নবীজির পিতা মাতা জাননাতি ও বাতিলদের জবাব নবীবিহীন যুগে মৃত্যুর কারণে তাঁরা শাস্তিযোগ্য নন। নিম্নের আয়াতগুলো তা প্রমাণ করে:
দলীল 1
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولا
‘‘রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি শাস্তি প্রদান করি না।’’
সূরা (১৭) ইসরা (বনী ইসরাঈল): ১৫ আয়াত
[ رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا 1 দলীল 2 لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ
‘‘রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারী হিসেবে; যেন রাসূলগণের পরে মানুষের জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট না থাকে।’’
] সূরা (৪) নিসা: ১৬৫ আয়াত।
দলীল 3
وَلَوْ أَنَّا أَهْلَكْنَاهُمْ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِهِ لَقَالُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آَيَاتِكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَذِلَّ وَنَخْزَى
‘‘যদি আমি তাদেরকে ইতোপূর্বে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম তবে তারা বলত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন না কেন? পাঠালে আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার আগে আপনার নিদর্শন মেনে চলতাম।’’’[15]
এ সকল আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘‘ফাতরাত’’ বা রাসূল-বিহীন যুগে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে না। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, এরূপ মানুষদেরকে কিয়ামাতে পরীক্ষা করে মুক্তি দেওয়া হবে। এজন্য অনেক আলিম মত প্রকাশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিতামাতা শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
মহান আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তিই সৎপথ অবলম্বন করে, তার সৎপথ অবলম্বন তার নিজের জন্যই কল্যাণকর হয়। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, তার পথভ্রষ্টতার ধ্বংসকারিতা তার ওপরই বর্তায়। কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আর আমি (হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝাবার জন্য) একজন পয়গম্বর না পাঠিয়ে দেয়া পর্যন্ত কাউকে আযাব দেই না। (সূরা-নবী ইসরাঈল, আয়াত-১৫) এই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইসলামের বার্তা সম্পর্কে সচেতন না হয়, তাহলে তাদের শাস্তি দেয়া হবে না কারণ তাদের কাছে এটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ নেই।
ইমাম রাজী (রহ.) বলেন, রাসূল (সা.) এর পিতা-মাতা মূলত মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর ইন্তেকাল করেছেন। কেননা তারা মূর্তি পূজা করেছেন মর্মে কোনো প্রমাণ নেই। তাই তারা জান্নাতী হবেন। তাদের নামও প্রমাণ করে তারা মুশরিক ছিলেন না।
ইমাম রাজী (রহ.) আরও বলেন, যারা জাহান্নামী হবার দাবি করেন। তাদের দলীল হলো মুসলিম, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের হাদিস। যাতে নবীজী (সা.) এর পিতা-মাতার জন্য নবীজী (সা.)-কে দোআ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ হাদিসের জবাব হলো, এটি রাসূল (সা.) বলেছেন তার পিতা-মাতার আসল অবস্থা সম্পর্কে তখন তিনি জানতেন না, তাই বলেছেন। আসলে তারা জান্নাতী। (রদ্দুল মুহতার, মুরতাদ অধ্যায়-৪/২৩১)
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী (রহ.) এ বিষয়ে আলাদা ৪টি পুস্তিকা লিখেছেন। ৯টি প্রবন্ধ লিখেছেন। যাতে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, রাসূল (সা.)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী। জাহান্নামী নয়।
