ফজরের জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার বিধান:-
[ কৃত:- মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী ]
[ বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লিখক ও গবেষক ]
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَلْيُصَلِّهِمَا بَعْدَ مَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ
- " হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবীজী সা. ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি ফজরের দু’রাকাত (সুন্নাত) পড়তে পারেনি সে যেন তা সূর্যোদয়ের পরে আদায় করে নেয়।
( তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং:- ৪২৩)
হাদীসটির স্তর :
•••••••••••••••••
এই হাদীসটির সনদগত মান সহীহ। ইমাম তিরমিজী রহ. এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন; কিন্তু হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য” রাবী হওয়ায় হাদীসটি গরীব হলেও সহীহ। হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তাঁর সহীহ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসের তাহকীকে শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন: إسناده صحيح على شرط البخاري. “হাদীসটির সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ”। (সহীহ ইবনে হিব্বান: ২৪৭২) সহীহ ইবনে খুযাইমাতেও হাদীসটি বার্ণিত হয়েছে। উক্ত হাদীসের তাহকীকে শায়খ আলবানীও বলেন: إسناده صحيح “হাদীসটির সনদ সহীহ” (সহীহ ইবনে খুযাইমা: ১১১৭)।
সারসংক্ষেপ :
••••••••••••••••
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফজরের পূর্বে কেউ সুন্নাত পড়তে না পারলে সে সূর্যদয়ের পরে মাকরূহ সময় পার হয়ে গেলে সুন্নাত পড়বে। এর বিপরীতে তিরমিজী শরীফে সূর্যোদয়ের পূর্বে সুন্নাত পড়ার অনুমতি সম্বলিত একটি হাদীসও বর্ণিত আছে। কিন্তু ইমাম তিরমিজী রহ. নিজে উক্ত হাদীসটিকে منقطع তথা সনদবিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন যা দলীলযোগ্য নয়। হযরত আতা রহ. থেকেও অনুমতির একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে আবী শাইবাহ- ৬৫০২) কিন্তু সে হাদীসের সনদ মুরসাল। আর মুরসাল হাদীস আমাদের নিকটে দলীলযোগ্য হলেও মারফু’ মুত্তাসিল হাদীসের মুকাবিলায় অপ্রবল হওয়ায় সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যেসব কর্মব্যস্ত মানুষ মসজিদ থেকে একবার বের হয়ে গেলে আর ফিরে এসে নামায পড়তে পারবে না কোন কোন ইমামামের মতে তাদের জন্য সূর্যোদয়ের পূর্বে সুন্নাত পড়ার অনুমতি আছে।
No comments:
Post a Comment