Tuesday, 11 May 2021

ওমরী কাযা হাদিস শরীফে আছে কিনা?

 🌺🌺  ওমরী কাযা কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত 🌺🌺

.

------------------------------

🌻 সালাত আরবি শব্দ আর নামায হচ্ছে ফার্সি। অনেক নামায একসঙ্গে কাজা হয়ে গেলে সাধারণের পরিভাষায় এটাকে ‘উমরি কাযা’ বলে।’ 


🌻 আর ফিকহের পরিভাষায় ﻗﻀﺎﺀ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺖ বলা হয়। সুতরাং উমরি কাজা বলতে শরিয়তে কোনো নামায নেই। তবে নামায [ফরজ, ওয়াজিব] ছুটে গেলে পরবর্তীতে পড়া আবশ্যক। সুতরাং আমরা উমরি কাজা পড়ব না। কোনো নামায ছুটে গেলে পড়ব। এক দুই ওয়াক্তও পড়তে হবে, #হাজার_ওয়াক্ত হলেও পড়তে হবে। 


🌻 আপনার কাছ থেকে এক/দু টাকা ঋণ নিলে পরিশোধ করা আবশ্যক; আর লাখ লাখ টাকা নিলে কি পরিশোধ করা জরুরি নয়? ঋণ বেশি হলে কি মাফ হয়ে যায় ??


মাসআলাটি এত প্রসিদ্ধ যে, সাধারণ মুসলিম সমাজও এ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু ইদানীং এ নিয়ে নতুন এক বিভ্রান্তির সূচনা হয়েছে।

তাদের দাবি হচ্ছে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ নামায ছেড়ে দিলে কাযা করতে হবে না। তাওবা করলেই মাফ হয়ে যাবে। তবে ঘুমের কারণে ও ভুলবশত নামায ছুটে গেলে কাযা করা আবশ্যক।’

👇

কিন্তু ইচ্ছাকৃত নামায পরিত্যাগ করলে কাযা করতে হবে না-- এই মতবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া, দলিলবিহীন। কুরআন-সুন্নাহ, ইজমায়ে উম্মত এবং উম্মতের ধারাবাহিক আমলের বিরোধী।

আমরা সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি আলোকপাত করব- ইনশাল্লাহ।

.


🌺🌺 হাদিস শরিফে কাযার নীতিঃ-


নামায ব্যতীত আরো কিছু ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সময়ের ভেতরে তা পালন করতে না পারলে পরবর্তীতে আদায় করা আবশ্যক। যেমন রোযা ও হজ। নির্ধারিত সময়ে নামায/রোযা/হজ আদায় করতে না পারলে পরবর্তীতে কাযা করে নেওয়া আবশ্যক। 


রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। দুয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক :


👉 ১. রোজার কাযা 


ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻗَﺎﻝَ ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻫَﻠَﻜْﺖُ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ . ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻫْﻠَﻜَﻚَ . ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻗَﻌْﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗِﻰ ﻓِﻰ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ . ﻗَﺎﻝَ ﻫَﻞْ ﺗَﺠِﺪُ ﻣَﺎ ﺗُﻌْﺘِﻖُ ﺭَﻗَﺒَﺔً . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻬَﻞْ ﺗَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﺃَﻥْ ﺗَﺼُﻮﻡَ ﺷَﻬْﺮَﻳْﻦِ ﻣُﺘَﺘَﺎﺑِﻌَﻴْﻦِ . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻬَﻞْ ﺗَﺠِﺪُ ﻣَﺎ ﺗُﻄْﻌِﻢُ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﻣِﺴْﻜِﻴﻨًﺎ . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ - ﻗَﺎﻝَ - ﺛُﻢَّ ﺟَﻠَﺲَ ﻓَﺄُﺗِﻰَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺑِﻌَﺮَﻕٍ ﻓِﻴﻪِ ﺗَﻤْﺮٌ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺗَﺼَﺪَّﻕْ ﺑِﻬَﺬَﺍ . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻓْﻘَﺮَ ﻣِﻨَّﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻻَﺑَﺘَﻴْﻬَﺎ ﺃَﻫْﻞُ ﺑَﻴْﺖٍ ﺃَﺣْﻮَﺝُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣِﻨَّﺎ . ﻓَﻀَﺤِﻚَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺣَﺘَّﻰ ﺑَﺪَﺕْ ﺃَﻧْﻴَﺎﺑُﻪُ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺄَﻃْﻌِﻤْﻪُ ﺃَﻫْﻠَﻚَ

