Monday, 10 September 2018

উসওয়ায়ে হাসানায় রঙিত মহান মোর্শেদ

আল্লাহ্ আমাদের কে এমন এক পথপ্রদর্শক দান করেছেন, যিনি আজীবন দ্বীন - ধর্মের খিদমত করে যাচ্ছেন। তিনি একটানা 43 (তেতাল্লিশ )বছর শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন । 12 (বার ) বছর  ঐতিহ্যবাহী নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ডিগ্রি মাদরাসায়, 31 (একত্রিশ )বছর ফটিকছড়ির অতিপ্রাচিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফটিকছড়ি জামেউল উলুম সিনিয়র ডিগ্রি মাদরাসায়। অবসর হয়ে মিল্লাত-মাজহাবের  খেদমত অব্যাহত রাখার জন্য 2001 সালে প্রতিষ্ঠা করলেন মুনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া মাদরাসা।
শিক্ষকতার এ দীর্ঘ সময়ে তিনি, জ্ঞান পিপাসু হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে হাতে কলমে জ্ঞান দান করেছিলেন রাত দিন।                            চলবে ........... ২৪/০৮/২০১৬

সেলিম হুজুর ১৯৮৩ সালে হুজুর কেবলা(মাঃজিঃআঃ)দীনের খেতমতের জন্য প্রথমে গোপালঘাটা নুর উল উলুম গাউছিয়া মুনিরিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষঠা করেন।
(রাসেল গোপাল ঘাটার কমেন্ট)

দ্বিতীয় পর্ব -
আল্লাহ্ আমাদের কে  উসওয়ায়ে হাসনার রঙে রঙিত এমন এক রাসূল নোমা নায়েবে রাসূল দান করেছেন, যার কোরআন শিক্ষা শুরু হয় নিজ বাড়িতে । প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য তাকে ভর্তি করানো হয় অতি প্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যাপীঠ তৎকালীন ফটিকছড়ি করোনেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
হুজুর কিবলা মঃজিঃআঃ এর ভাই প্রবীণ শিক্ষাবিদ মরহুম মাষ্টার মুহাম্মদ সেকান্দর চৌধুরীর কাছে  গুনাগার জানতে চাইলাম যে, হুজুর কিবলা মঃজিঃআঃ বাল্যকালে কেমন ছিলেন। তিনি এ অধম কে বললেন, তোমার কাছে আমার ভাইয়ের কী গুণাগুণ বলব। একজন  শিশুর ছোট কালে অনেক দোষ থাকে,কিন্তু আমার ভাইয়ের এমন কোনো দোষ দেখি নি,তবে ছোট কালে তিনি বেশি ফুটবল প্রিয় ছিলেন। আর যে দলে তিনি থাকতেন আমার জানা মতে, ঐদল জিতেই এসেছে।
তিনি এমন তীক্ষ্ম মেধাবী ছিলেন যে, ক্লাশের পড়া অনেক সময় ক্লাশেই শিখে ফেলতেন । বাড়িতে সন্ধ্যায় যখন আমি সহ পড়তে বসতাম, মূহুর্তের মধ্যে ক্লাসের পড়া শেষ করে অগ্রিম পড়া চেয়ে নিতেন । আমি অনেক সময় তাঁকে পরীক্ষা করতাম । অবাক হতাম। পড়া জিজ্ঞাসা করলে , বইয়ের হুবহু শুনিয়ে দিতেন। লিখে দিতেন । ইবাদত - বন্দেগীতে ও তিনি অভ্যস্ত ।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, একদিন হুজুর কিবলা মঃজিঃআঃ আমি অধম কে বলেছিলেন যে, আমি ছোট কালে আমার পিতার সাথে থাকতাম।তিনি তৎকালীন সূফীদের অন্যতম হযরত শাহ সূফী সদর উদ্দিন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মুরীদ ছিলেন । আমার পিতা রাত্রে পাস-আনফাস এর জিকির করতেন, মোরাকাবা করতেন । অনেক সময় আমি তাঁর গোপন এবাদত-বন্দেগীর কথা ভাবতাম । মূলতঃ আমি আমার পিতা থেকেই এবাদত - বন্দেগীর প্রশিক্ষণ লাভ করি।
প্রাথমিক শিক্ষা স্কুলের মাধ্যমে শুরু হলেও, লৌহে মাহফুজে আল্লাহ্ তাঁকে শরিয়ত - তরিকতের খাদেম হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন। আরো লিখেছেন, হাজারোঁ  বেনামাজী নামাজী হবেন তাঁর সোহবতে এসে। তাঁর দ্বারা সুন্নী মিল্লাত - মাজহাবের খেদমত নিয়ে  মিলাদুন্নবী صلى الله عليه وسلم , ফাতেহা - ইছালে সাওয়াব , মিলাদ-কিয়াম ইত্যাদি কুরআন শরীফ , হাদিস শরীফ,ইজমাও কিয়াস দ্বারা আহলে সুন্নাহ  ওয়াল জামা'আত সমর্থন করে  এমন সব কার্যাবলি  জারী- সারী রাখবেন । যেগুলির নজীর পাঠক এখন রাত-দিন দেখতে পাচ্ছেন ।লৌহে মাহফুজে আরো লিপিবদ্ধ হয়েছে যে, হাজার হাজার জ্ঞান পিপাসু তাঁর ধারে  তৃষ্ণা নিবারণ করবেন।

তাই , কয়েক বছর পর তাঁকে ভর্তি করানো হলো উত্তর চট্টগ্রামের প্রাচীনতম দ্বিনী এদারা ফটিকছড়ি জামেউল উলুম সিনিয়র ডিগ্রি মাদরাসায় ।এখন থেকেই শুরু হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন।শুরু হলো উসওয়ায়ে হাসানার প্রশিক্ষণ ।  চলবে...................

তৃতীয় পর্ব
আল্লাহ্ আমাদের কে এমন এক উসওয়ায়ে হাসানার রঙে রঙিত এমন পথ প্রদর্শক নায়েবে রাসূল দান করেছেন, যার উসওয়ায়ে হাসানার প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ফটিকছড়ি জামেউল উলুম সিনিয়র ডিগ্রি মাদরাসা থেকে।
মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি সহ লেখা -পড়া চলছে। মুহতারাম বুযর্গ
উস্তাদগণের সুনজরে পরতে লাগলেন।
একদিনের ঘটনা,  ক্লাসে ঘন্টা ছিল কুতবুল আলম শাহ সূফী আল্লামা  সৈয়দ মির আহমমদ মুনিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর। উত্তর চট্টগ্রামে তিনিই ছিলেন "শাহ সাহেব" তৎকালীন সময়ে। তিনি মাদরাসা যখন আসতেন মাদরাসার গেইট দিয়ে প্রবেশ করলেই পুরা মাদরাসা নিরব হয়ে যেত। কারণ হচ্ছে, তখনকার আলেম উলামারা দর হাকিকত নায়েবে রাসূল ছিলেন। তাঁরা হাকিকতান ওরাসাতুল আম্বিয়া হওয়ায় তাদের চেহারা,কথা-বার্তা ও চাল-চলনে ছিল রো'ব। এ'রো'ব হচ্ছে - আল্লাহ্ প্রদত্ত এক প্রকার শক্তি। এ'শক্তি আল্লাহ্ যাকে দিয়েছেন তাঁর সামনে যেকোনা পাষাণ হ্রদয়ের বা শক্তিশালী মানুষ এমনকী পশু -পাখি পর্যন্ত কাবু হয়ে যায় ।
পড়া আদায় কালে তিনি চাপের মূখোমূখী হলেন, এতে তিনি রাগান্বিত তার পর দিন বাবাকে বললেন আমি আর লেখা -পড়া করব না। বাবা বললেন যদি লেখা - পড়া না কর তাহলে সকালে গরু ও নাঙল নিয়ে চাষ করতে যেতে হবে।
সত্যিই যখন সকাল হলো , বাবা তাঁর কাঁদে তুলে দিলেন নাঙল! (আমি অধম যখন এ ঘটনাটি শুনেছিলাম আমার মনে হয়েছে ঐ দিনকার অবস্থা আসমানের ফেরেস্তারা পর্যন্ত অবলোকন করছিল ।)বাড়িতে সবাই হায় !হায়!হায়! কীকাজ যে হলো, কিন্তু হুজুর কিবলার আব্বাজান কে বাড়ির মানুষেরা এতই শ্রদ্ধা করতেন যে, কেহ  তাঁর সামনে এসে এ'ব্যাপারে মূখ খুলার সাহস করতে পারে নি।
নাঙল কাঁদে নিয়ে চলছেন তিনি সামনে আর পিছনে বাবা ছেলের অবস্থা দেখে দেখে চোখের পানি ফেলতেছেন। আমি তো আমার ছেলেকে নাঙল কাঁদে নেওয়ার জন্য মাদরাসায় ভর্তি করাই নি ।
চলতে চলতে বাড়ির উত্তরে কাজির বাড়ির দিকে যাচ্ছেন, হঠাৎ  পিতা পুত্র দেখতে পাচ্ছেন যে, কুতবুল আলম আল্লামা শাহ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি কে।তিনিও দূর থেকে পিতা পুত্রের অবস্থা দেখতেছেন। সামনাসামনি যখন হলেন, হযরত শাহ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "কী হয়েছে ?  আপনার ছেলে মাদরাসায় যাবে না?" কে যেন হযরত শাহ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি কে খবর বলল যে, "আজকে থেকে আপনার প্রাণ প্রিয় ছাত্র মাদরাসায় যাচ্ছেন না ,আপনি একটু দেখে আসুন।"
লৌহে মাহফুজে যা আছে তা অবশ্যই ঘটবে। হযরত শাহ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি কে মুহতারাম বুযর্গ পিতা ভারাক্রান্তহৃদয়ে উদ্দেশ্য কে বললেন , আমার এ ছেলে কে আপনার মত করে গড়ে তুলতে পারবেন না? হযরত শাহ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তো বেলায়তের নজরে দেখতেছেন যে, এ'ছেলে ভবিষ্যতে কী হবেন, তাঁর দ্বারা বেনামাজী নামাজী হবেন,অস্ত্র ছেড়ে মিসওয়াক হাতে নিবেন, বুলেট ফেলে দিয়ে তাসবীহ মালা হাতে নিবেন, হাজারোঁ বৃদ্ধ বনিতা ও যুবক যুবতী ।তাই তিনি হুজুর কিবলার আব্বাজান কে শান্তনা দিয়ে বললেন, "আমার মতো কেন? আপনার ছেলেকে আমার ছেয়ে বড় বানাব।"
চলবে ..................
আল্লাহ্ হুজুর কিবলা মঃজিঃআঃ কে হায়াতে ত্বয়্যিবাহ নছিব করুন ।তাঁর উসিলায় আমাদের কে কবুল করুন ।
০৫/০৯ ২০১৬

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...