আমরা মাজারে কেন যাই ? এতে কোন ফজিলত আছে ?
সাহাবাগণ , সালফে সালেহীনগণ কি মাজারে যেতেন ?
********************************************************************
মাজারে যাওয়ার কয়েকটা কারণ রয়েছে। নিম্নে মাজারে যাওয়ার কারণসহ প্রশ্নের উত্তর দলীল সহকারে উপস্থাপন করা হল ।
* * * * * * * * * * * * *
১ নং কারণঃ মাজারে যাওয়া সাহাবাগণের সুন্নাত । যেমন হাদিস শরীফে এসেছে.. ﻥﺎﻣﺯ ﻲﻓ ﻂﺤﻗ ﺱﺎﻨﻟﺍ ﺏﺎﺻﺍ ﻲﺒﻨﻟﺍ ﺮﺒﻗ ﻲﻟﺍ ﻞﺟﺭ ﺀﺎﺠﻓ _ ﺮﻤﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭﺎﻳ ﻝﺎﻘﻓ ﻢﻌﻠﺻ ﺍﻮﻜﻠﻫ ﺪﻗ ﻢﻬﻧﺎﻓ ﻚﺘﻣﻻ ﻒﺴﺘﺳﺍ ﻪﻟ ﻞﻴﻘﻓ ﻡﺎﻨﻤﻟﺍ ﻲﻓ ﻞﺟﺮﻟﺍ ﻲﺗﺎﻓ _ ﻡﻼﺴﻟﺍ ﻪﺋﺮﻗﺎﻓ ﺮﻤﻋ ﺖﺋﺍ ﻥﻮﻤﻴﻘﺘﺴﻣ ﻢﻜﻧﺍ ﻩﺮﺒﺧﺍﻭ হযরতওমর রঃ এর সময় একদা অনাবৃষ্টির কারণে মানুষের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল । তখন এক সাহাবী হযরত বেলাল বিন হারেস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার রওযা মোবারকে এসে আবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার উম্মত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন । সে সাহাবি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে স্বপ্নযোগে বলা হল , হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনাকে গিয়ে সালাম বলুন এবং উনাকে বলুন যে তোমাদেরকে বৃষ্টি দান করা হবে । সুবহানাল্লাহ !
* আল মুসান্নাফ ,ইবনে আবি শায়বাহ । (খন্ড ১২ ,পৃঃ৩২ হাদিস নং ১২০৫১.) *হযরত ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ফতহুল বারী শরহে বুখারী , (খন্ড ২ পৃঃ ৪৯৫ ও ৪১২) _______________ _______________ হযরত ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে হাজর আসকালানী ,ও ইমাম কোস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেছেন- ﺢﻴﺤﺻ ﺚﻳﺪﺣ ﺍﺬﻫঅত্র হাদিস খানা সহীহ সনদে বর্ণিত ! * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *
২নং কারণঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের রওযা হল দোআ কবুলের বিশেষ স্থান। যেমন ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন ... ﺀﻲﺟﺍﻭ ﺔﻔﻴﻨﺣ ﻲﺑﺎﺑ ﻙﺮﺒﺗﻻ ﻲﻧﺍ ﺔﺟﺎﺣ ﻲﻟ ﺖﺿﺮﻋ ﺍﺫﺎﻓ ﻩﺮﺒﻗ ﻲﻟﺍ ﻩﺮﺒﻗ ﻲﻟﺍ ﺖﺌﺟﻭ ﻦﻴﺘﻌﻛﺭ ﺖﻴﻠﺻ ﺎﻤﻓ ﻩﺪﻨﻋ ﺔﺟﺎﺤﻟﺍ ﻪﻠﻟﺍ ﺖﻟﺎﺳﻭ ﻲﻀﻘﺗ ﻲﺘﺣ ﻲﻨﻋ ﺪﻌﺒﺗ _ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বরকত হাসিল করি এবং আমি তার রওজায় জিয়ারত করতে আসি । আমার যখন কোন প্রয়োজন পড়ে তখন আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে তার কবরে আসি এবং তার পাশে দাড়িয়ে আল্লাহর নিকট মুনাজাত করি । অতঃপর আমি সেখান থেকে আসতে না আসতেই আমার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায় । সুবহানাল্লাহ ! _______________ _______________ ফতোয়ায়ে শামী , খন্ড ১ পৃঃ ১ .