Monday, 18 May 2020

ঈদের নামাজের তাকবির ৬ টি না ১২ টি

অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের সালাত আদায়ের কয়েকটি হাদীসঃ—

🍂হাদীস নং ১:—

🎁💟🎁মারফূ হাদীসঃ—

عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ قَدْ حَدَّثَانَا ، قَالَا : ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ قَالَ :
7273- حَدَّثَنِي الْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ أَنَّ الْقَاسِمَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَّى بِنَا ، النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ ، فَكَبَّرَ أَرْبَعًا ، وَأَرْبَعًا ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ حِينَ انْصَرَفَ ، قَالَ : لَا تَنْسَوْا ، كَتَكْبِيرِ الْجَنَائِزِ ، وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ ، وَقَبَضَ إبْهَامَهُ -

হযরত কাসেম বিন আব্দুর রহমান রহ. বলেন: রসূলুল্লাহ স.-এর কোন এক সাহাবা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ স. আমাদেরকে ঈদের দিনে নামায পড়ালেন। তাতে ৪ বার অতঃপর ৪ বার তাকবীর বললেন। নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বৃদ্ধাঙ্গুল বন্ধ করে হাতের অপর ৪ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন: তোমরা ভুলে যেও না, এটা জানাযার তাকবীরের মতো। (ত্বহাবী : ৭২৭৩ পৃষ্ঠা: ৪/৩৪৫)

এই হাদীসের ব্যাখ্যা হযরত ইবনে মাসউদের হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭)

হাদীসটির স্তর: বদরুদ্দীন আইনী রাহ. বলেন, هذا إسناد صحيح ورجاله ثقات ‘এটি সহীহ সনদ এবং এর রাবীগণ বিশ্বস্ত।’—(নুখাবুল আফকার’ ১৬/৪৪২)
ইমাম ত্বহাবী  রহ. বলেছেন:
فَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ , وَيَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ , وَالْوَضِينُ وَالْقَاسِمُ كُلُّهُمْ أَهْلُ رِوَايَةٍ , مَعْرُوفُونَ بِصِحَّةِ الرِّوَايَةِ -
এই হাদীসের সনদ ‘হাসান’। আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, ইয়াহইয়া ইবনে হামযা, ওযীন ও কাসিম সকলেই সহীহ হাদীস বর্ণনায় প্রসিদ্ধ ৷(শরহু মাআনিল আছার ত্বহাবী: ৪/৩৪৫)

🌻আলী বিন আব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ৫৩৪৭) তিনি ইমাম ত্বহাবীর রহ: উস্তায ছিলেন ৷

🌻ইয়াহইয়া বিন উসমানের ব্যাপারে ইমাম নাসাঈ রহ: বলেছেন তিনি ثقة বা বিশ্বস্ত ৷ আবু হাতিম রহ: বলেছেন كان صالحا صدوقا তিনি সত্যনিষ্ঠ ধার্মিক ছিলেন ৷ ইমাম ইবনে আদী রহ: বলেছেন كان يعرف بالصدق .তিনি সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ৷
(সিয়ারু আ'লামুন নুবালা: ১২/৩০৭)

🌻আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ এবং ইয়াহইয়া বিন হামযা বুখারী-মুসলিমের রাবী।

🌻ওয়াদ্বিন বিন আতা কে ইমাম আহমদ এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন,ইমাম জাহাবী রহ: ثقة বা নির্ভরযোগ্য বলেছেন ৷(তাহযীবুল কামাল ৩০/৪৫০-৪৫১, আল ঈলাল ২/৫৩৮, ৩/১১৫,আল কাশেফ: ৬০৫০)  ইমাম ইবনে আদী বলেন: وللوضين أحاديث غير ما ذكرت، وما أدري بأحاديثه بأساً ‘তাঁর আরো হাদীস আছে। আমি তাঁর হাদীসে কোনো সমস্যা মনে করি না।’(আলকামিল ফী যুআফাইর রিজাল’ ৮/৩৭৭)
নূরুদ্দীন হাইছামী রাহ.(মৃ৮০৭ হি.) ‘বলেছেন,وثقه أحمد وابن معين وابن حبان، وضعفه من هو دونهم في المنزلة
‘তাঁকে ছিকা বলেছেন ইমাম আহমদ, ইবনে মায়ীন ও ইবনে হিব্বান। আর যয়ীফ বলেছেন যারা তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের তারা ।’(মাজমাউয যাওয়াইদ’৫/২৯৩)

