ওযুতে গর্দান মাসেহ করা মুস্তাহাব
************************
★ ১ম দলিলঃ
ﻓَﺈِﻥَّ ﻋَﻠِﻲَّ ﺑْﻦَ ﺛَﺎﺑِﺖٍ , ﻭَﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺣَﺪَّﺛَﺎﻧَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤَﺴْﻌُﻮﺩِﻱِّ ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ، ﻋَﻦْ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑْﻦِ ﻃَﻠْﺤَﺔَ , ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻣَﺴَﺢَ ﻗَﻔَﺎﻩُ ﻣَﻊَ ﺭَﺃْﺳِﻪِ ﻭُﻗِﻲَ ﺍﻟْﻐُﻞَّ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ( ﻛِﺘَﺎﺏُ ﺍﻟﻄَّﻬُﻮﺭِ ﻟِﺄَﺑِﻲ ﻋُﺒَﻴْﺪٍ ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﺑْﻦِ ﺳَﻠَّﺎﻡٍ ﺍﻟْﺨُﺰَﺍﻋِﻲِّ )
হযরত মুসা বিন তালহা রহ. বলেন: যে ব্যক্তি মাথার সাথে তার গর্দান মাসেহ করবে সে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই পাবে। (কিতাবুত তুহুর লিআবি উবায়েদ-৩৬৮, পৃষ্ঠা-৩৭৪)। হাফেজ ইবনে হাজার রহ.ও তালখীছুল হাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (তালখীছুল হাবীর-৯৮ নং হাদীসের আলোচনায়)
★ সনদের আলোচনাঃ
———
সনদ হিসেবে হাসান। উল্লিখিত হাদীসের রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। কেবল মাসউদীকে নিয়ে এতটুকু আপত্তি পাওয়া যায় যে, শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু উক্ত অভিযোগ এ কারণে ক্ষতিকর হবে না যে, আবু হাতিমের বর্ণনানুযায়ী তাঁর মৃত্যুর এক বা দুই বছর পূর্বে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিলো। আর তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পূর্বে আব্দুর রহমান বিন মাহদী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন; কিন্তু তখন তাঁকে কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। (তাহজীবুত তাহজীব: ৩৯১৯)।
তাহলে বুঝা যায়, আব্দুর রহমান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার পূর্বেই। সুতরাং এ বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই।
★ ২য় দলিল :-
হযরত আবু উবায়েদ এ হাদীসটি আরও একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যা নিচে প্রদত্ব হলো-
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻋُﺒَﻴْﺪٍ ﻗَﺎﻝَ : ﺛﻨﺎ ﺣَﺠَّﺎﺝٌ ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤَﺴْﻌُﻮﺩِﻱِّ ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ، ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻣِﺜْﻞَ ﺫَﻟِﻚَ
(তালখীছুল হাবীর, হাদীস নং-৩৬৯)
★ সনদের আলোচনা
————
ইবনে হাজার রহ. তালখীছুল হাবীর-৯৮ নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন:
ﻗُﻠْﺖُ : ﻓَﻴَﺤْﺘَﻤِﻞُ ﺃَﻥْ ﻳُﻘَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﻮْﻗُﻮﻓًﺎ ﻓَﻠَﻪُ ﺣُﻜْﻢُ ﺍﻟﺮَّﻓْﻊِ ، ﻟِﺄَﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻟَﺎ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻣِﻦْ ﻗِﺒَﻞِ ﺍﻟﺮَّﺃْﻱِ ، ﻓَﻬُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻣُﺮْﺳَﻞٌ
এ হাদীসটি যদিও মাওকুফ তবু মারফু’র হুকুম রাখে। কারণ, এটা এমন একটি বিষয় যা বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে বলা যায় না (বরং রসূলুল্লাহ স. থেকে জেনেই বলতে হয়)। এতদসত্ত্বেও (সাহাবার নাম নাম উল্লেখ না থাকায়) হাদীসটি মুরসাল। ইবনে হাজার রহ. শরহু নুখবাতিল ফিকারে বলেন, ﺛﻘﺔٌ (নির্ভরযোগ্য) রাবীদের মুরসাল বর্ণনার পক্ষে কোন সমার্থক বর্ণনা পাওয়া গেলে চার ইমামের নিকটেই তা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। (সারসংক্ষেপ: শরহু নুখবাতিল ফিকার: ৫০-৫১)
