Thursday, 2 July 2020

ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহ আলাইহি সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ বাণী

"" ইমাম আবু হানিফা রহঃ সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সঃ এর ভবিষ্যৎবানী
-----------------------------------------------------------------------

ইমাম আবু হানিফা রহঃ সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সঃ এর ভবিষ্যৎবানী

*********************************************

ﻋﻦ ﺃﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ‏( ﺭﺽ ‏) ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺜﺮﻳﺎﻟﺬﻫﺐ ﺑﻪ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﻓﺎﺭﺱ ﺃﻭ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺃﺑﻨﺎﺀ ﻓﺎﺭﺱ ﺣﺘﻰ ﻳﺘﻨﺎﻭﻟﻪ .
.
হযরত আবু হুরাইরা রাঃ বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সঃ ইরশাদ করেন, দ্বীন ও ধর্মের আহরণ করা মানুষের পক্ষে যদি এত কষ্টসাধ্য হয় যে, তা আকাশের দূর্গম প্রান্ত বা সুরাইয়া তারকার নিকটে লুকিয়ে থাকে।তবুও পারস্যের এক ব্যক্তি সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করতে সক্ষম হবে। (সহীহ বুখারি-৪৮৯৭)

ইমাম_আযম_আবু_হানিফা (রাঃ) সম্পর্কে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)র ভবিষ্যৎবাণী

 ﺣﺪﺛﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺭﺍﻓﻊ ﻭﻋﺒﺪ ﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺪﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺭﺍﻓﻊ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺯﺍﻕ ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﻣﻌﻤﺮ ﻋﻨﺠﻌﻔﺮ ﺍﻟﺠﺰﺭﻱ ﻋﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﺍﻷﺻﻢ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺪﻳﻦُ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺜﺮﻳﺎ ﻟﺬﻫﺐَ ﺑﻪ ﺭﺟﻞٌ ﻣﻦ ﻓﺎﺭﺱٍ ﺃﻭ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺃﺑﻨﺎﺀِ ﻓﺎﺭﺱٍ ﺣﺘﻰ ﻳﺘﻨﺎﻭَﻟَﻪ 

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন।যদি দ্বীন সপ্তর্ষিমন্ডলস্হ সুরাইয়া সেতারার কাছে গচ্ছিত থাকে তখনও পারস্যবাসীর এক ব্যক্তি তা অর্জন করে নিবে। 

সুত্র:-মুসলিম-কিতাবু ফাদ্বায়েলিস সাহাবা,বাবু ফাদ্বলি ফারিস ৪/১৯৭২,হাদীস নং ২৫৪৬; 

"""""এই হাদীসের ব্যখ্যায় ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী শাফেয়ী রহ: ‘তাবয়ীযুস সাহাবা’ কিতাবে ‘তাবশীরুন নাবীয়্যী বিহী’ শিরোনাম অধ্যায়ে বলেন

- ﺍﻗﻮﻝُ، ﻭﻗﺪْ ﺑُﺸِّﺮَ ﺑﺎﻻِﻣﺎﻡِ ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔَ ﻓﻰ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚِ

 আমি বলি,এই হাদীসে ইমাম আবু হানিফা রহ: সম্পর্কে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। পরিশেষে উক্ত কিতাবের ৩১-৩৩ পৃষ্টায় তিনি বলেন, ইমাম আজমের ব্যাপারে এ হাদীসের সুসংবাদ ও মর্যাদা বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য।

,,, বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে হাজার হাইসামী (রহঃ) শাফেয়ী মাযহাবের মুকাল্লিদ হওয়া সত্যেও লিখেছেন,

(ওফাত ৯৭৩হি:) তার কিতাব খায়রাতুল হিসানের ,১৭-২৪, পৃষ্টায়,,

""" “এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, আলোচ্য হাদীসে ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানী করা হয়েছে ।

"""" কেননা ইমাম সাহেবের যুগে পারস্য বংশীয় কোন ব্যাক্তি ইসলামী জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যে ইমাম সাহেব ও তাঁর শিষ্যদের সমতুল্য হতে পারেনি ।

