দিয়ে কলম, ২য় ভাগ দিয়ে লউহে-মাহফুজ, ৩য় ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা, ২য় ভাগ দিয়ে কুরশি, ৩য় ভাগ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। ২য় চার ভাগের অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার পুনরায় চার ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আকাশ, ২য় ভাগ দিয়ে জমিন, ৩য় ভাগ দিয়ে বেহেস্ত-দুজখ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে মোমেনদের নয়নের দৃষ্টি, ২য় ভাগ দিয়ে কালবের নূর তথা আল্লাহ্র মারেফত, ৩য় ভাগ দিয়ে তাদের মহবতের নূর তথা তাওহিদি কালেমা “লা ইলাহা ইল্লালাহু মহাম্মুদুর রাসুলাল্লাহ (সঃ)” সৃষ্টি করলেন এবং বাকি এক ভাগ দিয়ে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন।
[মূলসূত্রঃ- মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ভলি-০১, পৃ-৯৯, হাদীস নং-১৮; এই সহীহ হাদীসের কিতাবটি ইমাম বুখারী (রঃ) এর দাদা উস্তাদ মুহাদ্দীস আব্দুর রাজ্জাক (রঃ) কর্তৃক রচিত; প্রকাশনী- দার আল মুহাদ্দীস, রিয়াদ, সৌদি আরব,
বি:দ্র: খুশির খবর বহু বছর পর মুসান্নাফে অাব্দুর রজ্জাক সম্পাদিত অাসল কিতাবের নুরের অধ্যায়টি বর্তমানে উদ্ধার করা হয়েছে তা ইস্তান্বুলের জাদুঘরে সংরক্ষিত অাছে)))
হাদীসের সনদটি নিম্নরূপ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম>>জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়্যাল্লাহু আনহু>>মুহাম্মাদ বিন মুঙ্কদার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি>>মা’মার বিন রাশীদ>>আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি
এবার দেখা যাক প্রখ্যাত মুহাদ্দীগণের মন্তব্য:
(ক)হাফেজে হাদিস মুহাদ্দীস আব্দুল হক দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুবিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ ‘মাদারিজ নব্যুওত’ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।
(খ) আহমাদ ইবন সালীহ (রঃ) বলেন, “আমি একবার আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি হাদীস শাস্ত্রে আব্দুর রাজ্জাকের থেকে ভালো অার কাউকে পেয়েছেন? আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, না”। [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ২/৩৩১]
(গ) হাদীসটির একটি রাবী হলেন মা’মার বিন রাশীদ। উনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, আমি বাসরার সকল হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের থেকে মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকে মা’মার বিন রাশীদ এর সূত্রে পাওয়া হাদীসগুলো পছন্দ করি।
ইমাম ইবন হাজর আসকলানী (রঃ) উনাকে দক্ষ মুখস্তবীদ, নির্ভরযোগ্য বলেন। [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ১/৫০৫]
মা’মার বিন রাশীদ সূত্রে বর্ণিত বুখারী শারীফের হাদীস সংখ্যা প্রায় ২২৫ এবং মুসলিম শারীফে বর্ণিত হাদীস সংখ্যা প্রায় ৩০০
(ঘ) হাদীসটির আরেক রাবী হলেন মুহাম্মাদ বিন মুকদার। ইমাম হুমায়দি বলেন, মুকদার একজন হাফিজ ইমাম জারাহ তাদীল ইবন মা’ঈন বলেন, উনি নির্ভরযোগ্য [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ভলি ০৯/১১০৪৮]
মুকদার থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা বুখারী শারীফে ৩০টি এবং মুসলিম শারীফে ২২টি।
(ঙ) আর জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একজন সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী। বুখারী ও মুসলিম শারীফের উনার থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস আছে।
সুতরাং বুঝা গেল। হাদীসটির সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য এবং উনাদের সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শারীফে ও হাদীস বর্ণিত আছে।
নবীজি সাল্লাঅাল্লাহু অালাইহে ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম নুর এ সম্পর্কিত মুসান্নাফে অাব্দুর রাজ্জাক
আরবী মূল কিতাবের স্ক্যান কপিসহ বিস্তারিত দেখুন নিচের লিঙ্কে
http://alturath.info/hadeeth/abdel-razek/abdel-razek.htm
এবং এই হাদীস শরীফটিকে আরও যে সমস্ত কিতাবে সহীহ হাদীস হিসেবে মন্তব্য করে দলীল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে-
দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩; মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১/৯; মাদারেজুন নবুওয়াত ২/২; যুরকানী ১/৪৬; রুহুল মায়ানী ১৭/১০৫; সিরাতে হলবীয়া ১/৩০; মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃ; ফতোয়ায়ে হাদীসিয়া ১৮৯ পৃ; নি’ মাতুল কুবরা ২ পৃ; হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫; দাইলামী শরীফ ২/১৯১; মকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং মকতুব; মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ; ইনছানুল উয়ুন ১/২৯; নূরে মুহম্মদী ৪৭ পৃ; আল আনোয়ার ফি মাওলিদিন নবী ৫ পৃ; আফদ্বালুল ক্বোরা; তারীখুল খমীস; নুজহাতুল মাজালিস ১ খন্ড; দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃ; কাশফুল খফা ১/৩১১; তারিখ আননূর ১/৮; আনোয়ারে মুহম্মদীয়া ১/৭৮; আল মাওয়ারিদে রাবী ফী মাওলীদিন নবী; তাওয়ারীখে মুহম্মদ; আনফাসে রহীমিয়া; মা’ য়ারিফে মুহম্মদী; মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২/২৬০; নশরুতত্বীব ৫ পৃ; আপকা মাসায়েল আওর উনকা হাল ৩/৮৩; শিহাবুছ ছাকিব ৫০; মুনছিবে ইছমত ১৬ পৃ; রেসালায়ে নূর ২ পৃ; হাদীয়াতুল মাহদী ৫৬পৃ; দেওবন্দী আজিজুল হক অনুবাদ কৃত বুখারী শরীফ ৫/৩।
এ সম্পর্কে অারো কয়েকটি হাদিস শরীফ:
বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম আহমদ কুস্তালানী (রহঃ) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব মাওয়াহে লাদুনিয়ায় হযরত ইমাম জয়নাল আবেদীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি তাঁর পিতা হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি তাঁর পিতা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন,
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ” আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম সৃষ্টির ১৪০০০ বছর পূর্বে আল্লাহর নিকট নুর হিসাবে বিদ্যমান ছিলাম।”
[মাওয়াহেবে লাদুনিয়া, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯; যুরকানী শরীফ, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৬; সিরাতে হালভিয়া, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৩৭, হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিম, পৃষ্ঠা- ২৮, আনোয়ারে মুহাম্মদীয়া, পৃষ্ঠা- ০৯; ফতওয়ায়ে হাদিসিয়া, পৃষ্ঠা-৫১]
হাদিস :
عن حضرت ابي هريرت رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه
و سلم كنت اول النبين في الخلق واخرهم في البعث
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমি সর্বপ্রথম নবী হিসাবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি ( যমীনে প্রকাশ পেয়েছি) সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে।”
দলীল-
√ তাফসীরে বাগবী ৫/২০২
√ দূররে মানছুর ৫/১৮৪
√ শেফা ১/৪৬৬
√ মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬
√ কানযুল উম্মাল ৩১৯১৬
√ দয়লামী ৪৮৫০
হাদিস
عن ابن اباس رضي الله عنهما انه قال قال رسول الله صلي عليه و سلم اتاني جبريل عليه السلام فقال يا رسول الله صلي عليه و سلم لولاك ما خلقت الجنة ولولاك ما خلقت النار
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্নিত, নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই বলে পাঠিয়েছেন যে, আপনি যদি না হতেন তবে আমি জান্নাত ও জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না। ”
সুত্র-
√ কানযুল উম্মাল- হাদীস ৩২০২২
√ দয়লামী শরীফ
এ প্রসঙ্গে অারেকটি হাদিস:
কোন এক সময় “হযরত রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” হযরত জিব্রাঈল (আঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন ” হে ভাই জিব্রাইল! তোমার বয়স কত বৎসর হইয়াছে?”হযরত জিব্রাইল (আঃ) উত্তর করিলেন,” হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বয়স সম্পর্কে কিছুই বলিতে পারিনা। তবে আমি আপনাকে আমার বয়স সম্পর্কে এতটুকু তথ্য জানাইতে পারি যে, চতুর্থ আসমানে একটি উজ্জ্বল তারকা ছিল, উক্ত তারকাটি সত্তর হাজার বৎসর পর পর আসমানে একবার উদয় হইত। আমি উহাকে সত্তর হাজার বার উদয় হইতে দেখিয়াছি। এখন চিন্তা করুন আমার বয়স কত হইতে পারে ।”নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর এই উত্তর শুনিয়া ইরশাদকরিলেন “হে ভাই জিব্রাঈল! আমি আমার পরওয়ার দিগারের নামে শপথ করিয়া বলিতেছি যে, উক্তউজ্জ্বল তারকাটি আমিই ছিলাম।
(তাফসিরে রুহুল বায়ান প্রথম খন্ড ৯৭৪ পৃষ্টা,
ইমাম বুখারীর রহ: লিখিত তারিখ উল কাবির,
ইমাম অান নুবানি রহ: এর জাওয়াহিরুল নিহার কিতাব দৃষ্টাব্য)
নুর সম্পর্কিত
অারো অসংখ্য হাদিস শরীফ বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে যা বাতিলরা একবাক্যে জাল বলে সরাসরি সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করে!!
রাসুলে করিম (সাল্লাঅাল্লাহু অালাইহে ওয়াসাল্লাম) এর বানীকে মিথ্যা স্বাব্যস্ত করে!!!
তাদের অাল্লাহ হেদায়াত নসিব করুন!!-


