প্রশ্নঃ আযানের পূর্বে সালাম: আযানের আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
জবাব দিচ্ছেন শাইখ সাইয়্যিদমুহাম্মদ জাহিদ ক্বাদরী
উত্তরঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে, আযানের আগে ও পরে সালাতুস সালাম বা দরুদ সালাম পাঠ করা খুবই উত্তম ও নেকির কাজ নিঃসন্দেহে।
বস্তুতঃ আজানের পূর্বে সালাতু সালাম পাঠও একটি জায়েজ ইবাদাহ।
মহাগ্রন্থ আল-কোরআন থেকে জানুন। পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ হচ্ছে,
ان الله ملائكته يصلون على النبى يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما –
অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেস্তাগন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি (সদা-সর্বদা) দরুদ পাঠ করে থাকেন। হে ঈমানদারগণ তোমরা ও সেই নবীর প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাসহকারে দুরুদ (সালাত ও সালাম) পাঠকর। (সূরাহ আহযাব, আয়াত নং- ৫৬)
দরুদ অর্থ হচ্ছে অনুগ্রহ, কল্যাণ প্রার্থনা করা।
মহা বিস্ময় আল-হাদিস থেকে জানুন।
Note: → কুরআন ও হাদিসে দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়ার কথা বলা হয়েছে। তাই যেসব সময় দুরুদ পড়া নিষিদ্ধ (নিচে সর্বজন স্বীকৃত ফতোয়ার কিতাব দ্বারা আলোচনা করা হয়েছে) তা ব্যতীত সারাদিন দুরুদ পড়া জায়েজই নয় বরং সর্বোত্তম।
দলীল নং- ০১:
Ubayy bin Ka‘b narrated: I said, "O Allah’s Messenger, I invoke blessings upon you very frequently. How much of my supplication should I devote to you?” He said, "As much as you like." I said, "May it be a quarter?" He said, "As much as you like, but if you make an increase in that it would be better for you." I said, "May it be a half?" He said, "As much as you like, but in case you make an increase in it that would be better for you." I said, "May these be two thirds?" He said, "As much as you like but if you make an increase in it, it would be better." I said, "May I devote the whole of my supplication to you (that I make in my prayer)?" Thereupon he said, "In that case you would be free from care and your sins would be forgiven.
শেষ অংশের অনুবাদঃ
দোজাহানের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’আব (রাঃ) আল্লাহর হাবীবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ
اجعل لك صلواتى كلها قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا يكفي همك و يغفر لك ذنبك –
অর্থাৎ (লম্বা হাদিস এর শেষ অংশ)....ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি কি আপনার প্রতি সব সময় দুরুদ পাঠ করতে পারি? তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট হবে এবং তোমার সকল পাপ ও ক্ষমা করা হবে।
Reference
►Tirmidhi has graded it hasan (fair) and saheeh (sound) in his al-Jami‘-us-saheeh, b. of sifat-ul-qiyamah (description of Doomsday) ch.23, (4: 637 # 2457)
দলীল নং- ০২:
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول . ثم صلوا علي الخ –
অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নবুয়াতী জবানে ইরশাদ করেন- ‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনবে তখন তোমরা তাই বলো যা মুয়াজ্জিন বলবে। অতঃপর (যখন আযান শেষ হবে) তোমরা আমি নবীর প্রতি (দো’আ করার পূর্বে) দরুদ পাঠ করো, যে ব্যক্তি আমার উপর ১ বার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তার জন্য ১০টি নেকী (কল্যাণ) দান করবেন।
References
►Muslim, as-Saheeh, b. of salat (prayer) ch.7 (1: 288-9 # 384)
►Abu Dawood, Sunan, b. of salāt (prayer) 1: 144 (# 523)
►Tirmidhi, al-Jami‘-us-saheeh, b. of manaqib (virtues and merits of the Prophet and his companions) ch.1 (5: 586-7 # 3614)
►Nasai Sunan, b. of adhān (the call to prayer) 2: 25-6
►Ahmad bin Hambal, Musnad (2:168)
►Ibn Khuzaymah, as-Saheeh, 1: 219 (# 418)
►Muhammad Khateeb Tabraizi, Mishkat-ul-Masabeeh, b. of salat (prayer) ch.5 (1: 215 # 657)
►Husayn bin Masood Baghawi, Sharh-us-sunnah, 2: 284-5 (# 421)
►Ala’-ud-Din ‘Ali, Kanz-ul-‘Ummal, 7: 700 (# 20998)
ফতোয়া থেকেঃ
দলীল নং- ০১:
জগত বিখ্যাত ফাতাওয়ার কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামীর মধ্যে বর্নিত আছে
ومستحبة فى كل اوقات الامكان اى حيث لا مانع
অর্থাৎ নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত অন্য যে কোন মুহুর্তে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্থাহাব।
এখন প্রশ্ন হবে কোন কোন স্থানে দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ?
