কেবলা শব্দটি আরবী। অর্থ হল দিক। উর্দূ ভাষায় শব্দটি বিভিন্ন অর্থে এসেছে। সম্মানিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কেবলা শব্দটি ব্যবহার হয়। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে, কেবলা শব্দটি শুধুমাত্র কাবা শরীফের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে; ইহা ছাড়া অন্য কোন স্থানে কেবলা শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। প্রকৃত পক্ষে এ সব লোকের মন্তব্য সঠিক নয়। অথচ বিভিন্ন অভিধানে কেবলা শব্দটি সম্মানিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন-
১. ﻓﻴﺮﻭﺯ ﺍﻟﻠﻐﺎﺕ অভিধানে ‘কেবলা’ শব্দের বিশ্লেষণ:
প্রসিদ্ধ উর্দূ অভিধান ফিরোজোল্লোগাতের ৯৪৮ পৃষ্ঠায় ‘কেবলা’ শব্দটি মোটামোটি ১৫টি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন-
এক. ﺳﺎﻣﻨﮯ ﻳﺎ ﻣﻘﺎﺑﻞ ﮐﯽ ﭼﻴﺰ - সামনের বস্তুকে কেবলা বলা হয়।
দুই. ﺳﻤﺖ ﮐﻌﺒۃ ﻭﮦ ﺳﻤﺖ ﺟﺪﮨﺮ ﻣﺴﻠﻤﺎﻥ ﻣﻨﮧ ﮐﺮﮐﮯ ﻧﻤﺎﺯ ﭘﮍﮨﺘﮯ ﮨﻴﮟ - কাবার দিক, যে দিকে ফিরে মানুষ নামাজ আদায় করে।
তিন. ﮐﻌﺒۃ - কাবা।
চার. ﮐﻠﻤۃ ﺗﻌﻈﻴﻢ - ﺣﻀﺮﺕ - সম্মানসূচক শব্দ, যেমন- হযরত।
পাঁচ. ﺟﻨﺎﺏ - জনাব (এটাও সম্মানসূচক শব্দ)
ছয়. ﻗﺒﻠۃ ﺍﻧﺎﻡ - ﺳﺐ ﮐﺎ ﻭﺍﺟﺐ ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ - (কেবলায়ে আনাম- সবচেয়ে সম্মানিত
ব্যক্তিকে কেবলায়ে আনাম বলা হয়)
সাত. ﻗﺒﻠۃ ﺣﺎﺟﺎﺕ - ﻟﻮﮔﻮﮞ ﮐﯽ ﺿﺮﻭﺭﺗﻮﮞ ﮐﻮ ﺭﻓﻊ ﮐﺮﻧﮯ ﻭﺍﻻ - (কেবলায়ে হাজাত- মানুষের প্রয়োজন সমূহ যিনি মিটায়ে দেন)
আট. ﻗﺒﻠۃ ﺭﻭ - ﻗﺒﻠۃ ﮐﯽ ﺳﻤﺖ ، ﻭﮦ ﺷﺨﺺ ﻳﺎ ﭼﻴﺰ ﺟﻮ ﻗﺒﻠۃ ﮐﯽ ﻃﺮﻑ ﻣﻨﮧ ﮐﻴﮯ ﮨﻮ - কেবলা রু অর্থাৎ কেবলার দিক, আর এটা হতে পারে কোন ব্যক্তি বা বস্তু যে দিকে
মানুষ মুখ করে বা ফিরায়।
নয়. ﻗﺒﻠۃ ﻋﺎﻟﻢ - ﺳﺎﺭﯼ ﺩﻧﻴﺎ ﮐﺎ ﻗﺒﻠۃ - ﺑﺎﺩﺷﺎﮨﻮﮞ ﮐﺎ ﻟﻘﺐ - কেবলায়ে আলাম- সারা দুনিয়ার কেবলা, আর এটা রাজা-বাদশাহ গণের উপাধি।
দশ. ﻗﺒﻠۃ ﮐﻮﻧﻴﻦ – ﺩﻳﻦ ﻭﺩﻧﻴﺎ ﮐﺎ ﻗﺒﻠۃ - কেবলায়ে কাওনাইন- দীন ও দুনিয়ার কেবলা।
এগার. ﻗﺒﻠۃ ﮔﺎﮦ – ﺑﺠﺎﮰ ﻗﺒﻠۃ، ﻭﺍﻟﺪ ﻣﺎﺟﺪ، ﺑﺰﺭﮒ - কেবলায় গাহ- স্থানের কেবলা,
সম্মানিত পিতা, বুযুর্গ ব্যক্তি।
বার. ﻗﺒﻠۃ ﻧﻤﺎ - ﻗﺒﻠۃ ﮐﯽ ﺳﻤﺖ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﮐﺮﻧﮯ ﮐﺎ ﺍﻟﮧ - কেবলা নামা- কেবলার দিক নির্ণয়ের যন্ত্র বিশেষ।
তের. ﻗﺒﻠۃ ﻭﮐﻌﺒۃ - ﮐﻠﻤۃ ﺗﻌﻈﻴﻢ ﻭﺗﮑﺮﻳﻢ - কেবলা ওয়া কাবা- সম্মানসূচক শব্দ।
চৈদ্দ. ﻗﺒﻠۃ ﻭﮐﻌﺒۃ ﺳﻤﺠﮩﺎ - ﺗﻌﻈﻴﻢ ﮐﯽ ﻻﺋﻖ ﺟﺎﻧﻨﺎ - কেবলা ওয়া কাবা সামঝা- অর্থাৎ
সম্মানের উপযুক্ত মনে করা।
পনের. ﻗﺒﻠۃ ﮨﻮ ﺗﻮ ﻣﻨﮧ ﻧﮧ ﮐﺮﻭﮞ - ﮐﻤﺎﻝ ﺑﻴﺰﺍﺭﯼ ﻭﻧﻔﺮﺕ ﮐﮯ ﺍﻇﮭﺎﺭ ﮐﮯ ﻟﺌﮯ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ - কেবলা হো তো মুহ নাহ্ করো- পরিপূর্ণ অসন্তুষ্টি ও বিষন্নতা প্রকাশের জন্য বলা হয়।
