Thursday, 26 August 2021

বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে খাদ্য দ্রব্য ও পানীয়ের উপর ফাতিহা পাঠ করা মুস্তাহাব

বরকতের উদ্দেশ্যে উপস্থিত খাদ্য ও পানীয়ের উপর ফাতেহা ও ক্বোরআনের বিভিন্ন সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করে দো‘আ করা বৈধ ও মুস্তাহাব এবং শরীয়তের এক প্রকার নির্দেশ পালনেরই অংশ।

কেননা রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,
وَإِذَا أَكَلْتُمْ فَسَمُّوا حَتَّى لَا يُشْرِكَكُمْ فِي طَعَامِكُمْ ، فَإِنَّكُمْ إِنْ لَمْ تَفْعَلُوا أَشْرَكَكُمْ فِي طَعَامِكُمْ
অর্থাৎ, তোমরা যখন কোন খাদ্য গ্রহণ করে তার পূর্বে বিসমিল্লাহ্ পাঠ করো।

আর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ক্বোরআনুল কারীমেরই একটি আয়াত, তাই খাদ্যদ্রব্যের উপর ক্বোরআন তিলাওয়াত শুধু বৈধ নয় বরং রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ পালনও।

মুসলিম শরীফে বর্ণিত,
عنْ أَبي هريرة أَوْ أَبي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضيَ اللَّهُ عنهما: شَك الرَّاوِي، وَلاَ يَضُرُّ الشَّكُّ في عَينِ الصَّحابي، لأَنهم كُلُّهُمْ عُدُولٌ، قال: لما كان يَوْمُ غَزْوَةِ تَبُوكَ، أَصابَ الناسَ مَجَاعَةٌ، فَقالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَذِنْتَ لَنا فَنَحَرْنَا نَواضِحَنا، فَأَكلْنَا وَادَّهَنَّا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم:” افْعَلُوا” فَجَاءَ عُمَرُ رضي اللَّهُ عنهُ، فقالَ: يَا رَسولَ اللَّهِ إِنْ فَعَلْتَ قَلَّ الظَّهْرُ، وَلَكِنْ ادْعُهُمْ بفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، ثُمَّ ادْعُ اللَّهِ لَهُمْ عَلَيْهَا بِالبَرَكَةِ لَعَلَّ اللَّه أَنْ يَجْعَلَ في ذلكَ البَرَكَةَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم:”نَعَمْ”فَدَعَا بِنِطْعٍ فَبَسَطهُ، ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ أَزَاوَدِهِمْ، فَجعلَ الرَّجُلُ يجيءُ بِكَفِّ ذُرَةٍ ويجيءُ الآخَرُ بِكَفِّ تَمْرٍ، ويجيءُ الآخَرُ بِكِسرَةٍ حَتى اجْتَمَعَ عَلى النِّطْعِ مِنْ ذَلِكَ شَيءٌ يَسِيرٌ، فَدَعَا رسُولُ اللَّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم عليه بِالبَرَكَةِ، ثُمَّ قالَ “خُذُوا في أَوْعِيَتِكُمْ، فَأَخَذُوا في أَوْعِيَتِهِمْ حَتَّى مَا تركُوا في العَسْكَرِ وِعاء إِلاَّ مَلأوهُ، وأَكَلُوا حَتَّى شَبعُوا وَفَضَلَ فَضْلَةٌ، فقالَ رَسُولُ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم:”أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ لاَ يَلْقَى اللَّه بِهِما عَبْدٌ غَيْرُ شاكٍّ، فَيُحْجبَ عَنِ الجَنَّةِ “
অর্থাৎ, হযরত আবূ হুরায়রা এবং আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, তাবুক যুদ্ধে মুসলমানদের যখন খাদ্যাভাব দেখা দিল তখন লোকেরা বললেন, এয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিতেন তাহলে আমরা উট জবাই করে খেতাম ও চর্বিগুলোকে তেল হিসেবে ব্যবহার করতাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, ঠিক আছে তাই কর। তখন হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু পরামর্শ দিলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আপনি এ অনুমতি দেন তাহলে এক পর্যায়ে আমাদের বাহন অনেক কমে যাবে, আমরা বাহন সংকটে পরব। যদি এর পরিবর্তে আপনি তাদেরকে বলতেন, তারা নিজেদের যা আছে তা আপনার সামনে নিয়ে আসবে আর আপনি এতে বরকতের দো‘আ করবেন। হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন, অতঃপর বললেন, তোমরা তোমাদের থলে বা পাত্রগুলোতে ভরে নাও, তারা প্রত্যেকে নিজেদের সব পাত্রে ভর্তি করে নিলেন এবং পরিতুষ্ঠভাবে খেলেন, এরপরও আরও অনেক অবশিষ্ট রয়ে গেল।

সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত, সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ইত্যাদি তেলাওয়াতের বিশেষত্ব হলো, এ সূরা ও আয়াতগুলোর বিশেষ ফযীলত হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে তাই।

যেমন সূরা ফাতিহা হলো ক্বুরআনের আসল, সূরা ইখলাস হলো, ক্বোরআনের এক তৃতীয়াংশ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে দো‘আ সর্বাবস্থায় পালনীয় ও করণীয়।

মুসলিম শরীফের আরেকটি হাদীস বর্ণিত
عَنْ أَنَسٍ قَالَ وَوَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَى الطَّعَامِ فَدَعَا فِيهِ وَقَالَ فِيهِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম খাদ্যের উপর হাত রেখে দো‘আ করলেন এবং এতে আরও বিভিন্ন (সূরা ও দো‘আ) কিছু পাঠ করলেন।

উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো উপস্থিত খাদ্য ও পানীয় সামগ্রীর উপর কোরআন তিলাওয়াত ও বিভিন্ন দো‘আ করা মুস্তাহাব ও রসুলের শিক্ষা।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...