তার জবাবে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রাহঃ) ঐ (শামী) কিতাবের একই পৃষ্ঠায় একটু অগ্রসর হয়ে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বর্ননা করেছেন-
تكره الصلاة عليه صلى الله عليه و سلم فى سبعة مواضع .
অর্থাৎ সাত স্থানে আল্লাহর হাবীরের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা নিষেধ। তাছাড়া অন্য সবক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় পাঠ করা মুস্তাহাব। নিষিদ্ধ স্থান সমূহ নিম্মরূপঃ-
(১) স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে।
(২) প্রশ্রাব-পায়খানার সময়।
(৩) ব্যবসায়ী সামগ্রী প্রচারার্থে।
(৪) হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার সময়।
(৫) আশ্চার্যজনক কোন ঘটনা শ্রবনকালে।
(৬) জবেহ করার সময়।
(৭) এবং হাঁছি দেওয়ার সময়।
দলীল নং- ০২:
মক্কা শরীফের ফাতাওয়ার কিতাব "ইয়ানাতুত তালেবীন" যা লিখেছেন আল্লামা বিক্রী (রাহঃ)। যিনি ছিলেন মক্কা শরীফের একজন প্রসিদ্ধ মুফতী। তিনি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ
قال الشيخ الكبير البكرى انها تسن قبلهما اى الصلوة على النبى صلى الله عليه و سلم قبل الاذان والاقامة . –
অর্থাৎ তিনি বলেন আযান এবং ইকামাত উভয়ের পূর্বেই দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।
দলীল নং- ০৩:
আল্লামা ইমাম কাজী আয়াজ (রাহঃ) প্রিয় রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেনঃ
ومن مواطن الصلاة عليه صلى الله عليه و سلم عند ذكره و سماع اسمه او كتابته او عند الاذان
অর্থাৎ দরুদ ও সালাম পাঠ করার মুস্তাহাব ওয়াক্ত সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলোচনা কালে, তাঁর নাম মোবারক শ্রবনকালে ও লিখার সময় এবং আযানের পূর্বে। এখানে عند(ইন্দা) শব্দের অর্থ হলো পূর্বে।
দলীল নং- ০৪:
তাফসীরে রুহুল বয়ানের লিখক বিশ্ব বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ঈসমাইল হাক্কী (রাহঃ) সূরাতু অাল আহযাবের ৫৬নং আয়াতের ব্যাখায় দরুদ ও সালাম পাঠের মুস্তাহাব স্থান সমূহ বর্ননা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ
عند الابتداء كل امر ذى بال
অর্থাৎ প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল কাজ শুরু করার পূর্বে দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।
**আযানের আগে সালাতু সালাম পড়া যে বৈধ,তা যে সব কিতাবে রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো ৷
।১,দুররুল মুখতার:১/৭৮পৃ: কিতাবুত তাহারাত
