Sunday, 30 June 2019

বাতেলদের পিছনে নামায আদায় হবে না

"বদ আক্বীদা পোষণকারীর পিছনে নামাজ না জায়েয"
--------------------------------------------
# প্রশ্ন: ওহাবীদের পিছনে নামাজ আদায় করা যাবেনা কেন?
# উত্তর : আমাদের দেশের ওহাবীরা জাহেরী ভাবে সুন্নাত পালন ও কোরআন হাদীস মতে জীবন চালালে ও মৌলভী আশরাফ আলী থানবী কৃত "হিফজুল ঈমান", রশীদ আহমদ গাংগুহী র ফতোয়া ই রশীদিয়া ও মৌলবী কাছেম নানুতবীর " তাহজীরুন নাস " পুস্তকের যে সব ইবারত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেম ও মুফতিগণ কুফরী বলে মন্তব্য করেছেন, তা তারা বিশ্বাস করে । এসব কিতাবের কুফরী আকীদা মূলক ইবারত ও কথাবার্তা হক বলে বিশ্বাস করার দরুন ওহাবীদের আকীদা বিশ্বাস কুফরীর পর্যায়ভুক্ত। তাই তাদের পিছনে নামাজ আদায় করা হারাম। এ ধরনের বদ আকীদা পোষণকারী মৌলভীর পিছনে নামাজ না আদায় করতে হুজূর পাক (দ:) নিষেধ করে গেছেন ।

এরশাদ হচ্ছে
ﻻ ﺗﺼﻠﻮﺍ ﻣﻌﻬﻢ

বদ আকীদা পোষণকারী লোকের পিছনে নামাজ আদায় করোনা ।

فلا تواكلوهم و لا تشاربوهم و لا تناكحوهم و لا تصلوا عليهم و لا تصلوا معهم ".
__________________

