Wednesday, 22 May 2019

বৃদ্ধাঙ্গুলি চুমু খাওয়া

রাসূল (ﷺ)-এঁর নাম মোবারক শুনে বৃদ্ধা আঙ্গুলে/শাহাদাত আঙ্গুলে চুমো খেয়ে চোখে লাগানোর দলিল:-৩৩ নং পোষ্ট


★★১.‘‘হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রা:) বলেন:”বনী ইসরাঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যান্ত পাপী,যে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী করেছে।যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন স্থানে নিক্ষেপ করল,যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো।তখন হযরত মুসা (আ:)-এঁর প্রতি ওহী এলো যে,লোকটিকে ঐ স্থান থেকে তুলে যেন তার ভালভাবে জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফন করা হয়। হযরত মুসা (আ:) আরজ করলেন,হে আল্লাহ! বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লোকটি ২০০ বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানী করেছিল।

*ইরশাদ হলোঃ হ্যাঁ ঠিক আছে, তবে তার একটি ভাল অভ্যাস ছিল।যখন সে তাওরাত শরীফ তেলাওয়াত করতো, যতবার আঁমার হাবীব (ﷺ) এঁর নাম মোবারক দেখত। ততবার চুম্বন করে চোখের উপর রাখত এবং আঁমার হাবিব (ﷺ)-এঁর প্রতি দরূদ পাঠ করত। এজন্য আঁমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর জন হুর স্ত্রী স্বরূপ তাকে দান করেছি।’’[হাদিসটি সহীহ বা বিশুদ্ধ]

💜💜💜দলিল💜💜💜
*(ক.) ইমাম আবু নঈম : হুলিয়াতুল আউলিয়া : ৩/১৪২ পৃ:
*(খ.) আল্লামা বুরহানুদ্দীন হালভী : সিরাতে হালবিয়্যাহ,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা-৮৩
*(গ.) আল্লামা শফী উকাড়ভী : জিকরে জামীল : ৩৫৪ পৃষ্ঠা
*(ঘ.) জালালুদ্দীন সুয়ূতি : খাসায়েসুল কুবরা :১/৩০, হাদিস : ৬৮, মাকতুত-তাওফিকহিয়্যাহ, বৈয়রুত।
*(ঙ.) আল্লামা আবদুর রহমান ছাফূরী : নুযহাতুল মাযালিস : ২/১৪২ পৃ.
*(চ.) আল্লামা দিয়ার বকরী : আল খামীস ফি আহওয়ালে আনফাসে নাফীস : ১/২৮২ পৃঃ

★★২.হযরত খিযির (আঃ) কর্তৃক রাসূল (ﷺ) -এঁর নাম মোবারক শুনে চুমু খাওয়ার আমল বর্ণনা করেন ইমাম আবু আব্বাস আহমদ বিন আবি বকর ইয়ামানী (রহ:) তাঁর লিখিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
موجبات الرحمة و عزائم المغفرة
এর মধ্যে হযরত খিযির (আ:) থেকে বর্ণিত আছে,যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসূলূল্লাহ’ শোনে বলবে
مرحبا بحبيبى و قرة عينى محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم )

মারহাবা বি হাবিবি ওয়া কুররাতো আইনী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) অতঃপর স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে, তাহলে তার চোখে কখনও ব্যথা হবে না এবং সে কোন দিন অন্ধ হবে না।’’

👏👏👏দলিল👏👏👏
*(ক.) আল্লামা ইমাম সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা : ১/৩৮৩ : হাদিস :১০২১
*(খ.) আল্লামা আযলূনী : কাশফুল খাফা : ২/২৭০ : হাদিস : ২২৯৬
*(গ.) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : মওদ্বুআতুল কবীর : ১০৮ পৃ:
*(ঘ.) আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী : জাআল হক : ২/২৪৬ পৃ:

★★৩. সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইমাম,ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবু বকর রাওয়াদ ইয়েমেনি সূফী (রহ:) তার ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ ওয়া আযঈমুল মাগফিরাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-

قَالَ اِبْنُ صَالِحٍ وَسَمِعْتُ ذَالِكَ اَيْضًا مِنَ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدَ بْنَ الزَّرَنِدِيِّ عَنْ بَعْضِ شُيُوْخِ الْعِرَاقِ وَالْعَجَمِ وَاَنَّهُ يَقُوْلُ عِنْدَ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ وَقَالَا لِيْ كُلُّ مُنْذُ فَعَلْتُهُ لَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ-

অর্থাৎ- ইবনে সালেহ বর্ণনা করেন, আমি এই আমল ফকীহ মুহাম্মদ বিন যরন্দী থেকেও শুনেছি এবং ইরাক ও অনারব বিশ্বে অনেক মাশায়েখও বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনায় এটাও আছে যে,চোখ মোছার সময় এই দুরূদ পড়বে

صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيَّدِيْ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ يَا حَبِيْبَ قَلْبِيْ وَيَا نُوْرَ بَصْرِيْ وَيَا قُرَّةَ عَيْنِيْ-

এবং ঐ দুই মহান ব্যক্তি, শায়খ মুহাম্মদ মিসরী ও শায়খ ফকীহ মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন,আমি এই আমল যখন থেকে করছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত কখনো আমার চোখ অসুস্থ হয়নি।অতঃপর ইবনে সালেহ বলেন-

وَاللّٰهِ الْحَمْدُ وَالشُّكْرُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْهُمَا اِسْتَعْمَلْتُهُ فَلَمْ تَرْمَدْ عَيْنِيْ وَارْجُوْ اَنْ مَا فِيْهِمَا تَدُوْمُ وَاَنِّيْ اَسْلَمُ مِنْ الْعَمِّيْ اِنْشَاءَ اللّٰهُ تَعَالٰيْ-

মহান রবের শুকরিয়া ও প্রশংসা, আমি যখন এই মহান দু’জন বুযুর্গ মাশায়েখ থেকে এই আমলের কথা শুনেছি, তখন থেকে এই বরকতময় আমল আমি করতে শুরু করলাম এবং তখন থেকে এখনও পর্যন্ত আমার চোখে কোন ব্যাথা অনুভব হয়নি। আমি আশা করছি আমার চোখ সর্বদা ভাল ও সুস্থ থাকবে এবং কখনো অন্ধ হবে না,ইনশাআল্লাহ।

★★৪. ‘মাওজিবাতুর রাহমাহ’ গ্রন্থে হযরত ফকীহ মুহাম্মদ বিন আলবাবা তার ভাই থেকে বর্ণনা করেন,তিনি আপন অবস্থার কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন-

اَنَّهُ هَبَتْ رِيْحُ فَوَقَعْتْ مِنْهُ حَصَّاةٌ فِىْ عَيْنِهِ وَاَعْيَاهُ خُرُوْجِهَا وَالْمُتْهُ اَشَدُّ الْاَلَمِ وَاَنَّهُ لَمَّا سَمِعَ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ قَالَ ذَالِكَ فَخَرَجْتُ الحَصَّاةُ مِنْ فَوْرِهِ ، قَالَ الرَّوَادُ رَحِمَهُ اللّٰهُ تَعَالٰى وَهَذَا يَسِيْرُ فِىْ جَنْبِ فَضَائِلِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمُ-

অর্থাৎ- একদিন খুব জোরে বাতাস প্রবাহিত হলে বাতাসের বেগে একটি কঙ্কর তার চোখে ঢুকে যায়, তা বের করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হল কিন্তু বের হলনা এবং তা অসম্ভব ব্যথা- বেদনা শুরু করে দিল। এমন সময়ে সে মুয়াযযিনের আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বাক্যটি বলতে শুনল, তখন উল্লিখিত দোয়া পড়ে এই বরকতময় আমল করল। সাথে সাথে তার চোখ থেকে ওই কঙ্কর বের হয়ে গেল। হযরত রাওআদ বলেন, হজুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মহত্ত্বের সামনে সেটা তেমন কিছু নয়।

★★৫. বিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (রহ:) “তাফসীরে রুহুল বায়ানে’ উল্লেখ করেন : ‘‘কাসাসুল আম্বিয়া কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ) জান্নাতে অবস্থানকালে নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর সাথে সাক্ষাতের জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন।অত:পর আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করেন এবং বলেন “হে আদম! তিঁনি তোঁমার পৃষ্ঠ হতে শেষ যামানায় প্রকাশ হবেন।

*তা শুনার পর তিনি জান্নাতে অবস্থান কালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন।বিনিময়ে আল্লাহ তা’য়ালা ওহী প্রেরণ করলেন, যে নূরে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলীর মধ্যে স্থানান্তরিত করেছি।তখন সে অঙ্গ হতে তাসবীহ পাঠ আরম্ভ হলো। এজন্যই এই আঙ্গুলকে তাসবীহ পাঠকারী আঙ্গুল বলা হয়।
[এ ঘটনা ‘রওযাতুল ফায়েক’ কিতাবে ও বর্ণিত আছে।]

*আরেক বর্ণনায় রয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা আপন প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর সৌন্দর্য প্রকাশ করলেন দুই বৃদ্ধাঙ্গুলীর উপর যেভাবে আয়নাতে দেখা যায়।তখন আদম (আঃ) দুই বৃদ্ধাঙ্গুলে চু্ম্বন করে স্বীয় চোখের উপর মালিশ করলেন।

*এটি দলীল হিসেবে প্রমাণিত হলো যে, তাঁর সন্তানাদীর জন্য। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) এই ঘটনা হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জানালেন।তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যেই ব্যক্তি আযানের মধ্যে আমার নাম মোবারক শুনে দুই বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন করবে আর চোখে মালিশ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না।’’

♥♥♥দলিল♥♥♥
*(ক.) আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বয়ান : ৭/২২৯
[ সূরা মায়েদা আয়াত : ৫৭ নং এর ব্যাখ্যা]
*(খ.) আবদুর রহমান ছাফুরী, নুযাহাতুল মাযালিস,২/৭৪পৃ.