🌻কাসিম আবু আবদুর রহমান সম্পর্কে দূরী রহ: বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীনকে বলতে শুনেছি:-القاسم أبو عبد الرحمن ثقة‘কাসিম আবু আবদুর রহমান নির্ভরযোগ্য ।’ (তারিখে ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন, দূরী ২/৩৩০) ইমাম আবু হাতেম বলেন,حديث الثقات عنه مستقيم لا بأس به، وإنما ينكر عنه الضعفاء.‘ছিকা রাবীদের মাধ্যমে বর্ণিত তাঁর হাদীস সঠিক। তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তাঁর থেকে মুনকার রেওয়ায়েত তো বর্ণনা করে দুর্বল রাবীরা।’ (তারিখে দিমাশক ৪৯/১০৮)
ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান ও তিরমিযী রাহ. বলেন, ثقة القاسم ‘কাসিম ছিকা।’ (তারিখে দিমাশক ৪৯/১০৮; আলমারিফাতু ওয়াত-তারিখ ৩/৩৭৫) আবু ইসহাক হারাবী বলেন, كان من ثقات المسلمين ‘তিনি ছিকা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।’ (তাহযীবুত তাহযীব ৮/৩২৪)মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব বলেন, আমার দাদা (ইয়াকুব ইবনে শাইবা) বলেছেন القاسم أبو عبد الرحمن ثقة ‘কাসিম আবু আবদুর রহমান ছিকা।’ (তারিখে দিমাশক ৪৯/১০৮; তাহযীবুল কামাল ২৩/৩৮৯; তাহযীবুত তাহযীব ৮/৩২৪) ইমাম যাহাবী রাহ. বলেন:قد وثقه ابن معين من وجوه عنهআমি বলব, ইবনে মায়ীন রাহ. তাঁকে (কাসিম আবু আবদুর রহমানকে) ছিকা বলেছেন, যা তাঁর থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।’ (মীযানুল ইতিদাল ৩/৩৭৩)


🍂হাদীস নং ২:—

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَابْنُ أَبِي زِيَادٍ، الْمَعْنَى قَرِيبٌ قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدٌ، يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَائِشَةَ، جَلِيسٌ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ ‏.‏ فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِي الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ(رَوَاه ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ بَابُ التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ)‏

হযরত সাঈদ ইবনুল আস রহ. হযরত আবু মুসা আশআরী রা ও হযরত হুজাইফা রা.কে জিজ্ঞেস করলেন যে, রাসূলুল্লাহ স. দুই ঈদের নামাযে কতবার তাকবীর দিতেন? জবাবে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. বললেন: জানাযার তাকবীরের মতো ৪ বার তাকবীর দিতেন। তখন হুজাইফা রা. বললেন: আবু মুসা সত্য বলেছেন। আবু মুসা রা. আরও বললেন: আমি বসরা থাকাবস্থায় এভাবেই তাকবীর বলতাম। বর্ণনাকারী আবু আয়েশা রহ. বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল আস-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। (আবু দাউদ: ১১৫৩)

হাদীসটির স্তর: হাসান।
যায়েদ ইবনুল হুবাব এবং সাবিত বিন সাওবান ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।
যায়েদ ইবনুল হুবাব صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ২৩২৬) ইমাম আহমদ এবং ইমাম রাজি রহি: তাকে ثقةٌ বা নির্ভরযোগ্য বলেছেন ৷ (কামাল: ৪৫/১০)
সাবিত বিন সাওবান ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”।
(তাকরীব: ৯০৭)
শায়খ শুআইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদের তাহকীকে এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭৩৪ নম্বর হাদীসের আলোচনায়)
শায়খ আলবানীও হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ১১৫৩)


