Monday, 3 June 2019

নফল নামাজ জামাতে পড়ার বিধান

তাহাজ্জুদ নামায সহ নফল নামায জামাতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী
মাওলানা মুহম্মদ সদরুল আমিন (জগন্নাথপুরী)
তাহাজ্জুদ নামাজ সহ অন্যান্য সকল নফল নামাজ একাকী নিজের আবাস কক্ষে পড়াই সুন্নত। এ বিষয়টি দয়াল নবীজী হুযুর নবীয়ে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার কওলী এবং ফে’লী তথা কর্মগত এবং আমলগত সুন্নত। কোন দিন কোন মুহুর্তে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা উনার কোন ছাহাবী তাহাজ্জুদ নামাজ জামাতে পড়েন নি। এমনকি তাবেয়ী,তাবে তাবেয়ী,ইমাম-মোজতাহিদ গণের কেউই তা করেন নি ।
তাহাজ্জুদ সহ নফল নামাজ একাকী নিজ ঘরেই আদায় করতে হবে। এ ব্যাপারে দয়াল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার নির্দেশ হলো-
ﻋَﻦْ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ ﺛَﺎﺑِﺖٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺍﺣْﺘَﺠَﺮَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺣُﺠَﻴْﺮَﺓً ﻣُﺨَﺼَّﻔَﺔً، ﺃَﻭْ ﺣَﺼِﻴﺮًﺍ، ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻓَﺘَﺘَﺒَّﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺭِﺟَﺎﻝٌ ﻭَﺟَﺎﺀُﻭﺍ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﺑِﺼَﻼَﺗِﻪِ، ﺛُﻢَّ ﺟَﺎﺀُﻭﺍ ﻟَﻴْﻠَﺔً ﻓَﺤَﻀَﺮُﻭﺍ، ﻭَﺃَﺑْﻄَﺄَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺨْﺮُﺝْ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ، ﻓَﺮَﻓَﻌُﻮﺍ ﺃَﺻْﻮَﺍﺗَﻬُﻢْ ﻭَﺣَﺼَﺒُﻮﺍ ﺍﻟﺒَﺎﺏَ، ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻣُﻐْﻀَﺒًﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﻣَﺎ ﺯَﺍﻝَ ﺑِﻜُﻢْ ﺻَﻨِﻴﻌُﻜُﻢْ ﺣَﺘَّﻰ ﻇَﻨَﻨْﺖُ ﺃَﻧَّﻪُ ﺳَﻴُﻜْﺘَﺐُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ، ﻓَﻌَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻓِﻲ ﺑُﻴُﻮﺗِﻜُﻢْ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺧَﻴْﺮَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻤَﺮْﺀِ ﻓِﻲ ﺑَﻴْﺘِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺍﻟﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺔَ . ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ٦١١٣ ، ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ٧٨١ )
অনুবাদঃ বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত যায়দ ইবনু সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরের পাতা দিয়ে, অথবা চাটাই দিয়ে একটি ছোট হুজরা তৈরী করলেন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ঐ হুজরায় রাতে নফল নামাজ আদায় করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় একদল ছাহাবী দয়াল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার খোঁজে এসে উনার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে লাগলেন। পরবর্তী রাতেও ছাহাবায়ে কেরাম সেখানে এসে হাযির হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেরী করলেন এবং তাদের দিকে বেরিয়ে আসলেন না। (উনারা অনেকেই যেহেতু নতুন মুসলমান ছিলেন তাই) তারা উচ্চৈঃস্বরে ডাকতে লাগলেন এবং ঘরের দরজায় করাঘাত করতে লাগলেন। তখন হুযুর নবীয়ে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে তাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেন, তোমরা যা করছ তাতে আমি ভয় করছি যে, এটি না (তারাবীহ) তোমাদের উপর ফরজ করে দেয়া হয়।
(অতঃপর তিনি বললেন)
ﻓَﻌَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻓِﻲ ﺑُﻴُﻮﺗِﻜُﻢْ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺧَﻴْﺮَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﻤَﺮْﺀِ ﻓِﻲ ﺑَﻴْﺘِﻪِ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺍﻟﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺔَ
সুতরাং তোমাদের উচিত যে, তোমরা ঘরেই সালাত আদায় করবে। কারণ ফরজ ছাড়া অন্য সালাত নিজ নিজ ঘরে পড়াই উত্তম। (ছহিহ আল বুখারী হাদিস নং ৬১১৩, ছহিহ মুসলিম হাদিস নং ৭৮১)
অপর হাদিসে নবীজী ফরমান,
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﺃَﻓْﺸُﻮﺍ ﺍﻟﺴَّﻼَﻡَ، ﻭَﺃَﻃْﻌِﻤُﻮﺍ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡَ، ﻭَﺻَﻠُّﻮﺍ ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻧِﻴَﺎﻡٌ ﺗَﺪْﺧُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﺑِﺴَﻼَﻡٍ .
অনুবাদঃ (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, দয়াল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন সকলের সাথে আমিও উনাকে দেখার জন্য গেলাম। তিনি যখন কথা বলা শুরু করলেন, তখন প্রথমেই তিনি বললেন) হে লোক সকল ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান কর এবং মানুষ যখন ঘুমন্ত থাকাবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় কর। তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সহীহ-সালামতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(সুনান তিরমিযি ২৪৮৫, সুনান ইবনু মাযাহ ৩২৫১)
হাদিস শরীফ দু’খানার ভাষ্য অনুযায়ী মর্ম উপলব্দি করা যায়, তাহাজ্জুদ বা রাতের নামাজ একাকী। প্রেমিক আর প্রেমাষ্পদের একান্ত অভিসার। সুতরাং সংগবদ্ধ ভাবে জামাতে তা আদায়ের চিন্তাই করা যায়না।
আমরা মোকাল্লিদ। তাই যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই না করে আসুন দলিল গুলো জেনে নিই। হানাফী মাযহাবে তাহাজ্জুদ নামাজ সহ যাবতীয় নফল নামাজ (অনুমোদিত নামাজের জামাত ছাড়া) জামাতে পড়া মাকরূহ তাহরীমী বিষয়ক আলোচনা নিম্নে প্রদত্ত্ব হলো -
** হানাফী মাযহাবে সর্বজন মান্য নির্ভরযোগ্য ফতওয়ার কিতাব ‘ফতওয়া আল হিন্দিইয়্যাহ’ তথা ‘ফতওয়া আলমগীরী’ কিতাবের তবআতুল কুবরা আল আমিরিইয়্যাহ মিশরের ছাপা ১ম জিলদ ৮৩ নং পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ বইরূতের ছাপা ১ম জিলদ ৯২ নং পৃষ্ঠা, উর্দু অনুবাদ সাইয়্যিদ আমির আলী ১ম জিলদ ২৯৯ নং পৃষ্ঠায় আছে,
ﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉُ ﺑِﺎﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺔِ ﺇﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﺘَّﺪَﺍﻋِﻲ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺻْﻞِ ﻟِﻠﺼَّﺪْﺭِ ﺍﻟﺸَّﻬِﻴﺪِ ﺃَﻣَّﺎ ﺇﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻮْﺍ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺃَﺫَﺍﻥٍ ﻭَﺇِﻗَﺎﻣَﺔٍ ﻓِﻲ ﻧَﺎﺣِﻴَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻟَﺎ ﻳُﻜْﺮَﻩُ، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺷَﻤْﺲُ ﺍﻟْﺄَﺋِﻤَّﺔِ ﺍﻟْﺤَﻠْﻮَﺍﻧِﻲُّ : ﺇﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺳِﻮَﻯ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡِ ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٌ ﻟَﺎ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﺑِﺎﻟِﺎﺗِّﻔَﺎﻕِ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺑَﻊِ ﺍﺧْﺘَﻠَﻒَ ﺍﻟْﻤَﺸَﺎﻳِﺦُ ﻭَﺍﻟْﺄَﺻَﺢُّ ﺃَﻧَّﻪُ ﻳُﻜْﺮَﻩُ . ﻫَﻜَﺬَﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨُﻠَﺎﺻَﺔِ . ‏( ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ ﺝ ١ ﺹ ٨٣ )
অনুবাদঃ ঘোষনা দিয়ে নফল নামাজ জামাতে পড়া মাকরূহ তাহরীমী। সদরুশ শহীদ (রঃ)’র ‘আছল’ কিতাবে আছে, যদি কেউ আযান ইকামত ছাড়া মসজিদের এক কোনায় (দু’এক জন মিলে) জামাত করে তবে মাকরূহ হবেনা। ইমাম শামসুল আইয়িম্মাহ হালওয়ানী (রঃ) বলেন, ইমাম ছাড়া ৩ জন মুকতাদি হলে সকলের ঐক্যমতে মাকরূহ হবেনা আর ৪ জন হয়ে গেলে এখতেলাফ আছে, কিন্তু বিশুদ্ধ মতে মাকরূহ তাহরীমী হবে। যেমন তা খুলাছা কিতাবে আছে ।
