নবীগণ কবরে জীবিত
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল নবীজী সাঃ কবরে জীবিত। তবে দুনিয়াবী জীবনের মত নয়। তথা পানাহার করা, চলাফেরা করা ইত্যাদি করার ক্ষমতা নেই।
বরং জীবিত থাকার অনেক বৈশিষ্ট তাদের মাঝে রয়েছে, যেমন-সালাম দিলে তা শ্রবণ করেন। রওজার সামনে দুরুদ পড়লে তা শুনতে পান। আর দূর থেকে দুরুদ পড়লে ফরেস্তাদের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছলে তা তিনি জানতে পারেন। কবরে তিনি ইবাদতে নিমগ্ন আছেন। এ জীবনটা হল কবরের জগতে বিশেষ জীবন।
দুনিয়াবী জীবন থেকে তিন মৃত্যু বরণ করেছেন একথা মানা আবশ্যক। কিন্তু কবরের জীবনে তিনি বিশেষ জীবিত। যেমন শহীদরা বিশেষ ব্যবস্থায় জীবিত। যে জীবন দুনিয়াবী জীবনের মত নয়।
এক নং দলীল.
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ»
[حكم حسين سليم أسد] : إسناده صحيح
নবীগণ কবরে জীবিত। তারা সেখানে নামায আদায় করেন। {মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫}
মুহাদ্দিসীনদের ঐক্যমত্বে এ হাদীসটি সহীহ।
যারা এ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন:
১. ইমাম বাইহাকী রাহ. (হায়াতুল আম্বিয়া, পৃ. ৫)
২. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (ফাতহুল বারী ৬/৬০৫)
৩. হাফেজ ইবনুল মুলাক্কিন রাহ. (আল-বাদরুল মুনীর ৫/২৮৫)
৪. হাফেজ নূরুদ্দীন হাইসামী রাহ. [এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত] (মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮/২১১, হাদীস ১৩৮১২)
৫. আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. (ইম্বাউল আযকিয়া বিহায়াতিল আম্বিয়া, আল-হাবী, পৃ. ৫৫৫)
৬. আল্লামা মুনাবী রাহ. (ফায়জুল কাদীর, হাদীস ৩০৮৯)
৭. শাওকানী রাহ. (তুহফাতুয যাকিরীন পৃ. ২৮; নাইলুল আউতার, ৩/২৪৭)
৮. শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী রাহ., সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস ৬২১; সহীহুল জামিইস সাগীর;আলজানাইয; আত-তাওয়াসসুল ইত্যাদি)
দুই নং দলীল.
হযরত আউস ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ مِن ْأَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ” قَالَ: قَالُوا: يَارَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْف َتُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ يَقُولُونَ: بَلِيتَ، فَقَالَ: “إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ”.
‘তোমাদের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হল জুমার দিন। এ দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিনেই শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, আর এ দিনেই সকল প্রাণী মৃত্যুবরণ করবে। সুতরাং এ দিনে তোমরা আমার উপর বেশি করে ছালাত ও সালাম পাঠাও। তোমাদের ছালাত আমার কাছে পেশ করা হবে। সাহাবাগণ বললেন, আমাদের ছালাত আপনার কাছে কীভাবে পেশ করা হবে, তখন যে আপনি (মাটির সাথে মিশে) ক্ষয়প্রাপ্ত (নিঃশেষিত) হয়ে যাবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীগণের দেহ খাওয়াকে হারাম করে দিয়েছেন’।
অর্থাৎ কবরে নবীগণের দেহ দুনিয়ায় জীবিত মানুষের মতই অক্ষত থাকে। এর সাথে রূহের গভীর সম্পর্কও থাকে। ফলে কবরে থেকেও সালাত ও সালাম পাওয়াতে কোনো অসুবিধা হবে না।
1.সুনানে আবু দাউদ,হাদীস ১০৪৭
2.সহীহ ইবনে খুযাইমা ৩/১১৮
3.মুসতাদরাকে হাকেম ১/২৭৮
4.মুসনাদে আহমাদ হাদীস ১৬১৬২
হাদীসটিকে যারা সহীহ বলেছেন
১. ইমাম হাকেম নিশাপুরী রাহ. বলেন, হাদীসটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১০২৯)
২. ইমাম যাহাবী রাহ. হাকেমের সমর্থন করেছেন। (তালখীসুল মুসতাদরাক লিল ইমাম আয-যাহাবী,আলমুসতাদরাক, হাদীস ১০২৯)
