ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণে প্রিয় নবীজি (ﷺ)'র একটি প্রিয় সুন্নাত:
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
কালের বিবর্তনে ভিন সংস্কৃতি ও তথাকথিত আধুনিকতা আমাদের এমনভাবে গ্রাস করে ফেলেছে যে, আমরা মুসলমানিত্বের প্রধান নিদর্শন ফরজ নামাজ তরক করাকেও তেমন কোন পাপ মনে করছি না। আবার আমাদের মধ্যে এমন অতি আধুনিক যুবক-যুবতীও দেখা যাচ্ছে, যারা নামাজকে বুড়ো মানুষের স্বাভাব বলতে দ্বিধাবোধ করছে না! তাই এই অধঃপতনের যুগে এসে তাহাজ্জুদের কথা একটু অন্য রকম লাগাটাই স্বাভাবিক। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত ও হাদীছে রাসূল ﷺ থেকে জানা যায়, এই নামাজ আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ 'র নৈকট্য হাসিলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি মানুষের দেহ-মনকে নির্মল ও পবিত্র করার এবং সত্য পথে অটল-অবিচল থাকার জন্য একটি অপরিহার্য ও কার্যকর পন্থা। তাছাড়াও এর আরো অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এই নামাজ বিষয়ে আমরা খুবই উদাসীন। তাই এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আশা রাখি, এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ও আপনাকে তাঁর প্রকৃত বান্দা হওয়ার তাওফীক দান করবেন।
*** তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসায় স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা:
-------------------
রাব্বুল আলামীন সদা সর্বদা তাঁর অনুগ্রহের ছায়াতলে থাকা প্রিয় বান্দা তথা তাহাজ্জুদগোজারদের পরিচয়ে বলেন,
وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا
" আর তারা তাদের প্রভুর জন্য রাত যাপন করে সিজাদ ও দণ্ডায়মান অবস্থায়।"( সূরা-ফুরকান, আ:৬৪)
_তিনি অপর আয়াতে বলেন,
كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ. وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
" তারা রাতের খুব সামান্য অংশই ঘুমাতো আর রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো।"(সূরা-আয্ যারিয়াত, আ:১৭-১৮)
_অপর আয়াতে এসেছে,
تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا
" (শেষ রাতে) তাদের পিঠ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায়। (অতঃপর) তারা ভয়-ভীতি আর আশা নিয়ে তাদের প্রভুকে ডাকে।"( সূরা-সাজদা, আ:১৬)
_ অপর আয়াতে এসেছে,
الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنْفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ
" এসব লোক (অগ্নিপরীক্ষায়) অটল-অবিচল, সত্যের অনুরাগী, পরম অনুগত, আল্লাহর পথে সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর নিকট নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
***সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থান তথা মক্বামে মাহমুদ ও সালাতুত্ তাহাজ্জুদ:
-------------------------
আল্লাহ তায়ালা যে তাঁর প্রিয় নবীকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার তথা মক্বামে মাহমুদ দান করেছেন,(যেখানে বসে নবীজি ﷺ আমরা পাপীদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবেন) তার সাথে যুক্ত করেছেন নবীজির তাহাজ্জুদের বর্ণনা। যেমন,
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَىٰ أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا
" আর রাতের কিছু অংশ এর দ্বারা (কুরআন তিলাওয়াত) তাহাজ্জুদ আদায় করুন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত (ফরজ)। আশা করা যায়, আপনার প্রভু আপনাকে মক্বামে মাহমুদে (সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থান) পৌঁছাবেন।
*** তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের দোয়া কবুলের বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা'র প্রতিশ্রুতি:
------------------------------
রাসূলে পাক ﷺ বলেন,
يَتَنَزَّلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ
" প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের সুমহান প্রভু দুনিয়ার আসমানে আসেন এবং বলেন, " আমাকে ডাকার জন্য কেউ আছো কি, যার ডাক আমি শুনবো। আমার কাছে চাওয়ার জন্য কেউ আছো কি, যাকে আমি দেবো। আমার কাছে কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছো কি, যাকে আমি ক্ষমা করবো।(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:৬৩২১) একটা বিষয় খুব বেশি চিন্তা করা দরকার যে, আমরা কত বড় নাফরমান, যারা মহান প্রভুর এতো করুণাপূর্ণ ডাকে সাড়া দিই না। আমরা সেই সকল লোক, যারা দিন যাপন করি প্রভুর নাফরমানি করে করে। আর রাত যাপন করি আরাম আয়েশপূর্ণ বিছানায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে! অথচ আমাদের নবীজি, যার ভালবাসা আমরা দাবি করে থাকি, তিনি কোন নরম বালিশ-বিছানা ব্যবহার করতেন না তাহাজ্জুদ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা
য়। সহীহ বুখারী শরীফের বর্ণনায় এসেছে, মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) বলেন, নবীজি দীর্ঘ সময় ধরে তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়িয়ে থাকার ধরুন তাঁর পা মোবারক ফুলে ফেটে যেতেন!(সহীহ বুখারী শরীফ, হাদীছ নং:১১৩০)
***ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম ইবাদত:
-----------------------------
_প্রিয় নবীজি ﷺ বলেন,
أفضل الصلاة بعد المكتوبة الصلاة في جوف الليل.
" ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ তথা তাহাজ্জুদ।"
***দৈহিক ও চারিত্রিক উন্নতি ও স্রষ্টার নৈকট্য লাভ:
----------------------------
_আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
" নিশ্চয়ই রাতে ঘুম থেকে উঠা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুবই কার্যকর এবং সে সময়ের কথা(দোয়া-মুনাজাত) একেবারে যথার্থ।(সূরা-মুযযাম্মির, আ:৬)
_প্রিয় নবীজি ﷺ বলেন,
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ وَإِنَّ قِيَامَ اللَّيْلِ قُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ وَتَكْفِيرٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَطْرَدَةٌ لِلدَّاءِ عَنِ الْجَسَدِ
" তোমাদের জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ আবশ্যকভাবে পড়া উচিত। কারণ, তা হচ্ছে তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ লোকদের স্বভাব, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, গোনাহ্ মাফের উপলক্ষ ও গোনাহ থেকে বিরতকারী এবং তোমাদের শারীরিক রোগ নিরাময়কারী।(তিরমীযি, হাদীছ নং:৩৮৯৫)
***তাহাজ্জুদের জন্য রাসূল ﷺ নিজ পরিবারকে ডেকে দিতেন:
-------------------
হযরত সাইয়্যেদুনা আলী (রা:) বলেন,
أن النبي صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة ليلا، فقال: الا تصليان؟
নবীজি ﷺ রাতে তাঁর ও সাইয়্যেদা ফাতেমা (عليهما السلام)'র নিকট এসে বললেন, তোমরা নামাজ পড়বে না?(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:১১২৭)
***তাহাজ্জুদের জন্য নবীজির আদেশ ও সাহাবায়ে কেরামের আমল:
-------------------
একাদা রাসূলে পাক ﷺ 'র নিকট সাইয়্যেদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:)'র আলোচনা করা হলে নবীজি বলেন,
نعم الرجل عبد الله لو كان يصلي من الليل!
আব্দুল্লাহ খুবই ভাল ব্যক্তি। যদি সে রাতে নামাজ (তাহাজ্জুদ) পড়তো!
অতঃপর তিনি নবীজির এমনভাবে রক্ষা করেছিলেন যে, তাঁর ছেলে হযরত সালেম (রা:) বলেন,
فكان عبد الله بعد ذالك لا ينام من الليل الا قليلا.
" তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) এর পর থেকে রাতের খুব কম অংশ ঘুমাতেন। অর্থাৎ নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন।(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং: ১১৬৬)
***তাহাজ্জুদ তরককারীদের বিষয়ে রাসূলের অসন্তুষ্টি:
-------------------
রাসূলে পাক ﷺ তাহাজ্জুদ তরক করা পছন্দ করতেন না। তিনি একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর( রা:) বলেন,
يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم الليل فترك قيام الليل.
" হে আব্দুল্লাহ, তুমি অমুক ব্যক্তির ন্যায় হয়ো না, যে তাহাজ্জুদ পড়তো, অতঃপর তাহাজ্জুদ পড়া ছেড়ে দিয়েছে।(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:১১৫৬)
***তাহাজ্জুদ তরককারীদের কানে শয়তান প্রস্রাব করে:
-------------------
হযরত সাইয়্যেদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন, একদা নবীজির নিকট একজন সুবহে সাদিক পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন,
ذاك رجل بال الشيطان في أذنيه
" সে এমন লোক, যার কানে শয়তান প্রস্রাব করেছে।"(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:১১৪০)
***আল্লাহ তায়ালা নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দা তথা আওলিয়ায়ে কেরামের স্বভাব:
-------------------
আধ্যাত্মিকতার সাধনায় যারা উচ্চ স্থান অর্জন করেছেন, তাঁরা সকলেই এই সত্য উচ্চারণ করেছেন যে, রাত্রি জাগরণ তথা তাহাজ্জুদ ব্যতীত আল্লাহর ভালবাসা লাভ অসম্ভব। বিশিষ্ট সূফী আবু তালেব আল-মাক্কী (রা:) বলেন,
ومن علامة المحبة طول التهجد
" মাহাব্বাতের একটি আলামত হলো তাহাজ্জুদে দীর্ঘ সময় কাটানো।(কূতুল কুলূব, খ.২, পৃ.৯১)
আল্লাহ তায়ালা হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম'র নিকট এ মর্মে ওহী নাযিল করেন যে,
كذب من ادعى مودتي، فإذا جنه الليل نام عني، أليس كل حبيب يحب خلوة حبيبه؟
" যে আমার ভালবাসার দাবি করে অথচ সারারাত ঘুমিয়ে কাটায়, সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী। প্রত্যেক প্রেমিকই কি তার প্রেমাষ্পদের সাথে একান্তে মিলিত হতে চায় না?