এ হাদীসে হযরত আবু মুসা আশআরী রা. ঈদের নামাযে চার-চার তাকবীরের কথা বলেছেন। এর ব্যাখ্যা হযরত ইবনে মাসউদের হদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭)


🎁🌻🎁 ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত কোনো স্পষ্ট সহীহ মারফু’ হাদীস নেই। যেমন:-ইমাম আহমাদ রহ. বলেন:
لَيْسَ فِي تَكْبِيرِ الْعِيدَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ،
“ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত কোন সহীহ হাদীস নেই”। (নাসবুর রায়াহ: ঈদের নামায অধ্যায়)

তবে সাহাবা ও তাবিঈগণের মন্তব্য এবং আমল থেকেও আমরা দলীল গ্রহণ করে থাকি।


💝🌻💝ঈদের তাকবীরের ব্যাপারে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের রাঃ ফতোয়া এবং আমল:—


🍂হাদীস নং ৩:-

5687 - عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ جَالِسًا وَعِنْدَهُ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، فَسَأَلَهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ عَنِ التَّكْبِيرِ فِي الصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فَجَعَلَ هَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، وَهَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: سَلْ هَذَا ـ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ـ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: «يُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُومُ فِي الثَّانِيَةِ فَيَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا بَعْدَ الْقِرَاءَةِ»

একবার ইবনে মাসউদ রা. বসে ছিলেন। তাঁর কাছে হুযায়ফা রা. ও আবু মূসা আশআরী রা.ও ছিলেন। সায়ীদ ইবনুল আস উভয়কে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে এঁ ওঁকে ওঁ এঁকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন। শেষে হুযায়ফা রা. ইবনে মাসউদ রা.-এর দিকে ইশারা করে বললেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা কর। জিজ্ঞাসা করলে ইবনে মাসউদ রা. বললেন, ৪ তাকবীর দিয়ে কুরআন পড়বে। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকু করবে। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়বে। তারপর ৪ তাকবীর দিবে।

(আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن ابْن مَسْعُود بِإِسْنَاد “আব্দুর রযযাক ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন”। (আদদিরায়াহ: হাদীস নম্বর- ২৮৬)

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।


🍂হাদীস নং ৪:—

5686 عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ " كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْعِيدَيْنِ تِسْعًا تِسْعَا: أَرْبَعًا قَبْلَ الْقِرَاءَةِ، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ، وَفِي الثَّانِيَةِ يَقْرَأُ فَإِذَا فَرَغَ كَبَّرَ أَرْبَعًا، ثُمَّ رَكَعَ "

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. দুই ঈদের নামাযে ৯টি করে তাকবীর দিতেন। কুরআন পাঠের আগে ৪টি। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকু করতেন। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়তেন। কুরআন পড়া শেষ হলে ৪ তাকবীর দিতেন। তারপর রুকু করতেন।

(আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৬)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবী সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।
ইমাম ইবনে হাযম (মৃ৪৫৬ হি.) ‘আলমুহাল্লা’  গ্রন্থে (৫/৯৩) বলেন, هذان إسنادان في غاية الصحة ‘এ দু’টি সনদ উঁচু পর্যায়ের সহীহ।’


