Friday, 3 May 2019

ঝড়- বৃষ্টি ও তুফানে করণীয়

ঘূর্ণিঝড়/প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাচার জন্য বেশি করে আমল করার অনুরোধ রইল

এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,
"দ্রুততার সঙ্গে মহান আল্লাহর জিকির করো, তাঁর নিকট তওবা করো।" (বুখারি ২/৩০; মুসলিম ২/৬২৮)।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত শরিফ: ৬৯৬)।

ঝড়-তুফানের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলা ও আজান দেওয়া সুন্নত। (তবে এই আজানে ‘হাইয়া আলাছ ছলাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বাক্যদ্বয় বলার প্রয়োজন নেই)।

হাদিস শরিফে আছে, যখন কোথাও ভূমিকম্প সংঘটিত হয় অথবা সূর্যগ্রহণ হয়, ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন সবার উচিত মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা, তাঁর কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা, মহান আল্লাহকে স্মরণ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে,
"সদকা আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে নিভিয়ে দেয় এবং অপমৃত্যু রোধ করে।" (তিরমিজি শরিফ: ৬০০)।

সুতরাং বিপদের সময় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, নফল রোজা রাখা, সূরা ফাতেহা সহ কোরআন তেলাওয়াত করা, দোয়া-এ-ইউনূছ সহ দোয়া-দরূদ পাঠ করা, তাসবিহ পাঠ করা, জিকির করা, ইস্তিগফার করা এবং দান-সদকা করা উত্তম। সেই সঙ্গে বিচলিত না হয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে হবে এবং নিজেকে আল্লাহর হাওলায় সোপর্দ করে দিতে হবে।

হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, বৃষ্টি হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়তেন:

"আল্লাহুম্মা ছয়্যিবান নাফিআ"।

(অর্থ: হে আল্লাহ! এই বৃষ্টি যেন আমাদের জন্য উপকারী ও কল্যাণকর হয়। -বুখারি ও মুসলিম)

হযরত যায়িদ ইবনে ছাবিত (রা.) বর্ণনা করেন, বৃষ্টির পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন:

"আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহে আমরা বৃষ্টিস্নাত হয়েছি।" (বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ)।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, যখন প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া শুরু হতো তখন হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়া পড়তেন-

দোয়াঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা- ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি; ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।" - বোখারি ও মুসলিম

(অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঝড়ের কল্যাণ কামনা করছি ও এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে এবং যে কল্যাণের সাথে প্রেরিত হয়েছে তাও এবং তোমার কাছে এর অকল্যাণ ও এর মধ্যে যে অকল্যাণ নিহিত আছে এবং যে অকল্যাণ নিয়ে এসেছে তা থেকে আশ্রয় চাই।- বোখারি ও মুসলিম)

দোয়াঃ ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

(অর্থ: আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চেয়ে ভালো কিছু দান করুন। -সহিহ মুসলিম)

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন-

দোয়া: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল হাকিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি- ওয়া রাব্বুল আরশিল কারিম।"

(অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমিন ও মহাসম্মানিত আরশের প্রভু। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সময় এই দোয়া পড়তেন,

দোয়াঃ "আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।"

(অর্থ : হে আল্লাহ! (এই ঝড়, তুফান ও ভারী বর্ষণ) আমাদের আশপাশ থেকে সরিয়ে নিন, দয়া করে আমাদের ওপর (ঝড়, তুফান ও ভারী বর্ষণ) দেবেন না। -বুখারি ও মুসলিম)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, বজ্রপাত ও বিজলি চমকানোর সময় এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়তেন, -

"হে আল্লাহ! গজব দিয়ে আমাদের নিঃশেষ করবেন না, আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না; এর পূর্বেই আমাদের ক্ষমা করে দিন"। (মিশকাত: ১৫২১; তিরমিজি: ৩৪৫০; নাসাই: ৯২৭; আহমাদ: ৫৭৬৩; বুখারি: ৭২১)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং কুরআন মাজীদের এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন-

"সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা`দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি।'

(অর্থ : পাক-পবিত্র সেই মহান সত্তা- তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। - মুয়াত্তা)

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ করুণ এক রূপ হলো বজ্রপাত, যা মহান রাব্বুল আলামিনের শক্তিমত্তা ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে রয়েছে:
"বজ্রধ্বনি তাঁর সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে, ফেরেশতাগণও তাঁকে ভয় করে (প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করে)। তিনি বজ্রপাত ঘটান এবং যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডা করে, অথচ তিনি মহা শক্তিশালী।" (সুরা রাআদ, আয়াত: ১৩)।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই এই দোয়া করতেন-

দোয়া: "আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুলহিকনা- বিআ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাব্লা জা-লিকা।"

(অর্থ : হে আমাদের প্রভু! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না আর তোমার আযাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নিও। -তিরমিজি)

সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :

দোয়া: "লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।" (দোয়া ইউনূস)

(অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী।- তিরমিজি : ৩৫০০)

আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে? সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন-

দোয়া: "আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।"

(অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। -আবু দাউদ : ১৫২৫)

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :

দোয়া: "আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।"

(অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। - ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

এছাড়া বেশি বেশি পড়ুন -
"লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্ (সা)।"

"লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিঈল আজিম।"

"সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, ওলা ইলাহা ইল্লাললাহু, আল্লাহু আকবর।"

No comments:

Post a Comment

ছাগল জীবিত হয়ে গেল

আহযাবের যুদ্ধে হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করলেন এবং একটি ছাগল জবেহ করলেন। হুজুর ...