*** মদীনা হিজরতের পর নবীজির প্রথম বক্তব্যে তাহাজ্জুদের দিকে আহবান:
-------------------
_সাইয়্যেদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:) বলেন, নবীজি ﷺ মদীনা হিজরতের পর যে কথাগুলো তাঁর পবিত্র যোবান থেকে প্রথম শুনি, তা হলো-
يا أيها الناس افشوا السلام، واطعموا الطعام، وصلوا الأرحام، وصلوا بالليل والناس نيام، تدخلوا الجنة بسلام.
" হে লোকসকল, সালামের তথা শান্তির প্রসার ঘটাও, মানুষকে খানা খাওয়াও, আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো আর যখন রাতে মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা নামাজ পড়ো, (তা করলে) তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।"(তিরমীযি, হাদীছ নং:২৪৮৫)
***তাহাজ্জুদ আদায়কারী স্বামী-স্ত্রী আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের পাত্র:
-------------------
_প্রিয় নবীজি ﷺ বলেন,
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ
" আল্লাহ তায়ালা ঐ পুরুষকে (বিশেষ) অনুগ্রহ করেন, যে রাতের কিছু অংশ জাগ্রত হয়। অতঃপর নামাজ পড়ে এবং স্ত্রীকেও জাগিয়ে দেয়। যদি স্ত্রী উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটে দেয়। আর আল্লাহ তায়ালা ঐ স্ত্রীলোককেও বিশেষ অনুগ্রহ করেন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগিয়ে দেয়। যদি স্বামী উঠতে না চায়, তাহলে তার মুখে পানি ছিটে দেয়।
***তাহাজ্জুদ আদায়কারীরা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে:
-------------------
_প্রিয় নবীজি ﷺ বলেন,
يحشر الناس في صعيد واحد يوم القيامة ، فينادي مناد يقول : أين الذين كانت تتجافى جنوبهم عن المضاجع ؟ فيقومون ، وهم قليل ، فيدخلون الجنة بغير حساب ، ثم يؤمر بسائر الناس إلى الحساب "
" কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে এক জায়গায় একত্রিত করা হবে। অতঃপর এক আহ্বানকারী আহ্বান করবেন এইভাবে যে, তারা কোথায়, যাদের পৃষ্ঠ (আল্লাহর জন্য নামাজ আদায়ের নিমিত্তে) বিছানা থেকে পৃথক হতো? অতঃপর তারা দাঁড়াবে। তারা হবে খুব কম সংখ্যক লোক। অতঃপর তারা হিসাব নিকাশ ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর অন্য সকল মানুষকে হিসাবের জন্য ডাকা হবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং:৫৫৬৫)
***তাহাজ্জুদ নসীব হওয়ার পূর্বশর্ত:
-------------------
মুহাক্কিক আওলিয়ায়ে কেরাম এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন, যা বিদ্যমান থাকাবস্থায় কখনোই নিষ্ঠাপূর্ণ তাহাজ্জুদ নসীব হবে না। যেমন,
__ হারাম সম্পদ ভক্ষণ।
__ জেনেশুনে পাপ কাজে লিপ্ত থাকা।
__ অনর্থক কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা।
__ বেগানা নারী/পুরুষের দিকে কামভাব সহকারে দৃষ্টিপাত।
__ মিথ্যা বলা।
__ বেশি বেশি পানাহার করা।
__ বেশি বেশি ঘুমানো।
__ মানুষের প্রতি দুর্ব্যবহার।
***তাহাজ্জুদের রাকাত সংখ্যা ও আদায়ের সময়:
-------------------
হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসূল ﷺ তাহাজ্জুদের জন্য কোন নির্দিষ্ট রাকাত নির্দেশ করেন নি। যতটুকু জানা যায়, তিনি প্রায় সময় বিতর সহ ১১ রাকাত পড়তেন। অর্থাৎ তাহাজ্জুদ ৮ রাকাত আর বিতর ৩ রাকাত। (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:৯৯৪, ১১৪৭) আবার কোন কোন বর্ণনায় পাওয়া যায়, ১২ রাকাত পড়তেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) বলেন, নবীজি দুই রাকাত দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ পড়তেন।(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং:৯৯৫) পবিত্র কুরআন, হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনা ও মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামের উক্তি দ্বারা জানা যায়, তাহাজ্জুদ এশার পর থেকে রাতের যেকোন অংশে পড়া যায় এবং এর রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। তবে শেষ রাতে পড়াটাই উত্তম। হযরত সাইয়্যেদুনা ওমর (রা:) বলেন, কোন অসুবিধাজনিত কারণে কেউ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে না পারলে যদি সেদিন যূহরের আগে পড়ে নেয়, তাহলে তা তার জন্য তাহাজ্জুদ হিসেবে পরিগণিত হবে। উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা:) বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا فاتته الصلاة من الليل من وجع أو غيره صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة.
" আল্লাহর প্রিয় রাসূল ﷺ'র কোন ব্যথা কিংবা অন্য কোন কারণে তাহাজ্জুদ মিস হয়েগেলে দিনের বেলায় ১২ রাকাত পড়ে নিতেন।"
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুন!
মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ
১৭.০৪.২০১৯
No comments:
Post a Comment