Sunday, 4 July 2021

মহিলাদের নামাজ ঘরেই সর্বোত্তম

 মহিলাদের কে মসজিদে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয় কেনো??


হাদীস নং ১ঃ-


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتْ لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ‏ قُلْتُ لِعَمْرَةَ أَوَ مُنِعْنَ قَالَتْ نَعَمْ‏.‏(رَوَاه الْبُخَارِىُّ فِىْ بَابِ خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى المَسَاجِدِ بِاللَّيْلِ وَالغَلَسِ)

হযরত আয়েশা রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. যদি জানতেন যে, মহিলারা কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাইলের মহিলাদের মতো তাদেরকেও (মসজিদে আসতে) নিষেধ করে দিতেন। রাবী বলেন: আমি হযরত আমরাহ রহ.কে জিজ্ঞেস করলাম: তাদেরকে (বনী ইসরাইলের মহিলাদেরকে) কি নিষেধ করা হয়েছিলো? তিনি বললেন: হ্যাঁ। 

(বুখারী: ৮২৭, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৫১১৩)

হযরত আয়েশা রা.-এর সময়েই যদি মহিলাদের অবস্থা এমন পর্যায়ের হয়ে থাকে যা তিনি লক্ষ্য করে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ স. বেঁচে থাকলে তাদেরকে মসজিদে আসতে দিতেন না। তাহলে আমাদের এ যুগে রসূলুল্লাহ স. বেঁচে থাকলে মহিলাদের জামাআতে শরীক হওয়ার অনুমতি মিলতো কি? 

হাদীস নং ২ঃ—

5114 - عَنِ مَعْمَرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ §نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ يَتَّخِذْنَ أَرْجُلًا مِنْ خَشَبٍ، يَتَشَرَّفْنَ لِلرِّجَالِ فِي الْمَسَاجِدِ فَحَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِنَّ الْمَسَاجِدَ، وَسُلِّطَتْ عَلَيْهِنَّ الْحَيْضَةُ»

قال الحافظ في الفتح أخرجه عبد الرزاق بإسناد صحيح وهو وإن كان موقوفا حكمه حكم الرفع لانه لا يقال بالرأى 2 : 238.

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত-বনী ইসরাঈলের মহিলারা উঁচু উঁচু কাঠের পা বানিয়ে নিতো। যাতে মসজিদে গিয়ে এগুলো ব্যবহার করে উঁকি মেরে পুরুষদের দেখতে পায়। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা অসুন্তুষ্ট হয়ে তাদের মসজিদে যাওয়া হারাম করে দিয়েছেন এবং তাদের উপর ঋতুস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

[মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৫১১৪ সনদ সহীহ্ ]

হাদীস নং ৩:—

5115 - عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَانَ §الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ يُصَلُّونَ جَمِيعًا، فَكَانَتِ الْمَرْأَةُ لَهَا الْخَلِيلُ تَلْبَسُ الْقَالَبَيْنِ تَطَوَّلُ بِهِمَا لِخَلِيلِهَا، فَأُلْقِيَ عَلَيْهِنَّ الْحَيْضُ، فَكَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ يَقُولُ: «أَخِّرُوهُنَّ حَيْثُ أَخَّرَهُنَّ اللَّهُ»، فَقُلْنَا لِأَبِي بَكْرٍ: مَا الْقَالَبَيْنِ؟ قَالَ: «رَفِيصَيْنِ مِنْ خَشَبٍ»

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলেন, বনী ইসরাঈলের পুরুষ-মহিলা একত্রে নামায আদায় করতো। মহিলাদের কোনো প্রিয় ব্যক্তি যদি জামাতে শরীক থাকতো, তাহলে তারা কাঠের তৈরী উঁচু উঁচু খড়ম পরে নিতো; যাতে লম্বা হয়ে তার প্রিয় পুরুষকে দেখতে পায়। তাদের এ ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের কারণে শাস্তিস্বরূপ তাদের উপর ঋতুস্রাবের কষ্ট চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। (অর্থাৎ ঋতুস্রাবের সময় সীমা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে এবং এ কারণে তাদের মসজিদে গমন হারাম করে দেয়া হয়েছে। )

ইবনে মাসউদ রা. আরো বললেন, ‘তোমরা মহিলাদের ঐ স্থান থেকে পেছনে রাখো, যে স্থান থেকে আল্লাহ তায়ালা তাদের পেছনে রেখেছেন। 


[মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৫১১৫]


হাফেজ নুরুদ্দিন হায়সামী রহঃ বলেন:- رِجَالُ الصَّحِيحِ. হাদীসটি সহীহ্ [মাযমাউয যাওয়ায়েদ:২১২০]

.

অর্থাৎ যে জায়গা (মসজিদ) থেকে আল্লাহ তায়ালা মহিলাদের কে পেছনে রেখেছেন । হে মুমিনগণ, তোমরাও আল্লাহর নির্দেশের অনুকরণে তাদেরকে সে জায়গা (মসজিদ) থেকে পেছনে রাখো।

.


