*** হানাফি মাজহাবে মহিলাদের জামাতে যাওয়া মাকরুহে তাহরিমি।
হাদিস শরীফ নং-০১
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻳﻮﺳﻒ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﻣﺎﻟﻚ ﻋﻦ ﻳﺤﻲ ﺍﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﻋﻦ ﻋﻤﺮﺓ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻟﻮ ﺍﺩﺭﻙ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺙ ﺍﻟﻨﺴﺂﺀ ﻟﻤﻨﻌﻬﻦ ﻛﻤﺎ ﻣﻨﻌﺖ ﻧﺴﺂﺀ ﺑﻨﻲ ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ – ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ - ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ - ٨٦٩ ، ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ – ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ٤٤٥ )
অর্থাৎ,“ মুকসিরীন রাবির অন্যতম, যার সম্পর্কে আল্লাহ পাকের হাবীব হুযুর পুরনূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইর্শাদ ফরমায়েছেন, ﺧﺬﻭﺍ ﻧﺼﻒ ﺩﻳﻨﻜﻢ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺤﻤﻴﺮﺓ -"আমার পরে তোমরা এই হুমায়রার(আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহার)কাছ থেকে অর্দ্ধেক দীন শিক্ষা করবে”। আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ননা করেন, “যদি রসুলে খোদা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি জানতেন যে, মহিলারা(ছাহাবী যুগের মহিলারা)কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে তবে অবশ্যই অবশ্যই তিনি মহিলাদেরকে মসজিদে আসা হারাম করে দিতেন; যেমনি হারাম করা হয়েছিল বনি ঈসরাঈল মহিলাদেরকে”।(বুখারী শরীফ-৮৬৯,মুসলিম শরীফ-৪৪৫)
হে লামাযহাবী ভাইগণ! এখন তো আপনাদের মা-বোন, চাচি-মামি, ফুফু-খালা, দেশীবোন, বিদেশীবোন এদের অনেকে এমন আছে, যারা উলংগ অবস্থায় হাটাচলা করেন। স্কুল-কলেজের নাম ধরে পার্কে গিয়ে নস্টি-ফস্টি করে। সুযোগ পাইলে আরোও কত কি করে!!
বলুন!এ অবস্থা কি ছাহাবায়ে কেরামের যোগে ছিল ??
** হাদিস শরীফ নং-০২
ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺜﻨﻰ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻫﻤﺎﻡ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ،ﻋﻦ ﻣُﻮﺭِّﻕ ، ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺍﻷﺣﻮﺹ ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ، ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻋﻮﺭﺓ ، ﻓﺈﺫﺍ ﺧﺮﺟﺖ ﺇﺳﺘﺸﺮﻓﻬﺎ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ، ﻭﺍﻗﺮﺏ ﻣﺎ ﺗﻜﻮﻥ ﺑﺮﻭﺣﺔ ﺭﺑﻬﺎ ﻭﻫﻲ ﻓﻲ ﻗﻌﺮ ﺑﻴﺘﻬﺎ - ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ - ٢٠٦١، ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ - ١٦٨٥، ﺳﻨﻦ ﺗﺮﻣﺬﻱ – ١١٧٣، ﻣﺸﻜﻮﺍﺓ ﺷﺮﻳﻒ – ٣١٠٩، ﺍﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ - ﺝ١١ﺹ١٥١ )
অর্থাৎ, “ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ)থেকে বর্ণিত, দয়াল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমায়েছেন, মহিলাগণ পুরোটা-ই পর্দা। সুতরাং এরা যখন বের হয় তখন শয়তান ওৎ পেতে বসে থাকে। আর যখন তারা নিজ বাড়ীতে অবস্থান করে তখন আল্লাহ পাকের একদম নিকটবর্তি থাকেন”। ﺍﻹﺭﻭﺍﺀ) হাদিস শরীফ নং-২৭৩, ছহিহ মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস শরীফ নং-২০৬১, ছহিহ ইবনে খুজাইমা হাদিস শরীফ নং-১৬৮৫, সুনান তিরমিযি হাদিস শরীফ নং-১১৭৩, মিশকাত শরীফ হাদিস শরীফ নং-৩১০৯, তাফসীরে ইবনে কসির ১১তম খন্ড ১৫১নং পৃষ্ঠা।)
সুতরাং এই হাদিস শরীফের নির্দেশও হলো মহিলারা বাইরে যাবেনা।
** কেউ বলতে পারেন, মহিলারা শরঈ প্রয়োজনে বের হতে পারেন। আর নামাজ শরঈ প্রয়োজন। আর হাদিস শরীফে জামাতে যাওয়ার অনুমোতি আছে।
জবাব আমি দেবনা। জবাব দেব দয়াল নবীজীর(ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একখানা হাদিস শরীফ দিয়ে।
