Nurul Alam হানাফী মাযহাবে সর্বজন মান্য নির্ভরযোগ্য ফতওয়ার কিতাব ‘ফতওয়া আল হিন্দিইয়্যাহ’ তথা ‘ফতওয়া আলমগীরী’ কিতাবের তবআতুল কুবরা আল আমিরিইয়্যাহ মিশরের ছাপা ১ম জিলদ ৮৩ নং পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ বইরূতের ছাপা ১ম জিলদ ৯২ নং পৃষ্ঠা, উর্দু অনুবাদ সাইয়্যিদ আমির আলী ১ম জিলদ ২৯৯ নং পৃষ্ঠায় আছে,
ﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉُ ﺑِﺎﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺔِ ﺇﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﺘَّﺪَﺍﻋِﻲ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺻْﻞِ ﻟِﻠﺼَّﺪْﺭِ ﺍﻟﺸَّﻬِﻴﺪِ ﺃَﻣَّﺎ ﺇﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻮْﺍ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺃَﺫَﺍﻥٍ ﻭَﺇِﻗَﺎﻣَﺔٍ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺣِﻴَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻟَﺎ ﻳُﻜْﺮَﻩُ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺷَﻤْﺲُ ﺍﻟْﺄَﺋِﻤَّﺔِ ﺍﻟْﺤَﻠْﻮَﺍﻧِﻲُّ : ﺇﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺳِﻮَﻯ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡِ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٌ ﻟَﺎ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﺑِﺎﻟِﺎﺗِّﻔَﺎﻕِ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺑَﻊِ ﺍﺧْﺘَﻠَﻒَ ﺍﻟْﻤَﺸَﺎﻳِﺦُ ﻭَﺍﻟْﺄَﺻَﺢُّ ﺃَﻧَّﻪُ ﻳُﻜْﺮَﻩُ . ﻫَﻜَﺬَﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨُﻠَﺎﺻَﺔِ . ( ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ ﺝ ١ ﺹ ٨٣ )
অনুবাদঃ ঘোষনা দিয়ে নফল নামাজ জামাতে পড়া মাকরূহ তাহরীমী। সদরুশ শহীদ (রঃ)’র ‘আছল’ কিতাবে আছে, যদি কেউ আযান ইকামত ছাড়া মসজিদের এক কোনায় (দু’এক জন মিলে) জামাত করে তবে মাকরূহ হবেনা। ইমাম শামসুল আইয়িম্মাহ হালওয়ানী (রঃ) বলেন, ইমাম ছাড়া ৩ জন মুকতাদি হলে সকলের ঐক্যমতে মাকরূহ হবেনা আর ৪ জন হয়ে গেলে এখতেলাফ আছে, কিন্তু বিশুদ্ধ মতে মাকরূহ তাহরীমী হবে। যেমন তা খুলাছা কিতাবে আছে ।
** ‘আদ দুররুল মুখতার শরহু তানবীরুল আবসার ওয়া জামিউল বিহার’ দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ মিশরের ছাপা ৯৫ নং পৃষ্ঠায় আছে,
( ﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉَ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺧَﺎﺭِﺝَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ) ﺃَﻱْ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﺘَّﺪَﺍﻋِﻲ، ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﻘْﺘَﺪِﻱَ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٌ ﺑِﻮَﺍﺣِﺪٍ . ( ﺩﺭﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺹ ٩٥ )
অনুবাদঃ রামাদ্বান মাস ছাড়া (ব্যাখ্যা নিচে দেখুন) ঘোষণা দিয়ে ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদি মিলে নফল নামাজের জামাত করা মাকরূহ তাহরীমী।
** ইমাম আলা উদ্দিন আবু বকর ইবনে মাসউদ আল কাসানী আল হানাফী (রঃ) কর্তৃক লিখিত ‘বাদা্যেউস সানায়ে’ কিতাবের ১ম জিলদ ২৮০ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺼَﻠَّﻰ ﻧَﺎﻓِﻠَﺔٌ ﻓِﻲ ﺟَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺇﻟَّﺎ ﻗِﻴَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ . ( ﺑﺪﺍﺋﻊ ﺍﻟﺼﻨﺎﺋﻊ ﻋﻠﻰ ﺗﺮﺗﻴﺐ ﺍﻟﺸﺮﺍﺋﻊ ﺝ ١ ﺹ ٢٨٠ )
অনুবাদঃ রমাদ্বান শরীফের কিয়ামুল লাইল ছাড়া অন্য কোন নফল নামাজ জামাতে পড়বেনা।