🍂হাদীস নং ৫:—

5699 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُوسَى، وَعَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ أَمِيرًا مِنْ أُمَرَاءِ الْكُوفَةِ، قَالَ سُفْيَانُ: أَحَدُهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِي، وَقَالَ الْآخَرُ: الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ، بَعَثَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا الْعِيدَ قَدْ حَضَرَ فَمَا تَرَوْنَ؟ فَأَسْنَدُوا أَمْرَهُمْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: «يُكَبِّرُ تِسْعَا تَكْبِيرَةٍ يَفْتَتِحُ بِهَا الصَّلَاةَ، ثُمَّ يُكَبِّرُ ثَلَاثًا، ثُمَّ يَقْرَأُ سُورَةً، ثُمَّ يُكَبِّرُ، ثُمَّ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ سُورَةً، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا، يَرْكَعُ بِإِحْدَاهُنَّ»
কূফার এক আমীর (বর্ণনাকারী ছাওরী বলেন, সায়ীদ ইবনুল আস, অন্য বর্ণনাকারী হাম্মাদ বলেন, ওলীদ ইবনে ওকবা) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা , হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রা  এবং আবদুল্লাহ ইবনে কায়স রা.-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ঈদ হাজির হয়েছে (এর নিয়ম সম্পর্কে) আপনারা কী বলেন? তাঁরা সকলেই এর দায়িত্ব দেন ইবনে মাসউদ রা.-কে। ইবনে মাসউদ রা. বললেন, ৯ তাকবীর দিবে। ১ তাকবীর দিয়ে নামায শুরু করবে। তারপর ৩ তাকবীর দিয়ে সূরা পড়বে। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকু করবে। দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা পড়বে। তারপর ৪ তাকবীর দিয়ে একটা দ্বারা রুকু করবে।

(ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৯৯)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

🍂হাদীস নং ৬ ও ৭ :—

5697 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُجَالِدٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: " كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُعَلِّمُنَا التَّكْبِيرَ فِي الْعِيدَيْنِ تِسْعَ تَكْبِيرَاتٍ: خَمْسٌ فِي الْأُولَى، وَأَرْبَعٌ فِي الْآخِرَةِ، وَيُوَالِي بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ
তাবেঈ মাসরূক রহ: বলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে দুই ঈদের তাকবীর শেখাতেন, মোট নয় তাকবীর। প্রথম রাকাতে পাঁচ ও দ্বিতীয় রাকাতে চার। উভয় রাকাতের কেরাত একাধারে পড়বে।   (ইবনে আবী শাইবা : ৫৭৪৬)

3251 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: التَّكْبِيرُ فِي الْعِيدَيْنِ أَرْبَعًا كَالصَّلَاةِ عَلَى الْمَيِّتِ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন
জানাযার নামাযের মতো দুই ঈদে (প্রতি রাকাতে) চার তাকবীর হবে।  (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩২৫১)

ইমাম হায়ছামী রহ. বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগন সকলে বিশ্বস্ত। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/২০৫)


সারসংক্ষেপ : হযরত ইবনে মাসউদ রা.-এর সকল বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলতে হবে যার মধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীর বলবে যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো।


💝🌻💝  অন্যান্য সাহাবীদের আমল ও ফতোয়া:—


🍂হাদীস নং ৮:—

5689-أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: شَهِدْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ «كَبَّرَ فِي صَلَاةِ الْعِيدِ بِالْبَصْرَةِ تِسْعَ تَكْبِيرَاتٍ، وَالَى بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ» قَالَ: وَشَهِدْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ فَعَلَ ذَلِكَ أَيْضًا. فَسَأَلْتُ خَالِدًا كَيْفَ فَعَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ؟ فَفَسَّرَ لَنَا كَمَا صَنَعَ ابْنُ مَسْعُودٍ فِي حَدِيثِ مَعْمَرٍ وَالثَّوْرِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ سَوَاءً

আবদুল্লাহ ইবনে হারিছ থেকে বর্ণিত, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে বছরায় ঈদের নামাযে দুই রাকাতে মোট নয় টা তাকবীর দিতে দেখেছি এবং মুগীরা ইবনে শুবা রা.-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি।
ইসমাইল ইবনে আবুল ওলীদ বলেন, আমি খালিদকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে আব্বাস রা. কীভাবে তাকবীর দিয়েছেন? উত্তরে তিনি আমাদের মা‘মার ও ছাওরীর সূত্রে বর্ণিত আবু ইসহাকের হাদীসে ইবনে মাসউদ রা. যেভাবে তাকবীর দিয়েছেন ঠিক তাই বর্ণনা করেছেন।

