মকতুবাত শরীফ সংকলনের ইতিহাসঃ
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) ইন্তেকালের আগেই তিনজন খলিফাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন লিখিত মকতুবাত সমুহ একত্রিত করার জন্য।
১ম খন্ড একত্রিত করেন, জনাব ইয়ার মোহাম্মাদ জদীদ (রহঃ)। এখানে ৩১৩ টি মকতুব রয়েছে।
২য় খন্ড একত্রিত করেন, মাওলানা আব্দুল হাই ইবনে খাজা হেছারী (রহঃ)। এখানে ৯৯ টি মকতুব রয়েছে।
৩য় খন্ড একত্রিত করেন, খাজা মোহাম্মাদ হাশেম (রহঃ)। এখানে ১২৪ টি মকতুব রয়েছে।
এভাবে সর্বমোট ৫৩৬ টি মকতুব একত্রিত করা হয়।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) প্রণীত মকতুবাত শরীফ নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার বিষদ আলোচনা ও সঠিক ব্যখ্যা সম্বলিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ রুপে সর্বত্র গৃহীত ও সমাদৃত।
এই গ্রন্থখানি মুলত উচ্চস্তরের ফার্সী ও আরবী ভাষায় হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী ( রহঃ) কর্তৃক তাহাঁর মুরিদানের নিকট লিখিত শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত সম্বলিত পত্রাবলীর সংকলন। যাহা এলেমে তাছাউফ এবং জাহেরী শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসরন, আকিদা বিশ্বাস দুরস্ত করা, নিয়াত বিশুদ্ধ ও চরিত্র সংশোধন করার জন্য অত্যন্ত জরুরী গ্রন্থ।
এই মুল্যবান গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন, হযরত শাহ মুহাম্মদ মুতি আহমদ আফতাবী (রহঃ)। এই গ্রন্থটি সম্পর্কে অনুবাদক বলেন, শেষ জমানায় ফেতনা ফাছাদ ও বিষাক্ত মতবাদ সমুহের কবল হইতে স্বীয় দ্বীন ঈমান রক্ষা করনার্থে এই কেতাব খানা যে একমাত্র সম্বল তাহা বলাই বাহুল্য।
অনুবাদক মাওলানা শাহ্ মোঃ মুতী আহমদ আফতাবী (রহঃ) আরো লিখেন,
আধ্যাত্মিক পথে একমাত্র অবলম্বন এই মকতুবাত শরীফ। শৈশব হইতে ইহার যেরুপ আলোচনা দেখিয়াছি ও শুনিয়াছি ইদানীং তাহার শত অংশের এক অংশ, বরঞ্চ সহস্রের এক অংশ পরিদৃষ্ট হইতেছে না।পাঠক থাকিলেও শ্রোতা নাই।বিনা শ্রোতায় পঠন বিফল। আল্লাহ্ -রাসুলের আলোচনা দেখিলেই সকলে যেন সরিয়া পড়ে।ইহার প্রতি কাহারও কোন আগ্রহ নাই।যদি কেহ শ্রবন করে তাহাও অরুচির সহিত ; পিত্ত প্রবল ব্যক্তির শর্করা ভক্ষনের ন্যায়। অন্তরের তমশা ও ব্যধির জন্যই যে তাহাদের এই দুরবস্থা তাহার অবগতিও তাহাদের নাই, এবং বলিলেও বিশ্বাস করে না।
অনুবাদক বাংলায় অনুবাদ করার সময় ১ম খন্ডটি ৩ ভাগে ভাগ করে প্রকাশ করেন পাঠকের সুবিধার কথা ভেবে।
১ম খন্ড ১ম ভাগ
১ম খন্ড ২য় ভাগ
১ম খন্ড ৩য় ভাগ
আরবী-ফার্সী ভাষায় লিখিত ২য় ও ৩য় খন্ড অপরিবর্তিত রেখে মোট ৫ খন্ডে বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
এখানে পদ্য গুলো পদ্যে এবং গদ্য গুলো গদ্যে অনুবাদ করা হয়।
মকতুবাত শরীফে বর্ণিত আছে,
" তোমরা আল্লাহর জেকের অত্যধিক করো, তবেই তোমরা উদ্ধার পাইবে " ( আল কোরআন)
অতএব অধিক জেকের করাই নির্ধারিত করা উচিত এবং যাহা কিছু ইহার প্রতিবন্ধক হয় __ তাহাকেই শত্রু বলিয়া জানা আবশ্যক। ইহাই উদ্ধারের ব্যবস্থা।
বাহকের প্রতি বার্তা পৌঁছানো ব্যতিত কোন কর্তব্য নাই।
" সাবধান হও! আল্লাহর জেকের দ্বারাই অন্তর সমুহ শান্তি প্রাপ্ত হয়। __ আল্লাহর অকাট্য বানী।
এই জেকের করার সুযোগ এবং ইহার অপর সুদৃঢ় থাকা আল্লাহ্ তায়ালার নিকট প্রার্থনীয়, যেহেতু ইহাই কার্যের মূল।
লেখক: হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী ( রহঃ)
মকতুব নং ২০৬
মকতুবাত শরীফ, ১ম খন্ড ২য় ভাগ--।।
No comments:
Post a Comment