Saturday, 15 May 2021

মৃত্যুর পর বর্জনীয় কাজ

 

মৃত্যুর পর বর্জনীয় কাজঃ
(১) কারো ইন্তিকালের পর তার লাশ মাটির উপর রাখবে না বরং কোন খাটিয়ার উপর রাখবে। (আদ দুররুল মুখতার-৩/ ৮৪)
(২) সবরের পরিপন্থী কোন আচরণ কারো থেকে প্রকাশ না পায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে।
যেমন: বড় আওয়াজে ক্রন্দন করা, পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেড়ে ফেলা, মাথা-বুক চাপড়ানো, জাহিলী যুগের শব্দ মুখে উচ্চারণ করা ইত্যাদি থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে।
কারণ, এর ফলে মৃত ব্যক্তিকে অনেক ক্ষেত্রে আযাব ভোগ করতে হয়। তবে অন্তর ব্যথিত হওয়া এবং মৃত্যুশোকে চোখ দিয়ে অশ্রু বের হওয়া সবর পরিপন্থী নয়, বরং তা সুন্নাত।
স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র হযরত ইবরাহীম রা.-এর ইন্তিকালের পর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখ দিয়ে পানি বের হয়েছে। (বুখারী শরীফ-হাদীস নং-৬২৯৪, তিরমিযী শরীফ-হাদীস নং- ৯৮৪)
(৩) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার পূর্বে তার পাশে বসে কুরআন তিলাওয়াত করবে না বরং সওয়াব রেসানীর জন্য কুরআন খানী করতে চাইলে তা অন্য স্থানে করবে।
তবে তা বিনা পারিশ্রমিকে হওয়া জরুরী। (আদ্ দুররুল মুখতার-৩/ ৮৩, রহীমিয়াহ-৮/ ১৯৭)
(৪) ইন্তিকালের পরও পর্দার বিধান বহাল থাকে। তাই জীবদ্দশায় যাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নাজায়েয ছিল তারা মৃত ব্যক্তিকে দেখতে পারবে না।
সুতরাং বেগানা পুরুষের লাশ বেগানা মহিলাদের জন্য দেখা নিষেধ, তেমনিভাবে বেগানা মহিলার লাশ বেগানা পুরুষের জন্য দেখা নিষেধ। তবে স্বামীর-স্ত্রীর মৃত্যুর পর একে অপরের চেহারা দেখতে পারবে।
(সূরা নিসা, আয়াত-২২, ফাতাওয়ায়ে শামী, ২/ ১৯৫-১৯৮/ আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/ ২১৯/ ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া, ২/ ৩৯৮)
এমনিভাবে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে যাদের পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ নাজায়েয, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। এ জাতীয় হারাম কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে।
(৫) অনেকে মৃত ব্যক্তির ছবি উঠিয়ে তা সংরক্ষণ করে এবং পত্রিকায় দেয়, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, বিধায় তা থেকে বিরত থাকবে। (আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২১৯)
(৬) মৃত ব্যক্তির পশম, গোঁফ, নখ, কর্তন করবে না। এমনিভাবে তার চুল দাড়ি আঁচড়ানো থেকেও বিরত থাকবে। সমাজের অনেক মূর্খ লোক মৃতব্যক্তির নাভীর নীচের পশম কাটাকে সুন্নাত মনে করে তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। (আদ্ দুররুল মুখতার-২/ ১৯৮)
(৭) মৃত্যুর পরে বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের দেশে দাফনে যে দেরী করা হয় তা শরীআত সম্মত নয়। কারণ, শরীআতে মুর্দাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্পষ্ট অনেকগুলো হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং বেশি দেরী করার অবকাশ নেই।
