Friday, 26 June 2020

রফউল ইয়াদাইন

রফউল ইয়াদাইন-এর ব্যাপারে বিশিষ্ট তাবিঈনে কিরামের আমল

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ حَسَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: «صَلَّيْتُ مَعَ عُمَرَ، فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا حِينَ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ» قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ : وَرَأَيْت الشَّعْبِيَّ ، وَإِبْرَاهِيمَ ، وَأَبَا إِسْحَاقَ ، لاَ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلاَّ حِينَ يَفْتَتِحُونَ الصَّلاَةَ.

হাদীস নম্বর-১১৯ : হযরত আছরয়াদ রহ. বলেন: আমি হযরত উমার রা.-এর সাথে নামায পড়েছি। তিনি নামায শুরু করার সময় ব্যতীত নামাযে আর কোথাও হাত উঠাননি। আব্দুল মালেক বলেন: আমি শা’বী, ইবরাহীম ও আবু ইসহাককে দেখেছি: তাঁদের কেউ নামাযের শুরু ব্যতীত হাত উঠাননি। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬৯, ত্বহাবী: ১৩৬৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের ثقة “নির্ভরযোগ্য”  রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: وَهَذَا رِجَاله ثِقَات “এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (আদ দিরায়াহ: ১৮১ নম্বর হাদীসের আলোচনায়)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার রা. নামাযের শুরুতে শুধু একবার হাত উঠাতেন। আর বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত ইমাম শা’বী, ইবরাহীম নাখঈ এবং আবু ইসহাক রহ.ও নামাযের শুরুতে শুধু একবার হাত উঠাতেন।

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ وَأَصْحَابُ عَلِيٍّ لاَ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلاَّ فِي افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ ، قَالَ وَكِيعٌ : ثُمَّ لاَ يَعُودُونَ.

হাদীস নম্বর-১২০ : হযরত আবু ইসহাক রহ. বলেন: হযরত আলী বিন আবী তালিব এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর ছাত্রগণ শুধু নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬১)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : হযরত আলী রা.-এর ছাত্রদের নামের যে তালিকা ইমাম মিজ্জী রহ. ‘তাহজীবুল কামাল’-এ পেশ করেছেন তার সংখ্যাই ৩৫৪ জন। এর মধ্যে অনেক সাহাবায়ে কিরামও রয়েছেন এবং তাবিঈগণও রয়েছেন। এর উপর হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর ছাত্রদেরকে হিসেব করা হলে এর পরিমাণ আরও কোথায় গিয়ে পৌঁছবে আল্লাহই ভালো জানেন। সহীহ হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী এরা সবাই-ই কেবল নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন। এরপরে আর উঠাতেন না।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ ، عَنْ إسْمَاعِيلَ ، قَالَ : كَانَ قَيْسٌ يَرْفَعُ يَدَيْهِ أَوَّلَ مَا يَدْخُلُ فِي الصَّلاَةِ ، ثُمَّ لاَ يَرْفَعُهُمَا.

হাদীস নম্বর-১২১ : হযরত ইসমাঈল বিন আবী খালিদ বলেন: হযরত কয়েস বিন আবী হাযেম রহ. নামাযের শুরুতে প্রথমে হাত উঠাতেন; এরপরে আর উঠাতেন না। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত কয়েস বিন আবী হাযেম রহ. শুধু নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন এরপরে আর উঠাতেন না।

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هُشَيْمٍ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ مُسْلِمٍ الْجُهَنِيِّ ، قَالَ : كَانَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى يَرْفَعُ يَدَيْهِ أَوَّلَ شَيْءٍ إذَا كَبَّرَ.

হাদীস নম্বর-১২২ : হযরত আব্দুর রহমান বিন আবী লাইলা রহ. নামাযের শুরুতে তাকবীর দেয়ার সময় হাত উঠাতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬৬)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত আব্দুর রহমান বিন আবী লাইলা রহ. শুধু নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন।

রুকু-সিজদার সময়ে হাত উঠানোর ব্যাপারেও বেশ কিছু সহীহ হাদীস বুখারী-মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর ওপর আমল করায় কোন দোষ নেই। তবে হানাফী মাজহাবের ইমামগণের অনুসন্ধান অনুযায়ী নি¤œবর্ণিত কারণে রুকু-সিজদার সময়ে হাত না উঠানোর হাদীস আমলের জন্য বেশী উপযোগী।
(১৪) عَنْ أَبِىْ إِسْحَاقَ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ وَأَصْحَابُ عَلِىٍّ لاَ يَرْفَعُوْنَ أَيْدِيْهِمْ إِلاَّ فِىْ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ قَالَ وَكِيْعٌ ثُمَّ لاَ يَعُوْدُوْنَ.