** ‘আদ দুররুল মুখতার শরহু তানবীরুল আবসার ওয়া জামিউল বিহার’ দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ মিশরের ছাপা ৯৫ নং পৃষ্ঠায় আছে,
( ﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉَ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺧَﺎﺭِﺝَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ‏) ﺃَﻱْ ﻳُﻜْﺮَﻩُ ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﺘَّﺪَﺍﻋِﻲ، ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﻘْﺘَﺪِﻱَ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٌ ﺑِﻮَﺍﺣِﺪٍ . ‏( ﺩﺭﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﺹ ٩٥ )
অনুবাদঃ রামাদ্বান মাস ছাড়া (ব্যাখ্যা নিচে দেখুন) ঘোষণা দিয়ে ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদি মিলে নফল নামাজের জামাত করা মাকরূহ তাহরীমী।
** ইমাম আলা উদ্দিন আবু বকর ইবনে মাসউদ আল কাসানী আল হানাফী (রঃ) কর্তৃক লিখিত ‘বাদা্যেউস সানায়ে’ কিতাবের ১ম জিলদ ২৮০ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺼَﻠَّﻰ ﻧَﺎﻓِﻠَﺔٌ ﻓِﻲ ﺟَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﺇﻟَّﺎ ﻗِﻴَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ . ‏( ﺑﺪﺍﺋﻊ ﺍﻟﺼﻨﺎﺋﻊ ﻋﻠﻰ ﺗﺮﺗﻴﺐ ﺍﻟﺸﺮﺍﺋﻊ ﺝ ١ ﺹ ٢٨٠ )
অনুবাদঃ রমাদ্বান শরীফের কিয়ামুল লাইল ছাড়া অন্য কোন নফল নামাজ জামাতে পড়বেনা।
** ইমাম মুহম্মদ ইবনে ঈসমাঈল আত তাহতাবী (রঃ) কর্তৃক লিখিত ‘হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ’ দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ কিতাবের ২৮৬ নং পৃষ্ঠায় বলেন,
ﻭﻫﻰ ‏( ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ‏) ﺳﻨﺔ ﻋﻴﻦ ﺍﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﺮﺍﻭﻳﺢ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﺳﻨﺔ ﻛﻔﺎﻳﺔ ﻭﻭﺗﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻓﻴﻪ ﻣﺴﺘﺤﺒﺔ ﻭ ﺍﻣﺎ ﻭﺗﺮ ﻏﻴﺮﻩ ﻭﺗﻄﻮﻋﻪ ﻓﻤﻜﺮﻭﻫﺔ ﻓﻴﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﺘﺪﺍﻋﻲ . ‏( ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺍﻟﻄﺤﻄﺎﻭﻱ ﻋﻠﻰ ﻣﺮﻗﻲ ﺍﻟﻔﻼﺡ ﺹ ٢٨٦
অনুবাদঃ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামায়াতে পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তারাবীহের জামায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আর রমাদ্বান শরীফে বিতর নামায জামায়াতে পড়া মুস্তাহাব। সুতরাং রমাদ্বান শরীফ ব্যতীত বিতরসহ অন্যান্য যাবতীয় নফল নামায ঘোষণা দিয়ে জামায়াতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী।(হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ পৃষ্ঠা ২৮৬)