৷২,ইমাম তিরমিযী: আস সুনান: ৪/১৯২পৃ:হাদীস:১৭২৬
৷৩,আবূ দাউদ বাবুল আযান,১/৭৭পৃ
৷৪,ফতোয়ায়ে শামী:১/৩৮৩পৃ: ৷
।৫,জালাউল ইফহাম:২৫২পৃ: ৷
।৬,আললামা মোল্লা আলী কারী:
শরহে শিফা২/১০৭পৃ:,বৈরুত৷
।৭,ফতহুল বারী শরহে বুখারী:৮/৭১২পৃ: ৷
।৮,তাফসীরে ইবনে কাসীর:৪/৫২৫পৃ৷
।৯,নাসাঈ:১/২৪৮পৃ: ৷
।১০,শিফা শরীফ:২/৪৩পৃ,বৈরুত ৷
# যারা সালাতু সালামকে হারাম বলেন,
তাদের কে বলবো প্লিজ আপনারা হারামের একটি দলীলও দেখান তো? জানি, না জেনে হারাম বলা এটাও আপনাদের স্বভাব ৷
প্রশ্নঃ আযানের পূর্বে সালাম: আযানের আগে ও পরে দরুদ শরীফ পড়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
উত্তরঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে, আযানের আগে ও পরে সালাতুস সালাম বা দরুদ সালাম পাঠ করা খুবই উত্তম ও নেকির কাজ ।
পক্ষান্তরে অন্যান্য ফেরকার মতে তা বিদাত ও খারাপ কাজ। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী এ বিষয়েও আলোচনা হবে ইন শা আল্লাহ ।
প্রথমে আযানের পরে দুরুদ নিয়ে আলোচনা করা যাক।
১. সহীহ মুসলিম শরীফের হাদিস দেখুনঃ
.ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦﺍﻟﻌﺎﺹ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﺍﺫ| ﺍﺳﻤﻌﺘﻢ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺛﻢ ﺻﻠﻮﺍﻋﻠﻲ ﺻﻠﻮﺓ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻬﺎﻋﺸﺮﺍহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রঃ হতে বর্ণিত,,
প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
হে মুসলমানেরা, যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন তার অনুরূপ শব্দ তোমরাও বলবে। অতঃপর যখন আযান শেষ হবে আমার উপর দরুদ পাঠ করবে।
সুতরাং যে আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে তাকে আল্লাহ ১০টি নেকী বা প্রতিদান দান করবেন।
[[ সহিহ মুসলিম, মেশকাত শরীফ,বাবুল আযান, পৃষ্ঠা ৬৩]]
হাদিসখানা প্রথমত মুসলিম শরীফের হাদিস, দ্বিতীয়ত স্পষ্ট আযানের পর দরুদের কথা উল্লেখ আছে।
একবার চিন্তা করুন, মানুষ কত বড় নিমক হারাম হলে আযানে দরুদকে অস্বীকার করে??
ওদের মসজিদগুলো দেখুন আযানের আগে তো দূরের কথা আযানের পরেও দরুদ পড়েনা।
এর দ্বারা বোঝা যায় ওনাদের নিকট প্রমাণ উদ্যেশ্য নয় মূলত আমার নবীর দরুদকে প্রতিরোধ করাই তাদের উদ্যেশ্য। নাউযুবিল্লাহ্
২. আযানের আগে দরুদ সালাম ।
প্রথমে বিরুদ্ধবাদী বন্ধুদের একটা অভিযোগের জবাব দিই। তাদের অভিযোগ হল আযানের সাথে দরুদ পড়া মূলত আযানের শব্দ বৃদ্ধি করা। সুতরাং এটা হারাম।
তাদের জবাবে নিম্নোক্ত হাদিসই যথেষ্ট।
দলীলঃ ১.