নামাজের বৈজ্ঞানিক উপকারীতা

নামাজের বৈজ্ঞানিক উপকারীতা:
১) নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।
২) আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই তখন আমাদের চোখ যায় নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে বা সিজদাহর জায়গায় স্থির অবস্থানে থাকে, ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩) নামাজের মাধ্যমে আমাদের শরীরের একটি
ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।
৪) নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন
পরিবর্তন আসে।
৫) নামাজ মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে।
ফলে শারীরিক বিকলাঙ্গতা লোপ পায়।
৬) নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে। যেমন,
ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো
পরিষ্কার করা হয়; এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।
৭) নামাজে ওজুর সময় মুখমণ্ডল ৩ বার ধৌত করার ফলে আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।
৮) ওজুর সময় মুখমণ্ডল যেভাবে পরিষ্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে এক প্রকার মেসেস তৈরি হয়; ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলি রেখা কমে যায়।
৯) কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে; এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।
১০) নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনী শক্তি
বৃদ্ধি পায়।
১১) কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের
নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয়; ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায়কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় ।

Friday, 19 October 2018

মকতুবাত শরীফের সংকলন ইতিহাস

মকতুবাত শরীফ সংকলনের ইতিহাসঃ
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) ইন্তেকালের আগেই তিনজন খলিফাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন লিখিত মকতুবাত সমুহ একত্রিত করার জন্য।

১ম খন্ড একত্রিত করেন, জনাব ইয়ার মোহাম্মাদ জদীদ (রহঃ)।  এখানে ৩১৩ টি মকতুব রয়েছে।

২য় খন্ড একত্রিত করেন,  মাওলানা আব্দুল হাই ইবনে খাজা হেছারী (রহঃ)। এখানে ৯৯ টি মকতুব রয়েছে।

৩য় খন্ড একত্রিত করেন, খাজা মোহাম্মাদ হাশেম (রহঃ)। এখানে ১২৪ টি মকতুব রয়েছে।

এভাবে সর্বমোট ৫৩৬ টি মকতুব একত্রিত করা হয়।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) প্রণীত মকতুবাত শরীফ নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদিয়া  তরিকার বিষদ আলোচনা ও সঠিক ব্যখ্যা সম্বলিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ রুপে সর্বত্র গৃহীত ও সমাদৃত। 