যেমন - গুনিয়া নামক ফিকহের কিতাবে আছে- ﻳﻜﺮﻩ ﺗﻘﺪﻳﻢ ﺍﻟﻤﺒﺘﺪﻉ ﻻﻧﻪ ﻓﺎﺳﻖ ﻣﻦ ﺣﻴﺶ ﺍﻻﻋﺘﻘﺎﺩ ﻭﻫﻮ ﺍﺷﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﺴﻖ ﻣﻦ ﺣﻴﺶ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﻭﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻟﻤﺒﺘﺪﻉ ﻣﻦ ﻳﻌﺘﻘﺪ ﺷﯿﺎ ﻋﻠﻲ ﺧﻼﻑ ﻣﺎ ﻳﻌﺘﻘﺪ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ - ﻭﺍﻧﻤﺎ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻻﻗﺘﺪﺍﺀ ﺑﻪ ﻣﻊ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﺔ ﺍﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﺎ ﻳﻌﺘﻘﺪﻩ ﻳﻮﺩﻱ ﺍﻟﻲ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﻋﻨﺪ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﺍﻣﺎ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻣﻮﺩﻳﺎ ﺍﻟﻲ ﺍﻟﻜﻔﺮ ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﺻﻼ
তরজমা: আকীদা গত ফাসিক আমল গত ফাসিক থেকে গুরুতর । তাই তাকে ইমাম বানানো মাকরুহে তাহরীমি । যদি তার গোমরাহী কুফরী পর্যন্ত না পৌঁছায় । হা যদি তার গোমরাহী তার কুফরী হয় তবে তার পিছনে ইকতেদা করাই জায়েজ নাই । আর দুররে মুখতারে রয়েছে যে , ﻛﻞ ﺻﻼﺓ ﻣﻊ ﻛﺮﺍﻫﺔ ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ ﺗﺠﺐ ﺍﻋﺎﺩﺗﻬﺎ
তরজমা: যে নামাজ মাকরুহ তাহরীমি হয়ে যায় তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজীব । ( দুররে মুখতার জিলদ আউয়াল পৃ: 307) সুতরাং আমাদের দেশের ওহাবীরা যেহেতু মৌলভী আশরাফ আলী থানভী , রশীদ আহমদ গাংগুহী ও কাসেম নানতবী প্রমুখের কুফরী আকীদা গুলো আজও পোষণ করে থাকে, সুতরাং তাদের পিছনে ইকতেদা করা জায়েজ নাই। করে থাকলে ঐ নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে ।
সুন্নী আকায়েদ ও মাসায়েলের নির্ভরযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য কিতাব বাহারে শরীয়তের , ৩য় অধ্যায়ের ﺷﺮﺍﺋﺖ ﺍﻣﺎﻣﺖ এই পরিচ্ছেদে ৮ এবং ৯ নাম্বার মাসায়েলে এইভাবে উল্লেখ আছে-
ﻣﺴﺌﻠﮧ :۸ ﻭﮦ ﺑﺪ ﻣﺬﮨﺐ ﺟﺲ ﮐﯽ ﺑﺪ ﻣﺬﮨﺒﯽ ﺣﺪ ﮐﻔﺮ ﮐﻮ ﭘﮩﻨﭻ ﮔﺌﯽ ﮨﻮ ، ﺟﯿﺴﮯ ﺭﺍﻓﻀﯽ ﺍﮔﺮﭼﮧ ﺻﺮﻑ ﺻﺪﯾﻖ ﺍﮐﺒﺮ ﺭﺿﯽ ﺍﷲ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﮧ ﮐﯽ ﺧﻼﻓﺖ ﯾﺎ ﺻﺤﺒﺖ ﺳﮯ ﺍﻧﮑﺎﺭ ﮐﺮﺗﺎ ﮨﻮ ، ﯾﺎ ﺷﯿﺨﯿﻦ ﺭﺿﯽ ﺍﷲ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﮩﻤﺎ ﮐﯽ ﺷﺎﻥِ ﺍﻗﺪﺱ ﻣﯿﮟ ﺗﺒﺮّﺍ ﮐﮩﺘﺎ ﮨﻮ۔ ﻗﺪﺭﯼ ، ﺟﮩﻤﯽ ، ﻣﺸﺒﮧ ﺍﻭﺭ ﻭﮦ ﺟﻮ ﻗﺮﺍٓﻥ ﮐﻮ ﻣﺨﻠﻮﻕ ﺑﺘﺎﺗﺎ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﻭﮦ ﺟﻮ ﺷﻔﺎﻋﺖ ﯾﺎ ﺩﯾﺪﺍﺭ ﺍﻟٰﮩﯽ ﯾﺎ ﻋﺬﺍﺏِ ﻗﺒﺮ ﯾﺎ ﮐﺮﺍﻣﺎً ﮐﺎﺗﺒﯿﻦ ﮐﺎ ﺍﻧﮑﺎﺭ ﮐﺮﺗﺎ ﮨﮯ ، ﺍﻥ ﮐﮯ ﭘﯿﭽﮭﮯ ﻧﻤﺎﺯ ﻧﮩﯿﮟ ﮨﻮﺳﮑﺘﯽ۔ ‏( 2 ‏) ‏( ﻋﺎﻟﻤﮕﯿﺮﯼ ، ﻏﻨﯿﮧ ‏) ﺍﺱ ﺳﮯ ﺳﺨﺖ ﺗﺮ ﺣﮑﻢ ﻭﮨﺎﺑﯿﮧٔ ﺯﻣﺎﻧﮧ ﮐﺎ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺍﷲ ﻋﺰﻭﺟﻞ ﻭ ﻧﺒﯽ ﺻﻠﯽ ﺍﷲ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﮐﯽ ﺗﻮﮨﯿﻦ ﮐﺮﺗﮯ ﯾﺎ ﺗﻮﮨﯿﻦ ﮐﺮﻧﮯ ﻭﺍﻟﻮﮞ ﮐﻮ ﺍﭘﻨﺎ ﭘﯿﺸﻮﺍ ﯾﺎ ﮐﻢ ﺍﺯ ﮐﻢ ﻣﺴﻠﻤﺎﻥ ﮨﯽ ﺟﺎﻧﺘﮯ ﮨﯿﮟ ۔
ﻣﺴﺌﻠﮧ :۹ ﺟﺲ ﺑﺪ ﻣﺬﮨﺐ ﮐﯽ ﺑﺪ ﻣﺬﮨﺒﯽ ﺣﺪ ﮐﻔﺮ ﮐﻮ ﻧﮧ ﭘﮩﻨﭽﯽ ﮨﻮ ، ﺟﯿﺴﮯ ﺗﻔﻀﯿﻠﯿﮧ ﺍﺱ ﮐﮯ ﭘﯿﭽﮭﮯ ﻧﻤﺎﺯ ، ﻣﮑﺮﻭﮦ ﺗﺤﺮﯾﻤﯽ ﮨﮯ۔ ‏( 3 ‏) ‏( ﻋﺎﻟﻤﮕﯿﺮﯼ )

Saturday, 29 June 2019

ইছালে সাওয়াব

‘ঈসালে সাওয়াব’ ফারসী শব্দ। আরবীতে হবে ‘ঈসালুস সাওয়াব’ (তবে এ ক্ষেত্রে আরবীতে অন্য শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয় যেমন ‘ইহদাউস সাওয়াব’)। এর আভিধানিক অর্থ হল সওয়াব পৌঁছানো। পরিভাষায় ঈসালে সওয়াব হল কোনো নেক আমল করে এর সওয়াব মৃত ব্যক্তিকে দান করা।

