Wednesday, 12 May 2021

ডাঃ কামাল ইসমাইল

 এই সেই ব্যক্তি যিনি দুটি পবিত্রতম মসজিদকে নকশা করেছেন--- আল-মসজিদ-আল-হারাম এবং  

আল-মসজিদ-উন-নববী। 


তিনি একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি ছিলেন ।

যিনি জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন ।

অনেকের কাছেই অজানা এই বিশেষ ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ ডঃ মুহাম্মদ কামাল ইসমা'ইল।

(১৯০৮ – ২০০৮)


তিনি হাই স্কুল (সার্টিফিকেট) পাওয়ার জন্য মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন । প্রথম রয়্যাল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন এবং সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন এটি থেকে স্নাতক পাশ করার সময়েও। 


এই সর্বকনিষ্ঠকে মিশর থেকে ইউরোপে পাঠানো হয় । এখানে তিনি তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন ইসলামিক স্থাপত্যে ।


রাষ্ট্রীয় সম্মানসুচক রাষ্ট্র প্রধানের কাছ থেকে ′′ নাইল ′′ স্কার্ফ এবং ′′ লৌহ ′′ পদমর্যাদা অর্জন করার জন্যও তিনি সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন । 


তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি (হেরেম শরীফ ) মক্কা ও মদিনা মসজিদ ( মসজিদে নববী ) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন ।


কিং ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্য নির্মাণ তত্ত্বাবধানের জন্য কোন বেতন বা সম্মানী ভাতা নিতে অস্বীকার করেন। যখন তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দেন তখন তিনি বকর বিন লাদেনকে বলেন:

′′ পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য কেন অর্থ গ্রহণ করবো? আমি কিয়ামতের দিন কিভাবে আল্লাহর মুখোমুখি হবো ? "


তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন , পুত্র সন্তান জন্ম দেন এবং এরপর স্ত্রী ও পুত্র সন্তান মারা যায় । অতঃপর তিনি একাকী ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিষ্ঠার সাথে ব্যয় করেছেন । 


গণমাধ্যমে জনসম্মুখে,খ্যাতি ও অর্থ থেকে দূরে থেকে দুই পবিত্র মসজিদের খেদমতে বহু বছর অতিক্রম করেছেন ।


হেরেম শরীফ ( পবিত্র মসজিদ ) এর মার্বেল এর ( কাজ ) সম্পর্কে এই প্রতিভাটির একটি আশ্চর্যজনক গল্প আছে , যেহেতু তিনি ' তাওয়াফ ' তৈরির জন্য হারাম মসজিদের মেঝে ঢেকে দিতে চেয়েছিলেন তাপ শোষণের জন্য বিশেষ মার্বেল পাথর দিয়ে । এই মার্বেল শুধুমাত্র গ্রীসের একটি ছোট পাহাড়ে পাওয়া যেত ।


তিনি গ্রীসে ভ্রমণ করেছেন এবং হারাম শরীফ ( মার্বলিং ) এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মার্বেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন যা পর্বতের প্রায় অর্ধেক ।

তিনি চুক্তি স্বাক্ষর করে ফিরে এসেছেন ( মক্কায় ) । পাহাড় কেটে সাদা মার্বেল এসেছে এবং মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে মার্বেল স্থাপন সম্পন্ন করেছেন ।


এর ১৫ বছর পর সৌদি সরকার তাকে মদিনার পবিত্র মসজিদে একই ধরনের মার্বেল স্থাপন করতে বলেছিলো।


প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামাল বলেন,

যখন সৌদি সরকারের বাদশা তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মসজিদ ” মসজিদে নববী “ কে একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন , আমি খুব বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম , কারণ এই ধরনের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে মাত্র একটি জায়গা ছিল , তা হল গ্রীস , এবং আমি ইতিমধ্যে অর্ধেক কিনে নিয়েছি।


এরপর তার উপলব্ধি ।

কামাল বলেন , তিনি গ্রিসের একই কোম্পানিতে গিয়ে সিইও-র সঙ্গে দেখা করেন, এবং যে পরিমাণ অবশিষ্ট আছে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন ।