♠♥তাফসীরে রূহুল বয়ানে ষষ্ঠ পারার সূরা মায়েদার আয়াত
ﻭَﺍِﺫَﺍ ﻧَﺎﺩَﻳْﺘُﻢْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻠﻮﺓِ ﺍﻻﻳﺔ
এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে-
মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলার সময় নিজের শাহাদাতের আঙ্গুল সহ বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখে চুমু দেয়ার বিধানটা জঈফ রেওয়াতের সম্মত। কেননা যদিও এ বিধানটা মরফু হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। কিন্তু মুহাদ্দিছীন কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে আকর্ষণ সৃষ্টি ও ভীতি সঞ্চারের বেলায় জঈফ হাদীছ অনুযায়ী আমল করা জায়েয।

★★৬. হযরত আবু বকর (রাঃ) এঁর আমল এবং সনদের বিশ্লেষন:

ইমাম দায়লামী মাসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন সত্যবাদীদের সর্দার, মুত্তাকীদের ইমাম,খলীফাতুর রাসুল, আমীরুল মুমিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুয়াযযিন আযানে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাছুলুল্লাহ” বলতে যখন শুনতেন তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন-

اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا وَبِالْاِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيِّنَا
উচ্চারণঃ- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবুদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদ্বিতু বিল্লাহি রাব্বা ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবীয়্যানা।

*অতঃপর ঐ দুই কালেমা আঙ্গুলের ভেতর দিকের সন্ধিস্থল চুমু খেয়ে চোখে লাগাতেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর এই আমল দেখে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَنْ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ خَلِيْلِىْ فَقَدْ حَلَّتْ عَلَيْهِ شَفَاعَتِىْ-
যে এমন করবে যেমনি আঁমার বন্ধু করেছে,তার ব্যাপারে আঁমার শাফায়াত বৈধ হয়ে গেল।

🌹উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসগণের মতামত আমি তুলে ধরব, যাঁরা হাদিসটি সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।🌹🌹🌹🌹

*(ক.) আল্লামা ইমাম সাখাভী (রহ:) হযরত আবু বকর (রাঃ) এঁর বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করে বলেন:
لا يصح
‘হাদিসটি সহিহ নয়।’হাদিসটি সহিহ নয় বললে, “হাসান” হাদিস বুঝায়।

*(খ.) মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন:
لا يصح لا ينافى الحسن-
‘‘কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য হাদিসটি সহিহ নয়-তা দ্বারা হাদিসটি “হাসান” হওয়াতে কোন অসুবিধা বা নিষেধ করে না।’’

🌹তাছাড়াও মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) তাঁর গ্রন্থে ইমাম সাখাভী (রহঃ) এর রায় পেশ করে সমাধানের কথা বলেন যে-‘‘আমার কথা হলো হাদিসটির সনদ যেহেতু হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) পর্যন্ত প্রসারিত (মারফূ হিসেবে প্রমাণিত), সেহেতু আমলের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

কেননা হুযুর (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা আঁমার পর আঁমার সুন্নাত ও আঁমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আকড়ে ধরো।’’

♠♠♠দলিল♠♠♠
*(ক.) ইমাম আবদুর রহমান সাখাভী : মাকাসিদুল হাসানা,৩৮৩,হা: ১০২১
*(খ.) আল্লামা ইমাম আযলূনী : কাশফুল খাফা,২/২৫৯,হা: ২২৯৬
*(গ.) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী : আসরারুল মারফূ,৩১২ পৃ: হা: ৪৫

🌹ইমাম আল্লামা আলী বিন সুলতান হারভী,ক্বারী,মক্কী, প্রকাশ মোল্লা আলী কারী আলায়হির রাহমাহ তার সর্বজন গ্রহণযোগ্য কিতাব মউদ্বুআতে কবীর গ্রন্থে পবিত্র নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বনের ব্যাপারে বলেন
ﻭَﺍِﺫَﺍ ﺛَﺒَﺖَ ﺭَﻓْﻌُﻪُ ﺍِﻟٰﻰ
ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳْﻖِ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺗَﻌَﻠٰﻰْ ﻋَﻨْﻪُ ﻓَﻴَﻜْﻔِﻰَ ﻟِﻠْﻌَﻤَﻞِ ﺑِﻪِ ﻟِﻘَﻮْﻟِﻪِ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟﺼَّﻠٰﻮﺓِ ﻭَﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡِ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻰْ ﻭَﺳُﻨَّﺔُ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺎﺀَ
ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳْﻦَ –
অর্থাৎ- হযরত সিদ্দীকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে এ কাজের প্রমাণ পাওয়া আমলের জন্য যথেষ্ট। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক, আমি ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নাতের উপর আমল করা। তাই হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে কোন আমল প্রমাণ পাওয়া বস্তুত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন আমলের প্রমাণ বহন করে।

★★৭.”সালাতে মাস্উদী” কিতাবের দ্বিতীয় খন্ড ﻧﻤﺎﺯ শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে: হুযূর পুরনূর রাসুলে মক্ববুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে- “যে ব্যক্তি আযানে আঁমার নাম শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখের উপর রাখে, আঁমি ওকে কিয়ামতের কাতার সমূহে খোঁজ করবো এবং নিঁজের পিছে পিছে বেহেশতে নিয়ে যাব।

★★৮.ফাতাওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড ﺍﻻﺫﺍﻥ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে:
আযানের প্রথম ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ বলার সময়- ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) বলা মুস্তাহাব এবং দ্বিতীয় শাহাদত বলার সময়- ﻗُﺮﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুররাতু আইনী বিকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) বলবেন।

*অতঃপর নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ স্বীয় চোখদ্বয়ের উপর রাখবেন এবং বলবেন- ﺍﻟَﻠﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻰْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼَﺮِ (আল্লাহুম্মা মত্তায়েনী বিসসময়ে ওয়াল বসরে) এর ফলে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওকে নিজের পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন

[অনুরূপ বর্ননা কনযুল ইবাদ ও কুহস্থানী গ্রন্থে বর্ণিত আছে।ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়াতেও তদ্রুপ উল্লেখিত আছে।

★★৯.ইমাম দায়লামী মাসনাদুল ফিরদাউস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন সত্যবাদীদের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম, খলীফাতুর রাসুল, আমীরুল মুমিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সায়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মুয়াযযিন আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাছুলুল্লাহ
ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠّٰﻪِ
বলতে যখন শুনতেন তখন
ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻋَﺒْﺪُﻩُ ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ ﺭَﺿِﻴْﺖُ
ﺑِﺎﻟﻠّٰﻪِ ﺭَﺑًّﺎ ﻭَﺑِﺎﻟْﺎِﺳْﻠَﺎﻡِ ﺩِﻳْﻨًﺎ ﻭَﺑِﻤُﺤَﻤَّﺪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﻧَﺒِﻴِّﻨَﺎ
উচ্চারণঃ- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবুদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদ্বিতু বিল্লাহি রাব্বা ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবীয়্যানা (এই দোয়া) পড়তেন। অতঃপর ঐ দুই কালেমা আঙ্গুলের ভেতর দিকের সন্ধিস্থল চুমু খেয়ে চোখে লাগাতেন। সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর এই আমল দেখে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ
করেন,
ﻣَﻦْ ﻓَﻌَﻞَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﻓَﻌَﻞَ ﺧَﻠِﻴْﻠِﻰْ ﻓَﻘَﺪْ ﺣَﻠَّﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ-
যে এমন করবে যেমন আমার বন্ধু করেছে, তার ব্যাপারে আমার শাফায়াত বৈধ হয়ে গেল।

ইমাম শামছুদ্দীন সাখাভী তার রচিত মাক্বাসিদ এ হাসানাহ গ্রন্থে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আঙ্গুল চুম্বনের এই আমলকে মুস্তাহাব বলে মন্তব্য করেছেন।

★কিতাবুল ফিরদাউসে বর্ণিত আছে “যে ব্যক্তি আযানে ‘আশহাদুআন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ‘ শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুম্বন করে,আঁমি ওকে আঁমার পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাব এবং ওকে বেহেশতের কাতারে অন্তর্ভূক্ত করবো।

*এর পরিপূর্ণ আলোচনা ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকায় বর্ণিত আছে।উপরোক্ত ইবারতে ছয়টি কিতাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- শামী, কনযুল ইবাদ, ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়া, কিতাবুল ফিরদাউস, কুহস্থানী এবং ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকা। ওই সব কিতাবে একে মুস্তাহাব বলা হয়েছে।
ﻣﻘﺎﺻﺪ ﺣﺴﻨﻪ ﻓﻰ ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺪﺋﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﻨﺔ

নামক গ্রন্থে ইমাম সাখাবী রাহমাতুল্লাহি
আলাইহি বর্ণনা করেছেন-
ইমাম দায়লমী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘ফিরদাউস’ কিতাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াযযিনের কন্ঠ থেকে যখন ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘ শোনা গেল,তখন তিনি তাই বললেন এবং স্বীয় শাহাদতের আঙ্গুলদ্বয়ের ভিতরের ভাগ চুমু দিলেন এবং চক্ষুদ্বয়ে লাগালেন। তা’দেখে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান,”যে ব্যক্তি আমার এই প্রিয়জনের মত করবে,তাঁর জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য।” এ হাদীসটি অবশ্য বিশুদ্ধ হাদীসের পর্যায়ভুক্ত নয়।

*উক্ত মাকাসেদে হাসনা গ্রন্থে আবুল আব্বাসের রাহমাতুল্লাহি আলাইহি রচিত মুজেযাত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে-

হযরত খিযির (আঃ) থেকে বর্ণিত আছে- যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ’ শোনে যদি বলে-ﻣَﺮْﺣَﻴًﺎﺑِﺤَﺐِﻳْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓِ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ (মারাহাবা বে হাবীবী ওয়া কুররাতে আইনী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) অতঃপর স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে, তাহলে ওর চোখ কখনও পীড়িত হবে না।

🌹উক্তগ্রন্থে আরোও বর্ণনা করা হয়েছে-
হযরত মুহাম্মদ ইবনে বাবা নিজের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে এক সময় জোরে বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল। তখন তাঁর চোখে একটি পাথরের কনা পড়েছিল যা বের করতে পারেনি এবং খুবই ব্যথা অনুভব হচ্ছিল। যখন তিনি মুয়াযযিনের কণ্ঠে আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন তিনি উপরোক্ত দুআটি পাঠ করলেন এবং অনায়াসে চোখ থেকে পাথর বের হয়ে গেল।

**একই ‘মকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে হযরত শামস মুহাম্মদ ইবনে সালেহ মদনী থেকে বর্ণিত আছে যে,তিনি ইমাম আমজদ (মিসরের অধিবাসী পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরামের অন্তর্ভূক্ত) কে বলতে শুনেছেন-যে ব্যক্তি আযানে হুযূর (সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর নাম মুবারক শোনে স্বীয় শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলী একত্রিত করে-
ﻭَﻗَﺒَّﻠَﻬُﻤَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْ ﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
উভয় আঙ্গুলকে চুম্বন করে চোখে লাগাবে, কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে না।

*ইরাক- আযমের কতেক মাশায়েখ বলেছেন যে, যিনি এ আমল করবেন, তাঁর চোখ রোগাক্রান্ত হবে না।

ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰْ ﻛُﻞّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣُﻨﺬُ ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻟَﻢْ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰ
কিতাব রচয়িতা বলেছেন যখন থেকে আমি এ আমল করেছি আমার চক্ষু পীড়িত হয়নি।

*কিছু অগ্রসর হয়ে উক্ত‘মকাসেদে হাসনা’গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে-

ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦِ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻭَﺍَﻧَﺎ ﻣُﻨْﺬُ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ ﺍِﺳْﺘَﻌْﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻭَﺍَﺭْﺟُﻮْﺍ ﺍَﻥَّ ﻋَﺎﻓِﻴَﺘَﻬُﻤَﺎ ﺗَﺪُﻭْﻡُ ﻭَﺍِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﻤﻰ ﺍِﻧْﺸَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪُ

হযরত ইবনে সালেহ বলেছেন- যখন আমি এ ব্যাপারে জানলাম, তখন এর উপর আমল করলাম। এরপর থেকে আমার চোখে পীড়িত হয়নি। আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ এ আরাম সব সময় থাকবে এবং অন্ধত্ব মুক্ত থাকবো।

*উক্ত কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে,ইমাম হাসন (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ‘ শোনে যদি বলে এবং
ﻣَﺮْﺣَﺒًﺎ ﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ

ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে এবং বলবে
ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢَ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣَﺪْ
তাহলে কখনও সে অন্ধ হবে না এবং কখনও তার চক্ষু পীড়িত হবে না।

✌মোট কথা হলো ‘মাকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে অনেক ইমাম থেকে এ আমল প্রমাণিত করা হয়েছে।

👏শরহে নেকায়ায় বর্ণিত আছে-
জানা দরকার যে মুস্তাহাব হচ্ছে যিনি দ্বিতীয় শাহাদতের প্রথম শব্দ শোনে বলবেন; ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ) এবং দ্বিতীয় শব্দ শোনে বলবেন-ﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুররাতু আইনি বেকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) এবং নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুক্ষদ্বয়ে রাখবেন,ওকে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিঁজের পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন।
অনুরূপ কনযুল ইবাদেও বর্ণিত আছে।

★★১০. হানাফী আলিমগণ ছাড়াও শাফেঈ ও মালেকী মাযহাবের আলিমগণও বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে একমত।

যেমন শাফেঈ মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব – ﺍﻋﺎﻧﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺒﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﺣﻞ ﺍﻟﻔﺎﻅ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻤﻌﻴﻦ এর ২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-

ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞَ ﺍِﺑْﻬَﺎ ﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻠْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
“(অতঃপর নিজের বৃন্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিয়ে চোখে লাগালে, কখনও অন্ধ হবে না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে না।)”

মালেকী মযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব-
ﻛﻔﺎﻳﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺐ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻰ ﻟﺮﺳﺎﻟﺔ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺯﻳﺪ ﺍﻟﻘﻴﺮﺩﺍﻧﻰ
এর প্রথম খন্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে অনেক কিছু বলার পর লিখেছেন-

ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞُ ﺍِﺑْﻬَﺎﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌﻢِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ

অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেবে এবং চোখে লাগাবে, তাহলে কখনও অন্ধ হবে না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে না।

এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা শেখ আলী সাঈদী ﻋﺪﻭﻯ নামক কিতাবের ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন- গ্রন্থকার বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের সময়ের কথা উল্লেখ করেনি। অবশ্য শেখ আল্লামা মুফাসসির নুরুদ্দীন খুরাসানী থেকে বর্ণিত আছে, তিনি কতেক লোককে আযানের সময় লক্ষ্য করেছেন যে যখন তারা মুয়ায্যিনের মুখে আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন নিজেদের বৃদ্ধাঙ্গুলে চুমু দিলেন এবং নখদ্বয়কে চোখের পলকে এবং চোখের কোণায় লাগালেন এবং কান পর্যন্ত বুলিয়ে নিলেন। শাহাদাতের সময় এ রকম একবার একবার করলেন। আমি ওদের একজনকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন আমি বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিতাম কিন্তু মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন আমার চক্ষু রোগ হয়। এর মধ্যে এক রাতে আমি হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে স্বপ্নে দেখলাম। তিঁনি (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন-

**আযানের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখে লাগানো কেন ছেড়ে দিয়েছ? যদি তুমি চাও, তোমার চোখ পুনরায় ভাল হোক, তাহলে তুমি পুনরায় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখে লাগানো আরম্ভ কর।ঘুম ভাঙ্গার পর আমি পুনরায় এ আমল শুরু করে দিলাম এবং আরোগ্য লাভ করলাম। আজ পর্যন্ত সেই রোগে আর আক্রান্ত হইনি।

★★১১. পবিত্র মদিনায়ে তায়্যিবাহ’র খতীব, হযরত ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সালেহ মাদানী তার রচিত তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেন-

رَوِيَ عَنِ الْفَقِيْهِ مُحَمَّدٍ بْنِ سَعِيْدٍ الْخَوَلَانِيْ قَالَ اَخْبَرَنِيْ فَقِيْهُ الْعَالِمِ اَبُوْ الْحَسَنِ عَلِي بْنِ حَدِيْدِ الْحُسَيْنِيْ اَخْبَرَنِيْ الْفَقِيْهُ الزَّاهِدِ الْبِلَالِىْ عَنِ الْحَسَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنُ يَقُوْلُ اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ مَرْحَبًا بِحَبِيْبِىْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُبْنِ عَبْدِ اللّٰهِ وَيُقْبَلُ اِبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهَا عَلٰى عَيْنَيْهِ لَمْ يَعَمْ وَلَمْ يَرْمَد-

অর্থাৎ- ফকীহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ খাওলানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাদীদ হোসাইনী খবর দিয়েছেন, ফকীহ যাহেদ বিলালী ইমাম হাসান মুজতাবা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে ব্যক্তি, মুয়াযযিনের
اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللّٰهِ
শুনে-
مَرْحَبًا بِحَبِيْبِيْ وَقُرَّةُ عَيْنِيْ مُحَمَّدُ بْنِ عَبْدِ اللّٰه

এই দোয়া পড়ে আপন বৃদ্ধাঙ্গুল চুমু দিয়ে আপন চোখে লাগাবে, ঐ ব্যক্তির চোখ না কখনো অন্ধ হবে, না কখনো ব্যাথা অনুভব করবে।

✌খতীবে মদীনায়ে তায়্যিবাহ হযরত শামসুদ্দীন বনি সালেহ মাদানী তার ‘তারীখ’ গ্রন্থে হযরত মাজদ মিসরী, [যিনি সালফে-সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন] থেকে বর্ণনা করেন, মাজদ মিসরী বলেন

اِذَا سَمِعَ ذِكْرَهُ صَلَّي اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ وَجَمَعَ اَصَبِعَيْهِ الْمُسَبَّحَةِ وَالْاِبْهَامُ وَقَبَّلَهُمَا وَمَسْحَ بِهِمَا عَيْنَيْهِ لَمْ يَرْمَدْ اَبَدًا-

অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আযানের মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর পবিত্র নাম শুনে শাহাদাত আঙ্গুল ও বৃদ্ধাঙ্গুল মিলাবে এবং তাতে চুমু খেয়ে চোখে মালিশ করবে তার চোখ কোন দিন অসুস্থ হবে না।

★★১২. ইলমে ফিকহর প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আল মুখতাসারুল কুদুরীর’ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘জামেউল মুজমিরাত’ গ্রন্থের লেখক উস্তাজুল উলামা আল্লামা ইউসুফ বিন ওমরের ছাত্র, ফকীহদের ইমাম আরেফ বিল্লাহ সায়্যিদি ফজলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়্যুব সোহরাওয়ার্দি তার ফাতওয়া এ সুফিয়া এবং উলামাদের আশ্রয়স্থল ইমাম আব্দুল আলী বরজন্দী তার প্রসিদ্ধ কিতাব শরহে নেক্বায়া গ্রন্থে বর্ণনা করেন-

وَاَعْلَمْ اَنَّهُ يَسْتَحِبُّ اَنْ يُّقَالَ عِنْدَ سِمَاعِ الْاُوْلِي مِنَ الشَّهَادَةِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ الثَّانِيَةِ مِنْهُمَا قُرَّةُ عَيْنِيْ بِكَ يَا رُسُوْلَ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ يُقَالُ اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالسَّمْعِ وَالْبَصْرِ بَعْدَ وَضَعَ ظُفْرِيْ الْاِبْهَا مَيْنِ عَلٰيْ الْعَيْنَيْنِ فَاِنَّهُ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰي عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ لَهُ قَائِدًا اِلٰيْ الْجَنَّةِ وَكَذَا فِى كَنْزِ الْعِبَاد

অর্থাৎ- জেনে রাখুন, অবশ্যই মুস্তাহাব যে, যখন আযানে প্রথমে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে শুনবে তখন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে এবং দ্বিতীয়বার যখন বলতে শুনবে তখন বলবে, কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রাসূলাল্লাহ, অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের উপর চুমু খেয়ে তা চোখের উপর রেখে বলবে اَللَّهُمَّ مَتِّعْنِيْ بِالْسَّمْعِ وَالْبَصْرِ এর আমলকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে নিয়ে যাবেন। এই বর্ণনা ‘কানযুল ইবাদ’ নামক গ্রন্থেও উল্লেখ আছে।
ইলমে ফিকহর প্রসিদ্ধ ও নির্ভর যোগ্য কিতাব ‘আল মুখতাসারুল কুদুরীর’ ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘জামেউল মুজমিরাত’ গ্রন্থের লেখক উস্তাজুল উলামা আল্লামা ইউসুফ বিন ওমরের ছাত্র, ফকীহদের ইমাম আরেফ বিল্লাহ সায়্যিদি ফজলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়্যুব সোহরাওয়ার্দি তার ফাতওয়া এ সুফিয়া এবং উলামাদের আশ্রয় স্থল ইমাম আব্দুল আলী বরজন্দী তার প্রসিদ্ধ কিতাব শরহে নেক্বায়া গ্রন্থে বর্ণনা করেন-

ﻭَﺍَﻋْﻠَﻢْ ﺍَﻧَّﻪُ ﻳَﺴْﺘَﺤِﺐُّ ﺍَﻥْ ﻳُّﻘَﺎﻝَ ﻋِﻨْﺪَ ﺳِﻤَﺎﻉِ ﺍﻟْﺎُﻭْﻟِﻲ
ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﻭَ ﻋِﻨْﺪَ
ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻴَﺔِ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻲْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎ ﺭُﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻳُﻘَﺎﻝُ
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻲْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼْﺮِ ﺑَﻌْﺪَ ﻭَﺿَﻊَ ﻇُﻔْﺮِﻱْ ﺍﻟْﺎِﺑْﻬَﺎ ﻣَﻴْﻦِ
ﻋَﻠٰﻲْ ﺍﻟْﻌَﻴْﻨَﻴْﻦِ ﻓَﺎِﻧَّﻪُ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻲ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻜُﻮْﻥُ ﻟَﻪُ
ﻗَﺎﺋِﺪًﺍ ﺍِﻟٰﻲْ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻭَﻛَﺬَﺍ ﻓِﻰ ﻛَﻨْﺰِ ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩ

অর্থাৎ- জেনে রাখুন, অবশ্যই মুস্তাহাব যে, যখন আযানে প্রথমে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলতে শুনবে তখন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবে এবং দ্বিতীয়বার যখন বলতে শুনবে তখন বলবে, কুররাতু আইনি বিকা ইয়া রাসূলাল্লাহ,অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের উপর চুমু খেয়ে তা চোখের উপর রেখে বলবে
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻲْ
ﺑِﺎﻟْﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼْﺮِ

এর আমলকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে নিয়ে যাবেন। এই বর্ণনা ‘কানযুল ইবাদ’ নামক গ্রন্থেও উল্লেখ আছে।

★★১৩. শায়খুল মাশায়েখ,খাতেমুল মহাক্কেকীন, মক্কা শরীফে হানাফী ইমামদের সম্মানিত ইমাম আল্লামা শাহ জামাল বিন আব্দুল্লাহ ওমর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার ফাতওয়ায় বর্ণনা করেন-

سُئِلَتْ عَنْ تَقْبِيْلِ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ الْاَذَانِ هَلْ هُوَ جَائِزٌ اَمْ لَا؟ اَجِبْتُ بِمَا نَصَّهُ نَعَمْ تَقْبِيْلُ الْاِبْهَامَيْنِ وَوَضَعْهُمَا عَلٰى الْعَيْنَيْنِ عِنْدَ ذِكْرِ اِسْمِهِ صَلَّى اللّٰهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ جَائِزٌ بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ صَرَّحَ بِهِ مَشَائِخُنَا فِىْ كُتُبِ مُتَعَدَّدَةٌ

অর্থাৎ- আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে লাগানো জায়েয কি- না? আমি এসব বাক্য দ্বারা উত্তর দিলাম, হ্যাঁ আযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে লাগানো জায়েয, বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাযহাবের বিজ্ঞ মাশায়েখগণ তাদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এই আমলকে মুস্তাহাব বলে উল্লেখ করেছেন।

✌মাওলানা জামাল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর মক্কী (কুঃ) স্বীয় ফাত্ওয়ার কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

ﺗَﻘْﺒِﻴْﻞُ ﺍﻟْﺎِﺑﻬَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻭَﻭَﺿْﻊُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﻴْﻨَﻴْﻦِ ﻋِﻨْﺪَ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﺳْﻤِﻪ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺫَﺍﻥِ ﺟَﺎﺋِﺮ ﺑَﻞْ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐ ﺻَﺮَّﺡَ ﺑِﻪ ﻣَﺸَﺎﺋِﺨِﻨَﺎ

আযানে হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র নাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেয়া এবং চোখে লাগানো জায়েয বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাশায়েখে কিরাম এ ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা করেছেন। আল্লামা মুহাম্মদ তাহির (রাঃ) ﺗﻜﻤﻠﺔ ﻣﺠﻤﻊ ﺑﺨﺎﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ গ্রন্থে উপরোক্ত হাদীসকে ‘বিশুদ্ধ নয়’ মন্তব্য করে বলেন- ﻭَﺭُﻭِﻯَ ﺗَﺠﺮِﺑَﺔ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﻛَﺜِﻴْﺮِﻳْﻦَ “(কিন্তু এ হাদীস অনুযায়ী আমলের বর্ণনা অনেক পাওয়া যায়।)” আরও অনেক ইবারত উদ্ধৃত করা যায়। কিন্তু সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এটুকুই যথেষ্ট মনে করলাম।

🌹হযরত সদরুল আফাযেল মাওলানা সৈয়দ নঈম উদ্দীন সাহেব কিবলা মুরাদাবাদী বলেছেন,লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘ইনজিল’ গ্রন্থের একটি অনেক পুরানো কপি পাওয়া গেছে, যেটার নাম ‘ইনজিল বারনাবাস’। ইদানীং এটা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত এবং প্রত্যেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর অধিকাংশ বিধানাবলীর সাথে ইসলামের বিধানাবলীর মিল রয়েছে। এ গ্রন্থের এক জায়গায় লিখা হয়েছে যে হযরত আদম (আঃ) যখন রূহুল কুদ্দুস (নুরে মুস্তাফা) কে দেখার জন্য আরজু করলেন, তখন সেই নুর তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলের নখে চমকানো হলো। তিনি মহব্বতের জোশে উক্ত নখদ্বয়ে চুমু দিলেন এবং চোখে লাগালেন। (রূহুল কুদ্দুসের অর্থ নুরে মুস্তফা কেন করা হল; এর ব্যাখ্যা ‘শানে হাবিবুর রহমানে’দেখুন। ওখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঈসা (আঃ) এঁর যুগে রূহুল কুদ্দুস নামেই হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মশহুর ছিলেন।

🌹সুতরাং রাসূলের মোহাব্বতে এরূপ আমল নি:সন্দেহে উত্তম কাজ।আর আপনার ভালো না লাগলে এব্যাপারে চুপ থাকুন।তবে এটা মনে রাখা উচিত কাকে কোন উচিলায় আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন তা তো বলা সম্ভব নয়।এমনও হতে হরে ছোট একটা আমলও আপনার আমার নাজাতের উচিলা হয়ে যাবে।যাক মানা,না মানা সেটা নিজস্ব বিষয়,তবে দয়া কটাক্ষ করবেন না।ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...