প্রিয়জন আখেরাতের পথিক হয়ে গেলে তার জন্য এমন কিছু করা মানুষের স্বভাবজাত আগ্রহ, যা তার শান্তি-সফলতার পক্ষে সহায়ক হবে, তার জন্য আল্লাহর রহমত ও করুণার উপায় হবে। ফলে তিনি তার গোনাহ মাফ করে দিবেন, মর্যাদা উঁচু করবেন এবং সুখে-শান্তিতে ভরিয়ে তুলবেন।

এই মহব্বতের একটি অনুষঙ্গ হল আত্মীয়তা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ঈমান, সৎকর্ম ও সদ্ব্যবহার। এজন্য পিতা-মাতা, দাদা-দাদী প্রমুখের জন্য যেমন ঈসালে সওয়াব করা হয়, তেমনি উস্তাদ-মুরব্বী, আলেম-উলামা, ওলী-বুযুর্গ ও নবী-রাসূলগণের জন্যও করা হয়; বরং ঈমান, সৎকর্ম ও সদাচারে যারা অগ্রগামী তাদের জন্যই বেশি ঈসালে সওয়াব করা হয়।

🔹 ঈসালে সাওয়াব বিষয়টি ইসলামি শরীয়তে সম্পূর্ণ স্বীকৃত।

জীবিতদের দান করা আমল মৃতদের জন্য কল্যাণকর হওয়া আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের কাছে একটি স্বীকৃত বিষয়। মৌলিক দিক থেকে তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

মতভেদ শুধু বিস্তারিত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু মুতাযিলা সম্প্রদায় তা অস্বীকার করেছে। এদের মতে জীবিতদের দান করা কোনো আমলই মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর নয়, দুআ-ইস্তিগফার ও সদকাও নয়।এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাহর ইজমা-বিরুদ্ধ।

🔹 মৃতের জন্য ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে দোয়া করা।

কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে,

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ

হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়। সূরা হাশর আয়াত: ১০

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। সূরা ইব্রাহীম আয়াত: ৪১

এখানে পূর্ববর্তীদের জন্য দোয়া করা করা হয়েছে। বোঝা গেল যে, দোয়া উপকারে আসে।আর মৃতের জন্য ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে দোয়া করা জায়েজ।

🔹 হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,

একটি যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু আমের রাদ্বিয়াল্লাহু-কে আমীর নিযুক্ত করে পাঠিয়েছিলেন। একটি তীরের আঘাতে তিনি সেই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের পূর্বে তার ভাতিজা আবু মূসা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু-কে বলে গেছেন, তিনি যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার সালাম পৌঁছান এবং তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে বলেন। আবু মূসা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা-ই করলেন। অতপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনিয়ে অযু করলেন এবং দু’হাত প্রসারিত করে দোয়া করলেন।

اللهم اغفر لعبيد أبي عامر، اللهم اجعله يوم القيامة فوق كثير من خلقك أو من الناس.

হে আল্লাহ! আপনি আবু আমেরকে মাফ করে দিন। তাকে কিয়ামতের দিন আপনার বহু সৃষ্টির উপর (বর্ণনাকারী বলেন, অথবা বলেছেন, মানুষের উপর) মর্যাদা দিন। মুসলিম শরীফ, হাদীস ২৪৯৮

উক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, দোয়া করা জীবিত ও মৃত সকলের জন্য কল্যাণকর।

🔹 মৃতের জন্য ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে সদকা করা।

হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, একলোক নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন, কোনো অসিয়ত করে যেতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তাহলে সদকা করে যেতেন। আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে কি তিনি এর সওয়াব পাবেন?  বললেন, হাঁ। - মুসলিম শরীফ, হাদীস ১০০৪

আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, একব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং ধন-সম্পদ রেখে গেছেন কিন্তু অসিয়ত করে যাননি। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তার (গোনাহের) কাফফারা হবে? বললেন, হাঁ। মুসলিম শরীফ, হাদীস ১৬৩০

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদ্বুিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, আস ইবনে ওয়ায়েল জাহেলীযুগে একশো উট যবাহ করার মানত করেছিল। অতপর (তার ছেলে) হিশাম তার পক্ষ থেকে ৫০টি উট যবাহ করে। (বাকি ৫০টি অপর ছেলে আমর যবাহ করতে চান।) এ ব্যাপারে তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমার পিতা যদি তাওহীদ স্বীকার করত আর তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখতে বা সদকা করতে, তবে এ তার কাজে আসত। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৭০৪

এ হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হল যে, সদকার সাওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে।

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সদকা কল্যাণকর হওয়া উম্মাহর সর্বসম্মত মত। এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের কোনো দ্বিমত নেই।

#2
কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও মাইয়িতের কাছে পৌছে।

নিম্নোক্ত বর্ণনাগুলো থেকেও এর বৈধতা পাওয়া যায় :

🔹 মাকিল ইবনে ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সূরা ইয়াসীন পাঠ কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১২১

عن معقل بن يسار، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: اقرءوا يس على موتاكم.

দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০০২; মুসতাদরাকে হাকিম ১/৫৬৫

🔹 আবদুর রহমান ইবনে আলা ইবনে লাজলাজ থেকে বর্ণিত, তার পিতা সন্তানদেরকে বলেছেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে কবরে রাখবে এবং بسم الله وعلى سنة رسول الله বলে সুন্দরভাবে মাটি বিছিয়ে দিবে। তারপর আমার মাথার কাছে সূরা বাকারার শুরু ও শেষাংশ পাঠ করবে। আমি ইবনে উমর (রা.-কে তা পছন্দ করতে দেখেছি। -তারিখে ইবনে মায়ীন, দূরী সংকলিত ২/৩৭৯-৩৮০

عبد الرحمن بن العلاء بن اللجلاج، عن أبيه أنه قال لبنيه: إذا أدخلت القبر فضعوني في اللحد، وقولوا: بسم الله وعلى سنة رسول الله، وسنوا علي التراب سنا، واقرءوا عند رأسي أول البقرة وخاتمتها، فإني رأيت ابن عمر يستحب ذلك.

ইমাম বায়হাকী রাহ. (৪৫৮হি.) বলেন, هذا موقوف حسن

এর সনদ হাসান’। ইমাম নববী রাহ.ও এর সনদকে হাসান বলেছেন।

দ্রষ্টব্য : আদদাআওয়াতুল কাবীর ২/২৯৭; নাতাইজুল আফকার ৪/৪২৬

🔹 শাবী থেকে বর্ণিত, আনসার (সাহাবীগণ) মাইয়িতের কাছে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৯৫৩

حدثنا حفص بن غياث، عن المجالد، عن الشعبي، قال: كانت الأنصار يقرؤون عند الميت بسورة البقرة.

ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন, মুজালিদ দ্বয়ীফ হলেও পরিত্যক্ত নয়; বরং ইমাম মুসলিম (রাহ.) তার হাদীস সমর্থক পর্যায়ে এনেছেন। -নাতাইজুল আফকার ৪/৩০৯

🔹 আবু উমায়্যা আযদী থেকে বর্ণিত, জাবির ইবনে যায়েদ (রাহ.) মাইয়িতের কাছে সূরা রা‘দ তিলাওয়াত করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৯৫৭

حدثنا وكيع، عن حسان بن إبراهيم، عن أمية الأزدي، عن جابر بن زيد، أنه كان يقرأ عند الميت سورة الرعد.

ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন, سنده صحيح ‘এর সনদ সহীহ’। -নাতাইজুল আফকার ৪/৩১২

এ বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে কিছু দুর্বলতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটা প্রমাণিত হয় যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মাইয়িতের উপকারে আসে।

ইমাম ইবনে কুদামা (রাহ.) কুরআন শরীফ  তিলাওয়াতের সওয়াবরেসানির বৈধতার দলীল আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,

وأنه إجماع المسلمين، فإنهم في كل عصر ومصر يجتمعون ويقرؤون القرآن، ويهدون ثوابه إلى موتاهم، من غير نكير.

এতে মুসলমানদের ইজমা আছে। প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক শহরে তারা সমবেত হয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে সওয়াবরেসানি করেছে। এতে কেউ কোনো আপত্তি করেনি। -আলমুগনী ৩/৫২২

🔹 শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের মধ্যেও অনেক ফকীহের মত এটাই যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। বিশেষত যদি আল্লাহর কাছে এই দুআ করা হয় যে, তিনি যেন এই সওয়াব মাইয়িতের কাছে পৌঁছে দেন। যারা এই মত পোষন করেছেন তারা হলেন,,

ইবনে আবী আসরূন (রাহ.) (৫৮৫হি.),
ইবনে আবিদ দাম (রাহ.) (৬৪২হি.),
ইবনুস সালাহ (রাহ.) (৬৪৩হি.),
তাকীউদ্দীন সুবকী (রাহ.) (৭৫৬হি.),
ইবনুল মুলাক্কীন (রাহ.) (৮০৪হি.),
যাকারিয়া আনসারী (রাহ.) (৯২৬হি.) প্রমুখ।

ইমাম ইবনুস সালাহ (রাহ.)-এর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কুরআন শরীফ পড়ে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজন কিংবা সাধারণ মুসলমানকে সওয়াব পৌঁছানো যাবে কি না? উত্তরে তিনি বলেছেন, এতে ফকীহদের মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশ ফকীহ তা জায়েয মনে করেন।  এক্ষেত্রে এই দুআ করা উচিত যে, হে আল্লাহ, আপনি এর সওয়াব অমুককে পৌঁছে দিন। -ফাতাওয়া ইবনুস সালাহ ১/১৯৩

أما قراءة القرآن ففيه خلاف بين الفقهاء، والذي عليه عمل أكثر الناس تجويز ذلك، وينبغي أن يقول إذا أراد ذلك: اللهم أوصل ثواب ما قرأته لفلان.