ﻋﻦ ﺑﻼﻝ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﻻ ﺗﺜﻮﺑﻦ ﻓﻲ ﺷﻴﺊ ﻣﻦﺍﻻﺻﻠﻮﺍﺕ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺻﻠﻮﺍﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮﻋﻦ ﺑﻼﻝ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪﺻﻠﻌﻢ ﻻ ﺗﺜﻮﺑﻦ ﻓﻲ ﺷﻴﺊ ﻣﻦﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺻﻠﻮﺍﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮহযরত বেলাল রঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন,,
একদা আমাকে রাসুল দঃ এরশাদ করেছেন কেবল ফযরের নামাজের পূর্বে তাছবিব বা সতর্কবাণী ঘোষণা কর।[[ ঈবনে মাজাহ,তিরমীজি, মিশকাত শরীফখণ্ড ১, পৃষ্টা ৬৩.]]
এই হাদিস দ্বারা শুধু ফজরের নামাজে তাসবিব প্রমানিত হল পরবর্তিতে মুতাআখখিরিন আলেমগন এটাকে সব আযানের আগে পড়া উত্তম বলেছেন।
এখন আপনাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন আপনারা যে কুরআন তেলাওয়াতের পর "ছদাকাল লাহুল আজিম"পড়েন এটা আপনাদের দলিল মতে কোরানের আয়াতের বৃদ্ধি নয়? যদি তা না হয় তাহলে আযানে..!
দরুদ পড়লে তা কেন বৃদ্ধি হবে? প্রশ্ন রইলো।
দলীলঃ ২
ﻭ ﻛﺬﺍﻟﻚ ﺗﺠﺐ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻓﻲ ﻛﻞﺩﻋﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻭﻟﻪ ﻭﺍﺧﺮﻩঅর্থঃ প্রত্যেক দোয়ার আগে ও পরে দরুদ শরিফ পাঠ করা হল ওয়াজিব।
[তাফসিরে রুহুল বয়ান খণ্ড,৭. পৃষ্ঠা ২২৭.]
আর আযানের আভিধানিক ও পারিভাষিকঅর্থ হল দোয়া। সুতরাং আযানের আগে ও পরে দরুদ পড়া উত্তম কাজ।
দলীলঃ ৩
বনি নাজজার গোত্রের জৈনক মহিলা ওনার বাড়ী মসজিদে নববীর পাশে ছিল।
তিনি বর্ণনা করেন আল্লাহর শপথ হযরত বিলাল রঃ প্রত্যহ ফজরের আযানের পূর্বে এইদোয়াটা পড়তেনﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻧﻲ ﺍﺣﻤﺪﻙ ﻭﺍﺳﺘﻌﻴﻨﻚﻋﻠﻲ ﻗﺮﻳﺶ ﺍﻥ ﻳﻘﻴﻤﻮﺏ ﺩﻳﻨﻚ ঐ সাহাবী আরো বলেন,,
আমি কখনো দেখি নাই যে তিনি এই দোয়াটা ছাড়া কখনো আযান শুরু করেছেন।
[#আবু দাউদ শরীফ ১ম খণ্ড ,#বজলুল মাঝহুদ (আবু দাউদের শরাহ) খণ্ড ১.পৃঃ ২৯৮.#বায়হাকি খণ্ড১ ,পৃষ্ঠা ৪২৫.]
সুতরাং প্রমাণ হল আযানের আগে দোয়া পাঠ করা জায়েয।আর দরুদ হল এক প্রকার দোয়া।
দলীলঃ ৪
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﻣﻦ ﺳﻦﻓﻲ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺳﻨﺔ ﺣﺴﻨﺔ ﻓﻠﻪ ﺍﺟﺮﻫﺎ ﻭﺍﻻﺟﺮ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎঅর্থঃ
যে ব্যক্তি ইসলামে একটা সুন্দর ও উত্তম প্রথা আবিষ্কার করল বা চালু করল তার জন্য উত্তম প্রতিদান আছে এবং যারা তার উপর আমল করবে তাদের জন্যও উত্তম প্রতিদান আছে।[সহিহ মুসলিম,মেশকাত শরীফ পৃষ্টা ৩৩.]