** হাদিস শরীফ নং-০৩
ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻃﺎﻫﺮ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻟﻐﺎﻓﻘﻰ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻭﻫﺐ، ﻋﻦ ﺩﺅﺩ ﺑﻦ ﻗﻴﺲ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺳﻮﻳﺪ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ، ﻋﻦ ﻋﻤﺘﻪ ﺃﻡ ﺣﻤﻴﺪ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺃﺑﻲ ﺣﻤﻴﺪ ﺍﻟﺴﺎﻋﺪﻱ - ﺍﻧﻬﺎ ﺟﺎﺀﺕ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ - ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ! ﺇﻧﻲ ﺍﺣﺐ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻣﻌﻚ - ﻓﻘﺎﻝ ﻗﺪ ﻋﻠﻤﺖ ﺍﻧﻚ ﺗﺤﺒﻴﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻣﻌﻲ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻙ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻙ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﻮﻣﻚ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﻮﻣﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪﻱ -
ﻓﺄﻣﺮﺕ، ﻓﺒﻨﻰ ﻟﻬﺎ ﻣﺴﺠﺪ ﻓﻲ ﺃﻗﺼﻰ ﺷﻴﺊ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻭﺃﻇﻠﻤﻪ، ﻓﻜﺎﻧﺖ ﺗﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺣﺘﻰ ﻟﻘﻴﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ - ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ - ١٦٨٩، ﺍﻟﻔﺘﺢ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻲ - ١٣٣٧ )
অর্থাৎ, “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী(রঃ)তাঁর ফুফু উম্মে হুমাইদ (রাঃ)থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উম্মে হুমাইদ)দয়াল নবীজীর কাছে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনার সাথে নামাজ পড়তে পছন্দ করি। নবীজী জবাব দিলেন,নিশ্চয়ই আমি জানি তোমরা আমার সাথে নামাজ আদায় করতে পছন্দ কর। কিন্ত আমার মাসজিদ থেকে তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়াতে তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বাড়ীতে(যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়লে তার চেয়েও তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার বাড়ীর(যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়লে সওয়াব বেশী হবে। তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার একান্ত ঘরে(গোপন কুটরি,যেখানে সকলের যাওয়ার অনুমোতি নেই)নামাজ পড়লে তোমার জন্য অত্যধিক সওয়াব বা কল্যাণ হবে।
বর্ণনাকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী(রঃ)বলেন, হযরত উম্মে হুমাইদ (রাঃ)এর নির্দেশে তাঁর বাড়ীতে তার জন্য আলাদা একটি ঘর বানানো হলো। তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত সেখানেই নামায আদায় করতেন”।(ছহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস শরীফ নং-১৬৮৯, ফতহুর রব্বানী খন্ড ০৫ পৃষ্ঠা ১৯৮,হাদিস শরীফ নং-১৩৩৭)
** সুতরাং প্রমাণীত হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে শামিল হওয়া শরঈ কোন উজর নয়।
** আরোও প্রমাণীত হলো, মহিলারা নিজ গোপন ঘরে একাকী নামায পড়লেই নেকী বেশী পাবে।
** এবং নবীজী হুযুর পুরনূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলতঃ মহিলাদেরকে জামাতে নামাজ পড়া থেকে নিরুৎসাহী করেছেন।
মহিলাদের জন্য নামাজের উত্তম স্থান সম্পর্কে নবীজী আরোও ইরশাদ করেছেন,
** হাদিস শরীফ নং-০৪
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﺜﻨﻰ ، ﺃﻥ ﻋﻤﺮﻭﺑﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺣﺪﺛﻬﻢ ﻗﺎﻝ ﻫﻤﺎﻡ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ، ﻋﻦ ﻣﻮﺭﻕ، ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺍﻻﺣﻮﺹ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ – ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻬﺎ ، ﻭﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﻣﺨﺪﻋﻬﺎ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ - ( ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ٥٧٠ ، ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ٢٠٦٠، ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ١٦٩٠،١٦٨٨ ، ﺍﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﺝ ١١ ﺹ ١٥١ )