** ইমাম মুহম্মদ ইবনে ঈসমাঈল আত তাহতাবী (রঃ) কর্তৃক লিখিত ‘হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ’ দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ কিতাবের ২৮৬ নং পৃষ্ঠায় বলেন,
ﻭﻫﻰ ( ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ) ﺳﻨﺔ ﻋﻴﻦ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﺳﻨﺔ ﻛﻔﺎﻳﺔ ﻭﻭﺗﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻓﻴﻪ ﻣﺴﺘﺤﺒﺔ ﻭ ﺍﻣﺎ ﻭﺗﺮ ﻏﻴﺮﻩ ﻭﺗﻄﻮﻋﻪ ﻓﻤﻜﺮﻭﻫﺔ ﻓﻴﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﺘﺪﺍﻋﻲ . ( ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﻟﻄﺤﻄﺎﻭﻱ ﻋﻠﻰ ﻣﺮﻗﻲ ﺍﻟﻔﻼﺡ ﺹ ٢٨٦
অনুবাদঃ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামায়াতে পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তারাবীহের জামায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আর রমাদ্বান শরীফে বিতর নামায জামায়াতে পড়া মুস্তাহাব। সুতরাং রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত বিতরসহ অন্যান্য যাবতীয় নফল নামায ঘোষণা দিয়ে জামায়াতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী।(হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ পৃষ্ঠা ২৮৬)
** ইমাম বদরুদ্দীন আইনী (রঃ) তার লিখিত হেদায়ার শরাহ ‘বেনায়া’ কিতাবের (দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ) ২য় জিলদ ৫৫৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﻨﻔﻞ ﺑﺎﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻣﻜﺮﻭﻫﺔ ﻣﺎ ﺧﻼ ﻗﻴﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﻜﺴﻮﻑ ﻷﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻬﺎ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ، ﻭﻟﻮ ﻓﻌﻠﻮﺍ ﻻﺷﺘﻬﺮﺕ، ﻛﺬﺍ ﺫﻛﺮﻩ ﺍﻟﻮﻟﻮﺍﻟﺠﻲ . ( ﺍﻟﺒﻨﺎﻳﺔ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﺝ ٢ ﺹ ٥٥٨ )
অনুবাদঃ রমাদ্বান শরীফের কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ) ও ছালাতুল কুসূফ ব্যতীত সকল নফল নামায জামাতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী। কেননা এটা ছাহাবায়ে কেরামগণ করেন নি। কেউ যদি তা করে থাকে তবে তা বিধি সম্মত হবেনা। যেমন তা ওয়াল ওয়ালিজি নিজ কিতাবে বলেছেন। (আল বেনায়া শরহুল হেদায়া ২য় জিলদ ৫৫৮ নং পৃষ্ঠা)
# তাহাজ্জুদসহ সকল প্রকার নফল নামাযের জামাত কাউকে ডাকা ছাড়া ইমাম ব্যতিত দু’জন হলে জায়েজ, তিনজন হলে মতভেদ আছে, চারজন হলে জায়েজ নেই সর্বসম্মতিক্রমে।
فى طحطاوى على مراقى الفلاح- ( ويوتر بجماعة ) استحبابا ( في رمضان فقط ) عليه إجماع المسلمين لأنه نقل من وجه والجماعة في النقل في غير التراويح مكروهة فالاحتياط تركها في الوتر خارج رمضان وعن شمس الأئمة أن هذا فيما كان على سبيل التداعي أما لو اقتدى واحد بواحد أو اثنان بواحد لا يكره وإذا اقتدى ثلاثة بواحد اختلف فيه وإذا اقتدى أربعة بواحد كره اتفاقا (حشية الطحطاوى على مراقى الفلاح، كتاب الصلاة، باب الوتر واحكامه-386)
তথ্যসূত্র
১-তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৩৮৬
২-আল বাহরুর রায়েক-১/৩৪৫
৩-ফাতওয়া শামী (নুমানিয়া প্রকাশনী)-১/৩৭১
৪-ফাতওয়া তাতারখানিয়া-(করাচী প্রকাশনী)-১/৬৭০
No comments:
Post a Comment