আলহামদুলিল্লাহ আযানের আগে দরুদ শরীফ কতইনা উত্তম প্রথা! তাহলে আপনাদের আপত্তি কেন? জবাব দেন। জবাব হল আপনারা দরুদ শরীফের শত্রু।
তা নাহলে দরুদের কথা শুনলে আপনাদের অন্তরজ্বলে কেন? গাত্রদাহ হয় কেন?
দলীলঃ৫
ﺍﻥﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻼﺀﻛﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺒﻲﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎনিশ্চয়ই আল্লাহ ও
তার ফেরেস্তাগণ নবী দঃ এর ঊপর দরুদ পড়েন, হে ঈমানদারগণ তোমরাও তার উপর দরুদ ও সালাম পড়।(আল কোরআন)
অত্র আয়াতের তাফসীরে বলা হয় মাকরুহ সময় বাদে সর্বদা দরুদ পড়া জায়েয। প্রশ্ন রইলো, তাহলে আযানের আগে নাজায়েয হবে কেন ?
দলীলঃ৬
কোন কিছু হারাম প্রমাণ করতে তার জন্য হারামের দলিল লাগে কেননা শরীয়তের বিধান হল-ﺍﺻﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺍﻻﺑﺎﺣﺔঅর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুই মূলত বৈধ থাকে।
পরবর্তী ফরযের দলিল থাকলে ফরয হয়,সুন্নাতের দলিল থাকলে সুন্নাত হয়,আর হারামের দলিল থাকলে হারাম হয়।আর কোন দলিল না থাকলে বৈধ হয়।
এখন আপনারা একটা দলিল দেখান যেখানে আযানের আগে দরুদ হারাম বলা হয়েছে।
তাহলে আপনারা কিসের ভিত্তিতে হারাম বলেন?
প্রিয় রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরুদ পড়লে তো খারাপ লাগে শয়তানের। তাহলে আপনাদের কেন খারাপ লাগবে? প্লিজ বুঝিয়ে বলুন নতুবা বুঝে থাকলে দরুদ পাঠকের কাতারে শামিল হোন।
নিঃসন্দেহে পাচ ওয়াক্ত আযানের আগে ও পরে সালাত ও ছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা জায়েজ। এসব নিয়ম-নীতি পূর্বে হতে এদেশে প্রচলিত ছিল না। অনুরূপভাবে ইসলামরে বেশ কিছু নিয়ম-নীতিরও প্রচলন ছিল না। পরবর্তীকালে ওলামায়ে আহলে সুন্নাহ এবং আউলিয়া কেরামগণের মাধ্যমে এসব নিয়ম নীতির প্রচলন হয়েছে। মূলত ঐ সমস্ত নিয়ম-নীতি ৭৮১ হিজরি হতে ১১৫০ হিজরি পযর্ন্ত শরীয়ত সম্মত ও কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ছিল। আজ হতে দীর্ঘ ৮০০ বছর পূর্বেও আরবসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আযানের আগে দরূদ শরীফ পাঠের প্রচলন ছিল। ইরাক, মিশর তুরস্কসহ মধ্যে প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই উত্তম প্রথা প্রচলন ছিল এবং আছে বর্তমানে তা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচলন আছে। ১১৫০ হিজরি হতে সৌদি আরবে ওয়াহাবী ফেরকার আর্বিভাবের পর হতে সেখানে সালাত ও ছালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি এটাকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফের হবে। দরূর শরীফ একটি অতি মহা মূল্যবান আমল। যার কারণে মুমিন বান্দার যাবতীয় ইবাদত কবুল হয়। নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সব সময় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ। এমনকি আল্লাহ তা‘য়ালার নৈকট্য লাভের সহজ মাধ্যম। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ কর। এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা ঈমানদারদের উপর মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আদেশ। এছাড়াও ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে- “মোস্তাহাব্বাতুল ফি আওকাতি ইল্লা মা কানা আয়া লা মাআনা” অর্থাৎ নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সর্ববস্থায় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ। এ ব্যাপারে হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর উক্তিটি হলো- তিনি বলেন আমি যদি আল্লাহর জিকির সংক্রান্ত আদেশ না পেতাম তাহলে আমি দয়াল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর দরূদ শরীফ কে সকল ইবাদত হিসেবে মনে করতাম। নিম্মে এ ব্যাপারে বিজ্ঞ পাঠক মহলের নিকট দলিল তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
দলিল ০১ : হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আযানের পূর্বে এই দোয়াটি পড়তেন
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আহমাদুকা ওয়াছতাইনুকা আলা কুরাইশি আইয়ু কীমু দ্বীনিকা” এবং বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এই দোয়া পাঠ করে তার পর আযান দিতেন। (আবু দাউদ শরীফ) এই দোয়া পাঠ করতে তিনি কোনো দিন ভুলতেন না। তাহলে প্রমাণিত হলো যে, আযানে আগে সালাতু ছালাম (দরূদ শরীফ) পাঠ করা হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর তরিকা। ইসলামের প্রথম মোয়াজ্জিন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কর্তৃক পঠিত আযানের আগে দোয়া পাঠ করা যদি জায়েজ হয়। তাহলে সর্ব শ্রেষ্ঠ দোয়া দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে যারা প্রশ্ন করে এটা বোকামী নামান্ত মাত্র ।
দলিল -০২ : বিশ্ব বিখ্যাত ফক্বিহ হযরত শেখ কবির বিকরি রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু বলেন,আযানের আগে দরুদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত। (ইয়ানাতুত তালেবীন পৃষ্ঠা :২৩৬)
দলিল ০৩ : মিশর আল আজহার ইউনির্ভাসিটি হতে প্রকাশিত মাযহাব চতুষ্টয়ের উপর ফেকাহ শাস্ত্রে বিখ্যাত কিতাব "কিতাবুল ফিকহ্ আলাল মাজহিবিল আরবায়া " নামক কিতাবের প্রথম খন্ডের ৩২৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, “আসালাতু আলাল্লানাবী কাবলাল আযান” শিরোনামের আলাদা একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। এতে আযানের আগে সালাতু সালাম (দরূদ শরীফ পাঠ করা হাদিস শরীফ এবং চার মাযহাব অনুযায়ী জায়েজ এবং উত্তম বলে প্রমাণ করেছেন)।
দলিল -০৪ : নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত অন্য যে কোন সময় সালাত ও ছালাম পাঠ করা মুস্তাহাব। যেমন সর্বজন স্বীকৃত সুবিখ্যাত শামী কিতাবের ১ম খন্ডে বর্ণিত আছে যে,
ومستحبة فى كل اوقات الامكان اى حيث لامانع
অর্থাৎ নিষিদ্ধ স্থান ও সময় ব্যতীত যে কোন সম্ভাব্য মুহুর্তে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত ও ছালাম পাঠ করা মুস্তাহাব। সুতরাং তাহা সর্বসম্মতি ক্রমে জায়েজ। আর আযানের আগে সালাতু সালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত হওয়ার অসংখ্য দলিল প্রমাণ রয়েছে।
দলিল ০৫ : আযান ও ইকামতের পূর্বে সালাত ও ছালাম পাঠ করা মুস্থাহাব। বিখ্যাত ফিকহের কিতাবের উল্লেখ্য আছে