৩. ইমাম নববী রাহ. (আল-আযকার, হাদীস ৩৩২)
৪. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (নাতাইজুল আফকার ৪/১৮)
৫. হাফেজ ইবনুল কায়্যিম রাহ.। তিনি বলেন, যে এ হাদীসের সনদে গভীর দৃষ্টি দেবে, তার মধ্যে এটি সহীহ হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না। কেননা এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত ও প্রসিদ্ধ, ইমামগণ তাঁদের হাদীস গ্রহণ করেছেন।(১০) -জালাউল আফহাম পৃ.৮১-৮৫; যাদুল মা‘আদ ১/৩৫৪
৬. হাফেজ ইবনে কাসীর রাহ. (তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আহযাব, ৩/৫১৪)
৭. হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদী (আছছারিমুল মুনকী পৃ. ২১০) (১১)
৮. শায়খ শুআইব আরনাউত (এর সনদ সহীহ, মুসনাদে আহমদের টীকা, ২৬/৮৪ হাদীস ১৬১৬২)
৯. ড. মুছতাফা আজমী (সহীহ ইবনে খুযাইমার টীকা হাদীস ১৭৩৩)
১০. শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী রাহ. (সিলসিলাতুস সহীহা, হাদীস ১৫২৭; সহীহু আবি দাউদ, সহীহুত তারগীব, তাখরীজুল মিশকাত ইত্যাদি)
১১. গাইরে মুকাল্লিদ আলেম উবাইদুর রহমান মোবারকপুরী (মিরআতুল মাফাতীহ) (১২)
১২. শাওকানী রাহ. (তুহফাতুয যাকিরীন)
১৩. শায়েখ বিন বায (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ১/৯৩)
১৪. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. হাদীসটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (৪/২৯৬, ২৬/১৪৭)
তিন নং দলীল.
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء فَنَبِيُّ اللَّهِ حَيٌّ يُرْزَقُ (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)
হযরত আবু দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা রাঃ বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। আর নবীরা কবরে জীবিত তারা সেখানে রিজিকপ্রাপ্ত হন।
1.ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭
2.সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,
3.আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০
4.সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২
5. মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫
6. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯
চার নং দলীল.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ لِلَّهِ مَلائِكَةً سَيَّاحِين فِي الأَرْض ِيُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلامَ.
“আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত একদল ফেরেশতা রয়েছেন যারা দুনিয়াতে ঘুরে বেড়ান এবং আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন”। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৯১৪
যারা এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন:
১. ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৫৭৬, ২/৪২১)
২. ইমাম যাহাবী রাহ. হাকেমের সমর্থন করেছেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২/৪২১)
৩. হাফেজ ইবনুল কায়্যিম রাহ. একে সহীহ বলেছেন। (জালাউল আফহাম পৃ.২৪)
৪. শায়খ শুআইব আরনাউত বলেন, হাদীসটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। (সহীহ ইবনে হিব্বানের টীকা ৩/১৯৫)
পাঁচ নং দলীলঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا أُبْلِغْتُهُ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, ব্যক্তি আমার কবরের পাশে এসে সালাম দিলে আমি তা শুনতে পাই, আর যে আমার কাছে সালাম পাঠায়, তা আমার কাছে পাঠানো হয়ে থাকে।
1.মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস -৯৩৪
2.কানযুল উম্মাল,হাদীস -২১৬৫
3.ফাতহুল বারী ৬/৬০৫
4.আল-কাওলুল বাদী পৃ. ১৬০.