** ইমাম বদরুদ্দীন আইনী (রঃ) তার লিখিত হেদায়ার শরাহ ‘বেনায়া’ কিতাবের (দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ) ২য় জিলদ ৫৫৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﻨﻔﻞ ﺑﺎﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻣﻜﺮﻭﻫﺔ ﻣﺎ ﺧﻼ ﻗﻴﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺻﻼﺓ ﺍﻟﻜﺴﻮﻑ ﻷﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻬﺎ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ، ﻭﻟﻮ ﻓﻌﻠﻮﺍ ﻻﺷﺘﻬﺮﺕ، ﻛﺬﺍ ﺫﻛﺮﻩ ﺍﻟﻮﻟﻮﺍﻟﺠﻲ . ‏( ﺍﻟﺒﻨﺎﻳﺔ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ ﺝ ٢ ﺹ ٥٥٨ )
অনুবাদঃ রমাদ্বান শরীফের কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ) ও ছালাতুল কুসূফ ব্যতীত সকল নফল নামায জামাতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী। কেননা এটা ছাহাবায়ে কেরামগণ করেন নি। কেউ যদি তা করে থাকে তবে তা বিধি সম্মত হবেনা। যেমন তা ওয়াল ওয়ালিজি নিজ কিতাবে বলেছেন। (আল বেনায়া শরহুল হেদায়া ২য় জিলদ ৫৫৮ নং পৃষ্ঠা)
** ইমাম শামসুল আইয়িম্মাহ সুরুখসী (রঃ) তার ‘মাবসূত’ কিতাবে বলেছেন,
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺻْﻞِ : ﻟَﺎ ﻳُﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺔِ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﺎ ﻗِﻴَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ . ‏( ﻣﺒﺴﻮﻁ ﺷﻤﺲ ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺳﺮﺧﺴﻰ ﺝ ٢ ﺹ ٣٧ )
অনুবাদঃ ইমাম মুহাম্মাদ আশ শাইবানী (রঃ) তার ‘আছল’ নামক কিতাবে বলেছেন, রমাদ্বান শরীফের কিয়ামুল লাইল ছাড়া অন্য কোন নফল নামাজ জামাতে পড়বেনা। (মাবসূত ২য় জিলদ ৩৭ নং পৃষ্ঠা)
উপরুক্ত দলিল সমূহ পরিস্কার রূপে প্রমাণ বহন করে যে, তাহাজ্জুদ সহ নফল নামাজ জামাতে পড়ার অনুমোদন নেই। অবশ্যই তা মাকরূহে তাহরীমী।
উল্লেখ্য, কিয়ামুললাইল বলতে তারাবীহ নামাজই উদ্দেশ্য। কেউ চাইলে তা জামাতে পড়তে পারে আবার একাকিও পড়ে নিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি তারাবীহ নামাজ আদায় করে নেয় এবং পরে দ্বিতীয়বার আবার তারাবীহ পড়ার ইচ্ছা পোষণ করে এক্ষেত্রে সে অবশ্যই একাকী তারাবীহ পড়বে; জামাতে নয়। কেননা দ্বিতীয়বার তারাবীহ জামাতে পড়ার অনুমোদন নেই।
যেমন কিতাবে উল্লেখ আছে,
ﺇﺫَﺍ ﺻَﻠَّﻮْﺍ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢَ ﺛُﻢَّ ﺃَﺭَﺍﺩُﻭﺍ ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻫَﺎ ﺛَﺎﻧِﻴًﺎ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻓُﺮَﺍﺩَﻯ ﻟَﺎ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ؛ ﻟِﺄَﻥَّ ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻴَﺔَ ﺗَﻄَﻮُّﻉٌ ﻣُﻄْﻠَﻖٌ، ﻭَﺍﻟﺘَّﻄَﻮُّﻉُ ﺍﻟْﻤُﻄْﻠَﻖُ ﺑِﺠَﻤَﺎﻋَﺔٍ ﻣَﻜْﺮُﻭﻩٌ . ‏( ﺑﺪﺍﺋﻊ ﺍﻟﺼﻨﺎﺋﻊ ﻋﻠﻰ ﺗﺮﺗﻴﺐ ﺍﻟﺸﺮﺍﺋﻊ ﺝ ١ ﺹ ١٩٠ )
অনুবাদঃ তোমরা যখন তারাবীহ পড়ে নেবে এবং পরে তা আবার পড়ার ইচ্ছা করবে তখন একাকিই আদায় করবে; জামাতে নয়। কেননা দ্বিতীয়বার তা সাধারণ নফল হিসাবে গন্য হবে। আর মুতলক বা সাধারণ নফল জামাতে পড়া মাকরূহে তাহরীমী। (বাদায়েউস সানায়ে ১ / ১৯০)
** বাহরুর রায়েক কিতাবে আল্লামা ইবনে নুজাইম হানাফী (রঃ) বলেন,
ﻭَﻟَﻮْ ﺻَﻠَّﻮْﺍ ﺍﻟﺘَّﺮَﺍﻭِﻳﺢَ ﺛُﻢَّ ﺃَﺭَﺍﺩُﻭﺍ ﺃَﻥْ ﻳُﺼَﻠُّﻮﺍ ﺛَﺎﻧِﻴًﺎ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻓُﺮَﺍﺩَﻯ . ‏( ﺑﺤﺮﺍﻟﺮﺋﻖ ﺷﺮﺡ ﻛﻨﺰ ﺍﻟﺪﻗﺎﺋﻖ ﺝ ٢ ﺹ ٧٤ )
অনুবাদঃ তোমরা যখন তারাবীহ পড়ে নেবে এবং পরে তা আবার পড়ার ইচ্ছা করবে তখন একাকিই আদায় করবে।(বাহরুর রায়েক ২ / ৭৪, আলমগীরী ১ / ১১৬)

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...