রাসূল (সা.) এর পিতামাতা জান্নাতী না জাহান্নামী এ বিষয়ে বেশি কথা বলা ঠিক নয়: কেননা এই বিষয়ে কথা বলে মূলত রাসূল (সা.)-কে কষ্ট দেওয়া হয়। আর এটা হারাম কাজ। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
: সংক্ষেপে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে।
প্রথম প্রমাণঃ কোরআন মজিদের সূরা শুয়ারা, আয়াত নং ২১৯-এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ وَتَقَلُّبَكَ فِى السَّاجِدِيْنَ
অর্থঃ- “হে রাসুল! সিজদাকারী মু’মিনগণের মধ্যে আপনার আবর্তন আমি লক্ষ্য করেছি।” হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে “আপনার পূর্ববর্তী সকল নর-নারী যাদের মাধ্যমে আপনি আবর্তিত হয়ে এসেছেন- তাঁরা সকলেই ছিলেন সিজদাকারী মু’মিন।” (তাফসীরে ইবনে আব্বাস)।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের বিরাট একদল আলিম হাদীস টি বিভিন্ন সুতরে সংকলনের কারনে হাসান বলেছেন করেছেন। আয়েশা (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিতে বলা হয়েছে যে, বিদায় হজ্জের সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেদনার্ত ছিলেন। একসময় তিনি আনন্দিত চিত্তে আয়েশার (রা) নিকট আগমন করেন। তিনি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:দলীল 4
ذَهَبْتُ لِقَبْرِ أُمِّي آمِنَةَ فَسَأَلْت اللهَ رَبِّي أَنْ يُحْيِيَهَا فَأَحْيَاهَا فَآمَنَتْ بِي أَوْ قَالَ فَآمَنَتْ وَرَدَّهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ
‘‘আমি আমার আম্মা আমেনার কবরের নিকট গমন করি এবং আল্লাহর কাছে দুআ করি তাঁকে জীবিত করতে। তখন আল্লাহ তাঁকে জীবিত করেন, তিনি আমার উপর ঈমান আনয়ন করেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ফিরিয়ে নেন।’’ কোনো কোনো বর্ণনায় পিতামাতার কথা বলা হয়েছে
[4] নাসায়ী, কিতাবুল জানায়িয, 4/90__91
ইমাম সুয়ূতীর মতে ফযীলত বা মর্যাদার বিষয় যেহেতু ঈমান-আকীদা ও হালাল-হারাম-এর সাথে সংশিস্নষ্ট নয়, এজন্য ফযীলত বিষয়ে দুর্বল হাদীস গ্রহণ করা যায়। আর এ মূলনীতির ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিতামাতার ফযীলতে এ হাসান হাদিস দলী : অন্য হাদীসে আলী (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:দলীল 5
خَرَجْتُ مِنْ نِكَاحٍ، وَلَمْ أَخْرُجْ مِنْ سِفَاحٍ مِنْ لَدُنْ آدَمَ إِلَى أَنْ وَلَدَتْنِي أَبِي وَأُمِّي ، لَمْ يُصِبْنِي مِنْ سِفَاحِ الْجَاهِلِيَّةِ شَيْءٌ.
‘‘আদম (আ) থেকে শুরু করে আমার পিতামাতা আমাকে জন্ম দেওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে আমার জন্ম, কোনো অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে আমার জন্ম হয় নি। জাহিলী যুগের কোনো অবৈধতা- অশ্লীলতা আমাকে স্পর্শ করে নি।’’ বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৭/১৯০; দলীল 6 দুররুল মুহতার শরহে দুররুল মুখতার)
ইমাম আবদুল বাকী যুরকানী (র.) বর্ণনা করেন, রাসূলে করীম (সা.)-এর পিতা-মাতা কখনোই কাফির কিংবা মুশরিক ছিলেন না। তাঁরা কুফর ও মুর্তিপুজা থেকে সর্বদাই পবিত্র ছিলেন। (যুরকানী, শরহে মাওয়াহিবে লাদুনিয়্যাহ, ১ম খ- পৃষ্ঠা 97 দলীল 7
বিখ্যাত মুহাক্কিক ও মুহাদ্দিস শাহ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) লিখেছেন, ‘উলামায়ে কিরাম একথাই প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) এর পিতামাতা, উর্ধ্বতন পিতা-মাতা ও পিতা-মাতামহগণ এমনকি আদম (আ.) পর্যন্ত তাঁর সমগ্র পিতৃপুরুষই (রাসূলের বংশের সবাই) সত্যধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। (আশি’আতুল লুমআত : ১ম খ - পৃষ্ঠা 72 ইমাম রাজী (রহ.) বলেন, রাসূল (সা.) এর পিতা-মাতা মূলত মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর ইন্তেকাল করেছেন। কেননা তারা মূর্তি পূজা করেছেন মর্মে কোনো প্রমাণ নেই। তাই তারা জান্নাতী হবেন। তাদের নামও প্রমাণ করে তারা মুশরিক ছিলেন না।