যারা এ হাদীসকে শক্তিশালী বলেছেন-
১. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. (ফাতহুল বারী ৬/৬০৫)
২. হাফেজ সাখাবী রাহ. (আল-কওলুল বাদী পৃ.১৬০)
৩. আল্লামা সুয়ূতি রাহ. (আল-লাআলিল মাছনূআহ ১/২৮৫)
৪. ইবনু র্আরাক্ব আল-কিনানী (তানযীহুশ্ শরীয়াহ, হাদীস ৫৪০)
৫. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. সম্ভবত এ শক্তিশালী সূত্রটি পাননি। তাই অন্য একটি দুর্বল সূত্র উল্লেখ করে বলেন : হাদীসের এ সূত্রে দুর্বলতা সত্তে¡ও বর্ণনাটির বিষয়বস্তু প্রমাণিত। অন্যান্য হাদীস দ্বারা এর সমর্থন পাওয়া যায়। (মাজমূউল ফাতাওয়া ২৭/১১৬-১১৭, আর-রাদ আলাল আখ্নাঈ, হিদায়াতুর রুওয়াত ফি তাখরীজিল মিশকাত-এর টীকা, আলবানী রাহ. ১/৪২১) (১৫)
৬. আল্লামা ইবনু আব্দিল হাদী। তিনিও ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর মত অন্যান্য হাদীস দ্বারা এ হাদীসের বিষয়বস্তু প্রমাণিত সাব্যস্ত করেছেন। (১৬)
৭. মাহমূদ সাঈদ মামদূহ (রাফউল মানারাহ লিতাখরীজি আহাদীসিত তাওয়াসসুল ওয়ায্ যিয়ারাহ)
ছয় নং দলীলঃ
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” أَتَيْتُ – وَفِي رِوَايَةِ هَدَّابٍ: مَرَرْتُ – عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ “
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আমি মেরাজের রাতে কাসীবে আহমার স্থান অতিক্রমকালে দেখতে পাই হযরত মুসা আঃ তার কবরে নামায পড়ছেন। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩৭৫}
হাদীস থেকে জানা গেল, ‘আল্লাহর কাছে’ নয় বরং মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর কবরে নামায আদায় করছেন। রূহের জগতে নয় বরং তিনি স্বশরীরে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। নবীজী কবরের অবস্থানটিও উল্লেখ করে দিয়েছেন- লাল বালুর ঢিবির কাছে। তাই এখানে সালাত বা নামাযের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না’।
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহঃ “ইনবাউল আজকিয়া বিহায়াতিল আম্বিয়া” নামে হায়াতুন নবী সাঃ এর উপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। শুধু তাই নয়, হযরত ইমাম বায়হাকী রহঃ “হায়াতুল আম্বিয়া বা’দা ওয়াফাতিহিম” নামে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেখানে তারা পরিস্কার ভাষায় হায়াতুল আম্বিয়া প্রমাণ করেছেন।
আরো যেসব ব্যক্তিত্বগণ নবীগণ কবরে জীবিত হবার বিষয়টি তাদের গ্রন্থে এনেছেন-
১.ইমাম বায়হাকী রহঃ {হায়াতুল আম্বিয়া-৭৭}
২.জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ {আলহাওয়ী লিলফাতাওয়া-২/১৩৯}
৩.ইমাম কুরতুবী রহঃ {আলমুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীসি কিতাবি মুসলিম-৬/১৯২}
৪.আব্দুল আজীজ বিন বাজ, আব্দুল্লাহ গাদয়ান, সালেহ আলফাউজান, বকর আবু জায়েদ। {লাজনাতুত দায়িমা, আলমাজমুআতুস সানিয়া-১/১৭৫}
৫.আল্লামা সাখাবী রহঃ {আলকাউলুল বাদী-১২৫}
৬.শরহে রিয়াজুল সালেহীন লিআল্লামা মুহাম্মদ বিন আলান আশশাফেয়ী আলআশআরী-৪/১৯২
৭.মাজাহিরে হক-১/২৪৫
৮.রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ। ফাতাওয়া রশীদিয়া-১/১০০।
৯.মোল্লা আলী কারী রহঃ {শরহে শিফা-২/১৪২} মিরকাতুল মাফাতীহ-২/২০৯}
১০.আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ {ফাতোয়া শামী-৩/৩৬৬, রাসায়েলে ইবনে আবেদীন২/২০৩}
১১.আল্লামা আইনী রহঃ ও বলেন নবীগণ কবরে জীবিত। দেখুন {উমদাতুল কারী শরহে বুখারী-৭/৬০০}
১২.ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ {ফাতহুল বারী-৭/২২, ৪/
১৩.আল্লামা শাউকানী- নাইলুল আওতার-৩/২১০-২১১}
১৪.শায়েখ আব্দুল ওয়াহহাব নজদী- {রিসালাযে শায়েখ নজদী-৪১৫
১৫. মাসআলায়ে হায়াতুল আম্বিয়া কি হাক্বীকত, মাওলানা মনযূর নোমানী রাহ. (পৃ. ১৩-১৫)
১৬. মাকামে হায়াত, ড. খালেদ মাহমূদ (পৃ.২২৮)
১৭. হিদায়াতুল হায়ারান, মাওলানা আব্দুশ শাক‚র তিরমিযী রাহ. (পৃ. ৬০)
১৮. তাসকীনুস ছুদূর, মাওলানা সারফারায খান ছফদর (পৃ.২১১)
১৯. তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ফি শারহি সহীহি মুসলিম (৫/১৭)
২০. সীরাতে মুছতাফা, মাওলানা ইদ্রীস কান্ধলবী রাহ. (৩/২৫৮)
২১. তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, মুফতী মুহাম্মদ শফী রাহ. (২/৪৫)
২২. আশরাফুল জাওয়াব (পৃ. ২৩৮)
২৩. উলামাউ দেওবন্দ ইত্তিযাহুহুমুদ-দ্বীনি ও মিযাজুহুমুল মাযহাবী (পৃ.১৯৯) (২)
২৪. দারুল উলূম দেওবন্দ: মাদরাসাহ ফিকরিয়্যাহ তাউজীহিয়্যাহ, উবাইদুল্লাহ আল-আসআদী (পৃ.৬২৪) (৩)
২৫. আল-মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ (পৃ.৪৪) (৪)
🕋 আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকীদা 🕋
🕌আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আকীদা হল, মৃত্যুর পর সকল নবীদের কবরে পুনরায় বিশেষ জীবন দান করা হয়েছে। ইমাম বাইহাকী রাহ. তাঁর ‘আল ই‘তিকাদ’ গ্রন্থে বলেন-
والأنبياء عليهم الصلاة والسلام بعدما قبضوا ردت إليهم أرواحهم، فهم أحياء عند ربهم كالشهداء.