তারিখে বাগদাদ , খন্ড ১ পৃঃ ১২৩ রুদ্দুল মুখতার খন্ড ১ পৃঃ ৪১ আল খায়রাতুল হাসান , পৃঃ ৯৪ _______________ _______________ যারা ওহাবী মতাবলম্বী তাদেরকে বলছি । আপনারা কি নিজেদের ইমামকে শাফেয়ী রহঃ এর চেয়ে বড় মুফতী মনে করেন ? নাউযুবিল্লাহ । * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * (খ ) শাহ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি সকলের কাছে মান্য ও গ্রহণযোগ্য , এবং যিনি প্রচ্যের বুখারী হিসেবে পরিচিত । তিনি তার কিতাবে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন হযরত মুছা কাজেম আলাইহিস সালাম উনার মাজার শরীফ দোআ কবুল হবার জন্য পরশ পাথরের মত পরীক্ষিত ! সুবহানাল্লাহ! _______________ _______________ # আশিয়াতুল লুমআত ( খন্ড ২ পৃঃ ৯২৩ ). * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * ৩ নং কারণঃ সম্মানিত জায়গা বলে.. যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী- ﻦﻣ ﺎﻬﻧﺎﻓ ﻪﻠﻟﺍ ﺮﺋﺎﻌﺷ ﻢﻈﻌﻳ ﻦﻣﻭ ﺏﻮﻠﻘﻟﺍ ﻱﺍﻮﻘﺗযে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে তাজিম বা সম্মান করল তার নিশ্চয়ই উহা অন্তরের তাকওয়া বা খোদাভীতির অন্তর্ভুক্ত। (আল কোরআন) _______________ _______________ আর যেহেতু আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তার নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত সেহেতু তাদের প্রতি সম্মান করা মূলত খোদা ভীতির অন্তর্ভূক্ত । * * * * * * * * * * * * * * ************** এখন এ ব্যপারে ওহাবী গুরু আশরাফ আলী থানবী কি বলে দেখি... ﺩﺎﻘﺘﻋﺎﺑ ﺩﺍﺪﻤﺘﻧﺍ ﻭ ﺖﻧﺎﻌﺘﺳﺍ ﻮﺟ ﮦﻭ ﻮﮬ ﻞﻘﺘﺴﻣ ﺕﺭﺪﻗ ﻭ ﻢﻠﻋ ﻢﻠﻋ ﺩﺎﻘﺘﻋﺎﺑ ﻮﺟ ﺭﻭﺍ ﮯﮨ ﮎﺮﺷ ﮦﻭ ﺭﻭﺍ ﻮﮨ ﻞﻘﺘﺴﻣ ﺮﯿﻏ ﺕﺭﺪﻗﻭ ﻮﺗ ﮰﺎﺟ ﻮﮨ ﺖﺑﺎﺛ ﮯﺳ ﻞﯿﻟﺩ ﯽﺴﮐ ﮦﺪﻧﺯ ﮧﻨﻣ ﺪﻤﺘﺴﻣ ﮦﺍﻮﺧ ﮯﮨ ﺰﺋﺎﺟ ﺕﻮﻣﺎﯾ ﻮﮨ .. অর্থঃ "অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে তাদের নিকট যে সাহায্য প্রার্থনা করা হয় তা শিরক । কিন্তু অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে না করে বরং আল্লাহ প্রদত্ত মনে করে যদি তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং যেকোন প্রমাণ ও উদাহরণ দ্বারা তাদের উক্ত খোদা প্রদত্ত জ্ঞান ও ক্ষমতা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা জায়েয । চাই তিনি জীবিত হোন অথবা মৃত"। _______________ _______________ [ইমদাদুল ফতোয়া , খণ্ড ৩ , আকায়েদ ও কালাম অধ্যায় ।] _______________ _______________ এখন তো আপনাদের ফতোয়ায় আপনারা মুশরিক । আহলে সুন্নাতের আক্বীদা হল মাজারে গিয়ে আল্লাহর কাছে চাইলে দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল হয় । এতে আপনারা শিরক ফতোয়া দেন । আর এখন আপনাদের মুরব্বী মাজারে শায়িত ব্যক্তির কাছে চাইতে বলল । এখন আপনাদের ফতোয়া কি?
No comments:
Post a Comment