দলীল 8
ইমাম রাজী (রহ.) আরও বলেন, যারা জাহান্নামী হবার দাবি করেন। তাদের দলীল হলো মুসলিম, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের হাদিস। যাতে নবীজী (সা.) এর পিতা-মাতার জন্য নবীজী (সা.)-কে দোআ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ হাদিসের জবাব হলো, এটি রাসূল (সা.) বলেছেন তার পিতা-মাতার আসল অবস্থা সম্পর্কে তখন তিনি জানতেন না, তাই বলেছেন। আসলে তারা জান্নাতী। (রদ্দুল মুহতার, মুরতাদ অধ্যায়-৪/২৩১)
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী (রহ.) এ বিষয়ে আলাদা ৪টি পুস্তিকা লিখেছেন। ৯টি প্রবন্ধ লিখেছেন। যাতে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, রাসূল (সা.)-এর পিতা-মাতা জান্নাতী। জাহান্নামী নয়।
দলীল 9 নবী করিম [ﷺ]-এরশাদ করেছেনঃ
لَمْ يَزَل اللهُ يَنْقُلُنِي مِنَ الاَصْلاَبِ الطَّيِّبَةِ اِلَى الاَرْحَامِ الظَّاهِرَةِ مُصَفَّى مُّهَذَّبًا (عن أبن عباس-مواهب)
অর্থঃ- “আল্লাহ তায়ালা পর্যায়ক্রমে আমাকে পবিত্র ঔরসে (মু’মিন পুরুষ) হতে পবিত্র গর্ভের (মু’মিন নারী) মাধ্যমে পাক-সাফ অবস্থায় স্থানান্তরিত করে পৃথিবীতে এনেছেন।”
হাদীসখানা এত পরিষ্কার এবং এত শালীন ভাষায় উদ্ধৃত হয়েছে যে, যুগ-যুগান্তরের শিরক ও কুফরীর অপবিত্রতা এবং চরিত্রগত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে হুযুর [ﷺ]-এঁর পূর্ব পুরুষগণের মুক্ত থাকার পরিষ্কার ইঙ্গিত তাতে পরিষ্ফুট হয়ে উঠেছে। কোরআনের পরিভাষায় পবিত্র নর-নারী বলতে ঈমানদারকেই বুঝানো হয়েছে। (সুরা মু’মিনুন ১৮ পারা)
দলীল 10 ইবনে মোহাম্মদ কলবীর বর্ণনা সূত্রে তাঁর পিতা মুহাম্মদ কলবী (رحمة الله عليه) বলেনঃ-
كَتَبْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسَ مِائَةِ اُمَّهَاتِه فَلَمْ اَجِدْ فِيْهِنَّ سِفَاحًا وَلاَ شَيْئًا مِّنْ اَمْرِ الجَاهِلِيَّة
অর্থঃ- “আমি নবী করিম [ﷺ]-এঁর বংশধারার পূর্ববর্তী পাঁচশত মায়ের তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাঁদের মধ্যে আমি চরিত্রহীনতা এবং জাহেলিয়াতের কিছুই পাইনি।”” (বেদায়া ও নেহায়া দ্রষ্টব্য)। ইমাম সোহায়লীর বরাত দিয়ে ইবনে কাছির এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ফতোয়ায়ে শামীতে হাফেয নাসিরুদ্দীন বাগদাদীর বরাতে হযরত আয়েশা (رضي الله عنها) থেকে একখানা হাদীস উদ্ধৃত করে আল্লামা শামী লিখেছেন- দলীল 11
عن عائشة رضي الله عنها قالت ان الله احي ابويه اكراما له صلي الله عليه وسلم فاسلما ثم مانا كما كانا كما احي الموتي بعيسي عليه السلام -(ردالمحتار مطلب اسلام ابوي البي)
অর্থঃ- হযরত আয়েশা (رضي الله عنها) বলেন- আল্লাহ তায়ালা নবী করিম [ﷺ]-এঁর সম্মানে তাঁর পিতা-মাতাকে পুনর্জীবিত করেন। তাঁরা উভয়ে নূতন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপরে তাঁরা পুনরায় পূর্বের ন্যায় মৃত্যুবরণ করেন। যেমন আল্লাহ্ পাক হযরত ঈসা (عليه السلام)-এঁর মাধ্যমে মৃতকে জীবিত করতেন, তদ্রুপ নবীজীর খাতিরেও করেছেন।” (শামী)
: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তারিখুল খেলাফা নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে লিখেছেন অসুস্থ অবস্থায় বিবি আমেনা (رضي الله عنها) উম্মে আয়মনকে লক্ষ্য করে যে কয়টি হৃদয়বিদারক উপদেশ দিয়েছেলেন, তার মর্মার্থ এই, "হে উম্মে আয়মন, আমি বিদায় নিচ্ছি। আমার পর তুমিই তাঁর মা। তাঁকে তুমি আদর-যত্ন করে রাখবে। আর শুনো, তাঁর জন্মকাল থেকে যেসব ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করেছি, তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, তিনি হবেন শেষ যামানার নবী। এটাই আমার চূড়ান্ত সাক্ষ্য!" একথা বলেই বিবি আমেনা (رضي الله عنها) জান্নাতবাসিনী হয়ে যান।
[দলীল 12 : আল্লামা আলুসী (رحمة الله) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিতামাতার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে আমি তার কুফরের আশংকা করি।’ (তাফসীরে রূহুল মা‘আনী ১ম খ - পৃষ্ঠা 149
[Md Sadikur Rahman Choudory: বেদাতি খারিজী লা মাজহাবি আহলে হদস যারা রাসূলে পাক (ﷺ) এর পিতামাতা নাজাতপ্রাপ্ত নন বলেন তাদের দলীল ও জবাব
যারা রাসূলে পাক (ﷺ) এর পিতামাতাকে জাহান্নামী বলেন তারা দুটি দলীল পেশ করে থাকেন।
প্রথম দলীল ও এর জবাব
বিরোধীদের প্রথম দলীল হলো-
-‘একদিন এক সাহাবী রাসূলে পাক (ﷺ) এর কাছে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার পিতা কোথায়? রাসূলে পাক (ﷺ) জবাব দিলেন, তোমার পিতা জাহান্নামে। সে ব্যক্তি নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলে পাক (ﷺ) তাঁকে ডেকে বললেন, নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে।’
উপরোক্ত দলীলের জবাব উলামায়ে কিরামের বক্তব্য নিম্নরূপঃ
1 নম্বর জবাব
হাদীসটি খবরে ওয়াহিদ, যা কুরআনের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য নয়
ইসলামী শাস্ত্রবিদগণ প্রথম হাদীসের জবাব দেন এভাবে যে, প্রথম হাদীসটি যদিও সহীহ কিন্তু এটি ‘আহাদ হাদীস’। আর উসূলে হাদীসের পরিভাষায় ‘আহাদ হাদীস’ দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যায় না, যদি তার বিপরীতে কুরআন মজীদের কোনো আয়াত পাওয়া যায়। যেহেতু আল্লাহর রাসূলের পূর্বপুরুষদের ঈমান এবং পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআন মজীদ এবং বিভিন্ন হাদীসে বর্ণনা রয়েছে সুতরাং এ হাদীসের অর্থ এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
2 নম্বর জবাব
ঈমান আনয়নের হাদীস দ্বারা অন্য সকল হাদীস মানসূখ
ইবনে আবিদীনসহ ইসলামী শাস্ত্রবিদগণ উল্লেখ করেন যে, এক হাদীসে এসেছে, রাসূলে পাক (ﷺ) এর পিতা-মাতাকে আল্লাহ পাক তাঁর হাবীবের আকাক্সক্ষার কারণে বিদায় হজ্জের সময় জীবিত করেছেন এবং তাঁরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। সুতরাং প্রথম হাদীসে যদিও আল্লাহর রাসূলের পিতাকে জাহান্নামে বলা হয়েছে সেই ঘটনা ছিল আগের এবং তাঁদের ঈমান আনয়নের ঘটনা বিদায় হজ্জের সময়ের অর্থাৎ রাসূলে পাক (ﷺ) এর ইন্তেকালের মাত্র তিন মাস আগের, যা পূর্ববর্তী হাদীসের হুকুমকে রহিত করে দিয়েছে।
3 নম্বর জবাব
আরবী ‘আবুন‘ শব্দ দ্বারা চাচাকেও বুঝানো হয়
ইসলামী শাস্ত্রবিদগণ উল্লেখ করেন যে, উল্লেখিত হাদীসে ‘আমার পিতা’ বলে রাসূলে পাক (ﷺ) তাঁর চাচা আবু তালিবকে বুঝিয়েছেন। কেননা কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে পিতা বলে চাচাকে বুঝানো হয়েছে। তাছাড়া মক্কা শরীফের মুশরিকগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ‘আবূ তালিবের ছেলে’ বলে সম্বোধন করত, যেহেতু রাসূলে পাক (ﷺ) আবূ তালিবের লালন-পালনে প্রতিপালিত হয়েছিলেন। যেমন তারা তাঁর চাচা আবূ তালিবকে এসে বলেছিল-
‘তোমার ছেলেকে বলো সে যেন আমাদের মূর্তিদের নিন্দা না করে।’ আর একথা সুপ্রসিদ্ধ যে আবূ তালিব কুফুরীর উপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
সুতরাং এ হাদীসে রাসূলে পাক (ﷺ) ‘আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে’ দ্বারা তাঁর চাচা আবু তালিবের কথা বুঝিয়েছেন।