সিইও বলেন , আপনি ১৫ বছর আগে চলে যাওয়ার পরই বিক্রি হয়ে গেছে অবশিষ্ট পরিমাণ মার্বেল পাথর । কামাল খুব দুঃখিত হয়ে গেলেন । কামাল মিটিং শেষে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় দপ্তর সচিবের সাথে দেখা করে অনুরোধ করেন , অবশিষ্ট পরিমাণ মার্বেল ক্রয়কৃত ব্যক্তি কোথায় ব্যবসা করেন তা জানাতে ?


তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে এত পুরনো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে । কামালের অনুরোধে তিনি পুরনো রেকর্ডে খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।


ডঃ কামাল তার হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়ে আসেন এবং পরের দিন পুনর্বিবেচনা করে খুঁজে তাকে জানাতে বলেন । কামাল বলেন অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ভাবলেন ,  


“ আমি কেন জানতে চাই কে কিনেছে ( এটা )? ”


নিজেকে সান্তনা দিলেন , আল্লাহ কিছু একটা সুন্দর ব্যবস্থা করে দিবেন । পরদিন বিমানবন্দরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ডঃ কামাল সচিবের ফোন কল পেলেন ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন বলে । ডঃ কামাল ধীর গতিতে তাদের অফিসে চলে গেলেন , এই ভেবে যে , ক্রেতার ঠিকানা দিয়ে কি করব , এতো বছর হয়ে গেছে! ডঃ কামাল অফিসে পৌঁছলে বাকি মার্বেল কেনা কোম্পানির ঠিকানা দিলেন সচিব । ডঃ কামাল বলেন , তার হৃদয় স্পন্দন বেড়ে গভীর ভাবে পাম্প করেছে যখন তিনি আবিষ্কার করেন , যে এই মার্বেল কিনেছে সেই কোম্পানিটি সৌদি কোম্পানি ।


ডঃ কামাল সৌদি আরবে ফিরে গিয়ে সোজা সেই কোম্পানির অফিসে গিয়েছিলেন যিনি মার্বেল কিনেছিলেন । তিনি কোম্পানির পরিচালকের সাথে দেখা করেছিলেন , এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন , 

তিনি গ্রিস থেকে বহু বছর আগে কেনা মার্বেল দিয়ে কি করেছিলেন ? কোম্পানির পরিচালক বলেছিলেন , আমি মনে করতে পারছি না। তিনি স্টক রুমে ( কোম্পানির ) যোগাযোগ করেন এবং তাদের কেনা গ্রীসের সাদা মার্বেল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং তারা তাকে বলেন যে , যে পরিমান কেনা হয়েছিল সেই পরিমাণই স্টকে পাওয়া যাচ্ছে , কখনই তা বিক্রি বা ব্যবহার করা হয়নি ।


শিশুর মত কাঁদতে শুরু করলেন ডঃ কামাল , আর পুরো গল্পটি শুনালেন কোম্পানির মালিককে ।  

কামাল মালিককে একটি অলিখিত চেক দিলেন , আর বললেন তোমার যা লাগবে লিখে নাও । মালিক যখন জানতে পারলো যে মার্বেলটা মসজিদে নবীজির (সাঃ) অর্থাৎ মসজিদে নববীর জন্য , তখন মালিক বললো আমি এক রিয়ালও নিবো না ।


পবিত্র নবীজির মসজিদে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে এই মার্বেল কেনা এবং বিক্রি বা ব্যবহার করার কথা ভুলিয়ে রেখেছেন । এটাই আল্লাহর ইচ্ছা ।


আল্লাহ সুবহান হু তায়ালা ডঃ মুহাম্মদ কামাল ইসমা'ইলকে ' জান্নাতের ' সর্বোচ্চ স্থান দান করুন-আমীন ইয়া রাব্বুল আলামিন ।


Zee Thebo এর পোষ্ট থেকে অনুবাদকৃত ।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...