🍀হাদীস নং ৪ ও ৫:—


 9475- حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، أَنَّهُ: رَأَى ابْنَ مَسْعُودٍ، يُخْرِجُ النِّسَاءَ مِنَ الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَقُولُ: «اخْرُجْنَ إِلَى بُيُوتِكُنَّ خَيْرٌ لَكُنَّ») 


رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ

হযরত আবু আমর শাইবানী বলেন: আমি হযরত ইবনে মাসউদ রা.কে দেখেছি জুমআর দিনে মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং বলছেন: তোমরা ঘরে ফিরে যাও, এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।


(আল মু'জামুল কাবীর, লিত্ব তবারানী: ৯৪৭৫, মাযমাউয যাওয়ায়েদ: ২১১৯ ) 

হাফেজ নুরুদ্দিন হায়সামী রহঃ বলেন: 

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ

এই হাদীসের সকলেই নির্ভরযোগ্য ৷ (২/৩৫)


ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﺑْﻦ ﻋﻤﺮ، ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻳﻘﻮﻡ ﻳﺤﺼﺐ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔ ﻳﺨﺮﺟﻬﻦ ﻣﻦ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪ .


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. জুমার দিন দাঁড়িয়ে ছোট ছোট কঙ্কর নিক্ষেপ করে মহিলাদের মসজিদ থেকে বের করে দিতেন। 

[শরহে বুখারী, উমদাতুল কারী : ৪/৬৪৭، শরহে মুয়াত্তা মালেকঃ ২/২১৪]

🍀হাদীস নং ৬:—


حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَاصِمٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا، وَصَلَاتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي بَيْتِهَا»( رَوَاه ابُوْ داود فى بَاب التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ-يَعْنِىْ فِي خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى الْمَسْجِدِ)


হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন: নারীর জন্য খাছ কামরায় নামায পড়া হুজরায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর ঘরের নির্জন স্থানে নামায পড়া খাছ কামরায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। 

(আবু দাউদ: ৫৭০, মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৫৭, সুনানুল কুবরা লিলবাইহাকী: ৫৩৬১)


হাদীসটির স্তর: সহীহ। হাকেম বলেন: এ হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইমাম জাহাবীও হাদীসটিকে বুখারী-মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী রহ. হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। (খুলাছাতুল আহকাম: ২৩৪৭)


🍀হাদীস নং ৭ঃ-


حَدَّثَنَا هَارُونُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُوَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عَمَّتِهِ أُمِّ حُمَيْدٍ امْرَأَةِ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهَا جَاءَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُحِبُّ الصَّلَاةَ مَعَكَ قَالَ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكِ تُحِبِّينَ الصَّلَاةَ مَعِي وَصَلَاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ وَصَلَاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي دَارِكِ وَصَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ وَصَلَاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِي قَالَ فَأَمَرَتْ فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِهِ فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتَّى لَقِيَتْ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ (حَدِيثُ أُمِّ حُمَيْدٍ)


আবু হুমাইদ আসসাইদী রা.-এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রসূলুল্লাহ স.-এর নিকটে এসে বললেন: ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে (জামাআতে) নামায পড়তে ভালোবাসি। রসূলুল্লাহ স. বললেন: আমি জানি যে, তুমি আমার সাথে নামায পড়তে ভালোবাস। তবে খাছ কামরায় নামায পড়া তোমার হুজরায় নামায থেকে উত্তম। আর তোমার হুজরায় নামায পড়া বাড়ীতে নামায পড়া থেকে উত্তম। আর তোমার বাড়ীতে নামায পড়া তোমার গোত্রের মসজিদে নামায পড়া থেকে উত্তম। আর তোমার গোত্রের মসজিদে নামায পড়া আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) নামায পড়া থেকে উত্তম। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁর নির্দেশে তাঁর জন্য ঘরের একেবারে ভেতরে এবং অন্ধকারে একটি নামাযের জায়গা তৈরি করা হলো। আর তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই নামায পড়তেন। 


(মুসনাদে আহমাদ: ২৭০৯০,মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২১০৬) 


হাদীসটির স্তর: সহীহ লিগইরিহী। আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামী হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন: ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর মুসনাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন সুআইদ ব্যতীত এ হাদীসের সব বর্ণনাকারী বুখারী-মুসলিমের। আর আব্দুল্লাহকে ইবনে হিব্বান ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য” বলেছেন। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২১০৬) 


🍀হাদীস নং ৮ঃ—


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يُوسُفَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، أَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ السَّلَامِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صَلَاةُ الْمَرْأَةِ وَحْدَهَا تَفْضُلُ صَلَاتَهَا فِي الْجَمِيعِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً» ( رواه ابو نعيم فى تاريخ اصفهان فى ترجمة عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ)


হযরত ইবনে উমার রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ স.কে বলতে শুনেছি যে, মহিলাদের একাকী নামায তার জামাআতের নামাযের তুলনায় পঁচিশ গুণ বৃদ্ধি পায়। 


(তারীখে আসফাহান: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সাল্লামের জীবনী বর্ণনায়, রাবী নম্বর- ২৬৭)