কাজেই মায়্যিতের ছেলে মেয়েদের উপস্থিতির জন্য দাফনে দেরী করা ঠিক নয়; বরং তারা অনুপস্থিত থাকলেও উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন তাৎক্ষণিকভাবে দাফন কার্য শেষ করে ফেলবে, পরে তারা এসে কবর যিয়ারত করবে এবং দু‘আ করবে। তারা দূরে থাকে এবং এসে দেখবে- এই অজুহাতে তাদের জন্য দাফনে বিলম্ব করা যাবে না। (তিরমিযী শরীফ-১/ ২০৬)
(৮) অনেকে মায়্যিতের চেহারা দেখানোর জন্য অনেক সময় নষ্ট করে; অথচ এর জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা ঠিক নয় বরং স্বাভাবিক কাজ কর্মের মধ্যে এটা সেরে নেয়া কর্তব্য বা একান্ত জরুরত পড়লে কাফন পরানোর পর জানাযার পূর্বে অল্প সময়ের মধ্যে দেখিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু জানাযার পর বা কবরে শুইয়ে দেখানো উচিত নয়। এর মধ্যে কয়েক রকমের ক্ষতি রয়েছে। (আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২১৯)
(৯) অনেকে জানাযার জামাআতে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য নানা অজুহাত পেশ করে থাকে। যেমন তারা বলে থাকে যে, এখন সকাল আট ঘটিকায় জানাযা পড়লে জানাযায় লোক সংখ্যা বেশি হবে না।
সুতরাং বাদ জোহর- বাদ জুমুআ জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হবে। তাদের এ কথাও শরীআত সম্মত নয়। মৃত্যুর এ’লানের পর কারো জানাযায় যদি বেশি লোক উপস্থিত হয়, তাহলে এটা তার ভাগ্যের বিষয় এবং ফযীলতের জিনিস।
কিন্তু তাই বলে জানাযার নামাযে বেশি লোক হাজির করার জন্য জানাযার নামায এত বিলম্ব করার অনুমতি নেই।
এটা গুনাহের কাজ। গুনাহের কাজ করে বেশি লোক হাজির করার দ্বারা মায়্যিতের তো কোন ফায়দা হবেই না;
বরং কবরে মু’মিনের জন্য প্রস্তুতকৃত জান্নাতের বিছানা, জান্নাতের লেবাস, জান্নাতের হাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।
মৃত ব্যক্তি আমাদের কারো মা হতে পারে, বাপ হতে পারে, ভাই হতে পারে, বোন হতে পারে; কিন্তু তারা কেউ তো আমাদের বান্দা নয়, বান্দা তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের।
শরীআতের হুকুম লঙ্ঘন করে দাফনে বিলম্ব করলে আল্লাহর নিকট আমাদের জবাবদিহী করতে হবে।
শুধু তাই নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঐ মৃত ব্যক্তির নিকটও জবাবদিহী করতে হবে।
সুতরাং শরীআতের হুকুম লঙ্ঘন করে দাফনে বিলম্ব করলে আল্লাহর নিকট আমাদের জবাবদিহী করতে হবে।
শুধু তাই নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঐ মৃত ব্যক্তির নিকটও জবাবদিহী করতে হবে।
সুতরাং শরীআতের হুকুম অমান্য করে তার জানাযা ও দাফনে বিলম্ব করে জান্নাতের বিভিন্ন নিআমত থেকে তাকে বঞ্চিত করার অধিকার আমাদের নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২৪২)
(১০) অনেক লোককে দেখা যায়- তারা মৃত্যুর পর লাশ দেশের বাড়িতে বাপ-মায়ের সাথে দাফন করার ওসিয়্যত করে যায়। অথচ এরূপ ওসিয়্যত করা শরীআত সম্মত নয়, এবং অন্যদের জন্য সে ওসিয়্যত পূর্ণ করাও ঠিক নয়।
অনেকে এ ধরনের ওসিয়্যত ছাড়াও নিজের আত্মীয়-স্বজনের লাশ দেশের বাড়িতে নিয়ে যায়।
এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যায়, বিদেশ থেকে দেশে নিয়ে আসে। অথচ এগুলো দাফনে বিলম্ব হওয়ার কারণ হওয়ায় এ সব কাজ নিষেধ।