(১৪) আবু ইসহাক্ব বলেন, আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসঊদ) ও আলী (রাঃ)-এর সাথীরা কেউই ছালাতের শুরুতে ছাড়া তাদের হাত উঠাতেন না। ওয়াকী বলেন, তারা আর হাত উঠাতেন না।[48]

তাহক্বীক্ব : উক্ত বর্ণনাও মুনকার। কারণ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর পক্ষে কিছু বর্ণনা পাওয়া গেলেও আলী (রাঃ) সম্পর্কে রাফ‘উল ইয়াদায়েন করার স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।[49] সুতরাং উপরের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

عَنْ عَلِىِّ بْنِ أَبِىْ طَالِبٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ  أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوْبَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَيَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا قَضَى قِرَاءَتَهُ وَأَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَيَصْنَعُهُ إِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوْعِ وَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِى شَىْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَإِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ كَذَلِكَ وَكَبَّرَ.

আলী (রাঃ) রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি যখন ফরয ছালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করতেন। যখন তিনি ক্বিরাআত শেষ করতেন ও রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখনও তিনি অনুরূপ করতেন। যখন তিনি রুকূ থেকে উঠতেন তখনও তিনি অনুরূপ করতেন। তবে বসা অবস্থায় তিনি রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন না। কিন্তু যখন তিনি দুই রাক‘আত শেষ করে দাঁড়াতেন, তখন অনুরূপ রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। [50]

সুধী পাঠক! যারা উক্ত মিথ্যা বর্ণনার পক্ষে উকালতি করেন, তারা কি আলী (রাঃ)-কে রাসূল (ছাঃ)-এর অবাধ্য প্রমাণ করতে চান?

(১৫) عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِىْ أَوَّلِ تَكْبِيْرَةٍ ثُمَّ لَا يَعُوْدُ.

(১৫) আসওয়াদ (রাঃ) বলেন, আমি ওমর (রাঃ)-কে একবার দুই হাত উত্তোলন করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি আর করতেন না।[51] উল্লেখ্য যে, উক্ত মর্মে ওমর (রাঃ)-এর নামে আরো কিছু বর্ণনা এসেছে।[52]  

তাহক্বীক্ব : উক্ত বর্ণনা যঈফ। ইমাম হাকেম বলেন, ‘বর্ণনাটি অপরিচিত। এর দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যাবে না’।[53] যদিও ইমাম তাহাবী তাকে বিশুদ্ধ বলতে চেয়েছেন।[54] কিন্তু ইবনুল জাওযী তার দাবীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।[55] মূলতঃ ওমর (রাঃ)-এর নামে এ সমস্ত বর্ণনা উল্লেখ করাই মিথ্যাচার। কারণ ওমর (রাঃ) রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِى الرُّكُوْعِ وَعِنْدَ الرَّفْعِ مِنْهُ.

ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ওমর (রাঃ) রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ থেকে উঠার সময় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতেন।[56]

48]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/২৪৬১, ১/২৬৭। [49]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৭৪৪; বায়হাক্বী, আন-সুনানুল কুবরা আল-জাওহারুন নাক্বী সহ হা/২৬৩৭, ২/৮০ পৃঃ; ১০ নং হাদীছের আলোচনা দ্রঃ। [50]. ছহীহ আবুদাঊদ হা/৭৪৪, ১/১০৯ পৃঃ। [51]. ত্বাহাবী হা/১৩৬৪, ১/১৩৩ পৃঃ; নবীজীর স. নামায, পৃঃ ১৮৪; মাযহাব বিরোধীদের স্বরূপ সন্ধানে, পৃঃ ২৮০। [52]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হা/২৪৫৪, ১/২১৪ পৃঃ। [53]. هَذِهِ رِوَايَةٌ شَاذَّةٌ لَا يَقُوْمُ بِهَا حُجَّةٌ -তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৯৫ পৃঃ। [54]. ত্বাহাবী হা/১৩৬৪, ১/১৩৩ পৃঃ। [55]. আল-বাদরুল মুনীর ৩/৫০১ পৃঃ- هَذَا الْأَثر عَن عمر لَا يَصِحُّ عَنهُ وَفِي ذَلِك رد عَلَى تَصْحِيْحِ الطَّحَاوِيّ لَهُ। [56]. বায়হাক্বী, মা‘আরিফুস সুনান ২/৪৭০; সনদ ছহীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৯৫ পৃঃ।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...