অর্থাৎ, “নারীর অন্দর মহলের নামাজ তার বাড়ীর (ড্রয়িং রুম) নামাজের চাইতে উত্তম।আর বাড়ীর নামাজ বারান্দার নামাজের চাইতে উত্তম”।(আবু দাউদ-৫৭০,বাজ্জার-২০৬০, ইবনে খুজাইমা-১৬৯০,১৬৮৮,ইবনে কছির ১১/১৫১)
** হাদিস শরীফ নং- ০৫
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺧﻴﺮ ﻣﺴﺎﺟﺪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻗﻌﺮ ﺑﻴﻮﺗﻬﻦ . ( ﺍﺣﻤﺪ ٢٦٥٤٢، ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ١٦٨٣)
অর্থাৎ, “মহিলাদের জন্য তাদের নিজ ঘরের গোপন প্রকোষ্টই উত্তম মসজিদ”।
** হাদিস শরীফ নং- ০৬
ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﻫﺎﺭﻭﻥ ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺍﻟﻌﻮﺍﻡ ﺑﻦ ﺣﻮﺷﺐ ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺣﺒﻴﺐ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺛﺎﺑﺖ ، ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ – ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻ ﺗﻤﻨﻌﻮﺍ ﻧﺴﺎﺀﻛﻢ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ، ﻭ ﺑﻴﻮﺗﻬﻦ ﺧﻴﺮ ﻟﻬﻦ - ( ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ، ﺭﻗﻢ - ٥٦٧ )
অর্থাৎ, “হযরত ইবনে উমর(রঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, তোমরা নারীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করনা। তবে জেনে রাখ,(নামাজের জন্য) তাদের একান্ত ঘরই উত্তম”।(আবু দাউদ ৫৬৭)
**অতএব হে দ্বীনদার ঈমানদার বোনেরা! সাবধান, নবীজী আপনাদেরকে মসজিদে যেতে অনুৎসাহিত করেছেন। দয়াল নবীজী যার শানে বলেছেন, আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন তাহলে সেই ব্যক্তি হতেন হযরত উমর রদিয়াল্লাহু আনহু।আর ওই উমর (রাঃ) আপনাদেরকে নিষেধ করেছেন মসজিদে যেতে কিংবা জামাতে নামাজ পড়তে।আর আম্মাজান আয়েশা(রাঃ) সহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রিদ্বওয়ানুল্লাহ
ি আলাইহিম উনারা সকলে তা গ্রহন করেছেন।কেউ বিরুধিতা করেন নি, এর উপর ইজমা হয়ে গেছে।
**তার পরেও আপনারা দেখেন, মসজিদে যাওয়ার অনুমোতির হদিস শরীফ গুলো পুর্বের।আর নিষেধ ও অনুৎসাহিত করার হদিস শরীফ গুলো পরের।সুতরাং আগের গুলো মনসুখ (রহিত) আর পরের গুলো নাসেখ (রহিতকারী)।উসুল হলো নাসেখ গুলোর উপর আমল করতে হবে।
**মনে রাখবেন ছাহাবায়ে কিরাম রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন উনাদের কথা , কাজ ও মৌন সমর্থনকেও হদিস শরীফ বলে।
অতএব, হানাফি মাযহাবের ফতওয়া"মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরীমী" ভ্রান্ত নয়; সহিহ হদিস শরীফ দ্ধারাই প্রমানীত।
** হানাফী মাযহাব মতে মহিলাদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া নিষেধঃ
** হানাফি ফিক্বহের বিখ্যাত কিতাব “আল ফাতাওয়া আত তাতারখানিয়া” ০১ জিলদ ৬২৮ নং পৃষ্টায় উল্লেখ আছে,
ﻭﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻟﻈﻬﻮﺭ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ
অর্থাৎ,বর্তমানে জওয়ান/বৃদ্ধ সকল নারীর জন্য যে কোন নামাজের জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী।
** আল ফিক্বহু আলা মাযাহিবিল আরবা’আহ ০১ জিলদ ৩৪৯ নং পৃষ্টায় উল্লেখ আছে,
ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﻗﺎﻟﻮﺍ، ﺍﻻﻓﻀﻞ ﺍﻥ ﺗﺼﻠﻲ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻇﻬﺮﺍ، ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﺠﻮﺯﺍ ﺃﻭ ﺷﺎﺑﺔ، ﻷﻥ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻟﻢ ﺗﺸﺮﻉ ﻓﻲ ﺣﻘﻬﺎ .
অর্থাৎ, হানাফীগনের নিকট গ্রহনযোগ্য অভিমত হলো, মহিলারা নিজ ঘরেই নামাজ পড়বে এটাই উত্তম।এক্ষেত্রে জওয়ান/বুড়ো সমান।কেননা মহিলাদের জন্য জামাত নেই।
** রদ্দুল মোহতার শামী কিতাবের ০১ম জিলদ ৫২৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺣﻀﻮﺭﻫﻦ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻭﻟﻮ ﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﻋﻴﺪ ﻭﻭﻋﻆ ﻣﻄﻠﻘﺎ ﻭﻟﻮ ﻋﺠﻮﺯﺍ ﻟﻴﻼ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﻤﻔﺘﻰ ﺑﻪ ﻟﻔﺴﺎﺩ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ .
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী যদিও জুমা, ঈদ, কিংবা ওয়াজ মাহফিল তথা যে কোন প্রকার মাহফিলই হোক।এক্ষেত্রে বৃদ্ধা কিংবা রাতের শর্ত নেই।সর্বাবস্থায় ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় তা নিষিদ্ধ। এর উপরই মাযহাবের চুড়ান্ত ফায়সালা।
** আলমগীরী ইন্ডিয়ান ছাপা ০১ম জিলদ ৮৯ নং পৃষ্ঠা লেবাননী ছাপা ০১ম জিলদ ৯৮ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭﻛﺮﻩ ﻟﻬﻦ ﺣﻀﻮﺭ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﺇﻻ ﻟﻠﻌﺠﻮﺯ ﻓﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ، ﻭﺍﻟﻔﺘﻮﻯ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻟﻈﻬﻮﺭ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺎﻓﻲ، ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺒﻴﻴﻦ .
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে বৃদ্ধা মহিলারা ফজর, মাগরীব ও এশা’তে উপস্থিত হতে পারবে। কিন্তু বর্তমান জামানার ফিতনা ফ্যাসাদের কারণে সকল নামাজে জোওয়ান/বৃদ্ধা সকলের জন্য উপস্থিত হওয়া সর্ব সম্মতিক্রমে মাকরূহ তাহরীমী (এটা কাফী কিতাবে আছে), আর এটাই গ্রহণযোগ্য (তাবঈন কিতাবে আছে)।
** দেওবন্দী ফতওয়ার কিতাব “আহসানুল ফাতাওয়া” ৩য় জিলদ ২৮৩ নং পৃষ্ঠায় আছে,
ﻋﻮﺭﺗﻮﮞ ﮐﮯ ﻟﺌﮯ ﺟﻤﺎﻋﺖ ﻣﯿﮟ ﺷﺮﯾﮏ ﮨﻮﻧﺎ ﻣﮑﺮﻭﮦ ﺗﺤﺮﯾﻤﯽ ﮨﮯ ۔
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে শরীক হওয়া মাকরূহ তাহরীমী।
অনুরূপ ফতওয়াই দারুল উলুম দেওবন্দেও আছে।
##কয়টি হাদিস পড়ে মূর্খের মতো এরা ফতোয়া দিয়ে ফেতনা সৃষ্টি করে?কোন হাদিস মানসুখ রহিত হয়ে গেছে এরা না জেনে ফতোয়া দেয় কেন?তাও বলে নারীরা মুখ হাত খুলে চলতে পারবে ফতোয়া দেয় তাহলে পর্দা কোনটি?,যেনো জেনা ইভটিজিং বেশী বেশী হয় এরা আলেম?
অতএব প্রমাণীত হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। এটা সহিহ হাদিস এবং ফিক্বহের দৃষ্টিতে সু-সাব্যস্ত। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সহী বুঝ সহী জ্ঞান দান ও কবুল করুন, আমিন!
Monday, 25 May 2020
মহিলাদের নামাজ ঘরেই আদায় করবে
গর্দান মাসেহ করার দলিল
##অযুতে ঘাড় অর্থাৎ গর্দান মাসেহ করার বিধান:
-------------------------------------------------------------------
(আহলে হাদীস নামধারী লা-মাযহাবী ভাইয়েরা ঢালাওভাবে অযুতে ঘাড় মাসেহ করা কে বিদা'আত বলে থাকে তাদের এই রকম বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন)
👉ঘাড় অর্থাৎ গর্দান মাসেহ করা মুস্তাহাব।
✍️✍️ দলিল:
-------------------
১
عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “مَنْ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِيَدَيْهِ عَلَى عُنُقِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ”
হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অজু করে এবং উভয় হাত দিয়ে গর্দান মাসাহ করে, তাহলে তাকে কিয়ামতের দিন [আযাবের] বেড়ি থেকে বাঁচানো হবে।
ইমাম আবুল হাসান ফারেছ রহঃ বলেছেনঃ
وَقَالَ هَذَا إنْ شَاءَ اللَّهُ حَدِيثٌ صَحِيحٌ
ইনশাআল্লাহ হাদীসটি সহীহ। [তালখীসুল হাবীর-১/৯৩, দারুল কুতুব প্রকাশনী-১/২৮৮,মুআসসা কুরতুবিয়্যাহ প্রকাশনী-১/১৬৩]
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন-বর্ণনাটি সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, যদিও তা একজন তাবেয়ীর কথা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস গণ্য হবে। কেননা, তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এমন সংবাদ দেওয়া সম্ভব নয়। {আত তালখীসুল হাবীর-১/৯২, হাদীস নং-৯৭}
২
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ” أَنَّهُ كَانَ إِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ “
হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি যখনি মাথা মাসাহ করতেন, তখন মাথা মাসাহের সাথে গর্দানও মাসাহ করতেন। [সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৭৯]
৩
عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ رَأْسَهُ هَكَذَا، وَأَمَرَّ حَفْصٌ بِيَدَيْهِ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى مَسَحَ قَفَاهُ
হযরত তালহা তিনি তার পিতা, তিনি তার দাদারসূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি অজু করছেন। তখন তিনি এভাবে মাথা মাসাহ করেছেন। উভয় হাতকে জমা করে পাস কাটিয়ে তা দিয়ে গর্দান মাসাহ করতেন। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৫০]
এছাড়া আল্লামা বাগাভী রহঃ, ইবনে সাইয়িদুন্নাস রহঃ,লা-মাযহাবী, আহলে হাদীস ভাইদের কাছে মান্যবর ইমাম শাওকানী রহঃ প্রমূখও অযুতে গর্দান মাসাহ করার কথা বলেছেন। {নাইলুল আওতার-১/২০৪}
কথিত আহলে হাদীসদের বড় ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান এ মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন-গর্দান মাসাহ করাকে বিদআত বলা ভুল। আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থের উপরোক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনা এ বিষয়ের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এর বিপরীত বক্তব্য হাদীসে আসেনি। {বুদূরুল আহিল্যাহ-২৮}
সুতরাং গর্দান মাসাহকে প্রমাণহীন, ভিত্তিহীন বলার কোন সুযোগ নেই।
👉 তবে হ্যাঁ কেউ যদি ঘাড় তথা গর্দান মাসেহ না করে তাতে কোন সমস্যা হবেনা, কিন্তু ঢালাওভাবে এটাকে অস্বীকার করে বিদআত বলা জ্ঞানহীনতার ন
আশুরার ইতিহাস ও ইবাদত
আশূরার সঠিক ইতিহাস ও ফজিলতঃ
=========================
মহান আল্লাহ আমাদের জন্য ৪টি মাস যথা- যিলকদ, জিলহজ্ব, মোহরম ও রজবকে হারাম তথা সম্মানিত মাস করেছেন। আল্লাহ্ বলেন,
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
-আসলে যখন আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই আল্লাহর লিখন ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারো চলে আসছে৷ এর মধ্যে চারটি হারাম মাস৷ এটিই সঠিক বিধান৷ কাজেই এ চার মাসের নিজেদের ওপর জুলুম করো না৷ আর মুশরিকদের সাথে সবাই মিলে লড়াই করো যেমন তারা সবাই মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে৷ এবং জেনে রাখো আল্লাহ মুক্তাকীদের সাথেই আছেন৷[সুরা তওবাহ ৩৬]
.
