▒█ পবিত্র শবে মিরাজ শরীফ বা পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
1. أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، وَفِيهِ بَعَثَ اللهُ مُحَمَّدًا “، ” وَرُوِيَ ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ آخَرَ أَضْعَفُ مِنْ هَذَا كَمَا ”
অর্থ : হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী, হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “রজবে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যে এদিন রোজা রাখবে, আর রাত জেগে ইবাদত করবে, তবে সে যেন ১০০ বছরের রোজা রাখল এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলো, আর তা হচ্ছে রজবের ২৭ তারিখ।”
★ শোয়ায়বুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস : ৩৫৩০
★ ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৬
★ জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬, হাদীস : ১৪৮১২ ★ কানযুল উম্মাল ১২/৩১২, হাদীস : ৩৫১৬৯
★ জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)
2. أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: ” فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ ”
অর্থ : রজব মাসে একটি রাত আছে ওই রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো ২৭মে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য কোন আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ (দুরুদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নক্তো দুআ ১০০ বার পাঠ করবে-
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ
অতপর ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণকর যত দু‘আই করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দু‘আই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুণাহের কাজে জন্য দু‘আ ব্যতীত।
★ শোয়াবুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬পৃ, হাদিস : ৩৫৩১
★ ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৭ , হাদীস : ১২
★ জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস : ১৪৮১২ ★ কানযুল উম্মাল ১২/৩১২, হাদীস : ৩৫১৬৯
সংশোধনঃ
শোয়ায়বুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০ এর স্থলে
শুয়াবুল ঈমান ৩য় খন্ডের ৩৭৩ ও ৩৭৪ নং পৃষ্ঠার ৩৮১১ ও ৩৮১২ নং হাদীছ শরীফ হবে।
অনাকাংখিত ভুলের জন্য দুঃখিত।
শবে মেরাজ ও রজব মাসের বিশেষ আমল সমূহের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।
বর্তমানে আমাদের সমাজে রজব মাস এবং শবে মেরাজের ফযীলত নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কাঁদা ছোড়া ছুড়ি হচ্ছে। তাই বিষয়টা উম্মতের সামনে খোলাসা হওয়ার প্রয়োজন মনে করছি। আকাবির ও আসলাফের তাহকিকের আলোকে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব ইনশাআল্লাহ।
সেই সাথে 'রজব' মাসের বিশেষ আমল ও শবে মেরাজ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিসের 'মান'(দালিলিক গ্রহনযোগ্যতা)নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব।
১.জান্নাতে রজব নামে একটি নদী আছে।যার পানি দুধের মত সাদা।যে ব্যক্তি রজব মাসে রোজা রাখবে আল্লাহ পাক তাকে কেয়ামতের দিন ওই নদীর পানি পান করাবেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। সুত্রঃ মকছুদুল মোমেনিন-২৪১(রাহমানিয়া লাইব্রেরী)
অথচ এই রেওয়ায়েতটি সম্পুর্ন রুপে জাল।
দেখুনঃআল ইলালুল মুতানাহিয়া-২/৫৫৫ মিযানুল ই'তিদাল-৪/১৭৩ লিসানুল মিযান-৮/১৭০ ফয়যুল কাদির-২/৪৭০ আল মুগীর লি আহমাদ আল গুমারী-২৯ আল মুদাভী লি আহমাদ গুমারী-২/৩৬২
২.যে ব্যাক্তি রজবের সাতাশ তারিখে রোজা রাখবে আল্লাহ পাক তার আমল নামায় ষাট মাস রোজা রাখার সওয়াব লিখে দিবেন। -খোতবাতুল আহকাম-১৪৮
এই হদিসটি কোন সুত্রেই প্রমানিত নয়।