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, একব্যক্তি রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে তুমি ধ্বংস হয়েছ? সে বলল, আমি রমজান মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে ফেলেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আজাদ করতে পারবে? সে বলল, না। রাসুল সা. বললেন, তুমি দুই মাস লাগাতার রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। রাসুল সা. বললেন, ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে পারবে? সে বলল, তাও পারব না। অতঃপর সে বসে রইল। ইতোমধ্যে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খেজুরভর্তি ঝুড়ি (হাদিয়া বা দান) আসল। রাসুল সা. তাকে বললেন, তুমি এই খেজুর নিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হুজুর! মদিনার দুই উপত্যকার মাঝে আমার চেয়ে গরিব ও অভাবগ্রস্তকোনো পরিবার নেই। এ কথা শুনে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন; ফলে হুজুরের দাঁত মোবারক দেখা গেল। এরপর রাসুল সা. তাকে বললেন, খেজুর নিয়ে তোমার পরিবারকে খাইয়ে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ১৮৩৪, ১৮৩৫, ৫০৫৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৫১)।

👇

এটি অত্যন্ত শক্তিশালী সহিহ হাদিস। এর দ্বারা প্রমাণিত হল, ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা নষ্ট করার কারণে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই ব্যক্তিকে রোযা কাযা করতে বললেন কেন? তাওবা করার কথা বলেননি কেন? সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা নষ্ট করার কারণে যেমন কাযা আবশ্যক তদ্রূপ ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করলেও কাযা আবশ্যক।

.


👉 ২. হজ্জ ও ঋণের কাযা


ﺃَﻥَّ ﺍِﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺟُﻬَﻴْﻨَﺔَ ﺟَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺍَﻟﻨَّﺒِﻲِّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﻥَّ ﺃُﻣِّﻲ ﻧَﺬَﺭَﺕْ ﺃَﻥْ ﺗَﺤُﺞَّ , ﻓَﻠَﻢْ ﺗَﺤُﺞَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺗَﺖْ , ﺃَﻓَﺄَﺣُﺞُّ ﻋَﻨْﻬَﺎ ? ﻗَﺎﻝَ : " ﻧَﻌَﻢْ ," ﺣُﺠِّﻲ ﻋَﻨْﻬَﺎ , ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖِ ﻟَﻮْ (২) ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻚِ ﺩَﻳْﻦٌ , ﺃَﻛُﻨْﺖِ ﻗَﺎﺿِﻴَﺘَﻪُ ? ﺍِﻗْﻀُﻮﺍ ﺍَﻟﻠَّﻪَ , ﻓَﺎَﻟﻠَّﻪُ ﺃَﺣَﻖُّ ﺑِﺎﻟْﻮَﻓَﺎﺀِ

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমার মা হজের মান্নত করেছিলেন। কিন্তু তা আদায় করার আগেই তিনি মারা গেছেন। এখন আমার করণীয় কী? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় কর। বল তো, তোমার মায়ের কোনো ঋণ থাকলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? মহিলাটি বলল, হ্যাঁ করতাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তোমরা আল্লাহর ঋণও পরিশোধ কর। কারণ, তিনি তাঁর প্রাপ্য পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। (সহিহ বুখারি, ১/২৪৯-২৫০। সুনানে নাসায়ি ২/২)


আরেকটি হাদিসে এসেছে :

ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ : ﺃَﻥَّ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﺟَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻬَﺎ ﺻَﻮْﻡُ ﺷَﻬْﺮٍ ﺃَﻓَﺄَﻗْﻀِﻴﻪِ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻚِ ﺩَﻳْﻦٌ ﺃَﻛُﻨْﺖِ ﻗَﺎﺿِﻴَﺘَﻪُ . ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻧَﻌَﻢْ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺪَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন : এক মহিলা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমার মায়ের ওপর একমাসের রোযা ফরজ রয়ে গেছে, আমি কি তার পক্ষ থেকে কাযা করে দেব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকলে তুমি তা পরিশোধ করতে কি-না? সে বলল, হ্যাঁ করতাম। রাসুল বললেন : তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা অধিক উপযুক্ত। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং- ৩৩১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৭৪৯)।


🌻 উপর্যুক্ত বর্ণনাসমূহে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- ﺍِﻗْﻀُﻮﺍ ﺍَﻟﻠَّﻪَ ‘তোমরা আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর’ এবং ﻓَﺪَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ‘আল্লাহর ঋণ আদায়ের অধিক উপযুক্ত’ এসব থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে, যে ইবাদাত বান্দার ওপর ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য, তা থেকে দায়মুক্তির পথ হল তা আদায় করা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার দ্বারা যেমন মানুষের ঋণ থেকে দায়মুক্ত হওয়া যায় না, তেমনি আল্লাহর ঋণ থেকেও দায়মুক্ত হওয়া যায় না।

.