বছরের প্রথম মাস মোহররমের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশূরা শব্দটি শুনতেই সাধারণ মানুষের যেন গা শিউরে ওঠে। কারণ, আশূরা বলতেই তাদের ধারণা কারবালা।
.
আর কারবালা মানেই নবী ﷺ এর নাতি ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ)-এর পরিবারের মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনা।
.
■ আশূরার সিয়ামের মুল ইতিহাসঃ
আমরা আশূরার যে সিয়ামের কথা এত কাল শুনে আসছি তার সাথে কারবালার এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই! মূলতঃ এ দিনে মূসা (আঃ) ও তার জাতি বনী ইসরাঈল ফেরাউনের অন্যায়-অত্যাচার, নিষ্পেষণের জাঁতাকল ও গোলামী থেকে মিশর ছেড়ে সাগর পার হয়ে নাজাত পেয়ে ছিলেন, তাই তিনি আল্লাহ্র শোকরিয়া ও কৃতজ্ঞার্থে এ দিনে সিয়াম রেখেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বনী ইসরাঈলরাও এই দিনে সিয়াম রাখত।
.
◉ কোরআনে বর্নিত ইতিহাস:
মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
-স্মরণ করো সেই সময়ের কথা যখন আমরা সাগর চিরে তোমাদের জন্য পথ করে দিয়েছিলাম , তারপর তার মধ্য দিয়ে তোমাদের নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছিলাম , আবার সেখানে তোমাদের চোখের সামনেই ফেরাউনী দলকে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। [সুরা বাক্বরা -৫০]
.
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً ۚ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ
-আর আমি বনী ইসরাঈলকে সাগর পার করে নিয়ে গেলাম৷ তারপর ফেরাউন ও তার সেনাদল জুলূম নির্যতন ও সীমালংঘন করার উদ্দেশ্য তাদের পেছনে চললো৷ অবশেষে যখন ফেরাউন ডুবতে থাকলো তখন বলে উঠলো, আমি মেনে নিলাম, নবী ইসরাঈল যার উপর ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া আর কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, এবং আমিও আনুগত্যের শির নতকারীদের অন্তরভুক্ত৷
(জবাব দেয়া হলো) এখন ঈমান আনছো! অথচ এর আগে পর্যন্ত তুমি নাফরমানী চালিয়ে এসেছো এবং তুমি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের একজন ছিলে৷ এখন তো আমি কেবল তোমার লাশটাকেই রক্ষা করবো যাতে তুমি পরবর্তীদের জন্য শিক্ষনীয় নিদর্শন হয়ে থাকো৷যদিও অনেক মানুষ এমন আছে যারা আমার নিদর্শনসমূহ থেকে উদাসীন৷ [সুরা ইউনুস ৯০-৯২]
.
◉ হাদীসে বর্ণিত ইতিহাস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন যে, ইহুদীরা আশূরার সিয়াম পালন করছে। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন,
-তোমরা এ দিকে কেন সিয়াম পালন কর? তারা বলল,
-এটা এক মহান দিবস। এ দিনে আল্লাহ্ মুসা (আঃ) ও তার জাতিকে নাজাত দেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেয়। তাই মূসা (আঃ) ও তার জাতি এ দিনে আল্লাহ্র শোকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্য সিয়াম পালন করে এ জন্য আমরাও পালক করি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ
-আমরা মূসা (আঃ) এর অনূসরণ করার বেশি হকদার। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আশূরার সিয়াম পালন করেন এবং সাহাবাগনকেও সিয়াম পালন করার নির্দেশ দেন। [বোখারী হ/২০২৪,৩৩৯৭; মুসলীম হা/১১৩০]
.
