Friday, 24 July 2020

গনহারে মাথা ন্যারা করা

যারা বর্তমানে গণহারে মাথা কামাচ্ছেন...
...
ইবনে হাজার আল হাইসামী রহ. তাঁর আল যাওয়াজির আন ইক্বতিরাফ আল কাবাইর গ্রন্থে ১১৭ তম কবীরা গুনাহ হিসেবে বিপদ/দূর্দশা/ক্লেশের সময়ে মাথা মুণ্ডানোকে তালিকাভুক্ত করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ক্ষেত্রে মাথা মুণ্ডাতে নিষেধ করেছেন।
আদতে এটা ছিল জাহেলি যুগের প্রথা। দুর্দশার সময়ে তারা মাথা ন্যাড়া করে ফেলত। কেবল মক্কার মুশরিকদের মধ্যেই এই রীতি ছিল এমন নয়।
ঐতিহাসিকভাবেই পৃথিবীর অধিকাংশ মূর্তিপূজক সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও না কোনও ক্ষেত্রে এই রীতির চল রয়েছে। এমনকি এখনও তা হিন্দু, বৌদ্ধ, পার্সিসহ প্রায় অধিকাংশ মূর্তিপূজক সমাজে চর্চিত।
মূলত এ কারণেই হাদীসে এই ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কিন্তু এর সঙ্গে ইবনে হাজার রহ. এর আরও একটি হিকমাত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে প্রকারন্তরে এক ধরনের অতুষ্টি, বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
এই বিরক্তি, এই অতুষ্টি হচ্ছে কুদরতি ফায়সালার (Divine Decree) উপর। বান্দার কাজ তো ধৈর্য্য ধারণ। ফলত আল্লাহ্‌র প্রতি এটা এক প্রকারের অবাধ্যতা।
আমাদের এখানে এখন যারা মাথা করছেন, তারা কেউই এইরকম বিশ্বাস থেকে মাথা ন্যাড়া করছেন, ব্যাপারটা এমন না। ফলত এটার বৈধতা প্রসঙ্গে আমি কোনও প্রকার মন্তব্যেই যাচ্ছি না।
কিন্তু আমার বিনীত মতামত হচ্ছে, যদি প্রকৃতই এইরকম একটা জাতীয় দূর্যোগের মুখোমুখি আমরা না হতাম, তবে আমরা অধিকাংশ লোক মাথা ন্যাড়া করতাম না। ফলত চলমান দূর্যোগটাই এখানে ডি-ফ্যাক্টো।
কেউ তার প্রয়োজনে মাথা ন্যাড়া করলে তা ঠিক আছে। কিন্তু ট্রেন্ড হিসেবে প্রকারান্তরে করোনাজনিত সৃষ্ট পরিস্থিতি না থাকলে এটা চালু হত না। আদতে কোনও কোনও রীতিই একদিনে গড়ে উঠে না। ক্রমশ তা রীতি হিসেবে দাঁড়ায়।
এইবারের এই ট্রেন্ড কি ভবিষ্যতেও জাতীয় দূর্যোগে কোনও দীর্ঘ ছুটিতে পুনরাবৃত্তি হবে না? অবশ্যই তা হওয়ার ব্যাপক সম্ভাব্যতা রয়েছে। আসলে শয়তান আমাদের অজ্ঞাতে আপাতত মন্দ নয়, এমন বহু পদ্ধতিতে আমাদের পূর্ববর্তীদের বিভ্রান্ত করেছে। আমাদেরও করছে।
মুশরিকদের রীতি হিসেবে এস্টাব্লিশড এমন কিছুকে ট্রেন্ডে রূপান্তরে কোনও কল্যাণ নেই। ফলত আমার সবিনয় অভিমত এ প্রসঙ্গে সাবধানতা অবলম্বন করাটা উচিত। আর এটাই তাকওয়ার দাবি।
আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা কোরআনুল কারীমে বলছেন, অবশ্যই তিনি আমাদের পরীক্ষা করবেন কখনো উৎকণ্ঠা, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবন, পণ্য ও ফসল হানির মধ্য দিয়ে। (আল-বাক্বারাহ ১৫৫)
আমরা প্রত্যেকেই একটা উৎকণ্ঠার সময় এখন অতিবাহিত করছি। সুতরাং এটাও তো পরীক্ষাই। এই যে আল্লাহ্‌ আমাদের পরীক্ষা করেন এর মধ্যেও হিকমাহ (wisdom) রয়েছে। আমরা তা অনেকাংশেই অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই।
সুলতানুল উলামা ইজ্জুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম আল দিমাস্কি রহ. মুমিনদের উপর আল্লাহ্‌র পরীক্ষার সতেরোটা হিকমাহ (wisdom) বর্ণনা করেছেন।
১. বান্দার উপর আল্লাহ্‌র সর্বময় ক্ষমতাকে অনুধাবন করতে পারা।
২. আমরা যে তাঁরই মূখাপেক্ষী তা অনুধাবন করা।
৩. এর মধ্য দিয়ে আল্লাহ্‌র দিকে পুনরায় আমাদের মনোযোগ ফিরে যাওয়া।
৪. নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ বোধ করা। তওবা করা।
৫. আল্লাহ্‌র দরবারে নত হওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়া।
৬. আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে উঠা।
৭. অন্তরে ক্ষমাসুলভ মানসিকতা গড়ে উঠা।
৮. আল্লাহর হুকুম পূর্ণ আনুগত্যের সাথে মেনে নেওয়ার মনোভাব গড়ে উঠা।
৯. আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা তৈরি হওয়া। কেননা বিপদ থেকে তো মুক্তি কেবল আল্লাহই দিতে পারেন।
১০. গুনাহমুক্ত হওয়া। কেননা আল্লাহ্‌ বিপদের মধ্য দিয়ে গুনাহ মাফ করেন।
১১. যারা বিপদগ্রস্ত তাদের প্রতি আমাদের হৃদয়ে সহানুভূতি গড়ে উঠা।
১২. আমাদের উপর যে দয়া আল্লাহ্‌র, যে নিয়ামত সম্পদ ও সুস্থতার। সেই নিয়ামতের গুরুত্ব বুঝতে সক্ষম হওয়া।
১৩. পরকালে আল্লাহ্‌র প্রতিদানের ব্যাপারে অন্তরে আশাবাদ পোক্ত হওয়া।
১৪. আল্লাহ্‌র পরীক্ষায় লুকায়িত হিকমাহ অনুধাবন করতে পারা।
১৫. অহংকার, ঔদ্ধত্য এবং জুলুমবাজি থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রাপ্তি।
১৬.তৃপ্তি ও তুষ্টির গুণ অর্জন করা।
১৭. সবরে জামিল তথা উত্তম ধৈর্যধারণের শিক্ষা অর্জিত হওয়া।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...