🌺🌺 সালাত কাযা পড়ার হাদিস 


অন্যান্য ইবাদতের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাযের ক্ষেত্রেও এই মূলনীতি প্রযোজ্য। আল্লার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্ম এবং সাহাবায়ে কেরামের ‘আছার’ এই প্রমাণই বহন করে। নমুনাস্বরূপ কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিচে দেওয়া গেল :


👉 ১.

একরাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে নিয়ে সফর করছিলেন। শেষরাতে তাঁরা বিশ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রাবিরতি করলেন এবং হযরত বিলাল রা. -কে ফজরের নামাযের জন্য জাগিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল রা. এর চোখও লেগে গেল আর এতে করে সবার নামাযই কাযা হয়ে গেল। ঘুম থেকে জাগার পর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন। এরপর বললেন, ঘুম বা বিস্মৃতির কারণে যার নামায ছুটে গেল, যখন সে জাগ্রত হবে তখন যেন তা আদায় করে নেয়। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এই রাতটি ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻌﺮﻳﺲ – ﻭﺍﻗﻌﺔ ﺍﻟﺘﻌﺮﻳﺲ যাত্রাবিরতির রাত এবং এই ঘটনাটি যাত্রাবিরতির ঘটনা নামে পরিচিত। প্রসিদ্ধ সকল হাদিসগ্রন্থেই ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত ইবনে আব্বাস রা. ঘটনাটি বর্ণনা করার পর বলেন, ‘সেই দুই রাকাত নামায (যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা হিসেবে আদায় করেছিলেন) আমার কাছে গোটা দুনিয়া থেকে বেশি প্রিয়। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৯৯১; মুসনাদে আহমদ ৪/১৮১; হাদিস নং ২৩৪৯।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর খুশির কারণ হল, এই ঘটনার মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের সামনে এ মূলনীতি স্পষ্ট হল, নামায নির্ধারিত সময়ে আদায়যোগ্য ইবাদাত হলেও যদি তা সময়মত আদায় করা না হয়, তবে পরে হলেও আদায় করতে হবে। আলইসতিযকার ১/৩০০।

.


👉 ২.

ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ : ﺃﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺟﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻨﺪﻕ ﺑﻌﺪﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﺴﺐ ﻛﻔﺎﺭ ﻗﺮﻳﺶ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻛﺪﺕ ﺃﺻﻠﻲ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺣﺘﻰ ﻛﺎﺩﺕ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺗﻐﺮﺏ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﺻﻠﻴﺘﻬﺎ ‏) . ﻓﻘﻤﻨﺎ ﺇﻟﻰ ﺑﻄﺤﺎﻥ ﻓﺘﻮﺿﺄ ﻟﻠﺼﻼﺓ ﻭﺗﻮﺿﺄﻧﺎ ﻟﻬﺎ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺑﻌﺪﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺑﻌﺪﻫﺎ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ

‏[ 573 ، 615 ، 903 ، 3886 ]

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত-ওমর বিন খাত্তাব রা. খন্দকের দিন সূর্য ডুবার পর কুরাইশ কাফেরদের তিরস্কার করতে করতে এলেন। নবীজী সাঃ কে বললেন-“হে আল্লাহর নবী! আমি আসরের নামায পড়তে পারিনি এরই মাঝে সূর্য ডুবে গেছে”।

নবীজী সাঃ বললেন-“হায় আল্লাহ! আমরাওতো পড়তে পারিনি! তারপর আমরা সমতল ভূমিতে দাঁড়ালাম। আর তিনি নামাযের জন্য অযু করলেন। আর আমরাও নামাযের জন্য অযু করলাম। তারপর সূর্য ডুবে গেলেও প্রথমে আমরা আসর পড়লাম। তারপর মাগরিব পড়লাম।(বুখারী শরীফ-হাদিস নং ৫৭১,৫৭৩,৬১৫, ৯০৩,৩৮৮৬,)


👉 ৩.

ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻗﺎﻝ : ﺳﺌﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻳﺮﻗﺪ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺃﻭ ﻳﻐﻔﻞ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻝ : ﻛﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﻳﺼﻠﻴﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺫﻛﺮﻫﺎ

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে নামায রেখে ঘুমিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও নামায সম্পর্কে গাফেল ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-এর কাফফারা হল যখনই নামাযের কথা স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে।

(সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯৯১,মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১০৪১,মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩০৬৫,মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩২৬২,সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৫৮৫)

ﺃَﻥَّ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦَ ﻋُﻤَﺮَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻟُﻤَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮْﻫَﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻓَﻠْﻴُﺼَﻞِّ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻧَﺴِﻲَ ﺛُﻢَّ ﻟِﻴُﺼَﻞِّ ﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ

-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ বলতেন-যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় তারপর তা স্মরণ হয় ইমামের সাথে জামাতে নামাযরত অব্স্থায়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর যে নামায ভুলে পড়েনি, তা আদায় করবে, তারপর অন্য নামায পড়বে।

(মু্য়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৫৮৪,সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩০১২)


👉 ৪.

ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ : ﻧَﺎﺩَﻯ ﻓِﻴﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻧْﺼَﺮَﻑَ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺣْﺰَﺍﺏِ ﺃَﻻَ ﻻَ ﻳُﺼَﻠِّﻴَﻦَّ ﺃَﺣَﺪٌ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺇِﻻَّ ﻓِﻰ ﺑَﻨِﻰ ﻗُﺮَﻳْﻈَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺘَﺨَﻮَّﻑَ ﻧَﺎﺱٌ ﻓَﻮْﺕَ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖِ ﻓَﺼَﻠُّﻮﺍ ﺩُﻭﻥَ ﺑَﻨِﻰ ﻗُﺮَﻳْﻈَﺔَ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺁﺧَﺮُﻭﻥَ ﻻَ ﻧُﺼَﻠِّﻰ ﺇِﻻَّ ﺣَﻴْﺚُ ﺃَﻣَﺮَﻧَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻭَﺇِﻥْ ﻓَﺎﺗَﻨَﺎ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖُ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻤَﺎ ﻋَﻨَّﻒَ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﺮِﻳﻘَﻴْﻦِ .

হযরত আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফেরার দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বললেন, তোমাদের কেউ যেন বনি কুরাইযায় না পৌঁছে আসরের নামায না পড়ে। অর্থাৎ বনি কুরাইযায় গিয়ে আসরের নামায পড়বে।

সাহাবায়ে কেরাম রওয়ানা হলেন। পথে আছরের নামাযের সময় অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকজন সাহাবি পথেই আছর পড়লেন। আর কয়েকজন বনি কুরাইযায় পৌঁছে সময়ের পর আসরের নামায কাযা পড়লেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকেই তিরস্কার করেননি। (সহিহ বুখারি, ১/১২৯; ২/৫৯০; সহিহ মুসলিম ২/ ৯৬; সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২০৮৬৯)।


🌻🌻 লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ঘটনা পেশ করা হলে তিনি কাযা আদায়কারী সাহাবিদের একথা বলেন নি যে, নামায শুধু নির্ধারিত সময়েই পড়া যায, সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তা আর পড়া যায় না কিংবা পড়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

👇

এসব দৃষ্টান্তের বিপরীতে একটি হাদিস বা সাহাবির বক্তব্যেও একথা বলা হয় নি যে, নির্ধারিত সময়ে পড়া না হলে তা আর পড়তে হবে না, বরং শুধু ইস্তেগফার করাই যথেষ্ট। অতএব এটা স্পষ্ট যে, কারো ওপর যে নামায ফরজ রয়েছে তা আদায় করা ছাড়া দায়মুক্তির কোনো উপায় নেই। শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে কাযা হলেও এই বিধান। আর যদি শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া আল্লাহ না করুন শুধু অবহেলাবশত নামায ত্যাগ করা হয় তাহলে তা কত মারাত্মক অপরাধ তা বলাবাহুল্য। এক্ষেত্রে ওই নামাযটি আদায় করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করার অপরাধে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করাও জরুরি। এটি হাদিস শরিফের সুস্পষ্ট মূলনীতি এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম, বাণী ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

👇

ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺇِﺫَﺍ ﺭَﻗَﺪَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺃَﻭْ ﻏَﻔَﻞَ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴُﺼَﻠِّﻬَﺎ ﺇِﺫَﺍ ﺫَﻛَﺮَﻫَﺎ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻟِﺬِﻛْﺮِﻯ .

আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমন্ত থাকে কিংবা নামাযের সময় নামাযের কথা ভুলে যায় তাহলে যখন তার স্মরণে আসবে তখনই সে নামায আদায় করে নেবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি নামায আদায় কর আমাকে স্মরণ করার সময়। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৬০১)।

👇

ﻋَﻦْ ﻧَﺎﻓِﻊِ ﺑْﻦِ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﻋُﺒَﻴْﺪَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ : ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﺷَﻐَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻋَﻦْ ﺃَﺭْﺑَﻊِ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﺨَﻨْﺪَﻕِ ﺣَﺘَّﻰ ﺫَﻫَﺐَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﻓَﺄَﻣَﺮَ ﺑِﻼَﻻً ﻓَﺄَﺫَّﻥَ ﻭَﺃَﻗَﺎﻡَ ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَ . ﺍﻟِﺎﻛْﺘِﻔَﺎﺀُ ﺑِﺎﻟْﺈِﻗَﺎﻣَﺔِ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻠَﺎﺓٍ

আবু উবায়দা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চার ওয়াক্ত নামায কাযা করে দিয়েছিল। এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা. -কে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি ইকামাত দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের নামায আদায় করলেন। এরপর বিলাল আবার ইকামাত দিলেন নবীজি আসরের নামায আদায় করলেন। এরপর আবার তিনি ইকামাত দিলেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায পড়ালেন। অর্থাৎ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা হয়ে যাওয়া প্রত্যেক নামাযের জন্য প্রতিবার আযান না দিয়ে শুধু ইকামাতের ওপর ক্ষান্ত দিয়েছেন। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ১৯৬৭; সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ১৬২৬)।

.


🌺🌺 ইজমায়ে উম্মতঃ-


এ প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল ইজমা। মুসলিম উম্মাহর সকল মুজতাহিদ ইমাম একমত যে, ফরজ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় না করলে পরে তা কাযা করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করুক বা ওজরবশত। এ ব্যাপারে সকল পথ ও মতের ইমামগণ একমত পোষণ করেছেন।


🌻 আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহর মধ্যে রয়েছে :

ﻗَﺎﻝ ﻋِﻴَﺎﺽٌ : ﻭَﻻَ ﻳَﺼِﺢُّ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﺣَﺪٍ ﺳِﻮَﻯ ﺩَﺍﻭُﺩَ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲِّ

অর্থাৎ কাজী ইয়ায বলেন, দাউদ ও ইবনে আবদুর রহমান ব্যতীত আর কেউই ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিলে কাযা না করার কথা বলেন না। সবাই কাযা করার কথা বলেন। [খ. ৩৪, পৃ. ২৭; আরও দেখা যাবে : ﺍﻟﺸﺮﺡ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ১ / ৩৬৪ ، ﻭﺍﻧﻈﺮ ﺍﻟﺒﻨﺎﻳﺔ ২ / ৬২৩ ، ﻭﺍﻟﻘﻮﺍﻧﻴﻦ ﺍﻟﻔﻘﻬﻴﺔ ﺹ ৭২ . ]

মনে রাখা দরকার, আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ফিকহী বিশ্বকোষ, যা কুয়েত সরকার প্রণয়ন করেছে। দুনিয়ার সব জ্ঞানী এর দ্বারা উপকৃত হয়।


🌻 ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেন : বিনা ওজরে কাযা হয়ে যাওয়া ফরজ নামাযের কাযা আদায় করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে শরিয়তের অকাট্য দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন :

নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ফরয নামায ফরয রোযার মতো কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে দলিল হিসেবে যদিও উম্মতের ইজমাই যথেষ্ট, যার অনুসরণ করা ওই সব শায (তথা সিরাতে মুসতাকিম থেকে বিচ্যুত) মতের প্রবক্তাদের জন্যও অপরিহার্য ছিল, তারপরও কিছু দলিল উল্লেখ করা হল। যথা : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী...( আলইসতিযকার১/৩০২-৩০৩)

👇

কাযা নামায আদায় করাও তাওবার অংশ

একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, হুককুল ইবাদ বা বান্দার হক নষ্ট করা হলে শুধু অনুতপ্ত হওয়া ও ইস্তিগফার করা যথেষ্ট নয়; বরং হকদারের পাওনা আদায় করাও তাওবার অংশ। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক সহিহ হাদিসে আল্লাহর হক কে বান্দার হকের সাথে তুলনা করে বলেছেন : ﺩَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ ‘আল্লাহর হক নষ্ট হলে তা আদায় করা বান্দার হকের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’ অতএব, আলোচ্য মাসআলায় নামাযের কাযা আদায় করা তাওবারই নামান্তর । কৃতকর্মের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা, আগামীতে নামায না ছাড়ার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প হওয়া এবং ছুটেযাওয়া নামাযসমূহ আদায় করা- এই সবকিছু মিলেই তাওবা পূর্ণ হবে। শরিয়তের দলিলসমূহ থেকে তাই প্রমাণিত হয় এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমাও রয়েছে।

.


🌻 মালেকি মাযহাবের বিখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বিষয়টিকে এভাবে উল্লেখ করেন :

ﻭﺃﺟﻤﻌﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺎﺻﻲ ﺃﻥ ﻳﺘﻮﺏ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻪ ﺑﺎﻟﻨﺪﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻋﺘﻘﺎﺩ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﻌﻮﺩﺓ ﺇﻟﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ^ ﻭﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﻤﻴﻌﺎ ... ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻟﻌﻠﻜﻢ ﺗﻔﻠﺤﻮﻥ ‏( ﺍﻟﻨﻮﺭ ৩১(

ﻭﻣﻦ ﻟﺰﻣﻪ ﺣﻖ ﻟﻠﻪ ﺃﻭ ﻟﻌﺒﺎﺩﻩ ﻟﺰﻣﻪ ﺍﻟﺨﺮﻭﺝ ﻣﻨﻪ

ﻭﻗﺪ ﺷﺒﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺣﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺑﺤﻘﻮﻕ ﺍﻵﺩﻣﻴﻴﻦ ﻭﻗﺎﻝ ‏( ‏( ﺩﻳﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﻖ ﺃﻥ ﻳﻘﻀﻰ ) )

ওলামায়ে কেরাম একমত যে, পাপীর জন্যে আবশ্যক হচ্ছে স্বীয় পাপ থেকে তাওবা করবে ওই কাজের ওপর লজ্জিত হয়ে এবং এই সঙ্কল্পের সাথে যে, ওই পাপ আর করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর... সূরা নূর-৩১।

যে ব্যক্তির ওপর আল্লাহর কিংবা মানুষের হক রয়েছে তা আদায় করা আবশ্যক। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর হক ও অধিকারকে মানুষের অধিকারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন : ﺩَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ : আল্লাহর হক আদায় করা অধিক উপযুক্ত।

👇

সুতরাং ভুলবশত নামায পরিত্যাগকারীর নামায কাযা করতে হবে আর ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগকারীর ওপর কাযা না করে কেবল তাওবা করলেই যথেষ্ট হবে এই মতবাদটি কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার আলোকে সঠিক নয়। একটি ভ্রান্ত মতবাদ। বর্তমানের তথাকথিত আহলে হাদিস যেসব পূর্বসূরিদের দোহাই দেয় তাদের কেউই এ মতকে সমর্থন করেন না।

.

তারা আরও বলে, হাদিসে তো কেবল ভুলবশত নামায পরিত্যাগ করলে কাজা করার কথা এসেছে; ইচ্ছাকৃত নামায ছাড়লে কাজা করার কথা নেই!!

কুরআন তো নির্দেশ দিয়েছে, পিতা-মাতাকে উফ বলো না। এখন পিতা-মাতাকে প্রহার করা হারাম হবে কেন??

এরা আসলে শরিয়তের মেজাজই বোঝে না। পাগলামির একটা সীমা থাকার দরকার। 


শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর ফাতওয়াও তাই-


المسارعة الى قضاء الفوائت الحثيرة اولى من الأشتغال بالنوافل، واما مع قلة الفوائت فقضاء السنن معها احسن،


অনুবাদ-যদি কাযা নামাযের পরিমাণ অনেক বেশি হয়,ম তবে সুন্নাত নামাযে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে ফরয নামাযসমূহ আদায় করাই উত্তম। আর যদি কাযা নামাযের পরিমাণ কম হয়,তবে ফরযের সাথে সুন্নাত নামায আদায় করলে তা একটি উত্তম কাজ হবে। {ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-২২/১০৪}


🌻 রাসুল সা. এর যমানায় ইচ্ছাকৃত নামায পরিত্যাগ করার কল্পনাও করা যেত না। প্রকাশ্য কাফির ছাড়া সবাই নামায পড়ত। মুনাফিকও জামাতে শামিল হতো।

বলতে চাচ্ছি, বিষয়টিতে উম্মাহর সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর বিপরীত বলা ও করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক সমঝ ও বুঝ দান করুন। আমিন।


লেখক : মুফতি জুবায়ের আহমদ ভৈরবী হাফি.

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...