★ ৩য় দলিলঃ
ﻭَﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻮَﺍﺣِﺪِ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﺑْﻦُ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺣَﺼِﻴﻦٍ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﻋَﻦْ ﻓُﻀَﻴْﻞِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﻋَﻦْ ﻣُﺠَﺎﻫِﺪٍ ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ : ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺴَﺢَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻣَﺴَﺢَ ﻗَﻔَﺎﻩُ ﻣَﻊَ ﺭَﺃْﺳِﻪِ . ﻫَﺬَﺍ ﻣَﻮْﻗُﻮﻑٌ ﻭَﺍﻟْﻤُﺴْﻨَﺪُ ﻓِﻰ ﺇِﺳْﻨَﺎﺩِﻩِ ﺿَﻌْﻒٌ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ
হযরত ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত: তিনি যখন মাথা মাসেহ করতেন তখন মাথার সাথে গর্দানও মাসেহ করতেন। (সুনানে বাইহাকী: ২৮২)
★ সনদের আলোচনাঃ
————-
মাওকুফ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইমাম বাইহাকী রহ. এ হাদীসটিকে মুসনাদ তথা মারফু’ হিসেবে জঈফ বলেছেন; তবে মাউকুফ হিসেবে কোন আপত্তি করেননি। যার অর্থ হল মাউকুফ হিসেবে এটা অগ্রহণযোগ্য নয়।
★ ৪র্থ দলিল :-
ﺣَﺪَّﺛﻨﺎ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺳَﻌِﻴﺪ ، ﻗَﺎﻝ : ﺣَﺪَّﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤﺪ ﺑْﻦُ ﺣُﺠْﺮ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛﻨﻲ ﺳَﻌِﻴﺪ ﺑْﻦُ ﻋَﺒﺪ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭِ ﺑْﻦِ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮ ، ﻋَﻦ ﺃَﺑﻴﻪِ ، ﻋَﻦ ﺃُﻣِّﻪِ ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮ ، ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ، ﻗَﺎﻝَ ﺷَﻬِﺪْﺕُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴﻪ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ﻭَﺃُﺗِﻲَ ﺑِﺈِﻧَﺎﺀٍ ﻓِﻴﻪِ ﻣَﺎﺀٌ ﻓَﺄَﻛْﻔَﺄَﻩُ ﻋَﻠَﻰ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ ﺛَﻼﺛًﺎ ..… ﺛُﻢَّ ﻣَﺴَﺢَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺃْﺳِﻪِ ﺛَﻼﺛًﺎ ﻭَﻇَﺎﻫِﺮَ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﺛَﻼﺛًﺎ ﻭَﻇَﺎﻫِﺮَ ﺭَﻗَﺒَﺘِﻪِ
হযরত ওয়াইল বিন হুজর (রা). বলেন, আমি দেখেছি যে, রসূলুল্লাহ স.-এর জন্য পানির পাত্র আনা হলো। তিনি তা থেকে তিনবার ডান হাতের উপর ঢাললেন। ….অতঃপর মাথা, কান ও গর্দানের উপরিভাগ তিনবার করে মাসেহ করলেন। (মুসনাদে বাঝ্ঝার-৪৪৮৮)।
★ সনদের আলোচনাঃ
————-
জঈফ।
★ ৫ম দলিলঃ
ﻋَﻦْ ﻓُﻠَﻴْﺢِ ﺑْﻦِ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻋَﻦْ ﻧَﺎﻓِﻊٍ ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : “ ﻣَﻦْ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﺑِﻴَﺪَﻳْﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﻋُﻨُﻘِﻪِ ﻭُﻗِﻲَ ﺍﻟْﻐُﻞَّ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ” ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻫَﺬَﺍ ﺇﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺻَﺤِﻴﺢٌ . ﻗُﻠْﺖُ : ﺑَﻴْﻦَ ﺍﺑْﻦِ ﻓَﺎﺭِﺱٍ ﻭَﻓُﻠَﻴْﺢٍ ﻣَﻔَﺎﺯَﺓٌ ﻓَﻴُﻨْﻈَﺮُ ﻓِﻴﻬَﺎ .
