নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র নামে কুরবানী প্রসঙ্গঃ
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার তরফ থেকেও যে কোন মুসলমান কুরবানী করতে পারবে।যেমনটি মাওলা আলী (রাদ্বি:) করতেন, এ সম্পর্কে একটি হাদিস ইমাম তিরমিজি (রহ:) বর্ণনা করেন-
قال حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْحَسْنَاءِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ حَنَشٍ عَنْ عَلِيٍّ : " أَنَّهُ كَانَ يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ أَحَدُهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَالْآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ ، فَقِيلَ لَهُ ، فَقَالَ : أَمَرَنِي بِهِ يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا أَدَعُهُ أَبَدًا "
"....হযরত হানাশ (রাদ্বি) হরত আলী (রাদ্বি) হতে বর্ণনা করেন, মাওলায়ে কাঁয়েনাত হযরত আলী (রাদ্বি) দুটি দুম্বা/ ছাগল দিয়ে কুরবানী করতেন।একটি নবীজির তরফ হতে, অন্যটি উনার তরফ হতে। যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা আমায় আদেশ করেছেন করার জন্য, যা আমি কখনও অবজ্ঞা করতে পারি না।
(সুত্র:সুনানু তিরমিজি শরীফ, হা:১৪৯৫)
একই ধারাবাহিকতায় ভিন্ন শব্দে হাদিসখানা ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম আহমদ বিন হান্বল (রাদ্বি:) ও আপন সুনান ও মসনদে রেওয়ায়ত করেন-
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْحَسْنَاءِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ حَنَشٍ قَالَ : " رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ ، فَقُلْتُ لَهُ : مَا هَذَا ؟ ، فَقَالَ : إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ " .
"....হযরত হানাশ (রাদ্বি:) বলেন- আমি হযরত আলী (রাদ্বি:) কে দেখেছি দুটি দুম্বা /ছাগল দিয়ে কুরবানী করতেন। আমি উনার কাছে জানতে চাইলাম, এভাবে কেন? (দুটি প্রাণী দিয়ে কেন?)
তিনি বলেন, নিশ্চয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা আমায় ওসিয়্যত করেছেন যে, আমি যেন উনার তরফ থেকে কুরবানী করি৷ তাই আমি উনার পক্ষ হতে কুরবানী দিচ্ছি।
(সুত্র: সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নং-২৭৯০, মসনদ আহমদ, হা:১২১৯)
উল্লিখিত হাদিসের আলোকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পক্ষ হতে কুরবানী দিতে পারবে। যা মুসতাহাসান আমল ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজ।
যদিও হাদিসটির সনদ দ্বায়ীফ বা দুর্বল হয়। কেননা দ্বায়ীফ হাদিস মুসতাহাসান মূলক আমলে গ্রহণীয়।
তাছাড়া একাধিক ব্যক্তি বা অংশীদার সম্মিলিত হয়েও একটি অংশ রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার তরফ থেকে আদায় করতে পারবে। এতে মন্দ কিংবা অপছন্দের কিছুই নেই। মুলত এটাও কুরবত (قربة) এর অন্তর্ভুক্ত৷ নবীয়ে দু-জাহাঁ, বায়েসে কাউনু মকাঁ, হুজুরপুরনুঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা নিজেও উম্মতের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন৷ যা ইমাম বুরহানুদ্দিন মুরগিনানী (রহ:) উল্লেখ করে বলেন-
لان الضحية عن الغير عرفت قربة، ألآ تري أن النبي عليه الصلاة والسلام ضحي عن أمته. هداية شرح بداية المبتدي صــ٤٩٨.
“ কেননা অন্যের নামে কুরবানী করাটাও কুরবত (নৈকট্য) হিসেবে বিবেচিত হয়৷ তুমি কি দেখনি নিশ্চয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদের নামে কুরবানী করেছেন!!”
(সুত্র: হিদায়া, কিতাবুল উদ্বহিয়্যাহ, ৪৯৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য৷)
No comments:
Post a Comment