কিছু লোক থাকবে যারা কুরআন সুন্নাহ নিজের মতো করে প্রচার করবে কিন্তু আপনি আমি যেনো তাদের ধোকাবাজি তে না পড়ি।
আমরা যেনো প্রথম সারির জলিলুল ক্বদর সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের চেয়ে বেশি বুঝতে গিয়ে ঈমান না হারাই। কারণ রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ৭৩ কাতারের মধ্যের এক কাতার হলো জান্নাতি আর তারা হলো যারা আমার ও আমার সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সুন্নত পালন করবে।
এটার ব্যাখা হলো ধরেন আপনি একটি হাদীস পেলেন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আমল করেছেন, একিই বিষয়ে আরেকটি হাদীস পেলেন একজন সাহাবী ভিন্ন আমল করেছেন, তখন আপনি সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আমল করবেন। কিন্তু আপনি যদি দুইজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের বিপরীত মূখি আমল পান তাহলে তালাশ করবেন শেষের আমল কে করেছেন, আপ্নিও তা করবেন আর যদি না পান তাহলে উভয়ের টা করবেন। কারণ দ্বীন আমরা উনাদের চেয়ে কোনদিন ও বেশি বুঝতে পারবনা।
একটি চাঁদ নিদৃষ্ট একটি এলাকার জন্য, সারা দুনিয়ায় একিই দিনে রোজা আর ঈদ হলো পাগলের প্রলাপ, আর সৌদির সাথে মিল রেখে একমাত্র চরম পর্যায়ের মূর্খরাই পালনের কথা বলে। তাও যদি জাপানের কথা বলতো তাহলে এক্টি কথা ছিলো।
আসেন একটি বিখ্যাত হাদীস শরীফ পড়ে সিদ্ধান্ত নেই আমরা কি ভুল করছি নাকি হক্ব ই আছিঃ তাবেয়ী কুরাইব ইবনে আবী মুসলিম রহমতুল্লাহী আলাইহি (৯৮ হিজরী)-কে উম্মুল ফযল বিনতুল হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কোনো কাজে মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর কাছে শামে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাজ সমাপ্ত করলেন। ইতিমধ্যে শামে রমযানের চাঁদ দেখা গেল এবং জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) চাঁদ দেখা গেল এবং জুমাবার থেকে শামে রোযা শুরু হল। কুরাইব মাসের শেষের দিকে মদীনা শরীফ পৌঁছলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি ছিলেন কুরাইবের মাওলা, কথাপ্রসঙ্গে কুরাইব রহমতুল্লাহী আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ?’ কুরাইব রহমতুল্লাহী আলাইহি বললেন, ‘জুমা-রাতে।’ ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি নিজে দেখেছ?’ তিনি বললেন, জি হ্যাঁ আমি নিজে দেখেছি, অন্যরাও দেখেছেন। সবাই রোযা রেখেছেন। মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (ঐ সময়ের আমীরুল মুমিনীন) রোযা রেখেছেন।’ আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন,
[لكنا رأيناه ليلة السبت، فلا نزال نصوم حتى نكمل ثلاثين، أو نراه]
‘কিন্তু আমরা তো শনিবার রাতে (শুক্রবার দিবাগত রাতে) চাঁদ দেখেছি। অতএব আমরা আমাদের হিসাবমত ত্রিশ রোযা পূর্ন করব, তবে যদি (২৯ তারিখ দিবাগত রাতে) চাঁদ দেখি সেটা ভিন্ন কথা।’
কুরাইব রহমতুল্লাহী আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেনঃ [أولا تكتفي برؤية معاوية وصيامه]
‘আপনি কি মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চাঁদ দেখা ও রোযা রাখাকে যথেষ্ট মনে করবেন না?’
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেনঃ [لا، هكذا أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم]
‘না, মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এই আদেশই করেছেন।
দলিল সূত্রঃ
√ সহীহ মুসলিম শরীফ ১০৮৭।
√ মুসনাদে আহমদ শরীফঃ ২৭৮৯।
√ জামে তিরমিযী শরীফ ২৩৩২।
√ সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৬৯৩।
√ সুনানে নাসায়ী শরীফঃ ২১১১।
No comments:
Post a Comment