“সকল নবীর রূহ কবজ করার পর তা আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা শহীদদের ন্যায় তাদের রবের কাছে জীবিত”। -আল ইতিকাদ পৃ.৪১৫ দারুল ফযীলাহ রিয়াদ; আত-তালখীছুল হাবীর ২/২৫৪; আল বাদরুল মুনীর ৫/২৯২
🕌হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন,
وقد تمسك به من أنكر الحياة في القبر، وأجيب عن أهل السنة المثبتين لذلك بأن المراد نفي الموت اللازم من الذي أثبته عمر بقوله: “وليبعثه الله في الدنيا ليقطع أيدي القائلين بموته” وليس فيه تعرض لما يقع في البرزخ، وأحسن من هذا الجواب أن يقال: إن حياته صلى الله عليه وسلم في القبر لا يعقبها موت بل يستمر حيا، والأنبياء أحياء في قبورهم، ولعل هذا هو الحكمة في تعريف الموتتين حيث قال :لا يذيقك الله الموتتين أي المعروفتين المشهورتين الواقعتين لكل أحد غير الأنبياء. (فتح الباري، باب لو كنت متخذا خليلا لتخذت أبا بكر خليلا)
“যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরে জীবিত থাকাকে অস্বীকার করে তারা হযরত আবু বকর রা.-এর এ বক্তব্য দিয়ে দলিল পেশ করতে চায়-‘আল্লাহ আপনাকে দুইবার মৃত্যু দিবেন না’। আর আহলুস সুন্নাহ- যারা নবীর কবরে জীবিত থাকায় বিশ্বাস রাখেন, এদের পক্ষ থেকে এর জবাব দেয়া হয়েছে যে,হযরত আবু বকর রা.-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল উমর রা.-এর ভুল ধারণার খণ্ডন করা। উমর রা. বলেছিলেন, ‘আল্লাহ তাআলা নবীজীকে আবার দুনিয়াতে জীবিত করবেন …’। এ কথার মধ্যে বারযাখে কী হবে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। অবশ্য হযরত আবু বকর রা.-এর এ কথার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হল, কবরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে জীবন পেয়েছেন তারপর আর কোনো মৃত্যু আসবে না। বরং তিনি বরাবরই কবরে জীবিত থাকবেন, আর নবীগণ কবরে জীবিত। …।” -ফাতহুল বারী, আবু বকরের ফযীলত অধ্যায় ৭/৩৩
শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার এ বক্তব্যে স্পষ্টই বলেছেন, আহলুস-সুন্নাহর বিশ্বাস হল, নবীগণ কবরে জীবিত।
সারকথাঃ
১. নির্ধারিত মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার মাধ্যমে সকল নবীগণের দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
২. মৃত্যুর পর তাঁরা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ জীবন লাভ করেছেন। তাই তাঁরা কবরে জীবিত। তাঁদের কবরের জীবনের ধরণ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর বিশ্বাস হল:
ক. আলমে বারযাখে সাধারণ মুমিনের জীবনের চেয়ে শহীদদের জীবন পূর্ণাঙ্গ। আর শহীদের জীবন থেকে নবীদের জীবন আরো পূর্ণাