৭ অক্টোবর ২০১৮
(মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের টাইমলাইন থেকে কপি কৃত)
হাফেজ মুনির উদ্দিনের নামে বে-টার্মিনালের নামকরণে সিটি মেয়রের কাছে স্মারক লিপি।।
চট্টগ্রামের হালিশহরে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া বে-টার্মিনালটি হযরত হাফেজ ছৈয়দ মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন নুরুল্লাহ্ (রহঃ) নামে নামকরণের দাবী জানিয়েছেন হুজুরের ভক্ত মুরিদান ও আশেকানগণ।
এ দাবী বাস্তবায়নে আজ বিকালে চসিক মেয়র দপ্তরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে হুজুরের দুই হাজার ভক্ত,মুরিদান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেয়রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হুজুরের ভক্ত মুরিদানগণ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বন্দর থানাধীন ৩৭নং হালিশহর মুনির নগর ওয়ার্ডে উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল “হালিশহর দরবার শরীফের” প্রতিষ্ঠাতা খাজায়ে বাংলা, পীরে মোকাম্মেল, সোলতানুল আউলিয়া, কুতুবুল এরশাদ হযরত হাফেজ ছৈয়দ মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন নুরুল্লাহ্ (রহঃ) প্রকাশ হযরত হাফেজ ছাহেব হুজুর (রহঃ) শায়িত আছেন। এই ছিলছিলার লক্ষ লক্ষ মুরিদান, ভক্ত ও আশেকান সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে যখন অনেক দরবার শরীফ, পীর-মাশায়েখ স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন এবং নিশ্চুপ ছিলেন। তখন “হালিশহর দরবার শরীফের” হযরত কাজী ছাহেব হুজুর (রহঃ) স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে প্রকাশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। পাঞ্জাবীদের ক্যাম্প ছিল “হালিশহর দরবার শরীফের” ৩০০/৪০০ গজের মধ্যে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ‘বাবর’ এর গোলার আঘাতে “হালিশহর দরবার শরীফ” এর বাড়ী ঘর সহ এলাকার জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাট্টলীর পুরাতন খামার ও ডাঙ্গারচরে হযরত কাজী ছাহেব হুজুর (রহঃ)’র খামার বাড়ী ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়কেন্দ্র। এ আশ্রয় কেন্দ্র ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল। ৭০ এর নির্বাচনে আনন্দবাজার ভোট কেন্দ্রে মরহুম এম. এ. আজিজকে নৌকা প্রতীকে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন হযরত কাজী ছাহেব হুজুর (রহঃ)। এই দরবারের প্রজন্মগণ ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে অবস্থান অক্ষুন্ন রেখেছে। তবে কখনও এটাকে পুঁজি করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।
বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে “হালিশহর দরবার শরীফের” হুজুরের উছিলায় বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা বা কেরামত সংঘটিত হয়েছিলো যার কয়েকটি হযরত মালেক শাহ্ হুজুর (রহঃ) মজ্জুব হালতে প্রকাশ করেছিলেন।
হযরত হাফেজ ছাহেব হুজুর (রহঃ) এর জীবদ্দশায় ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে কোন একসময়ে তৎকালীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান “হালিশহর দরবার শরীফে” এসেছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে হযরত হাফেজ ছাহেব হুজুর (রহঃ) বলেছিলেন, “ও-বা শেখ মুজিব, তুঁই সাবধানে থাইক্যো, তুঁয়ারে দিয়েনে এই দেশের বড়ো উপকার হইবো। ১৯৯১ সালের ২০মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “হালিশহর দরবার শরীফে” জেয়ারত করেন।
চট্টগ্রামে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া বে-টার্মিনালটি হযরত হাফেজ ছৈয়দ মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন নুরুল্লাহ (রহঃ) ’র নামানুসারে করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
স্মারকলিপি প্রদানের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে সিটি মেয়র বলেন, হযরত হাফেজ ছাহেব হুজুরের অসংখ্য মুরিদান,আশেকানগণ ইসলামের পবিত্র দ্বীনি দাওয়াত এবং সুফিবাদ প্রচার করে মানব জাতিকে কল্যাণ ও মুক্তির পথ দেখিয়ে গেছেন। এসব খলিফাদের মধ্যে হালিশহর দরবার শরীফের কুতুবুল আক্তাব, পীরে মোকাম্মেল, শামশুল ওলামা হযরত মৌলানা কাজী ছৈয়দ মুহাম্মদ ছেরাজুল মোস্তাফা (রহঃ) প্রকাশ হযরত কাজী ছাহেব হুজুর (রহঃ), কুতুবদিয়ার “কুতুব শরীফ দরবার” এর প্রতিষ্ঠাতা হযরত মৌলানা আব্দুল মালেক শাহ (রহঃ) প্রকাশ হযরত মালেক শাহ হুজুর (রহঃ), রাউজানের “কাগতিয়া দরবার শরীফের” প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ মৌলানা তফাজ্জল আহম্মদ মুনিরী (রহঃ), আ’মলে নাজাতের লিখক হযরত মাষ্টার মোজাম্মেল শাহ্ (রহঃ), ফটিকছড়ির হযরত মৌলানা মীর আহম্মদ মুনিরী (রহঃ) প্রকাশ হযরত বড় মৌলানা হুজুর (রহঃ), লক্ষ্যাচরের হযরত মৌলানা আলতাফুর রহমান মুনিরী (রহঃ), আনোয়ারার শাহ্ ছুফী হযরত মৌলানা আহম্মদ হাছান (রহঃ) প্রকাশ বড় হুজুর (রহঃ) ও বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মৌলানা আকতার শাহ্ (রহঃ) উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরো বলেন, দেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহ জালাল (রা.)’র নামে নামকরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহ আমানত (রা.)’র নামে নামকরণ করা হয়েছে। ভৌগলিকগত ভাবে চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালটি হযরত হাফেজ ছাহেব হুজুরের রওজা শরীফ হালিশহর এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে অসংখ্য আশেকান, মুরিদানের হুজুরে পাক পীরে মোকাম্মেল, সোলতানুল আউলিয়া, কুতুবুল এরশাদ হযরত হাফেজ ছৈয়দ মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন নুরুল্লাহ্ (রহঃ) নামানুসারে বে-টার্মিনালের নামকরণ যৌক্তিক দাবী রাখে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন- এ এইচ এ মুনির উদ্দিন,সৈয়দ মো. আফতাব উদ্দিন মুনিরী,সৈয়দ মো. এনামুল হক মুনিরী,সৈয়দ মো. মিনহাজুল হক মুনিরী,সৈয়দ মো. আরমানুল হক মুনিরী,মো. এনামুল হক ও মো.হারুণ অর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।
No comments:
Post a Comment