শরীআতের ফয়সালা হল, যে ব্যক্তি যে স্থানে বা যে শহরে মারা গেল, তাকে তৎপার্শ্ববর্তী মুসলমানদের কোন গোরস্থানে দাফন করে দিতে হবে। লাশ দূরবর্তী কোন স্থানে স্থানান্তর করা যাবে না। কারণ, এতে দাফন বিলম্বিত হয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়। তাছাড়া অনেক টাকা-পয়সারও অপচয় হয়। সুতরাং তা কঠোরভাবে পরিত্যাজ্য।
উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অথচ এসব ব্যাপারে বেশি শৈথিল্য লক্ষ্য করা যায়।
কাজেই প্রত্যেকেরই উচিত (বিশেষ করে বিশিষ্ট উলামাদের কর্তব্য হচ্ছে) নিজের সন্তানাদি, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়দেরকে সুস্থ অবস্থায় মাসআলাটি বুঝিয়ে আমল করার জন্য জোর তাগীদ দিয়ে যাওয়া, যাতে তার আত্মীয়রা এরূপ গর্হিত কাজগুলো না করে।
এছাড়াও কাফন-দাফনে বিলম্ব হওয়ার আরো যত কারণ হতে পারে, তার সবগুলো পরিহার করা সকলের জন্য জরুরী কর্তব্য এবং যত কম সময়ে সম্ভব কাফন-দাফন কার্য সমাধা করা জরুরী। (বুখারী শরীফ-হাদীস নং-১৩১৫, আদ্ দুররুল মুখতার-৬/ ৬৬৬, আল বাহরুর রায়িক-২/ ৩৩৫, আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২০৯, ২১০, আহকামে মায়্যিত, ৮৫)
(১১) অনেক জানাযার ক্ষেত্রে আরেকটি বদরসম লক্ষ্য করা যায় যে, জানাযার নামাযের পূর্বে সমবেত মুসল্লিদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, লোকটি কেমন ছিলেন?
সকলে উত্তর দেয়, ভাল ছিলেন। এর ফযীলত বর্ণনা করা হয় যে, যদি তিনজন লোক কারোর ব্যাপারে ভাল বলে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন।
এবং তাকে জান্নাতবাসী করেন। এ হাদীস তো ঠিক কিন্তু এর অর্থ এ ভাবে জবরদস্তিমূলক সাক্ষ্য উসূল করা নয়।
বরং এর অর্থ হল, লোকেরা তাদের নিজস্ব আলোচনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুর্দা ব্যক্তির প্রশংসা করবে যে, আহ!
অমুক ব্যক্তি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে, লোকটা বড় ভাল মানুষ ছিল! এ ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা যদি মু’মিনদের থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে সেটা সত্যিই ভাগ্যের বিষয় এবং ফযীলতের জিনিস কিন্তু জবরদস্তি সাক্ষ্য উসূল করার দ্বারা এ ফযীলত হাসিল হয় না। বরং অনেকে বাধ্য হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং এমন কথা মুখে বলে যা তার অন্তর স্বীকার করে না। এরূপ করা উচিৎ নয়।
(১২) জানাযার নামায একাধিক বার পড়া হয় এটা শরীআত সম্মত নয়। বরং তা একবার হওয়াই বাঞ্ছনীয়। হ্যাঁ, যদি মৃত ব্যক্তির কোন ওলী জানাযায় শরীক না হয়ে থাকে এবং তার পক্ষ থেকে পূর্বে আদায়কৃত নামাযের অনুমতিও না থেকে থাকে, তাহলে সেই ওলী পূর্বের নামাযে যারা অনুপস্থিত ছিল
তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয়বার জানাযা নামায পড়তে পারে। কিন্তু প্রথমবার যদি জানাযায় কোন ওলী শরীক হয়ে থাকে বা জানাযা পড়ার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া জায়েয নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামী-২/ ২২২-২২৩, আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২১৩)