২. ﺟﺎﻣﻊ ﺍﻟﻠﻐﺎﺕ অভিধানে ‘কেবলা’ শব্দের বিশ্লেষণ:
ﺟﺎﻣﻊ ﺍﻟﻠﻐﺎﺕ -এর ১ম খন্ডের ৯৪ পৃষ্ঠায় এসেছেÑ
ﻗﺒﻠۃ - ﺻﺎﺣﺐ ﻗﺪﺭ ﻭﻣﻨﺰﻟﺖ ﻧﺠﯿﺐ ﻭﺍﺻﯿﻞ، ﺍﯾﺮﺍﻥ ﮐﺎ ﺍﯾﮏ ﺷﮩﺮ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ، ﺣﺎﮐﻢ ﻣﮑۃ ﻣﻌﻈﻢ ﮐﺎ
‘কেবলা অর্থ- মর্যাবান ও সম্মানিত ব্যক্তি, বুযুর্গ, উত্তম বংশীয় মানুষ, ইরানের একটি শহরের নাম কেবলা, মক্কা শরীফের শাসকের উপাধিও কেবলা।’
অতএব বুঝা গেল, সম্মানিত ও বুযুর্গ ব্যক্তির নামের সাথে কেবলা শব্দ ব্যবহার বৈধ।
৩. ﻓﺮﮬﻨﮓ ﺟﺪﯾﺪ অভিধানে ‘কেবলা’ শব্দের বিশ্লেষণঃ
কেবলা শব্দের ব্যাখ্যায় ফরহাঙ্গে জাদিদ অভিধানে এসেছেÑ
ﻗﺒﻠﺔ-(কেবলা) আ: না: পুং; সম্মানের জিনিস, কাবার দিক; যে দিকে ফিরে মানুষ নামাজ পড়ে, হযরত, জনাব।
৪. মাও. মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. ‘কেবলা’ শব্দ ব্যবহার করেছেনঃ
মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. স্বীয় পীর মাওলানা রশীদ আহমাদ রহ. এর শোকগাথায় লিখিত ‘মরসীয়া’ নামক পুস্তিকার ৭ম পৃষ্ঠায় স্বীয় পীরকে কেবলায়ে হাযাত সম্বোধন করে লিখেছেনÑ
ﺣﻮﺍﺋﺞ ﺩﯾﻦ ﺩﻧﯿﺎ ﮐﯽ ﮐﮩﺎﮞ ﻟﯿﺠﺎﮮ ﮨﻢ ﯾﺎ ﺭﺏ
ﮔﯿﺎ ﻭﮦ ﻗﺒﻠۃ ﺣﺎﺟﺎﺕ ﺭﻭﺣﺎﻧﯽ ﻭﺟﺴﻤﺎﻧﯽ
উপরোক্ত কবিতার লাইন দুটিতে মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. স্বীয় পীরকে কেবলায়ে হাযাত বলে সম্বোধন করেছেন।
৫. বেহেস্তী জেওরে ‘কেবলা’ শব্দের ব্যবহারঃ
সুপ্রসিদ্ধ ফতোয়ার কিতাব বেহেস্তী জেওরে পত্রের শিরোনামে বুযুর্গ ও ওস্তাদের নামের সাথে কেবলা ও কাবা লেখার কায়দা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। (পুরাতন মুদ্রিত কিতাব দ্রষ্টব্য)
৬. মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক (র.)-এর লিখিত কিতাবে ‘কেবলা’ শব্দের ব্যবহারঃ
চরমোনাইর মরহুম পীর মাও. সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক (র.)-এর কর্তৃক লিখিত কিতাব ‘তাফসীরে আমপারা’ (আল এছহাক প্রকাশনী, সংশোধিত সংস্করণ; কার্তিক, ১৩৯৫ সাল) যা আজ থেকে প্রায় ২৭ বছর পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। পুরাতন ছাপার এই কেতাবের ১৪৩ নং পৃষ্ঠায় তিনি স্বীয় পীরের নামের শুরুতে ‘কেবলা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।
# Imam Hossain, কেবলা বলতে প্রধানত কাবা শরীফের দিককে বুঝানো হয়। কেবলার আরো অর্থ রয়েছে। কেবলা বলতে দৃষ্টি বা মনোযোগের কেন্দ্রকেও বুঝানো হয়। হুযূর কেবলা বলা হয়, যেহেতু সব সুন্নীদের, বিশেষ আমরা মুরিদদের দৃষ্টি এবং মনোযোগের কেন্দ্র হচ্ছেন ইমামে আহলে সুন্নাত, আল্লামা হাশেমী হুযূর কেবলা।
No comments:
Post a Comment