এই গ্রন্থখানি মুলত উচ্চস্তরের ফার্সী ও আরবী  ভাষায় হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী ( রহঃ)  কর্তৃক তাহাঁর মুরিদানের নিকট  লিখিত শরীয়ত,  তরিকত,  হাকিকত ও মারেফত সম্বলিত পত্রাবলীর সংকলন।  যাহা এলেমে তাছাউফ এবং জাহেরী শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসরন,  আকিদা বিশ্বাস দুরস্ত করা,  নিয়াত বিশুদ্ধ ও চরিত্র সংশোধন করার জন্য অত্যন্ত জরুরী গ্রন্থ।

এই মুল্যবান গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন,  হযরত শাহ মুহাম্মদ মুতি আহমদ আফতাবী (রহঃ)।  এই গ্রন্থটি সম্পর্কে অনুবাদক বলেন, শেষ জমানায় ফেতনা ফাছাদ ও বিষাক্ত মতবাদ সমুহের কবল হইতে স্বীয় দ্বীন ঈমান রক্ষা করনার্থে এই কেতাব খানা যে একমাত্র সম্বল তাহা বলাই বাহুল্য।

অনুবাদক মাওলানা শাহ্‌ মোঃ মুতী আহমদ আফতাবী (রহঃ) আরো লিখেন,

আধ্যাত্মিক পথে একমাত্র অবলম্বন এই মকতুবাত শরীফ।  শৈশব হইতে ইহার যেরুপ আলোচনা দেখিয়াছি ও শুনিয়াছি ইদানীং তাহার শত অংশের এক অংশ, বরঞ্চ সহস্রের এক অংশ পরিদৃষ্ট হইতেছে না।পাঠক থাকিলেও শ্রোতা নাই।বিনা শ্রোতায় পঠন বিফল। আল্লাহ্‌ -রাসুলের আলোচনা দেখিলেই সকলে যেন সরিয়া পড়ে।ইহার প্রতি কাহারও কোন আগ্রহ নাই।যদি কেহ শ্রবন করে তাহাও অরুচির সহিত ; পিত্ত প্রবল ব্যক্তির শর্করা ভক্ষনের ন্যায়। অন্তরের তমশা ও ব্যধির জন্যই যে তাহাদের এই দুরবস্থা তাহার অবগতিও তাহাদের নাই,  এবং বলিলেও বিশ্বাস করে না।

অনুবাদক বাংলায় অনুবাদ করার সময় ১ম খন্ডটি ৩ ভাগে ভাগ করে প্রকাশ করেন পাঠকের সুবিধার কথা ভেবে।
১ম খন্ড ১ম ভাগ
১ম খন্ড ২য় ভাগ
১ম খন্ড ৩য় ভাগ

আরবী-ফার্সী ভাষায় লিখিত ২য় ও ৩য় খন্ড অপরিবর্তিত রেখে মোট ৫ খন্ডে বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

এখানে পদ্য গুলো পদ্যে এবং গদ্য গুলো গদ্যে অনুবাদ করা হয়।

মকতুবাত শরীফে বর্ণিত আছে,
" তোমরা আল্লাহর জেকের অত্যধিক করো,  তবেই তোমরা উদ্ধার পাইবে " ( আল কোরআন)
অতএব অধিক জেকের করাই নির্ধারিত করা উচিত এবং  যাহা কিছু ইহার প্রতিবন্ধক হয় __ তাহাকেই শত্রু বলিয়া জানা আবশ্যক।  ইহাই উদ্ধারের ব্যবস্থা।
বাহকের প্রতি বার্তা পৌঁছানো ব্যতিত কোন কর্তব্য নাই। 

" সাবধান হও!  আল্লাহর জেকের দ্বারাই অন্তর সমুহ শান্তি প্রাপ্ত হয়।  __ আল্লাহর অকাট্য বানী।

এই জেকের করার সুযোগ এবং ইহার অপর সুদৃঢ় থাকা আল্লাহ্‌  তায়ালার নিকট প্রার্থনীয়,  যেহেতু ইহাই কার্যের মূল।

লেখক: হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী ( রহঃ) 
মকতুব নং ২০৬
মকতুবাত শরীফ,  ১ম খন্ড ২য় ভাগ--।।

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...