(আব্দুর রাযযাক : ৫৬৮৯)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ।
হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেন, إسناده صحيح ‘এর সনদ সহীহ’। (আদদিরায়া ১/১৭৩)


🍂হাদীস নং ৯:—

7279 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، قَالَ: ثنا قَتَادَةُ، وَخَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ، «أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي الْعِيدِ , فَكَبَّرَ أَرْبَعًا , ثُمَّ قَرَأَ , ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ , ثُمَّ قَامَ فِي الثَّانِيَةِ فَقَرَأَ , ثُمَّ كَبَّرَ ثَلَاثًا , ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ»

আবদুল্লাহ ইবনে হারিছ রহ: বর্ণনা করেছেন, তিনি সাহাবী ইবনে আব্বাস রা.-এর পেছনে ঈদের নামায পড়তে গিয়ে লক্ষ করেছেন, ইবনে আব্বাস রা ৪ তাকবীর দিয়ে কুরআন পড়েছেন। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকু করেছেন। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়ে ৩ তাকবীর দিয়েছেন। তারপর তাকবীর দিয়ে রুকু করেছেন।

(শরহু মাআনিল আছার তহাবী: ৭২৭৯ ও ৭২৮০)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ ৷
ইমাম ইবনে হাযম দুইটি আছার উদ্ধৃত করে লেখেন, هذان إسنادان في غاية الصحة ‘এ দু’টি সনদ উঁচু পর্যায়ের সহীহ।’ ইবনুত তুরকুমানী রাহ. (৭৫০হি.) বলেন, هذا سند صحيح ‘এটি সহীহ সনদ।’ বদরুদ্দীন আইনী রাহ. বলেন,أخرجه من طريقين صحيحين ‘ইমাম তহাবী এটি দু’টি সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।’
(আলমুহাল্লা ৫/৯৩; আলজাওহারুন নাকী ৩/২৮৭; নুখাবুল আফকার ১৬/৪৪৮)


🍂হাদীস নং ১০:—

7288 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ، قَالَ: ثنا رَوْحٌ، قَالَ: ثنا الْأَشْعَثُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: «تِسْعُ تَكْبِيرَاتٍ , خَمْسٌ فِي الْأُولَى , وَأَرْبَعٌ فِي الْأَخِيرَةِ مَعَ تَكْبِيرَةِ الصَّلَاةِ»

মুহাম্মাদ (ইবনে সীরীন) থেকে বর্ণিত, আনাস বিন মালেক রা. বলেন, নামাযের তাকবীর (তাকবীরে তাহরীমা)সহ ৯ তাকবীর হবে প্রথম রাকাতে ৫টি আর দ্বিতীয় রাকাতে ৪টি ৷

(শরহু মাআনিল আছার তহাবী: ৭২৮৮)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ ৷
বদরুদ্দীন আইনী রাহ.বলেন, أخرجه من طريقين صحيحين ‘ইমাম তহাবী এটি দু’টি সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।’ (নুখাবুল আফকার’ ১৬/৪৫৪)


🍂হাদীস নং ১১:—

5676 - عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ إِنَّ يُوسُفَ بْنَ مَاهَكَ، أَخْبَرَنِي أَنَّ ابْنَ الزُّبَيْرِ«كَانَ لَا يُكَبِّرُ فِي الصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ إِلَّا أَرْبَعًا فِي كُلِّ رَكْعَةٍ سَوَاءٌ يُكَبِّرُهُنَّ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ»

ইবনে জুরাইজ রহ: বলেনঃ ইউসুফ ইবনে মাহাক রহ. আমার নিকট বর্ণনা করেছেনঃ
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. ঈদুল ফিতরের স্বালাতে প্রত্যেক রাকাতে চার তাকবীরই বলতেন, এর বেশী বলতেন না। এভাবে উভয় রাকাতেই তিনি লম্বা করে তাকবীর দিতেন ।

(আব্দুর রাযযাক : ৫৬৭৬)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবী সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।