""" এই ভবিষ্যৎ বাণী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মো’জেজাও প্রকাশ পাচ্ছে।” 

(আল খাইরাতুলহিসান, পৃষ্ঠা-১৭)
"""""""""""""""""""""""""""

"" ইবনে হাজার মক্কী শাফেয়ী রহঃ এর কথা “অনারব এক জাতী” এ বিষয়ে সহীহ সনদে একটা হাদীস পাওয়া যায়- 

""নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়াসাল্লাম বলেন-

 ﺍﻟْﻌَﺠَﻢُ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮﻧَﻜُﻢ ﻓﻰ ﺩﻳﻨَﻜﻢ ﻭﺍﻧﺴﺎﺑِﻜﻢ،ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺍﻟﻌﺠَﻢُ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝَ ﺍﻟﻠّٰﻪ؟ﻗﺎﻝ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻣﻌﻠَّﻘًﺎ ﺑﺎﻟﺜُّﺮﻳَّﺎ ﻟﻨﺎﻟَﻪُ ﺭﺟﺎﻝٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻌﺠﻢِ ﻭﺍَﺳْﻌَﺪُﻫﻢ ﺑﻪ ﺍﻟﻨﺎﺱُ

"" অনারব তোমাদের দ্বীন ও বংশে তোমাদের সাথে শরীক হবে।তারা প্রশ্ন করলো অনারব!ইয়া রাসুলাল্লাহ?

"""নবিজী উত্তরে বললেন যদি ঈমান সপ্তর্ষিমণ্ডলস্হ সুরাইয়া সেতারা চুডায়ও পৌছে যায় তখনও পারস্যবাসী থেকে কিছু ব্যক্তি তা অর্জন করে নিবে;এর কারনে তারা মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্য অর্জন করবে।

 সনদের মান:-ইমাম হাকেম বলেন হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। সুত্র:-মুসতাদরাক-কিতাবু তাবরিরুর রুইয়া ৪/৪৩৭, হাদীস নং ৮১৯৪; 

মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৯৪৪০ ,,১০০৫৭

আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) এই হাদীসটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন, “আমি বলছি যে হুযুরে আকরাম (সাঃ) ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে এই হাদীসে সুসংবাদ দিয়েছেন ।” 

(তাবয়ীযুস সাহীফাহ ফি মানাক্কিবুল ইমাম আবী হানীফাহ, পৃষ্ঠা-১৬)
"""""""""""

""এখন প্রশ্ন হলো ইমাম আবু হানিফা রহ: কোন বংশীয় ছিলেন? 

তার জাওয়াব হলো, ইমাম আবু হানিফা রহঃ পারস্য বংশীয় ছিলেন।তাঁর পুর্ব পুরুষ পারস্য দেশের ‘আনবার’ শহরের অধিবাসী ছিলেন।

""অনেক ঐতিহাসিক ব্যবিলন শহর উল্লেখ করেছেন।তখন পারস্য সরকারের রাজধানী ছিলো ‘কুফা’।

,,, ১.তিনি ব্যবিলনের সাথে সম্পর্কীয় ছিলেন।এ ব্যপারে ইমাম আব্দুর রহমান মুকরী বলেন- 

ﻛﺎﻥَ ﺍﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔَ ﻣﻦ ﺍﻫﻞِ ﺑﺎﺑُﻞَ

 আবু হানিফা রহঃ ব্যবিলনের অধিবাসী ছিলেন। সুত্র:-খতিবে বাগদাদী-তারিখে বাগদাদ ১৩/৩২৭; নববী-তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/৫০২; যাহাবী-সিয়ারুল আলামীন নুবালা ৬/৩৯৪; মিযযি-তাহযীবুল কামাল ২৯/৪২২; 

২.কাজী বাহলুল ইবনে হাসান আত-তানুখী ইমাম আযমের পিতা সম্পর্কে বলেন-

 ﺛﺎﺑِﺖٌ ﻭﺍﻟِﺪُ ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔَ ﻣِﻦ ﺍﻫﻞِ ﺍﻷﻧﺒﺎﺭِ 