দ্রষ্টব্য : উজালাতুল মুহতাজ ইলা তাওজীহিল মিনহাজ ৩/১১০৪; ফাতহুল ওয়াহহাব বি শরহি মানহাজিত তুল্লাব ২/১৯; আসনাল মাতালিব ফী শরহি রাওযিত তালিব ২/৪১২; মুগনিল মুহতাজ ইলা মারিফাতি মাআনি আলফাযিল মিনহাজ ৩/৯১

🔹 মালেকী মাযহাবের ফকীহদেরও এক জামাত এই মত পোষণ করেন যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। যারা এই মত পোষন করেছেন তারা হলেন,,

ইবনে রুশদ (রাহ.) (৫২০হি.),
আবু বকর ইবনে আরাবী (রাহ.) (৫৪৩হি.),
আবু আবদিল্লাহ কুরতুবী (রাহ.) (৬৭১হি.),
আবু আবদিল্লাহ আলহাফফার (রাহ.) (৮১১হি.),
আবুল কাসিম আবদূসী (রাহ.) (৮৪৯হি.),
ইবনে হিলাল (রাহ.) (৯০৩হি.),
আবদুল হাই কাত্তানী রাহ. (১৩৮২হি.) প্রমুখ।

ইমাম ইবনে রুশদ (রাহ.)-কে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে সওয়াবরেসানি করা জায়েয কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

وإن قرأ الرجل ووهب ثواب قراءته لميت، جاز ذلك، وحصل للميت أجره، ووصل إليه نفعه، إن شاء الله.

কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে মাইয়িতকে সওয়াবরেসানি করা জায়েয, সে এর সওয়াব পাবে এবং এটা তার উপকারে আসবে ইনশাআল্লাহ। -নাওয়াযিলে ইবনে রুশদ পৃ. ১৪৪৬

দ্রষ্টব্য : আলমিয়ারুল মুরিব ১/৩২১, ৩৩১; সালওয়াতুল আনফাস ১/৩২

আহলে হাদীসদের মধ্যেও একাধিক আলেম একই মত গ্রহণ করেছেন। শায়েখ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (১৪১৪হি.) বলেন,

دعا، استغفار، صدقہ، خیرات، حج و قربانی کی طرح تلاوت قرآن پاک کا ثواب بھی میت کو  پہنچتاہے

দুআ, ইস্তিগফার, দান-খায়রাত, হজ্ব ও কুরবানীর মত কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও মাইয়িতের কাছে পৌঁছে। -ফাতাওয়া শাইখুল হাদীস মুবারকপুরী, সংকলন ও বিন্যাস : ফাওয়ায আবদুল আযীয উবায়দুল্লাহ ১/৪৫৯

আরো দেখা যেতে পারে : আলফাতহুর রাব্বানী মিন ফাতাওয়াশ শাওকানী পৃ. ৩১৬৩-৩১৭৮; ফাতাওয়া নাযিরিয়া ১/৫৬২, ৫৬৪; ফাতাওয়া আহলে হাদীস ২/৬৬২

ধৈর্যসহকারে লেখাটি পড়ার জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান! লেখাটি ভালো লাগলে অন্যদের জন্য শেয়ার করুন।

ধৈর্যসহকারে লেখাটি পড়ার জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান! লেখাটি ভালো লাগলে অন্যদের জন্য শেয়ার করুন।

Friday, 28 June 2019

ايصال الثواب

কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও মাইয়িতের কাছে পৌছে।

নিম্নোক্ত বর্ণনাগুলো থেকেও এর বৈধতা পাওয়া যায় :

🔹 মাকিল ইবনে ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সূরা ইয়াসীন পাঠ কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১২১

عن معقل بن يسار، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: اقرءوا يس على موتاكم.

দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০০২; মুসতাদরাকে হাকিম ১/৫৬৫

🔹 আবদুর রহমান ইবনে আলা ইবনে লাজলাজ থেকে বর্ণিত, তার পিতা সন্তানদেরকে বলেছেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে কবরে রাখবে এবং بسم الله وعلى سنة رسول الله বলে সুন্দরভাবে মাটি বিছিয়ে দিবে। তারপর আমার মাথার কাছে সূরা বাকারার শুরু ও শেষাংশ পাঠ করবে। আমি ইবনে উমর (রা.-কে তা পছন্দ করতে দেখেছি। -তারিখে ইবনে মায়ীন, দূরী সংকলিত ২/৩৭৯-৩৮০

عبد الرحمن بن العلاء بن اللجلاج، عن أبيه أنه قال لبنيه: إذا أدخلت القبر فضعوني في اللحد، وقولوا: بسم الله وعلى سنة رسول الله، وسنوا علي التراب سنا، واقرءوا عند رأسي أول البقرة وخاتمتها، فإني رأيت ابن عمر يستحب ذلك.

ইমাম বায়হাকী রাহ. (৪৫৮হি.) বলেন, هذا موقوف حسن

এর সনদ হাসান’। ইমাম নববী রাহ.ও এর সনদকে হাসান বলেছেন।

দ্রষ্টব্য : আদদাআওয়াতুল কাবীর ২/২৯৭; নাতাইজুল আফকার ৪/৪২৬

🔹 শাবী থেকে বর্ণিত, আনসার (সাহাবীগণ) মাইয়িতের কাছে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৯৫৩

حدثنا حفص بن غياث، عن المجالد، عن الشعبي، قال: كانت الأنصار يقرؤون عند الميت بسورة البقرة.

ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন, মুজালিদ দ্বয়ীফ হলেও পরিত্যক্ত নয়; বরং ইমাম মুসলিম (রাহ.) তার হাদীস সমর্থক পর্যায়ে এনেছেন। -নাতাইজুল আফকার ৪/৩০৯

🔹 আবু উমায়্যা আযদী থেকে বর্ণিত, জাবির ইবনে যায়েদ (রাহ.) মাইয়িতের কাছে সূরা রা‘দ তিলাওয়াত করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৯৫৭

حدثنا وكيع، عن حسان بن إبراهيم، عن أمية الأزدي، عن جابر بن زيد، أنه كان يقرأ عند الميت سورة الرعد.

ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন, سنده صحيح ‘এর সনদ সহীহ’। -নাতাইজুল আফকার ৪/৩১২

এ বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে কিছু দুর্বলতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটা প্রমাণিত হয় যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মাইয়িতের উপকারে আসে।

ইমাম ইবনে কুদামা (রাহ.) কুরআন শরীফ  তিলাওয়াতের সওয়াবরেসানির বৈধতার দলীল আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,

وأنه إجماع المسلمين، فإنهم في كل عصر ومصر يجتمعون ويقرؤون القرآن، ويهدون ثوابه إلى موتاهم، من غير نكير.

এতে মুসলমানদের ইজমা আছে। প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক শহরে তারা সমবেত হয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে সওয়াবরেসানি করেছে। এতে কেউ কোনো আপত্তি করেনি। -আলমুগনী ৩/৫২২

🔹 শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের মধ্যেও অনেক ফকীহের মত এটাই যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। বিশেষত যদি আল্লাহর কাছে এই দুআ করা হয় যে, তিনি যেন এই সওয়াব মাইয়িতের কাছে পৌঁছে দেন। যারা এই মত পোষন করেছেন তারা হলেন,,

ইবনে আবী আসরূন (রাহ.) (৫৮৫হি.),
ইবনে আবিদ দাম (রাহ.) (৬৪২হি.),
ইবনুস সালাহ (রাহ.) (৬৪৩হি.),
তাকীউদ্দীন সুবকী (রাহ.) (৭৫৬হি.),
ইবনুল মুলাক্কীন (রাহ.) (৮০৪হি.),
যাকারিয়া আনসারী (রাহ.) (৯২৬হি.) প্রমুখ।

ইমাম ইবনুস সালাহ (রাহ.)-এর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কুরআন শরীফ পড়ে পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজন কিংবা সাধারণ মুসলমানকে সওয়াব পৌঁছানো যাবে কি না? উত্তরে তিনি বলেছেন, এতে ফকীহদের মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশ ফকীহ তা জায়েয মনে করেন।  এক্ষেত্রে এই দুআ করা উচিত যে, হে আল্লাহ, আপনি এর সওয়াব অমুককে পৌঁছে দিন। -ফাতাওয়া ইবনুস সালাহ ১/১৯৩

أما قراءة القرآن ففيه خلاف بين الفقهاء، والذي عليه عمل أكثر الناس تجويز ذلك، وينبغي أن يقول إذا أراد ذلك: اللهم أوصل ثواب ما قرأته لفلان.