🍂হাদীস নং ১২:—

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بن الْمَرْزُبَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ كُرْدُوسٍ، قَالَ: أَرْسَلَ الْوَلِيدُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ، وَأَبِي مَسْعُودٍ، وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ بَعْدَ الْعَتَمَةِ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا عِيدُ الْمُسْلِمِينَ فَكَيْفَ الصَّلاةُ؟ فَقَالُوا: سَلْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ:"يَقُومُ فَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا، ثُمَّ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْكَعُ فَتِلْكَ خَمْسٌ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا يَرْكَعُ فِي آخِرِهِنَّ فَتِلْكَ تِسْعٌ فِي الْعِيدَيْنِ"، فَمَا أَنْكَرَهُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ.

কুরদুস বিন আব্বাস রহ. বলেন: হযরত ওয়ালিদ ইশার নামাযের পরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হুজাইফা রাঃ, আবু মাসউদ রাঃ এবং হযরত আবু মুসা আশআরী রা.-এর নিকটে লোক পাঠালেন। প্রেরিত দূত তাঁদের নিকটে  গিয়ে বললো: এটা মুসলমানদের ঈদ। আপনারা বলে দিন যে, নামাযের পদ্ধতি কেমন হবে? তাঁরা সবাই বললেন: হযরত আবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। জবাবে হযরত ইবনে মাসউদ বলেন: ঈদের নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে ৪ বার তাকবীর বলে সূরা ফাতিহা ও মুফাছছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে এবং পুনরায় তাকবীর বলে রুকু করবে। এ হলো মোট ৫টি তাকবীর। এরপর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও মুফাছ্ছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে। অতঃপর ৪ বার তাকবীর বলবে যার শেষ তাকবীরে রুকু করবে। এ হলো সর্বমোট ৯টি তাকবীর। তিনি এ কথা বলার পরে তাদের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ।
আল্লামা হাইসামী বলেন: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ “তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩২৪৭) হযরত ইবনে হাযাম এ হাদীসটির সনদকে উঁচু মানের সহীহ বলেছেন। (মুহাল্লা: ঈদের নামায অধ্যায়)


🍂হাদীস নং ১৩:—

5707 - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَا: «تِسْعُ تَكْبِيرَاتٍ، وَيُوَالِي بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ»

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব রাঃ দুজনই বলেছেন, তাকবীর হবে মোট নয়টি আর উভয় রাকাতের কেরাত হবে লাগাতার ৷

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবী সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।


🍂হাদীস নং ১৪:—

5696 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ شَهِدَ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِي أَرْسَلَ إِلَى أَرْبَعَةِ نَفَرِ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ، فَسَأَلَهُمْ عَنْ التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدِ، فَقَالُوا: ثَمَانُ تَكْبِيرَاتٍ، قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِابْنِ سِيرِينَ، فَقَالَ: «صَدَقَ، وَلَكِنَّهُ أَغْفَلَ تَكْبِيرَةَ فَاتِحَةِ الصَّلَاةِ»

মাকহুল থেকে বর্ণিত, সায়ীদ ইবনুল আস রাহ.-এর কাছে যিনি উপস্থিত ছিলেন তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (সায়ীদ ইবনুল আস) ‘আসহাবে শাজারা’র ৪ সাহাবী রাঃ কে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁদের ঈদের তাকবীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, মোট আটটা তাকবীর দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনে সীরীনের কাছে তা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, বর্ণনাকারী সত্য বলেছেন তবে নামাযের শুরুর তাকবীরটি ছেড়ে দিয়েছেন!

(ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৯৬)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবী সবাই-ই বুখারী বা মুসলিমের রাবী।

মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. (১১০ হি.)-এর উদ্দেশ্য, সাহাবীগণ মূলত তাকবীরে তাহরিমাসহ মোট ৯ তাকবীরের কথাই বলেছিলেন। কিন্তু বর্ণনাকারী নামাযের শুরুর তাকবীরটি উল্লেখ করেননি।

সারকথা এই যে, ৯ তাকবীর বা সাধারণ পরিভাষায় অতিরিক্ত ৬ তাকবীর এ দুয়ের মধ্যে শব্দগত কিছু পার্থক্য থাকলেও আমলগত কোনো পার্থক্য নেই।


🍂হাদীস নং ১৫:—

2846 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، قَالَ: ثنا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ حَمَّادٍ، - عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ:.....إِنَّكُمْ مَعَاشِرَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَتَى تَخْتَلِفُونَ عَلَى النَّاسِ , يَخْتَلِفُونَ مَنْ بَعْدَكُمْ , وَمَتَى تَجْتَمِعُونَ عَلَى أَمْرٍ يَجْتَمِعُ النَّاسُ عَلَيْهِ , فَانْظُرُوا أَمْرًا تَجْتَمِعُونَ عَلَيْهِ فَكَأَنَّمَا أَيْقَظَهُمْ. فَقَالُوا: نِعْمَ مَا رَأَيْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ , فَأَشِرْ عَلَيْنَا , فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: بَلْ أَشِيرُوا أَنْتُمْ عَلَيَّ , فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ. فَتَرَاجَعُوا الْأَمْرَ بَيْنَهُمْ , فَأَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ عَلَى أَنْ يَجْعَلُوا التَّكْبِيرَ عَلَى الْجَنَائِزِ , مِثْلَ التَّكْبِيرِ فِي الْأَضْحَى وَالْفِطْرِ , أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ , فَأُجْمِعَ أَمْرُهُمْ عَلَى ذَلِكَ "
https://al-maktaba.org/book/21108/1923

তাবেঈ ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রহ: থেকে বর্ণিত যে
....ওমর রাঃ রাসুলুল্লাহর সঃ কিছু সংখ্যক সাহাবীকে ডেকে পাঠালেন, তারপর তিনি তাদের কে বললেনঃ- আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী। আপনাদের দ্বিমত পরবর্তীদের উপর প্রভাব ফেলবে। আর আপনাদের ঐকমত্যের ফলে অন্যরাও একমত থাকবে। সুতরাং ভেবে চিন্তে আপনারা একটি বিষয়ে একমত হোন। এসব কথায় তিনি যেন তাঁদের জাগিয়ে তুললেন। তারা বললেন, হাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন, হে আমীরুল মুমিনীন ! তবে এ বিষয়ে আপনি আপনার মতামত বলুন। তিনি (ওমর রাঃ) বললেন, আপনারাই বরং আমাকে পরামর্শ দিন। কারণ, আমি তো আপনাদের মতোই একজন মানুষ। পরে তাঁরা মত বিনিময় করে এ বিষয়ে একমতে পৌঁছলেন যে, যেভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় চার তাকবীর হয়ে থাকে, তেমনি জানাযার নামাযেও চার তাকবীর হবে।

(শরহু মাআনিল আছার ত্বহাবী: ২৮৪৬ সংক্ষেপিত)

এই বর্ণনাটা থেকে বোঝা গেল, ঈদের নামাযে চার তাকবীর হওয়ার বিষয়টি ছিল সর্বশেষ ও সর্বজন স্বীকৃত বিষয় ।