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে যেভাবে আশূরা ও রমযানের সিয়ামের গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করতে দেখেছি, অনুরূপ অন্য কোন সিয়ামের ব্যপারে দেখিনি। [বোখারী হা/১৮৬৭; মুসলীম হা/১১৩২]
.
আয়েশা ؓ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলিয়াতের জামানায় কুরাইশরা আশূরার সিয়াম পালন করত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ ও পালন করতেন। এরপর যখন তিনি মদিনায় আগমন করলেন তখনও তিনি আশূরার সিয়াম পালন করেন এবং পালন করার জন্য নির্দেশ করেন। অতঃপর যখন রমযানের সিয়াম ফরজ হলো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আশূরার সিয়াম (ফরজ হিসাবে) পালন করেননি (সুন্নত হিসাবে পালন করেছেন)। এরপর যে চাইত পালন করত এবং যে না পালন করতে চাইত সে পালন করত না। [বোখারী হা/১৮৬৩; মুসলীম হা/১৮৯৯]
→ অর্থাৎ এ দিনে সিয়াম রমাযানে সিয়াম ফরজ হওয়ার পূর্বে ফরজ ছিল।
.
■ আশূরার সিয়াম পালন করার নিয়মঃ
শুধুমাত্র দশম তারিখে সিয়াম রাখা জায়েয, যা ইবনে আব্বাস ؓ -এর হাদীসের উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ আশূরার সিয়াম পালন করার জন্য তা তালাশ করতেন, দশম তারিখের সাথে নবম তারিখেও পালন করা সুন্নত, যাতে করে ইহুদীর-খৃষ্টানদের সাথে সদৃশ না হয়, আর ইহাই হলো সর্বোত্তম যা সাহাবায়ে কেরাম নবী ﷺ এর পর করতেন।
.
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ؓ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আশূরার সিয়াম পালন করতেন এবং পালন করার জন্য নির্দেশ করেন, পরবর্তীতে সাহাবীগন বললেন, এ দিনটিকে ইহুদী-খৃষ্টানরা বড় সম্মান করে, সূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ আল্লাহ্ চাহে তো যখন আগামী বছর আসবে তখন আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব, কিন্তু পরের বছর আশূরা আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুবরণ করেন ।
[মুসলীম হা/১৯১৬, ১৯১৭]
.
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
-রামাযানের পরে সর্বোত্তম সিয়াম হলো মুহাররম মাসের ছিয়াম (অর্থাৎ আশূরার ছিয়াম) এবং ফরয সালাতের পরে সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের নফল সালাত (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের ছালাত)।[মুসলিম হা/১১৬৩, মিশকাত হা/২০৩৯ ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/১৯৪১]
.
আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
-আমি আশা করি আশূরা বা ১০ই মুহাররমের সিয়াম আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে। [মুসলিম হা/১১৬২, মিশকাত হা/২০৪৪; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/১৯৪৬।
☞ অর্থাৎ ইহা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ অর্থাৎ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়।
স্বামী স্ত্রী উভয়ের জামায়াতে ইকামত কে দেবেন
অনেক ভাই জানতে চেয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে স্বামী স্ত্রী মিলে জামায়াত করার সময় একামত কে দিবে, স্বামী না স্ত্রী?
তো আসুন জেনে নেয়া যাক
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে
স্বামী স্ত্রী মিলে নামাযের জামা'য়াত করার সময় একামত কে দিবে স্বামী না স্ত্রী?