(১৩) তেমনিভাবে গায়েবানা জানাযার যে প্রথা চালু রয়েছে, তা-ও হানাফী মাযহাবে সহীহ নয়। গায়েবানা জানাযা জায়েয থাকলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক প্রিয় সাহাবী রা. বিভিন্ন জিহাদে যে শহীদ হয়েছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই মদীনায় থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়তেন।
অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেননি। যে দু’টি ঘটনা উল্লেখ করে কেউ কেউ এ বিষয়টিকে জায়েয বলতে চান, মূলত সেগুলো গায়েবানা জানাযা ছিল না।
বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কুদরতে লাশ সচক্ষে দেখে দেখে জানাযা পড়িয়েছেন।
যদিও লাশ দূরে ছিল, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বিশেষ ইন্তিজামের কারণে তা সম্ভব হয়েছিল বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ঐ ঘটনা দ্বারা গায়েবানা জানাযার দলীল পেশ করা সহীহ নয়। (ফাতহুল ক্বদীর, ২/ ৮১/ , জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া-২/ ১৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া-৭/ ২২৭)
(১৪) আরেকটি বদরসম হল, অনেকে জানাযার নামাযের পরে মুর্দার চেহারা দেখায়। অথচ জানাযা নামাযের পরে মুর্দার চেহারা আর না দেখানো উচিত।
কারণ, প্রথমত এতে দাফন বিলম্বিত হয়, যা শরীআতে নিষিদ্ধ। (আহসানুল ফাতাওয়া-৪/ ২১৯, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া- ২/ ৩৯৮, বুখারী শরীফ-হাদীস নং-২৬৯৭)
দ্বিতীয়ত জানাযার পর মুর্দার ব্যাপারে ভাল-মন্দের ফয়সালা হয়ে যায়। অনেকের চেহারায় পরিবর্তনও আসে। তাতে আল্লাহ না করুন, তার চেহারা দেখানো হলে মাঝে কু-ধারণার সৃষ্টি হতে পারে, যা মুর্দার জন্য খুবই খারাপ।
কারণ, মুমিনদের ধারণার ভিত্তিতে অনেক ফয়সালা হয়ে থাকে। কাজেই জানাযার নামাযের পর বিশেষ করে কবরে মায়্যিতকে রেখে মুর্দার চেহারা দেখানোর প্রথা বন্ধ করা উচিত।
(১৫) আরেকটি বদরসম এই যে, মুর্দাকে কাঁধে করে কবরস্থানে নেয়ার সময় লোকেরা উচ্চঃস্বরে কালিমায়ে তায়্যিবা ও কালিমায়ে শাহাদাত পড়তে থাকে, এটা ঠিক নয়।
(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৬৯৭, আদ দুররুল মুখতার-২/ ২৩৩, আহকামে মায়্যিত-২৪০, ইমদাদুল মুফতীন-১৬৪, আল বাহরুর রায়িক্ব, ২/ ৩৩৬)
বরং এক্ষেত্রে স্বাভাবিক গতিতে নীরবে দু‘আ কালাম পাঠ করা এবং মুর্দার জন্য মনে মনে ইস্তিগফার পড়তে পড়তে কবরস্থানের দিকে অগ্রসর হওয়া কর্তব্য।
কোন রকম হাসাহাসি বা রং তামাশার কথা বলবে না।
চিল্লাচিল্লি করে কান্নাকাটি করবে না; বরং মনে মনে চিন্তা করবে যে, আজ যেভাবে আমি মুর্দাকে নিয়ে যাচ্ছি, আগামীতে যে কোন সময় ঠিক এভাবে আমাকেও লোকেরা কাঁধে করে কবরস্থানে দাফন করে আসবে।
এর জন্য আমার কি প্রস্তুতি আছে বা প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আমি কেন বিলম্ব করছি।
অনেক স্থানে মায়্যিতের খাটের উপর কালিমা বা আয়াতুল কুরসী ইত্যাদি আয়াত খচিত চাদর দিয়ে মায়্যিতকে ঢেকে দেয়া হয়, আবার অনেকে কাফনের কাপড়ে আয়াতুল কুরসী বা অন্য কোন আয়াত লিখে দেয়, এ সবই নাজায়েয।