↓↧↓
↓↓
  ↓
★✧★আমরা মানি যে,অতিরিক্ত  ১২ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করার কথাও হাদীসে বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত ৫৩৬ নম্বর হাদীসকে ইমাম তিরমিজী রহ. এ অধ্যায়ের সর্বাধিক সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ উক্ত  হাদীসের সনদের কাসীর বিন আব্দুল্লাহ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তাঁর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: منكر الحديث  “তাঁর হাদীস অগ্রহণযোগ্য”। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: ضعيف الحديث “তাঁর হাদীস জঈফ”। আবু দাউদ বলেন: كان أحد الكذابين “তিনি মিথ্যাবাদীদের একজন”। ইমাম দারাকুতনী বলেন: متروك الحديث “তাঁর হাদীস পরিত্যাক্ত”। (তাহজীবুত তাহজীব ও তাহজীবুল কামাল থেকে সংগৃহীত)। ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: ضعيف أفرط من نسبه إلى الكذب “তিনি জঈফ, যারা তাঁকে মিথ্যার দিকে সম্বোধন করেছে তারা বাড়াবাড়ি করেছে”। (তাকরীব: ৬৩০৮)। সুতরাং এমন রাবীর বর্ণিত হাদীস কীভাবে সর্বাধিক সহীহ হয়? এ হাদীসের ব্যাপারে ইমাম তিরমিজী রহ. নিজে তাঁর ইলালুল কুবরায় বলেন: ইমাম বুখারী রহ.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এটাকে জঈফ বলেছেন। (আল ইলালুল কুবরা: ঈদের নামাযের তাকবীর অধ্যায়) ইমাম দারাকুতনী রহ. এটাকে মুজতরাব বলেছেন। (ইলালুদ দারাকুতনী: ৩৪৫৮)

১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৪৯ ও ১১৫০ নম্বরে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ। তিনি যদিও মুসলিমের রাবী; কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: كان ضعيفا لا يحتج بحديثه “তিনি জঈফ, তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়”। ইমাম নাসাঈ রহ. বলেন: ليس بثقة “তিনি নির্ভরযোগ্য নন”। ইবনে আবী হাতিম বলেন: سألت أبى وأبا زرعة عن الإفريقى و ابن لهيعة: أيهما أحب إليك ؟ فقالا: جميعا ضعيفان “আমি আমার পিতা আবু হাতিম এবং আবু যুরআকে জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ এবং আফরিকী এ দুজনের মধ্যে আপনার নিকটে কে প্রিয়? তিনি বললেন: দুজনই জঈফ”। (তাহজীবুল কামাল ও তাহজীবুত তাহজীব থেকে সংগৃহীত) ইমাম জাহাবী বলেন: قلت: العمل على تضعيف حديثه “তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলো তাঁর হাদীসকে জঈফ গণনা করা”। (আল কাশেফ: ২৯৩৪) অবশ্য আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহহাব রহ. ইবনে লাহিআ থেকে যা বর্ণনা করেন তা অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তুলনামূলক বেশী গ্রহণযোগ্য। কিন্তু উক্ত বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ নিঃসঙ্গ হওয়ায় সে প্রাধান্যের দিকটিও দুর্বল হয়ে গেছে। হাকেম এবং ইমাম জাহাবী রহ. বলেন: تفرد به ابن لهيعة “হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ একাই বর্ণনা করেছেন”। (মুসতাদরাকে হাকেম: ১১০৮ নম্বর হাদীস ও ইমাম জাহাবীর তালখীছে)

১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছে আবু দাউদ: ১১৫১ ও ১১৫২ নম্বর হাদীসে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী। অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কিছু মুহাদ্দিসীনে কিরামের আপত্তি রয়েছে। عن ابن معين : ضعيف “হযরত ইয়াহইয়া বিন মাঈন রহ. বলেন: তিনি জঈফ”। আবু হাতিম বলেন: ليس بقوى ، لين الحديث “তিনি শক্তিশালী নন, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম”। ইমাম নাসাঈ বলেন: ليس بذاك القوى و يكتب حديثه “তিনি তেমন মজবুত নন। তবে তাঁর হাদীস লেখার যোগ্য”।

উপরোক্ত তথ্যের দ্বারা ইবনে লাহিআ বা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী রহ. বর্ণিত হাদীসকে অগ্রহণযোগ্য বলা আমার উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা দেখানো উদ্দেশ্য যে, ইবনে লাহিআ ও আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফীর মাধ্যমে বর্ণিত ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসের তুলনায় পূর্ববর্ণিত ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস তুলনামূলক বেশী শক্তিশালী। এ কারণে আমরা ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমলকে উত্তম মনে করি। তবে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমলকেও বৈধ মনে করি।

অাল্লাহ তা'য়ালা সবাইকে বুঝার তাওফীক দান করুন,আমিন ৷৷৷

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...