প্রশ্নঃ
জনাব মুফতী সাহেব! আসসালামু আলাইকুম।জমি বন্ধক দেওয়া এবং নেওয়ার বিধান কি? জমি বন্ধক রেখে টাকা নেওয়া যায়েয আছে কি?
উত্তর প্রদানে বাধিত করবেন।
জানতে চেয়েছেন
মোঃ আব্দুল্লাহ
✅উত্তর:-
وعليكم السلام ورحمه الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আমাদের দেশে একটি প্রচলন আছে, আবাদি জমি বন্ধক রেখে টাকা নেওয়া। যেমন :আব্দুল্লাহ 50 শতক জমি 1 লক্ষ টাকার বিনিময়ে যায়েদের নিকট বন্ধক রাখল, সেই জমি টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যায়েদ ভোগ করবে।এভাবে জমি বন্ধক দেয়া,নেয়া এবং টাকা গ্রহণ করা জায়েয নেই।
🎀উক্ত চুক্তিটি জায়েজ হবার দু’টি সূরত রয়েছে। এ দু’টি সূরত অনুসরণ করলে এ চুক্তি জায়েজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
👉১ম সূরত
যিনি জমী নিবেন তিনি এ হিসেবে চুক্তি করবেন যে, তিনি জমিটি ভাড়া নিচ্ছেন। নামমাত্র কিছু মূল্য মাসিক ভাড়া হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিবে। যেমন ৫০ টাকা বা ১০০ টাকা। আর অগ্রিম ভাড়া হিসেবে প্রদান করবে ১/২ লাখ টাকা।
তারপর যেদিন জমিটি ফেরত নিতে চাইবে, সেদিন আগের নির্ধারণকৃত নামমাত্র ভাড়ার টাকা রেখে বাকি টাকা ফেরত দিয়ে দেবে জমিটি ভোগদখলকারী তথা জমির ভাড়াটিয়াকে।
🔰যেমন-
আব্দুল্লাহ এর জমি আছে। কিন্তু টাকা নেই। তার টাকা প্রয়োজন। আর আব্দুর রহমানের টাকা আছে। কিন্তু জমি নেই। তার জমি প্রয়োজন। আব্দুল্লাহ তার জমিটি আব্দুর রহমানের কাছে দিয়ে ৫ লাখ টাকা নিতে চাচ্ছে। আর আব্দুর রহমান টাকা প্রদান করে জমিটির ফসল নিতে চাচ্ছে।
এমতাবস্থায় আব্দুল্লাহ তার জমিটি আব্দুর রহমানের কাছে ভাড়া দিবে। মাসিক ভাড়া নির্দিষ্ট করে নিল কথার কথা ৫০ টাকা। যতদিন আব্দুর রহমান জমিটি রাখবে ততদিন মাসিক ৫০ টাকা করে ভাড়া প্রদান করবে। মাসিক ভাড়া অগ্রিম হিসেবে আব্দুর রহমান ৫ লাখ আব্দুল্লাহকে দিয়ে দিবে। ফলে জমিটির ভাড়াটিয়া হিসেবে আব্দুর রহমান ভোগদখল করতে থাকবে। আর আব্দুল্লাহ টাকাটি খরচ করতে পারবে।
তারপর যেদিন আব্দুল্লাহ তার জমিটি ফেরত নিতে চাইবে, সেদিন বিগত দিনের মাসিক ভাড়া বাদ দিয়ে বাকি টাকা প্রদান করে জমিটি ফেরত নিয়ে নেবে। কথার কথা যদি ৫ মাস পর ফেরত নিতে চায়, তাহলে ৫ মাসের ভাড়া ২৫০ টাকা রেখে বাকি এক লাখ নিরান্নব্বই হাজার সাতশত পঞ্চাশ টাকা প্রদান করে আব্দুল্লাহ সাহেব তার জমিটি ফেরত নিয়ে নিবেন। {📖জাদীদ ফিক্বহী মাসায়েল-১/১৪৭-১৪৮, 📖মালে হারাম আওর উসকে মাসারেফ ওয়া আহকাম-৮৫}
