Monday, 25 May 2020

মহিলাদের নামাজ ঘরেই আদায় করবে

*** হানাফি মাজহাবে মহিলাদের জামাতে যাওয়া মাকরুহে তাহরিমি।
হাদিস শরীফ নং-০১
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻳﻮﺳﻒ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﻣﺎﻟﻚ ﻋﻦ ﻳﺤﻲ ﺍﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﻋﻦ ﻋﻤﺮﺓ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻟﻮ ﺍﺩﺭﻙ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺙ ﺍﻟﻨﺴﺂﺀ ﻟﻤﻨﻌﻬﻦ ﻛﻤﺎ ﻣﻨﻌﺖ ﻧﺴﺂﺀ ﺑﻨﻲ ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ – ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ - ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ - ٨٦٩ ، ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ – ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ٤٤٥ )
অর্থাৎ,“ মুকসিরীন রাবির অন্যতম, যার সম্পর্কে আল্লাহ পাকের হাবীব হুযুর পুরনূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইর্শাদ ফরমায়েছেন, ﺧﺬﻭﺍ ﻧﺼﻒ ﺩﻳﻨﻜﻢ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺤﻤﻴﺮﺓ -"আমার পরে তোমরা এই হুমায়রার(আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহার)কাছ থেকে অর্দ্ধেক দীন শিক্ষা করবে”। আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ননা করেন, “যদি রসুলে খোদা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি জানতেন যে, মহিলারা(ছাহাবী যুগের মহিলারা)কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে তবে অবশ্যই অবশ্যই তিনি মহিলাদেরকে মসজিদে আসা হারাম করে দিতেন; যেমনি হারাম করা হয়েছিল বনি ঈসরাঈল মহিলাদেরকে”।(বুখারী শরীফ-৮৬৯,মুসলিম শরীফ-৪৪৫)
হে লামাযহাবী ভাইগণ! এখন তো আপনাদের মা-বোন, চাচি-মামি, ফুফু-খালা, দেশীবোন, বিদেশীবোন এদের অনেকে এমন আছে, যারা উলংগ অবস্থায় হাটাচলা করেন। স্কুল-কলেজের নাম ধরে পার্কে গিয়ে নস্টি-ফস্টি করে। সুযোগ পাইলে আরোও কত কি করে!!
বলুন!এ অবস্থা কি ছাহাবায়ে কেরামের যোগে ছিল ??
** হাদিস শরীফ নং-০২
ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺜﻨﻰ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻫﻤﺎﻡ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ ،ﻋﻦ ﻣُﻮﺭِّﻕ ، ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺍﻷﺣﻮﺹ ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ، ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻋﻮﺭﺓ ، ﻓﺈﺫﺍ ﺧﺮﺟﺖ ﺇﺳﺘﺸﺮﻓﻬﺎ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ، ﻭﺍﻗﺮﺏ ﻣﺎ ﺗﻜﻮﻥ ﺑﺮﻭﺣﺔ ﺭﺑﻬﺎ ﻭﻫﻲ ﻓﻲ ﻗﻌﺮ ﺑﻴﺘﻬﺎ - ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ - ٢٠٦١، ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ - ١٦٨٥، ﺳﻨﻦ ﺗﺮﻣﺬﻱ – ١١٧٣، ﻣﺸﻜﻮﺍﺓ ﺷﺮﻳﻒ – ٣١٠٩، ﺍﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ - ﺝ١١ﺹ١٥١ )
অর্থাৎ, “ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাঃ)থেকে বর্ণিত, দয়াল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমায়েছেন, মহিলাগণ পুরোটা-ই পর্দা। সুতরাং এরা যখন বের হয় তখন শয়তান ওৎ পেতে বসে থাকে। আর যখন তারা নিজ বাড়ীতে অবস্থান করে তখন আল্লাহ পাকের একদম নিকটবর্তি থাকেন”। ﺍﻹﺭﻭﺍﺀ) হাদিস শরীফ নং-২৭৩, ছহিহ মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস শরীফ নং-২০৬১, ছহিহ ইবনে খুজাইমা হাদিস শরীফ নং-১৬৮৫, সুনান তিরমিযি হাদিস শরীফ নং-১১৭৩, মিশকাত শরীফ হাদিস শরীফ নং-৩১০৯, তাফসীরে ইবনে কসির ১১তম খন্ড ১৫১নং পৃষ্ঠা।)
সুতরাং এই হাদিস শরীফের নির্দেশও হলো মহিলারা বাইরে যাবেনা।
** কেউ বলতে পারেন, মহিলারা শরঈ প্রয়োজনে বের হতে পারেন। আর নামাজ শরঈ প্রয়োজন। আর হাদিস শরীফে জামাতে যাওয়ার অনুমোতি আছে।
জবাব আমি দেবনা। জবাব দেব দয়াল নবীজীর(ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একখানা হাদিস শরীফ দিয়ে।
** হাদিস শরীফ নং-০৩
ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻃﺎﻫﺮ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻟﻐﺎﻓﻘﻰ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻭﻫﺐ، ﻋﻦ ﺩﺅﺩ ﺑﻦ ﻗﻴﺲ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺳﻮﻳﺪ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ، ﻋﻦ ﻋﻤﺘﻪ ﺃﻡ ﺣﻤﻴﺪ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺃﺑﻲ ﺣﻤﻴﺪ ﺍﻟﺴﺎﻋﺪﻱ - ﺍﻧﻬﺎ ﺟﺎﺀﺕ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻟﺖ - ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ! ﺇﻧﻲ ﺍﺣﺐ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻣﻌﻚ - ﻓﻘﺎﻝ ﻗﺪ ﻋﻠﻤﺖ ﺍﻧﻚ ﺗﺤﺒﻴﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻣﻌﻲ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻙ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻙ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﻮﻣﻚ، ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﻮﻣﻚ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪﻱ -
ﻓﺄﻣﺮﺕ، ﻓﺒﻨﻰ ﻟﻬﺎ ﻣﺴﺠﺪ ﻓﻲ ﺃﻗﺼﻰ ﺷﻴﺊ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻭﺃﻇﻠﻤﻪ، ﻓﻜﺎﻧﺖ ﺗﺼﻠﻰ ﻓﻴﻪ ﺣﺘﻰ ﻟﻘﻴﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ - ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ - ١٦٨٩، ﺍﻟﻔﺘﺢ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻲ - ١٣٣٧ )
অর্থাৎ, “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী(রঃ)তাঁর ফুফু উম্মে হুমাইদ (রাঃ)থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উম্মে হুমাইদ)দয়াল নবীজীর কাছে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনার সাথে নামাজ পড়তে পছন্দ করি। নবীজী জবাব দিলেন,নিশ্চয়ই আমি জানি তোমরা আমার সাথে নামাজ আদায় করতে পছন্দ কর। কিন্ত আমার মাসজিদ থেকে তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়াতে তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বাড়ীতে(যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়লে তার চেয়েও তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার বাড়ীর(যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়লে সওয়াব বেশী হবে। তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার একান্ত ঘরে(গোপন কুটরি,যেখানে সকলের যাওয়ার অনুমোতি নেই)নামাজ পড়লে তোমার জন্য অত্যধিক সওয়াব বা কল্যাণ হবে।
বর্ণনাকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী(রঃ)বলেন, হযরত উম্মে হুমাইদ (রাঃ)এর নির্দেশে তাঁর বাড়ীতে তার জন্য আলাদা একটি ঘর বানানো হলো। তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত সেখানেই নামায আদায় করতেন”।(ছহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস শরীফ নং-১৬৮৯, ফতহুর রব্বানী খন্ড ০৫ পৃষ্ঠা ১৯৮,হাদিস শরীফ নং-১৩৩৭)
** সুতরাং প্রমাণীত হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে শামিল হওয়া শরঈ কোন উজর নয়।
** আরোও প্রমাণীত হলো, মহিলারা নিজ গোপন ঘরে একাকী নামায পড়লেই নেকী বেশী পাবে।
** এবং নবীজী হুযুর পুরনূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলতঃ মহিলাদেরকে জামাতে নামাজ পড়া থেকে নিরুৎসাহী করেছেন।
মহিলাদের জন্য নামাজের উত্তম স্থান সম্পর্কে নবীজী আরোও ইরশাদ করেছেন,
** হাদিস শরীফ নং-০৪
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﺜﻨﻰ ، ﺃﻥ ﻋﻤﺮﻭﺑﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺣﺪﺛﻬﻢ ﻗﺎﻝ ﻫﻤﺎﻡ ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ، ﻋﻦ ﻣﻮﺭﻕ، ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺍﻻﺣﻮﺹ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ – ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻬﺎ ، ﻭﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﻣﺨﺪﻋﻬﺎ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ - ‏( ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ٥٧٠ ، ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺒﺰﺍﺭ٢٠٦٠، ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ١٦٩٠،١٦٨٨ ، ﺍﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﺝ ١١ ﺹ ١٥١ )
অর্থাৎ, “নারীর অন্দর মহলের নামাজ তার বাড়ীর (ড্রয়িং রুম) নামাজের চাইতে উত্তম।আর বাড়ীর নামাজ বারান্দার নামাজের চাইতে উত্তম”।(আবু দাউদ-৫৭০,বাজ্জার-২০৬০, ইবনে খুজাইমা-১৬৯০,১৬৮৮,ইবনে কছির ১১/১৫১)
** হাদিস শরীফ নং- ০৫
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺧﻴﺮ ﻣﺴﺎﺟﺪ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻗﻌﺮ ﺑﻴﻮﺗﻬﻦ . ‏( ﺍﺣﻤﺪ ٢٦٥٤٢، ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ١٦٨٣)
অর্থাৎ, “মহিলাদের জন্য তাদের নিজ ঘরের গোপন প্রকোষ্টই উত্তম মসজিদ”।
** হাদিস শরীফ নং- ০৬
ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﻫﺎﺭﻭﻥ ، ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺍﻟﻌﻮﺍﻡ ﺑﻦ ﺣﻮﺷﺐ ، ﻗﺎﻝ ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺣﺒﻴﺐ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺛﺎﺑﺖ ، ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ – ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻ ﺗﻤﻨﻌﻮﺍ ﻧﺴﺎﺀﻛﻢ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ، ﻭ ﺑﻴﻮﺗﻬﻦ ﺧﻴﺮ ﻟﻬﻦ - ‏( ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ، ﺭﻗﻢ - ٥٦٧ )
অর্থাৎ, “হযরত ইবনে উমর(রঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, তোমরা নারীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করনা। তবে জেনে রাখ,(নামাজের জন্য) তাদের একান্ত ঘরই উত্তম”।(আবু দাউদ ৫৬৭)
**অতএব হে দ্বীনদার ঈমানদার বোনেরা! সাবধান, নবীজী আপনাদেরকে মসজিদে যেতে অনুৎসাহিত করেছেন। দয়াল নবীজী যার শানে বলেছেন, আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন তাহলে সেই ব্যক্তি হতেন হযরত উমর রদিয়াল্লাহু আনহু।আর ওই উমর (রাঃ) আপনাদেরকে নিষেধ করেছেন মসজিদে যেতে কিংবা জামাতে নামাজ পড়তে।আর আম্মাজান আয়েশা(রাঃ) সহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রিদ্বওয়ানুল্লাহ
ি আলাইহিম উনারা সকলে তা গ্রহন করেছেন।কেউ বিরুধিতা করেন নি, এর উপর ইজমা হয়ে গেছে।
**তার পরেও আপনারা দেখেন, মসজিদে যাওয়ার অনুমোতির হদিস শরীফ গুলো পুর্বের।আর নিষেধ ও অনুৎসাহিত করার হদিস শরীফ গুলো পরের।সুতরাং আগের গুলো মনসুখ (রহিত) আর পরের গুলো নাসেখ (রহিতকারী)।উসুল হলো নাসেখ গুলোর উপর আমল করতে হবে।
**মনে রাখবেন ছাহাবায়ে কিরাম রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন উনাদের কথা , কাজ ও মৌন সমর্থনকেও হদিস শরীফ বলে।
অতএব, হানাফি মাযহাবের ফতওয়া"মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরীমী" ভ্রান্ত নয়; সহিহ হদিস শরীফ দ্ধারাই প্রমানীত।
** হানাফী মাযহাব মতে মহিলাদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া নিষেধঃ
** হানাফি ফিক্বহের বিখ্যাত কিতাব “আল ফাতাওয়া আত তাতারখানিয়া” ০১ জিলদ ৬২৮ নং পৃষ্টায় উল্লেখ আছে,
ﻭﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻟﻈﻬﻮﺭ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ
অর্থাৎ,বর্তমানে জওয়ান/বৃদ্ধ সকল নারীর জন্য যে কোন নামাজের জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী।
** আল ফিক্বহু আলা মাযাহিবিল আরবা’আহ ০১ জিলদ ৩৪৯ নং পৃষ্টায় উল্লেখ আছে,
ﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﻗﺎﻟﻮﺍ، ﺍﻻﻓﻀﻞ ﺍﻥ ﺗﺼﻠﻲ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻇﻬﺮﺍ، ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﺠﻮﺯﺍ ﺃﻭ ﺷﺎﺑﺔ، ﻷﻥ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻟﻢ ﺗﺸﺮﻉ ﻓﻲ ﺣﻘﻬﺎ .