দেখুনঃআল আবাতিল ওয়াল মানাকির-৩৪৬-৩৪৭ আহাদিসু মুখতারা মিন মওযুআতিল জাওরাকানী ওয়া ইবনুল জাওযী লিয যাহাবী-৭৮ আলইলালুল মুতানাহিয়া-১/২২৬ আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া-৭/৬৮০-৬৮১,১১/৭৪ তাবয়ীনুল আযাব ৩২,৪২-৪৫ জুযউ ইবনে আসাকির ৩১৬ শুয়াবুল ঈমান ৩/৩৭৩
৩.এছাড়া মশহুর আছে যে,পনের রজব রাতে যে চৌদ্দ রাকাত নামাজ পড়বে।প্রতি রাকাতে একবার সুরা ফাতেহা এগারবার সুরা ইখলাস তিনবার সুরা নাস পাঠ করবে,এরপর সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ,আল্লাহু আকবার,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,ত্রিশবার করে পড়ে । আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।তার জন্য আকাশথেকে..........।
এই বর্ননাটিও জাল।আল্লামা ইবনুল জাওযী,জালালুদ্দিন সুয়ুতী,ইবনে ওয়াররাক কিনানী,আল্লামা তাহের পাটনী,মুহাম্মাদ বিন আলি আশ শাওকানী,আব্দুল হাই লাখনূভী রহ. প্রমুখ একে জাল বলেছেন।
দেখুনঃকিতাবুল মউযুআত-২/৪৩৮-৪৩৯ তাবয়িনুল আযাব ২৭ আল লাআলিল মাসনুআহ-২/৫৭ তানযিহুশ শারিয়াহ -২/৯২ তাযকিরাতুল মাউযুআত-৪৪ আল ফাওয়ায়েদুল মাজমুয়াহ-৫০
মোটকথা , রজব মাসের নির্দিষ্ট কোন নামাজ বা রোজা নেই। এমাসে নির্দিষ্ট কোন দিনে নফল নামাজ বা রোজা পালনের বিশেষ কোন ফযিলতের কথা নির্ভরযোগ্য কোন হাদিসের দ্বারা প্রমানিত নয়।
অষ্টম শতকের বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী র. বলেন, "রজব মাসের নির্দিষ্ট কোন নামাজ প্রমানিত নেই।" আরও বলেন, "রাসুল সা. বা সাহাবায়ে কেরাম থেকে নির্দিষ্ট ভাবে রজব মাসে রোজা রাখার কোন ফযিলতের কথা প্রমানিত নয়।" সুত্র:লাত্বায়েফুল মাআরেফ-২২৮
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী র. বলেন "রজব মাসের ফযিলত,রজব মাসে রোজা রাখার ফযিলত,রজব মাসের নির্দিষ্ট কোন রাতে ইবাদত করার ফযিলত সম্পর্কে প্রমান হওয়ার উপযুক্ত কোন হাদিস নেই।" সুত্র:তাবয়ীনুল আযাব-১১ ফতহুল মুলহিম-৫/৩০৬-৩০৭(১১৫৭নং হাদিসের অধিনে)
৪.সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ২৭ ই রজবে ইসরা ও মেরাজ সংঘটিত হওয়ার কথাটাই ভিত্তিহীন। এর কোন প্রামানিক ভিত্তি নেই। একটি ঐতিহাসিক বর্ননার আলোকে কথাটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কিন্তু তা আদৌ নির্ভর যোগ্য নয়। আল্লামা ইবনে কাসির,হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী,ইবনে নাসিরুদ্দিন দিমাশকি র. এর মত হাদিস বিশারদগন একে ভিত্তিহিন সাব্যস্ত করেছেন। তৃতীয় শতকের বিখ্যাত ইমাম শাইখ ইবরাহিম হারাবী র. ২৭ ই রজব মেরাজ হওয়াকে অস্বিকার করেছেন।
দেখুনঃ যাদুল মাআদ লি ইবনিল কায়্যিম আল জাওযি-১/৫৭-৫৮ লাতায়েফুল মাআরেফ লি ইবনে রজব হাম্বলী-২৩৩ জামিউল আছার লি ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ দিমাশকি-৩/১৬-৫১ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া লি ইবনে কাসির-৩/৩৪০ আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ লিল ইমাম কাস্তালানী-৩/১৪ শরহুল মাওয়াহিব-৮/১৭-১৯ ইসলাহি খুতুবাত লি ত্বাকী উসমানী-১/৪৮-৫৫
মোট কথা,মেরাজের দিন তারিখ সম্পর্কে সাহাবা, তাবেয়ী ,ঐতিহাসিক কারও থেকেই নির্ভরযোগ্য কোন বর্ননা নেই।তাই এ বিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়।
কারন, রাসুল সা. বলেছেন,"যা শোনা তাই বলা(তাহকিক করে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া)মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।" সুত্র:সহীহ মুসলিম ,পৃ:৮ ও মেশকাত শরীফ।
মোদ্দাকথা হল,২৭ তারিখে শবে মেরাজ হিসেবে কোন ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বিদ'আত ও গুনাহের কাজ।শবে মেরাজের বিষয়টা কোনভাবেই শরিয়তের প্রমানিত কোন বিষয় নয়।
আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তাওফিক দিন।
No comments:
Post a Comment