দ্বিতীয় দলীল ও এর জবাব
বিরোধীদের দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে,
রাসূলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি আমার মাতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তখন আমি তাঁর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।’
এর জবাবে মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, এ হাদীসেই 4 নম্বর জবাব বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহপাক রাসূলে পাক (ﷺ) কে মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। যদি তিনি মুশরিক হতেন তাহলে আল্লাহ পাক তাঁকে কবর যিয়ারতের অনুমতি দিতেন না। কারণ কুরআনে কারীমে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন,
‘আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে কখনও তার জানাযার নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তাঁরা তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি কুফুরী করেছে এবং নাফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।’
এ আয়াতে দেখা যায়, যারা কুফুরীর উপর মারা যায় তাদের কবরে দাঁড়ানোকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, অথচ আল্লাহ পাক রাসূল (ﷺ) কে তাঁর মাতার কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন। যদি তিনি মুশরিক হতেন তাহলে তাঁকে এ অনুমতি দেওয়া হতো না।
আল্লাহ পাক আমাদের তাঁর হাবীবের প্রতি যথাযথ ঈমান আনার তাওফীক দান করুন এবং তাঁর সম্মানহানী হয় এমন ঈমানবিধ্বংসী মন্তব্য ও বিশ্বাস থেকে হিফাযত করুন। আমীন।
[MdSadikur Rahman Choudory: এ বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন-
1 التعظيم والمنة في أن أبوي رسول الله في الجنة
2 ومسالك الحنفا في والدي المصطفى
3 والدرج المنيفة في الآباء الشريفة
4 والمقام السندسية في النسبة المصطفوية
[Md Sadikur Rahman Choudory: دار الإفتاء تحسم الجدل حول مصير والدى الرسول.. العلماء أجمعوا بأنهما "ناجيان من النار".. ومن قال بكفرهما "ملعون" لأنه يؤذى النبى فى أقرب الناس إليه.. والمسألة خلاف لا طائل مِن ورائه
كتب عمرو جاد
السبت، 10 يوليه 2010 01:28 م
رفضت دار الإفتاء المصرية الفتاوى التى خرجت بأن والدى الرسول صلى الله عليه وسلم من المشركين وأنهما فى النار، حيث قالت الدار فى بحث لأمانة الفتوى أعادت نشره برقم (2623 ) أن الحكم فى أبوَى النبى صلى الله عليه وسلم أنهما ناجيان وليسا من أهل النار، وقد صرح بذلك جمع من العلماء، وصنف العلماء المصنفات فى بيان ذلك، منها: رسالتا الإمام السيوطى "مسالك الحنفا فى نجاة والدَى المصطفى" و"التعظيم والمِنّة بأنَّ والدَى المصطفى فى الجنة".
وقالت الدار إن العلماء استدلوا على ذلك بأنهما مِن أهل "الفَترة"، لأنهما ماتا قبل البعثة ولا تعذيب قبلها، لأن مَن مات ولم تبلغه الدعوة يموت ناجيًا، لتأخر زمانهما وبُعدِه عن زمان آخر الأنبياء، وهوسيدنا عيسى- عليه السلام-، ولإطباق الجهل فى عصرهما، فلم يبلغ أحدًا دعوةُ نبى من أنبياء الله إلا النفر اليسير من أحبار أهل الكتاب فى أقطار الأرض كالشام وغيرها، ولم يعهد لهما التقلب فى الأسفار ولا عمَّرا عمرًا يمكن معه البحث عن أخبار الأنبياء، وهما ليسا من ذرية عيسى عليه السلام ولا من قومه، فبان أنهما مِن أهل الفترة بلا شك. ومَن قال: إن أهل الفترة يُمتَحَنُون على الصراط فإن أطاعوا دخلوا الجنة وإلا كانت الأخرى، فإن العلماء نصُّوا على أن الوالدين الشريفين لو قيل بامتحانهما فإنهما من أهل الطاعة، قال الحافظ ابن حجر: "إن الظن بهما أن يطيعا عند الامتحان".