দ্রষ্টব্য : উজালাতুল মুহতাজ ইলা তাওজীহিল মিনহাজ ৩/১১০৪; ফাতহুল ওয়াহহাব বি শরহি মানহাজিত তুল্লাব ২/১৯; আসনাল মাতালিব ফী শরহি রাওযিত তালিব ২/৪১২; মুগনিল মুহতাজ ইলা মারিফাতি মাআনি আলফাযিল মিনহাজ ৩/৯১

🔹 মালেকী মাযহাবের ফকীহদেরও এক জামাত এই মত পোষণ করেন যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। যারা এই মত পোষন করেছেন তারা হলেন,,

ইবনে রুশদ (রাহ.) (৫২০হি.),
আবু বকর ইবনে আরাবী (রাহ.) (৫৪৩হি.),
আবু আবদিল্লাহ কুরতুবী (রাহ.) (৬৭১হি.),
আবু আবদিল্লাহ আলহাফফার (রাহ.) (৮১১হি.),
আবুল কাসিম আবদূসী (রাহ.) (৮৪৯হি.),
ইবনে হিলাল (রাহ.) (৯০৩হি.),
আবদুল হাই কাত্তানী রাহ. (১৩৮২হি.) প্রমুখ।

ইমাম ইবনে রুশদ (রাহ.)-কে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে সওয়াবরেসানি করা জায়েয কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

وإن قرأ الرجل ووهب ثواب قراءته لميت، جاز ذلك، وحصل للميت أجره، ووصل إليه نفعه، إن شاء الله.

কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে মাইয়িতকে সওয়াবরেসানি করা জায়েয, সে এর সওয়াব পাবে এবং এটা তার উপকারে আসবে ইনশাআল্লাহ। -নাওয়াযিলে ইবনে রুশদ পৃ. ১৪৪৬

দ্রষ্টব্য : আলমিয়ারুল মুরিব ১/৩২১, ৩৩১; সালওয়াতুল আনফাস ১/৩২

আহলে হাদীসদের মধ্যেও একাধিক আলেম একই মত গ্রহণ করেছেন। শায়েখ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (১৪১৪হি.) বলেন,

دعا، استغفار، صدقہ، خیرات، حج و قربانی کی طرح تلاوت قرآن پاک کا ثواب بھی میت کو  پہنچتاہے

দুআ, ইস্তিগফার, দান-খায়রাত, হজ্ব ও কুরবানীর মত কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াবও মাইয়িতের কাছে পৌঁছে। -ফাতাওয়া শাইখুল হাদীস মুবারকপুরী, সংকলন ও বিন্যাস : ফাওয়ায আবদুল আযীয উবায়দুল্লাহ ১/৪৫৯

আরো দেখা যেতে পারে : আলফাতহুর রাব্বানী মিন ফাতাওয়াশ শাওকানী পৃ. ৩১৬৩-৩১৭৮; ফাতাওয়া নাযিরিয়া ১/৫৬২, ৫৬৪; ফাতাওয়া আহলে হাদীস ২/৬৬২

لا يجوز الصلاة وكتفيه غير مستورة

Obida Fa
تفسير ذلك :
أنه لا يجوز له أن يصلي وكتفه غير مستورة لقول رسول الله صل الله عليه وسلم:
" لَا يُصَلِّي أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقِهِ مِنْهُ شَيْء".

فإذا صلى مكشوف الكتفين، فصلاته صحيحة في قول جمهور أهل العلم، وقد حملوا النهي على الكراهة.