অর্থাৎ, হানাফীগনের নিকট গ্রহনযোগ্য অভিমত হলো, মহিলারা নিজ ঘরেই নামাজ পড়বে এটাই উত্তম।এক্ষেত্রে জওয়ান/বুড়ো সমান।কেননা মহিলাদের জন্য জামাত নেই।
** রদ্দুল মোহতার শামী কিতাবের ০১ম জিলদ ৫২৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺣﻀﻮﺭﻫﻦ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻭﻟﻮ ﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﻋﻴﺪ ﻭﻭﻋﻆ ﻣﻄﻠﻘﺎ ﻭﻟﻮ ﻋﺠﻮﺯﺍ ﻟﻴﻼ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ ﺍﻟﻤﻔﺘﻰ ﺑﻪ ﻟﻔﺴﺎﺩ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ .
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী যদিও জুমা, ঈদ, কিংবা ওয়াজ মাহফিল তথা যে কোন প্রকার মাহফিলই হোক।এক্ষেত্রে বৃদ্ধা কিংবা রাতের শর্ত নেই।সর্বাবস্থায় ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় তা নিষিদ্ধ। এর উপরই মাযহাবের চুড়ান্ত ফায়সালা।
** আলমগীরী ইন্ডিয়ান ছাপা ০১ম জিলদ ৮৯ নং পৃষ্ঠা লেবাননী ছাপা ০১ম জিলদ ৯৮ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭﻛﺮﻩ ﻟﻬﻦ ﺣﻀﻮﺭ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﺇﻻ ﻟﻠﻌﺠﻮﺯ ﻓﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻭﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻭﺍﻟﻌﺸﺎﺀ، ﻭﺍﻟﻔﺘﻮﻯ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻟﻈﻬﻮﺭ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺎﻓﻲ، ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﻛﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺒﻴﻴﻦ .
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে বৃদ্ধা মহিলারা ফজর, মাগরীব ও এশা’তে উপস্থিত হতে পারবে। কিন্তু বর্তমান জামানার ফিতনা ফ্যাসাদের কারণে সকল নামাজে জোওয়ান/বৃদ্ধা সকলের জন্য উপস্থিত হওয়া সর্ব সম্মতিক্রমে মাকরূহ তাহরীমী (এটা কাফী কিতাবে আছে), আর এটাই গ্রহণযোগ্য (তাবঈন কিতাবে আছে)।
** দেওবন্দী ফতওয়ার কিতাব “আহসানুল ফাতাওয়া” ৩য় জিলদ ২৮৩ নং পৃষ্ঠায় আছে,
ﻋﻮﺭﺗﻮﮞ ﮐﮯ ﻟﺌﮯ ﺟﻤﺎﻋﺖ ﻣﯿﮟ ﺷﺮﯾﮏ ﮨﻮﻧﺎ ﻣﮑﺮﻭﮦ ﺗﺤﺮﯾﻤﯽ ﮨﮯ ۔
অর্থাৎ, মহিলাদের জন্য জামাতে শরীক হওয়া মাকরূহ তাহরীমী।
অনুরূপ ফতওয়াই দারুল উলুম দেওবন্দেও আছে।
##কয়টি হাদিস পড়ে মূর্খের মতো এরা ফতোয়া দিয়ে ফেতনা সৃষ্টি করে?কোন হাদিস মানসুখ রহিত হয়ে গেছে এরা না জেনে ফতোয়া দেয় কেন?তাও বলে নারীরা মুখ হাত খুলে চলতে পারবে ফতোয়া দেয় তাহলে পর্দা কোনটি?,যেনো জেনা ইভটিজিং বেশী বেশী হয় এরা আলেম?
অতএব প্রমাণীত হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ। এটা সহিহ হাদিস এবং ফিক্বহের দৃষ্টিতে সু-সাব্যস্ত। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সহী বুঝ সহী জ্ঞান দান ও কবুল করুন, আমিন!

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...