وأضافت أمانة الفتوى أن الطبرى أورد فى تفسيره عن ابن عباس –رضى الله عنهما- أنه قال فى تفسير قوله تعالى: {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى}[الضحى: 5]، قال: "مِن رِضا محمد -صلى الله عليه وآله وسلم- أن لا يَدخُل أحدٌ مِن أهل بيته النار".
وقالت الفتوى الطريق الثانى الذى سلكه القائلون بنجاة أبوَى النبى-صلى الله عليه وآله وسلم: أنهما ناجيان؛ لأنهما لم يثبت عنهما شرك، بل كانا على الحنيفية دِين جدهما إبراهيم- عليه السلام-، ولقد ذهب إلى هذا القول جمعٌ من العلماء منهم الفخر الرازى فى كتابه "أسرار التنزيل".
واستدل أهل هذا الطريق بقوله تعالى: {الَّذِى يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ * وَتَقَلُّبَكَ فِى السَّاجِدِينَ}. [الشعراء: 218، 219]، أى أنه -صلى الله عليه وآله وسلم- كان يتقلب فى أصلاب الساجدين المؤمنين مما يدل على أن آباءه لم يكونوا مشركين، قال الرازى: "قال -صلى الله عليه وآله وسلم: ((لَم أَزَل أُنقَلُ مِن أَصلابِ الطّاهِرِينَ إلى أَرحامِ الطّاهِراتِ))، وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ �
[Md Sadikur Rahman Choudory: ى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ}. [التوبة: 28]، فوجب ألا يكون أحدٌ مِن أجداده -صلى الله عليه وآله وسلم-مشركًا".
كما رفضت أمانة الفتوى القول بأن القول إنهما خير من المؤمنين مع كفرهما، لأن هذا يعنى القول بتفضيل الكافرين على المؤمنين؛ وأضافت "ولكى نخرج من هذا المحظور وجب أن نقول بأنهما مؤمنان.
أما الرواية الثالثة التى استندت إليها أمانة الفتوى فى قولها بنجاة والدى الرسول، بأن الله تعالى أحياهما له -صلى الله عليه وآله وسلم- حتى آمَنا به، وأضافت أن هذا المسلك مال إليه طائفة كثيرة مِن حفاظ المحدِّثين وغيرهم، منهم: الخطيب البغدادى وابن شاهين وابن المُنَيِّر والمحب الطبرى والقرطبى، واحتجوا لمسلكهم بأحاديث ضعيفة، ولكنها ترقى إلى الحسن بمجموع طرقها.
وأنهت أمانة الفتوى بحثها بتوجيه النصيحة لشباب الدعوة إلى الله أن يتقوا الله فى الأمة ولا يبالغوا فى إطلاق الأحكام قبل الفهم والبحث، وإن ضاقت بهم ملكاتهم العقلية والعلمية فقد وصف لهم رسول الله- صلى الله عليه وآله وسلم- الدواء مِن هذا المرض فقال: ((إنَّما شِفاءُ العِى السُّؤالُ))، فعليهم سؤال أهل العلم بدلا مِن إيقاع أنفسهم فى اللعن والخروج من رحمة الله بالتعدى على جناب الحبيب- صلى الله عليه وآله وسلم، وأضافت أن القاضى أبا بكر بن العربى أحد أئمة المالكية سُئِل عن رجل قال: إنّ أبا النبى-صلى الله عليه وآله وسلم- فى النار، فأجاب بأن مَن قال ذلك فهو ملعون؛ لقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِى الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا}. [الأحزاب: 57]. قال: "ولا أذًى أعظم مِن أن يقال عن أبيه إنه فى النار".فليتقوا الله وليخشوا لَعنَه وإيذاءَ حبيبه -صلى الله عليه وآله وسلم- المستوجب للعن فاعله، ونصيحتنا لهم أيضًا بألا يشغلوا الأمة بخلاف لا طائل مِن ورائه.

No comments:
Post a Comment