,,ইমাম আবু হানিফার পিতা সাবিত ছিলেন আনবারের লোক। 

খতিবে বাগদাদী- তারিখে বাগদাদ ১৩/৩২৭; নববী-তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/৫০২; যাহাবী-সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৯৫; মিযযি-তাহযীবুল কামাল ২৯/৪২৩; 

৩.এখন দেখুন ইমাম আযমের পৌত্র ঈসমাঈল ইবনে হাম্মাদ স্পষ্ট করে বলেন-

,, ﺍﻧّﺎ ﺍِﺳﻤَﺎﻋﻴْﻞُ ﺑﻦُ ﺣﻤَّﺎﺩِ ﺑﻦِ ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥِ ﺑﻦِ ﺛﺎﺑِﺖٍ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻤِﺮْﺯُﺑﺎﻥِ ﻣِﻦ ﺃﺑﻨﺎﺀِ ﻓﺎﺭِﺱٍ ﺍﻷَﺣْﺮَﺍﺭِ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻭﻗَﻊَ ﻋﻠﻴﻨﺎ ﺭِﻕٌّ ﻗﻂٌّ 

"আমি ঈসমাঈল ইবনে হাম্মাদ ইবনে নুৃ্মান ইবনে সাবিত ইবনে নুমান ইবনে মিরযুবান পারস্যের স্বাধীন বংশের লোক।আল্লাহর কসম!আমরা কখনো দাসের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।

, সুত্র:-খতিবে বাগদাদী-তারিখে বাগদাদ ১৩/৩২৭;

 সাঈমুরী-আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহী ২পৃষ্টা; 

"অতএব বুঝা গেলো যে ঈমাম আবু হানিফা রহঃ পারস্য বংশীয় ছিলেন,যা ওনার পৌত্রের সাক্ষ থেকে আরো মজবুত হয়ে গেলো। কেননা আপন পরিবারের লোকজন বিষয়টির সাক্ষি।আর তাছাড়া তৎকালীন সময় পারস্য সরকারের রাজধানী ছিলো কুফা।আর নবিজীর ভবিষ্যতবানী অনুযায়ী ঐ ব্যক্তিটি হলেন ইমাম আবু হানিফা রহঃ। 

•••••••••••••••••••••

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য কারীদের ব্যাপারে আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) বলেছেন,

"""“আমি যখন লোকেদেরকে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করতে শুনি তখন খুব দুঃখিত হই এবং তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ হতে আযাবের ভয় করি।” 

(মানাক্কিবে আবী হানীফা, আল্লামা যাহাবী, পৃষ্ঠা ৩৬),,

আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ খুরাইবী (রহঃ) বলেন, “ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য মুর্খ অথবা হিংসুকই করতে পারে।” 

(মানাক্কিবে আবী হানীফা, আল্লামা যাহাবী, পৃষ্ঠা ৩২/তাহযীবুল কামাল, ২৯/৪৪১ পৃষ্ঠা)
"""""""""""
√ অহবী সুলাইমান গাবেজী তাঁর ‘আবু হানীফা আন নুমান’ কিতাবে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর প্রতি বিরুপ মন্তব্যের ৭টি কারণ লিখেছেন । তার মধ্যে

★ ১ম কারণ হল, ইমাম সাহেব (রহঃ) সম্পর্কে সঠিক না জানা ।
★২য় কারণ হলো মুজতাহিদ সম্পর্কে দ্বীনের ইলম না থাকা।
★৩য় কারণ হল, হিংসা । 

★৪র্থ কারণ হল, মাসায়েলের মধ্যে মতভেদ । 

* ৫ম কারণ হল, সঠিক রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে
 যাওয়া, যেমন মু’তাজেলা এবং খাওয়ারেজ সম্প্রদায়ের লোকেরা ইমাম সাহেব সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করেছে । ”

 * ৬ষ্ঠ কারণ হল, গোঁড়ামি ।
"""""আর এইসব গুলো বৈশিষ্ট্য নামধারী সহীহ আকিদার ডিলারদের মধ্যে রয়েছে 

No comments:

Post a Comment

ছাগল জীবিত হয়ে গেল

আহযাবের যুদ্ধে হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হুজুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করলেন এবং একটি ছাগল জবেহ করলেন। হুজুর ...