হাদীসটির স্তর : হাসান। এ হাদীসের রাবীগণের মধ্যে আহমাদ বিন ইবরাহীম, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ এবং আবু আব্দুস সালাম ব্যতীত সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর আহমাদ বিন ইবরাহীমকে ইমাম জাহাবী রহ. الإِمَامُ، المُحَدِّثُ، “ইমাম ও মুহাদ্দিস” বলে পরিচয় দিয়েছেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: তবকা- ২০, রাবী নম্বর- ১৮) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদকে হাফেজ আবু নুআইম শায়খ বলে প্রশংসা করেছেন। তবে এটাও বলেছেন যে, فِيهِ لِينٌ “তাঁর মধ্যে কিছু শিথিলতা আছে”। (তারীখে আসফাহান: রাবী নম্বর- ২৬৭) আবু আব্দুস সালামের ব্যাপারে হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন: وثقه ابن حبان و ابن شاهين “ইবনে হিব্বান এবং ইবনে শাহীন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন”। (তাহজীবুত তাহজীব: সালেহ বিন রুস্তুমের জীবনী আলোচনায়) বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালীদ মুসলিমের রাবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যাপারে তাদলীসের অভিযোগ আছে। কিন্তু এ হাদীসে তিনি স্পষ্ট حَدَّثَنِي শব্দ ব্যবহার করেছেন। সুতরাং তাঁর তাদলীস এখানে ক্ষতিকর নয়।


🍀হাদীস নং ৯:—


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، أَنَّهُ: رَأَى ابْنَ مَسْعُودٍ، يُخْرِجُ النِّسَاءَ مِنَ الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَقُولُ: «اخْرُجْنَ إِلَى بُيُوتِكُنَّ خَيْرٌ لَكُنَّ») خُطْبَةُ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَمِنْ كَلَامِهِ :بَابٌ-۱۱)


হযরত আবু আমর শাইবানী বলেন: আমি হযরত ইবনে মাসউদ রা.কে দেখেছি জুমআর দিনে মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং বলছেন: তোমরা ঘরে ফিরে যাও, এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। (তবারানী কাবীর: ৯৪৭৫)


হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাওকুফ। ইসহাক বিন ইবরাহীম দাবারী ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর ইসহাক বিন ইবরাহীমের বর্ণনাকে আল্লামা উকাইলী রহ. সহীহ বলেছেন। আল্লামা আবু আওয়ানা তাঁর সহীহ কিতাবে ইসহাকের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। ইমাম দারাকুতনী তাঁকে সত্যনিষ্ঠ বলেছেন। (লিসানুল মীযান: ৯৯৫) আল্লামা হাইসামী বলেন: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ. “হাদীসটি ইমাম তবারানী তাঁর মু’জামে কাবীরে বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২১১৯)


🍀হাদীস নং ১০:-


 

1683 - نا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ حَدَّثَهُ ? عَنِ السَّائِبِ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ»

উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালমাহ রাঃ বলেন,

 

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন “মহিলা”দের জন্য উত্তম মসজিদ হলো, তাদের ঘরের অভ্যন্তর।


(সহীহ ইবনে খুযাইমাহ হাঃ ১৬৮৩, মুসতাদরাকে হাকেম আলা সহিহাইন, হাঃ ৭৫৬ )


🎆🌻🎆সহীহ বুখারীতে বর্ণিত মসজিদে যেতে বাঁধা দিওনা—বর্ননাটি মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) বর্ননা ৷ ওটার পূর্ণ হাদীস হলো:—


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏"‏ لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‏"(رَوَاه ابُوْ داود فى بَابِ مَا جَاءَ فِي خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى الْمَسْجِدِ )‏


হযরত ইবনে উমার রা. বলেন: রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন: তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে মসজিদসমূহে যাতায়াতে বাঁধা দিও না। তবে ঘরই তাদের জন্য সর্বোত্তম নামাযের স্থান।

 (আবু দাউদ: ৫৬৭)


হাদীসটির স্তর: সহীহ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: أخرجه أَبُو دَاوُد وَصَححهُ بن خُزَيْمَةَ “হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন আর ইবনে খুযাইমা এটাকে সহীহ বলেছেন”। (ফাতহুল বারী: অন্ধকার এবং রাতে মহিলাদের মসজিদে গমন অধ্যায়) ইমাম নববী রহ. হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। (খুলাছাতুল আহকাম: ২৩৫১) মুসনাদে আহমাদের তাহকীকে শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন: حديث صحيح “হাদীসটি সহীহ”। (মুসনাদে আহমাদ: ৫৪৬৮ নম্বর হাদীসের আলোচনায়) শায়খ আলবানীও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ৫৬৭)


সুতরাং মহিলাদের জন্য মসজিদে পর্দার সহিত আলাদাভাবে নামাজ পড়ার জন্য জায়গা থাকবে, কিন্তু মহিলাদের কে মসজিদে যেতে উৎসাহিত করা হবে না ৷৷


আল্লাহ তা'য়ালা বুঝার তাওফীক দান করুন, আমিন ৷

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...