কেননা, এর দ্বারা পবিত্র কুরআনের আয়াতের বেহুরমতী ও অবমাননা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াতে নাপাক লেগে গিয়ে তা গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সুতরাং এ জাতীয় প্রথা পরিহার করে মহিলা মায়্যিতকে সাধারণ চাদর দ্বারা ঢেকে দিবে। পুরুষ মায়্যিতকে ঢাকার কোন প্রয়োজন নেই, তারপরও ঢাকতে চাইলে সাধারণ চাদর দ্বারা ঢাকতে পারে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৬৯৭, আহসানুল ফাতাওয়া-১/ ৩৫১, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২/ ৪০১)
(১৬) অনেকে লাশের আগে আগে বা পাশাপাশি চলতে থাকে, এটাও ঠিক নয়। বরং লাশ বহনকারী ব্যতীত সকলেই লাশের পিছে পিছে চলবে এবং লাশ জমিনে রাখার পূর্বে কেউ বসবে না। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-৩১৮০, আদ্ দুররুল মুখতার-২/ ২৩৬, আল বাহরুর রায়িক-২/ ৩৩৩)
(১৭) জানাযা নামাযের পর অনেক স্থানে দাফনের পূর্বে সম্মিলিতভাবে দু‘আও মুনাজাত করা হয়, এটা নাজায়েয।
শরীআতে এর কোন ভিত্তি নেই। শরীআতের দৃষ্টিতে জানাযাই হচ্ছে মুর্দার জন্য দূ’আ স্বরূপ|
সুতরাং উক্ত দু‘আর পর আরেকটি দু‘আ করার অর্থ হচ্ছে পূর্বের দু‘আটি যথার্থ ছিল না এমন মনে করা। এটা যে কত বড় অপরাধ, তা সহজেই অনুমেয়!
সুতরাং এ রসম বন্ধ করা অপরিহার্য কর্তব্য। (বুখারী শরীফ ২/ ৬৫২, আল বাহরুর রায়িক ২/ ৩২১, আহসানুল ফাতাওয়া-১/ ৩৫২, খুলাসাতুল ফাতাওয়া-১/ ২২৫)
তবে দাফন কার্য শেষ হওয়ার পর সূরা-কালাম পড়ে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামী-২/ ২৩৭)
(১৮) জানাযার ব্যাপারে আরেকটি বদরসম হল, বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা পড়া। শরীআতের দৃষ্টিতে মসজিদে জানাযা পড়া মাকরূহ।
চাই জানাযা ও মুসল্লী মসজিদে থাকুক বা লাশ মসজিদের বাইরে এবং মুসল্লী মসজিদের ভিতরে থাকুক, সর্বাবস্থায় জানাযার নামায মাকরূহ হবে।
এভাবে জানাযা পড়লে জানাযার ফরযে কেফায়া আদায় হয়ে যাবে বটে; কিন্তু সকলেই জানাযার নামায পড়ার বিরাট সওয়াব থেকে মাহরূম হয়ে যাবে।
সুতরাং বিনা অপারগতায় কখনো মসজিদে জানাযা নামায না পড়া উচিত। বরং মসজিদের সামনে জানাযা নামাযের জন্য স্থান রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, নিয়ম হল- কোন মাঠে-ময়দানেই জানাযা নামায পড়া, অবশ্য যেখানে জানাযা নামায পড়ার মত কোন স্থান নেই বা স্থান আছে কিন্তু বৃষ্টি-বাদলের কারণে সেখানে পড়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ ধরনের অপারগতার ক্ষেত্রে মসজিদে জানাযা নামায পড়ার অবকাশ আছে। তবে সে ক্ষেত্রেও এতটুকু চেষ্টা করা দরকার, যাতে করে মুর্দাকে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করাতে না হয়। বরং ইমাম বরাবর বাইরে কোন ব্যবস্থা রাখবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী, ২/ ২২৪-২২৫, আলবাহরুর রায়িক ২/ ৩২৭, নাসবুর রায়াহ ২/ ২৭৫)
(১৯) স্বাভাবিক ভাবে জানাযা তৈরী হয়ে যাওয়ার পর ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় হয়ে গেলে জানাযার নামায ফরয নামায পরবর্তী সুন্নাত আদায়ের পর আদায় করবে।
(আদ্ দুররুল মুখতার-২/ ১৬৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া-১/ ৭৩৭)

No comments:

Post a Comment

معني اللغوي الاستوي

  1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...