Tuesday, 21 July 2020

মহরে ফাতেমী

মোহরানা স্ত্রীর অধিকার। এ অধিকার থেকে নারীকে বঞ্চিত করা জুলুম ও অন্যায়। হানাফি মাজহাব মতে, মোহরানা ১০ দিরহামের কম হতে পারবে না। ১০ দিরহামের পরিমাণ বর্তমান হিসাবে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রুপা। আর মোহরানা স্বামীর সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে হতে পারবে না। স্ত্রীর বংশের ও তাঁর সমমানের মেয়েদের মোহরানার পরিমাণ বিবেচনা করাও উচিত। মোহরানার সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণ ইসলাম নির্ধারণ করেনি। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৫, মিরকাতুল মাফাতিহ : ৬/৩৫৮)
উম্মে হাবিবা (রা.) ছাড়া নবী (সা.)-এর অন্য স্ত্রীর মোহরানা ছিল পাঁচ শ দিরহাম, যা প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী ১৩১.২৫ ভরি খাঁটি রুপা বা তার সমপরিমাণ বাজারমূল্য। যেহেতু পরিমাণ নির্ধারণে ইসলামী বিশেষজ্ঞদের ভেতর সামান্য মতবিরোধ রয়েছে, তাই সতর্কতামূলক পূর্ণ ১৫০ ভরি ধরাই ভালো। উম্মে হাবিবা (রা.)-এর মোহরানা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে হাবশার বাদশা নাজ্জাশি আদায় করেছিলেন চার শ দিনার, যা বর্তমান হিসাবে দেড় শ ভরি খাঁটি স্বর্ণ, অন্য বর্ণনা মতে, চার শ দিরহাম রুপা। (মুসলিম, হাদিস : ১৪২৬, তিরমিজি, হাদিস : ১১১৪, আবু দাউদ : ২১০৮, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১৬৩৮৬)
মোহরে ফাতেমির বিধান ও তার বাজারদর:- স্ত্রীর সম্মান ও স্বামীর সাধ্যানুযায়ী মোহরানা ধার্য করা সুন্নত। শুধু মোহরে ফাতেমিকেই সুন্নত মনে করা সঠিক নয়। তবে মোহরে ফাতেমি ধার্য করা বরকতময় ও উত্তম। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, মোহরে ফাতেমির পরিমাণ পাঁচ শ দিরহাম তথা ১৩১.২৫ ভরি (এক কেজি ৫৩০.৯০০ গ্রাম) খাঁটি রুপা অথবা এর বাজারমূল্য। সতর্কতামূলক ১৫০ তোলা খাঁটি রুপার কথা বলা হয়ে থাকে। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ২৭৪২; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৩/২১৫; ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : ৮/২৩১)(কালেৱ কন্ঠ, ১৬ জুলাই ২০২০)

মহরে ফাতেমী না। বরং প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী মহর দেয়াই শরীয়তের নির্দেশ। সাহাবা তাবেয়ীন গন তাদের সামর্থ্যের বিষয়টাকেই প্রাধান্য দিতে। মহরে ফাতেমীর ব্যাপক প্রচলন কুরুনে ছালাছার মধ্যে ছিলোনা। তবে কেউ রাসূল সাঃ এর মহরের সাথে সাদৃশ্যের আশায় এই পরিমান মহর নির্ধারণ করতে পারে। 
দেখুন: রদ্দুর মুহতার : ৩/১০০, ফাতাওয়ায়ে ফকীফুল মিল্লাত : ৬/২৩৭

রাসূল সাঃ তার সামর্থ্য ও অন্যান্য সামগ্রিক বিষয়ের বিবেচনায় স্ত্রীদেরকে পাঁচশ দিরহাম করে মহর দিয়েছেন। 
روى مسلم في "الصحيح " رقم (1426)عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أنه قال : سألت عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم كما كان صداق رسول الله صلى الله عليه وسلم . قالت : كان صداق لأزواجه ثنتي عشرة أوقية ونشّاً . قال أتدري ما النَّشُّ . قال قلت لا قالت : نصف أوقية : فتلك خمس مائة درهم فهذا صداق رسول الله صلى الله عليه وسلم لأزواجه .
قال العلامة ابن خلدون :
فاعلم أن الإجماع منعقد منذ صدر الإسلام وعهد الصحابة والتابعين : أن الدرهم الشرعي هو الذي تزن العشرة منه سبعة مثاقيل من الذهب ، والأوقيَّة منه : أربعين درهماً ، وهو على هذا سبعة أعشار الدينار .. .. وهذه المقادير كلها ثابتة بالإجماع .
" مقدمة ابن خلدون " ( ص 263 ) .

তবে একে সুন্নাহ মনে করা এবং বাড়াবাড়ি করা বিদআত। এদেশে মহরে ফাতেমীর ব্যাপারে বেশ প্রান্তিকতা লক্ষ্যণীয়। এ ব্যাপারে সতর্কতা কাম্য।

মহরে ফাতেমী সুন্নত মুস্তাহাব নয়। এবং এর কোন আলাদা ফযীলত বর্নিত নেই। তাই সামর্থ্যহীন হওয়া সত্ত্বেও কাউকে এই পরিমান মহর দিতে বাধ্য করা জুলুম। আবার মহরে ফাতেমীর কথা বলে কোন উচ্চবংশীয়া ধনাঢ্য নারীর বিয়েতে মহর কম করাও জুলুম। (সে নিজেই এতে আগ্রহী হলে ভিন্ন কথা) 
যা আবশ্যক না তাকে আবশ্যক মনে করা ভ্রান্তি। 
শুধুমাত্র আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকে রাসূলের সাথে সাদৃশ্যের ইচ্ছায় উভয়পক্ষের আন্তরিক সম্মতিতে মহরে ফাতেমী নির্ধারিত হলে তা গ্রহনযোগ্য।

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...