الشيخ بلال الحلموشي

Wednesday, 26 June 2019

নামাজের কিছু প্রচলিত ভুল

👏 নামাযের কিছু প্রচলিত ভুলসমূহ 👏

১. দাগের উপর বা দাগে আঙ্গুল রেখে দাগের পিছনে দাঁড়ানো। এতে কাতার কখনো সোজা হয় না। নিয়ম হল দাগে গোড়ালী রেখে দাঁড়ানো।
২. কাতার ইমামের ডানে বাড়িয়ে ফেলা। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী: ১/৮৭)
৩. সামনের কাতারে খালী জায়গা রেখে পিছনের কাতারে বসে থাকা বা দাঁড়ানো। (রদ্দুর মুহতার: ১/৮৭)
৪. জামা‘আত শুরু হওয়ার পর কাতারে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়া। (মাসায়িলে নামায: ৮৭)
৫. ইকামাত চলাকালীন সময়ে দুহাত বেঁধে রাখা, ইকামাতের জওয়াব না দেয়া। (ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া:৩/১৪)
৬. তাকবীরে তাহরীমার সময় মাথা ঝুঁকানো। (তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং ৩০৪, মুস্তাদরাক, হা: নং ১৭৬১)
৭. শীতের সময় হাত চাদরের ভেতর রেখেই তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো। (রদ্দুল মুহতার:১/৪৭৮)
৮. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী কানের লতি পর্যন্ত না উঠানো এবং হাতের তালু কিবলামুখী করে না রাখা। (মুসলিম শরীফ, হা: নং ৩৯১)
৯. আরবী নিয়্যাতকে বা নিয়্যাত মুখে বলাকে জরুরী মনে করা। (ফাতহুল বারী: ১/১৬)
১০. ইমামের তাকবীরে তাহরীমা শেষ হওয়ার আগেই মুক্তাদীর তাকবীর শেষ করে দেয়া এতে ইকতিদা সহীহ হয় না। (মুসলিম শরীফ, হা: নং ৪১৪,৪১৫, বুখারী শরীফ, হা: নং ৭৩৪)
১১. দাঁড়ানো অবস্থায় উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী না করে ডানে বামে করে রাখা। (নাসায়ী শরীফ, হা: নং-৮৯২)
১২. দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা ঝুঁকিয়ে রাখা। (তিরমিযী শরীফ হা: নং৩০৪)
১৩. পুরুষের বুকের উপর বা নাভি পেঁচিয়ে হাত বাঁধা। (আবু দাউদ, হা: নং ৭৫৬, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী:১/৭৩)
১৪. আস্তে কিরা‘আত পড়ার সময় মদ, গুন্নাহ, ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য না করা।
১৫. মাসনূন কিরা‘আতের প্রতি লক্ষ্য না রাখা। যেমন ফজর ও যুহরে লম্বা কিরা‘আত পড়া সুন্নাত যা সাধারণতঃ: পড়াই হয় না। মাগরিবে সংক্ষিপ্ত কিরা‘আত পড়া সুন্নাত সেখানে অনেকে লম্বা কিরা‘আত পড়ে থাকে এবং ’ইশাতে মধ্যম কিরা‘আত পড়া সুন্নাত সেখানে মাগরিবের ন্যায় ছোট সূরা পড়া এ সবই সুন্নাতের খেলাফ। (মুসলিম শরীফ, হা: নং ৭৩৩)
১৬. রুকু অবস্থায় মাথা পিঠ এবং কোমর বরাবর করে না রাখা বরং হাঁটু বাঁকা করে রাখা। (মুসলিম শরীফ, হা: নং-৪৯৮, বুখারী শরীফ, হা: নং-৮৬৩)
১৭. রুকু অবস্থায় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখা। কনুই বাঁকা করে রাখা এবং তাড়াহুড়া করা। (আবু দাউদ হা: নং-৭৩১,৭৩৪)
১৮. রুকু থেকে উঠার পর সোজা স্থির হয়ে না দাঁড়িয়েই তাড়া হুড়া করে সিজদায় চলে যাওয়া। (বুখারী শরীফ হা: নং-৮০০,৮০১,৮০২)
১৯. সিজদায় যাওয়ার সময় বিনা উযরে বুক বা মাথা ঝুঁকিয়ে সিজদায় যাওয়া। (আবু দাউদ হা: নং-৮৩৮, রদ্দুল:১/৪৬৪)
২০. সিজদায় দু’হাতের আঙ্গুলসমূহ ছড়িয়ে রাখা এবং কান বরাবর না রাখা। (মুসনাদে আহমাদ, হা: নং-১৮৮৮২, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং-৬৪৩)
২১. সিজদার সময় উভয় পায়ের মাঝে দাঁড়ানোর ন্যায় চার আঙ্গুল ফাঁক না রাখা বা গোড়ালী মিলিয়ে রাখা। পায়ের আঙ্গুলী কিবলামুখী করে না রাখা এবং পা যমীন থেকে উঁচু করে রাখা।
২২. দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে না বসা। (আবূ দাউদ, হা: নং ৮৫৬,৮৫৭,৮৫৮)
২৩. সিজদা থেকে উঠার সময় বিনা উযরে যমীনে টেক লাগানো। সিনা ও মাথা ঝুঁকিয়ে রাখা।
২৪. উভয় সালাম ফিরানোর সময় কারো নিয়্যাত না করা। (মুসলিম শরিফ, হা: নং-৪৩১, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা: নং-৩১৪০,৩১৪৯,৩১৫২)
২৫. মুনাজাতের সময় হাতের তালু আসমানের দিকে না রাখা। (তাবারানী কাবীর, হাদীস নং ৩১৪২)
২৬. মুনাজাতের সময় হাত একেবারে মিলিয়ে রাখা অথবা অনেক ফাঁক করে রাখা কিংবা হাত দ্বারা দড়ি পাকানোর মত করতে থাকা। বা হাত নমস্কারের মত করে রাখা। (হিসনে হাসীন, ত্বাহাবী ২০৫, সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ৫৫)
বি: দ্র: নামাযের প্রচলিত ভুলসমুহ বিস্তারিত জানার জন্য নবীজীর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাত নামক পুস্তিকা ৫০-৬৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

                                       সংক্ষেপিত,,,,,

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...