قال الشيخ الكبير البكرى انها تسن قبلهما اى الصلواة على النبى صلى الله عليه وسلم قبل الاذان والاقامة-
অর্থাৎ : বিখ্যাত ফকিহ শেখ কবির বিকরী মক্কী (রহ:) বলেন যে, আযান ও ইকামতের পূর্বে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত ও ছালাম পাঠ করা মসনুন ও মুস্তাহাব। (ইয়ানাতুত তালেবীন ১ম খন্ড ২৩১ পৃষ্ঠা)
দলিল -০৬ : সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মুফতি আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ প্রণীত “ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি শরয়ী হাইছিয়ত” পুস্তকে আযানের আগে সালাতু সালাম (দরূদ শরীফ ) পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্বাদা লিখিছেন।
দলিল -০৭ : দারুল উলুম দেওবন্দের তাফসির বিভাগের উস্তাদ ছাইয়েদ হাসান প্রনীত “ফাজায়েলে দরূদ ও সালাম” কিতাবের ৮৮ পৃষ্ঠায় লিখিছেন, আযানের আগে সালাতু সালাম দরূদ শরীফ পাঠ করা উত্তম।
দলিল -০৮ : সুবিখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই বিন কা‘আব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
اجعل لك صلواتى كلها قال اذا يكفى همك ويغفر لك ذنبك-
হে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করাকে সর্বদার জন্য অপরিহার্য মনে করে নিলাম। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তো আমার চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য উহাই যথেষ্ঠ হবে এবং তোমার সকল পাপও ক্ষামা করা হবে। সুতরাং এতে প্রমাণিত হল যে, কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সালাত ও ছালাম পাঠ করা উত্তম। আর আযানের পূর্ব মূহুর্ত নিষিদ্ধ সময় নয়। কাজেই এ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করা জায়েজ নিঃসন্দেহে।
তথ্য সূত্রঃ
►Muslim, as-Saheeh, b. of salat (prayer) ch.7 (1: 288-9 # 384)
►Abu Dawood, Sunan, b. of salāt (prayer) 1: 144 (# 523)
►Tirmidhi, al-Jami‘-us-saheeh, b. of manaqib (virtues and merits of the Prophet and his companions) ch.1 (5: 586-7 # 3614)
►Nasai Sunan, b. of adhān (the call to prayer) 2: 25-6
►Ahmad bin Hambal, Musnad (2:168)
►Ibn Khuzaymah, as-Saheeh, 1: 219 (# 418)
►Muhammad Khateeb Tabraizi, Mishkat-ul-Masabeeh, b. of salat (prayer) ch.5 (1: 215 # 657)
►Husayn bin Masood Baghawi, Sharh-us-sunnah, 2: 284-5 (# 421)
►Ala’-ud-Din ‘Ali, Kanz-ul-‘Ummal, 7: 700 (# 20998)
।১,দুররুল মুখতার:১/৭৮পৃ: কিতাবুত তাহারাত
৷২,ইমাম তিরমিযী: আস সুনান: ৪/১৯২পৃ:হাদীস:১৭২৬
৷৩,আবূ দাউদ বাবুল আযান,১/৭৭পৃ
৷৪,ফতোয়ায়ে শামী:১/৩৮৩পৃ: ৷
।৫,জালাউল ইফহাম:২৫২পৃ: ৷
।৬,আললামা মোল্লা আলী কারী:
শরহে শিফা২/১০৭পৃ:,বৈরুত৷
।৭,ফতহুল বারী শরহে বুখারী:৮/৭১২পৃ: ৷
।৮,তাফসীরে ইবনে কাসীর:৪/৫২৫পৃ৷
।৯,নাসাঈ:১/২৪৮পৃ: ৷
।১০,শিফা শরীফ:২/৪৩পৃ,বৈরুত ৷
।১১.আবু দাউদ শরীফ ১ম খণ্ড ,
।১২.বজলুল মাঝহুদ (আবু দাউদের শরাহ) খণ্ড ১.পৃঃ ২৯৮.
।১৩.বায়হাকি খণ্ড১ ,পৃষ্ঠা ৪২৫.]
।১৪.ইয়ানাতুত তালেবীন পৃষ্ঠা :২৩৬
।১৫.ফাজায়েলে দরূদ ও সালাম” কিতাব ৮৮ পৃষ্ঠা
No comments:
Post a Comment