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অযু করলো আর উভয় হাত দ্বারা আপন গরদান মাসেহ করলো তাকে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই দেয়া হবে। (আল্লামা রুইয়ানী বলেন, ইংশাআল্লাহ হাদীসটি সহীহ। (তালখীছুল হাবির: ৯৮ নম্বর হাদীসের আলোচনায়)
★ সনদের আলোচনাঃ
————
সনদ জানা যায়নি।
★ হাফেজ ইবনে হাজার রহ বলেন ইবনে ফারেস এবং ফুলইহ-এর মধ্যে দীর্ঘ দুরত্ব রয়েছে তাই বিশুদ্ধতার বিষয়টি আরও ভাবা উচিত।
উপরোক্ত ৫টি হাদীসের মধ্যে প্রথম দুটি মুরসাল রেওয়াত।
আর সহীহ মুরসাল রেওয়াত ইমাম আবু হানিফা ,
ইমাম মালেক রাহঃ এর নিকট হুজ্জত।
আর ইমাম শাফী রাহঃ এর কাছে শর্ত সাপেক্ষে হুজ্জত।
আর তার শর্ত হল মুরসাল রেওয়াতের সাথে অন্য রেওয়ায়েত থাকা জরুরী।
আর প্রথম মুরসাল রেওয়াতের সাহেদ হিসেবে আমরা আরো ৪ টি রেওয়েত বর্ণনা করেছি। আর অন্য হাদীসের সনদগুলো স্বতন্ত্রভাবে দুর্বল হলেও পারস্পারিক সমর্থনের কারণে সম্মিলিতভাবে যে শক্তি সৃষ্টি হয়েছে মুহাদ্দিসীনে কিরাম সেটাকে হাসান লিগায়রিহী বলে থাকেন। যেমনটি বলেছেন শায়খ আব্দুল হক রহ. মিশকাত শরীফের ভুমিকায়। (মুকাদ্দামায়ে মেশকাত,পৃষ্ঠা- ৫ ও ৬)।
★ ইমাম আহমাদ রহ.-এর আমল :-
ﻭَﺫَﻛَﺮَ ﺍﻟْﻘَﺎﺿِﻲ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻩُ ﺃَﻥَّ ﻓِﻴﻪِ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔً ﺃُﺧْﺮَﻯ : ﺃَﻧَّﻪُ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐٌّ . ﻭَﺍﺣْﺘَﺞَّ ﺑَﻌْﻀُﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﻓِﻲ ﺧَﺒَﺮِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ : ্র ﺍﻣْﺴَﺤُﻮﺍ ﺃَﻋْﻨَﺎﻗَﻜُﻢْ ﻣَﺨَﺎﻓَﺔَ ﺍﻟْﻐُﻞِّ গ্ধ . ﻭَﺍَﻟَّﺬِﻱ ﻭَﻗَﻔْﺖ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻋَﻦْ ﺃَﺣْﻤَﺪَ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ، ﺃَﻥَّ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ : ﺭَﺃَﻳْﺖ ﺃَﺑِﻲ ﺇﺫَﺍ ﻣَﺴَﺢَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻭَﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀِ ﻣَﺴَﺢَ ﻗَﻔَﺎﻩُ . [ ﻓَﺼْﻞ ﻣَﺎ ﻳُﺴْﺘَﺤَﺐّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀ ]
অনুবাদ : কাজী আবু ইয়া’লা রহ.সহ অন্যান্য মনিষিগণ বলেন, গর্দান মাসেহ করা মুসতাহাব মর্মে আরও একটি বর্ণনা রয়েছে। আবার কেউ কেউ দলীল পেশ করেছে যে, ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীসে রয়েছে যে, বেড়ী পরানোর আশংকায় তোমরা গর্দান মাসেহ কর। এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ থেকে আমি যা জানতে পেরেছি তা এই যে, ইমাম আহমাদ রহ.-এর ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি অযুতে যখন তিনি মাথা এবং কান মাসেহ করতেন তখন গর্দানও মাসেহ করতেন। (আল মুগনী লিইবনে কুদামা, অযুর মুস্তাহাব অধ্যায়)।
শেষ কথা হল-
★ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত মারফু’ হাদীস (তারীখে আসফাহান, মুসনাদে ফেরদাউস),
★ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত মাউকুফ হাদীস (সুনানে বাইহাকী, ইবনুল ফারেস),
★ বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত মুসা বিন তলহার আছার (কিতাবুত তুহুর লিআবি উবায়েদ),
★ শাফেঈ মাজহাবের ইমামগণের মধ্যে আল্লামা বাগাবী (রাফেঈ আল কাবীর),
*** রুয়ানী (রাফেঈ আল কাবীর),
*** ইবনে হাজার আসকালানী (তালখীছুল হাবীর),
★ হানাফী মাজহাবের ইমামগণ থেকে :-
*** আল্লামা আইনী (আল বিনায়াহ),
*** মুল্লা আলী কারী, (আল মাউযুআতুল কুবরা)
★ হাম্বলী মাজহাবের ইমাম হযরত আহমাদ বিন হাম্বল, (মুগনী লিইবনে কুদামা),
★ বিশিষ্ট গায়রে মুকাল্লিদ আলেম আল্লামা শাওকানী (নাইলুল আওতার)
প্রমুখসহ অসংখ্য মুহাদ্দিসীনে কিরাম গর্দান মাসেহ করার আমল গ্রহণ করেছেন।
★ মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন :-
ﺣَﺪِﻳﺚُ ﻣَﺴْﺢُ ﺍﻟﺮَّﻗَﺒَﺔِ ﺃَﻣَﺎﻥٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐُﻞِّ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﻮَﻭِﻱُّ ﻓِﻲ ﺷَﺮْﺡِ ﺍﻟْﻤُﻬَﺬَّﺏِ ﺇِﻧَّﻪُ ﻣَﻮْﺿُﻮﻉٌ : ﻗُﻠْﺖُ ﻟَﻜِﻦْ ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺃَﺑُﻮ ﻋُﺒَﻴْﺪِ
ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻋَﻦْ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑْﻦِ ﻃَﻠْﺤَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻣَﺴَﺢَ ﻗَﻔَﺎﻩُ ﻣَﻊَ ﺭَﺃْﺳِﻪِ ﻭُﻗِﻲَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐُﻞِّ
ﻭَﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚُ ﻣَﻮْﻗُﻮﻑٌ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧَّﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤُﻜْﻢِ ﻣَﺮْﻓُﻮﻉٌ ﻟِﺄَﻥَّ ﻣِﺜْﻠَﻪُ ﻟَﺎ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﺑِﺎﻟﺮَّﺃْﻱِ ﻭَﻳُﻘَﻮِّﻳﻪِ ﻣَﺎ ﺭُﻭِﻱَ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﻣُﺴْﻨَﺪِ
ﺍﻟْﻔُﺮْﺩَﻭْﺱِ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻟَﻜِﻦَّ ﺑِﺴَﻨَﺪٍ ﺿَﻌِﻴﻒٍ ﻭَﺍﻟﻀَّﻌِﻴﻒُ ﻳُﻌْﻤَﻞُ ﺑِﻪِ ﻓِﻲ ﻓَﻀَﺎﺋِﻞِ ﺍﻟْﺄَﻋْﻤَﺎﻝِ ﺍﺗِّﻔَﺎﻗًﺎ ﻭَﻟَﺬَﺍ ﻗَﺎﻝَ
ﺃَﺋِﻤَّﺘُﻨَﺎ ﺇِﻥَّ ﻣَﺴْﺢَ ﺍﻟﺮَّﻗَﺒَﺔِ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐٌّ ﺃَﻭْ ﺳُﻨَّﺔٌ
অনুবাদ : গর্দান মাসেহ করা বেড়ী থেকে নিরাপদ (হাদীস)। ইমাম নববী শরহুল মুহাজ্জাবে বলেন, এটা মাউযু’। (মুল্লা আলী কারী রহ.) বলেন, আবু উবায়েদ কাসেম সূত্রে মুসা বিন তলহা থেকে বর্ননা করেন, যে ব্যক্তি মাথার সাথে তার গর্দান মাসেহ করবে সে কিয়ামতের দিন (গলায়) বেড়ী পরানো থেকে রেহাই পাবে। হাদীসটি যদিও মাউকুফ তবে মারফু’-এর শ্রেণীভুক্ত। কারণ এরকম বিষয়ে বিবেক খাটিয়ে কিছু বলা যায় না। এ হাদীসটিকে আরও শক্তিশালী করে মুসনাদে ফিরদাউসে ইবনে উমর থেকে জঈফ সনদে বর্ণিত মারফু’ হাদীস। আর ফজিলতের ক্ষেত্রে জঈফ হাদীস সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য। এ কারণে আমাদের ইমামগণ বলেন, গর্দান মাসেহ করা সুন্নাত বা মুস্তাহাব। (আল মাউযুআতুল কুবরা-৪৩৪)।
No comments:
Post a Comment