শরয়ী উযরে ঘরে নামায আদায় করার অনুমতি আছে। আর ঘরে নামায আদায় করার সময় একাকি নামায আদায় করার থেকে বিবি বাচ্চাদের নিয়ে জামায়াত করে নামায আদায় করাই উত্তম।
ঘরে নামায আদায় করার সময় আযান ও একামত দেওয়া জরুরি না, বরং মহল্লার মসজিদের আযানই
যথেষ্ট, তবে উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে আজান ও একামত উভয়টাই অথবা কমপক্ষে একামত দিয়ে জামা'য়াত করা। এমতাবস্থায় একামতও স্বামী দিবে এবং ইমামতিও সেই করবে, যদি আযান দিতে চায় তাহলে সেটাও স্বামী অথবা কোন বুদ্ধিমান বাচ্চা দিবে।( স্ত্রী আযান, একামত কোনটাই দিবেনা)
(ফতোয়ায়ে শামী ১/৩৯৫)
দারুল ইফতা : জামেয়া উলুমে ইসলামীয়া আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানুরী টাউন, করাচী, পাকিস্তান।
অনলাইন ফতোয়া নং ১৪৪১০৫২০১০৫৪.
الدر المختار وحاشية ابن عابدين
(رد المحتار) (1/ 553):
"ولنا «أنه عليه الصلاة والسلام كان خرج ليصلح بين قوم فعاد إلى المسجد وقد صلى أهل المسجد فرجع إلى منزله فجمع أهله وصلى».
الدر المختار وحاشية ابن عابدين
(رد المحتار) (1/ 395):
(وكره تركهما) معًا (لمسافر) ولو منفردًا (وكذا تركها) لا تركه لحضور الرفقة (بخلاف مصل) ولو بجماعة (وفي بيته بمصر) أو قرية لها مسجد؛ فلايكره تركهما إذ أذان الحي يكفيه".
"(قوله: في بيته) أي فيما يتعلق بالبلد من الدار والكرم وغيرهما، قهستاني. وفي التفاريق: وإن كان في كرم أو ضيعة يكتفي بأذان القرية أو البلدة إن كان قريبًا وإلا فلا. وحد القرب أن يبلغ الأذان إليه منها اهـ إسماعيل. والظاهر أنه لايشترط سماعه بالفعل، تأمل.
(قوله: لها مسجد) أي فيه أذان وإقامة، وإلا فحكمه كالمسافر صدر الشريعة.
(قوله: إذ أذان الحي يكفيه) لأن أذان المحلة وإقامتها كأذانه وإقامته؛ لأن المؤذن نائب أهل المصر كلهم كما يشير إليه ابن مسعود حين صلى بعلقمة والأسود بغير أذان ولا إقامة، حيث قال: أذان الحي يكفينا، وممن رواه سبط ابن الجوزي فتح: أي فيكون قد صلى بهما حكما، بخلاف المسافر فإنه صلى بدونهما حقيقة وحكما؛ لأن المكان الذي هو فيه لم يؤذن فيه أصلا لتلك الصلاة كافي. وظاهره أنه يكفيه أذان الحي وإقامته وإن كانت صلاته فيه آخر الوقت تأمل، وقد علمت تصريح الكنز بندبه للمسافر وللمصلي في بيته في المصر، فالمقصود من كفاية أذان الحي نفي الكراهة المؤثمة. قال في البحر: ومفهومه أنه لو لم يؤذنوا في الحي يكره تركهما للمصلي في بيته، وبه صرح في المجتبى، وأنه لو أذن بعض المسافرين سقط عن الباقين كما لايخفى". فقط واللہ اعلم
فتوی نمبر : 144105201054
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن.
কপিরাইট--
معني اللغوي الاستوي
1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...
-
হানাফী ও আহলে হাদীসদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ নামাযের মাসআলা ও তার প্রামাণিক পর্যালোচনা بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين- والص...
-
الآية (( لا خوف عليهم ولا هم يحزنون)) وردت في القرآن الكريم 14 مرة 6 منها في سورة البقرة وجاء هذا التكرار بهدف تثبيت العقيدة وبث الطمأنينة ف...
-
الضرب وسيلة مفيدة ، لإدراك غاية حميدة، فإذا أدراك المعلم أنّ مقصود الضرب حصول العلم و الادب: توفي الضرب المبرِّح الذي يلحق بالصبي الإتلاف و ...