وَأَمَّا زَكَاةُ الْأُجْرَةِ الْمُعَجَّلَةِ عَنْ سِنِينَ فِي الْإِجَارَةِ الطَّوِيلَةِ الَّتِي يَفْعَلُهَا بَعْضُ النَّاسِ عُقُودًا وَيَشْتَرِطُونَ الْخِيَارَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فِي رَأْسِ كُلِّ شَهْرٍ فَتَجِبُ عَلَى الْآجِرِ لِأَنَّهُ مَلَكَهَا بِالْقَبْضِ وَعِنْدَ الِانْفِسَاخِ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ رَدُّ عَيْنِ الْمَقْبُوضِ بَلْ قَدْرُهُ فَكَانَ كَدَيْنٍ لَحِقَهُ بَعْدَ الْحَوْلِ (فتح القدير- كتاب الزكاة، 2/174)
👉২য় সূরত
দু’টি চুক্তি সম্পাদন করবে। প্রথমে ক্রয় বিক্রয়ের চুক্তি। তারপর আলাদা আরেকটি চুক্তি নামায় লিখবে যেদিন টাকা পরিশোধ করতে পারবে সেদিন জমিটি প্রথম জমির মালিক ক্রয় করে নিয়ে যাবে আর বর্তমান মালিক তা বিক্রি করে দিবে এ মর্মে চুক্তি সম্পাদিত করবে। যেটা মুলত ওয়াদা। ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয়ত চুক্তিটি করবে যেটা মূলত ওয়াদা হিসাবে হবে ।প্রথম চুক্তির সাথে কোন সম্পর্ক নাই। আর যদি প্রথম চুক্তির সাথে দ্বিতীয় চুক্তিটি যোগ করে চুক্তিবদ্ধ হওয়া হয় তাহলে সেটা আর বৈধতায় থাকবে না। নাজায়েজ এ পরিণত হয়ে যাবে।
🔰যেমন-
আব্দুল্লাহ এর জমি আছে। কিন্তু টাকা নেই। তার টাকা প্রয়োজন। আর আব্দুর রহমানের টাকা আছে। কিন্তু জমি নেই। তার জমি প্রয়োজন। আব্দুল্লাহ তার জমিটি আব্দুর রহমানের কাছে দিয়ে ৫ লাখ টাকা নিতে চাচ্ছে। আর আব্দুর রহমান টাকা প্রদান করে জমিটির ফসল নিতে চাচ্ছে।
এমতাবস্থায় আব্দুল্লাহ তার জমিটি ৫ লাখ টাকায় আব্দুর রহমানের কাছে বিক্রি করে টাকা গ্রহণ করে নিবে। এভাবে আব্দুল্লাহ টাকার মালিক ও আব্দুর রহমান জমিটির ভোগ দখলের মালিক হয়ে যাবে।
তারপর ভিন্ন আরেকটি চুক্তি সম্পাদন করবে। যাতে লিখবে যে, যেদিন আব্দুল্লাহ ৫ লাখ টাকা দিতে পারবে, সেদিন আব্দুর রহমান জমিটি আব্দুল্লাহের কাছে ৫ লাখ টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিবে।
🗒️এভাবে ভিন্ন দু’টি চুক্তি সম্পাদিত করলে টাকা খরচ করা এবং জমিটি ভোগ দখলের মাঝে অবৈধতার কোন কিছুই বাকি থাকবে না।
لو ذكرا البيع بلا شرط ثم ذكرا الشرط على وجه العقد جاز البيع ولزم الوفاء بالوعد، إذ المواعيد قد تكون لازمة فيجعل لازما لحاجة الناس تبايعا بلا ذكر شرط الوفاء ثم شرطاه يكون بيع الوفاء؛ (رد المحتار، كتاب البيوع، مطلب فى البيع بشرط فاسد-7/281، 547، البحر الرائق، كتاب البيوع، باب خيار الشرط-6/8)
والله تعالی اعلم بالصواب
No comments:
Post a Comment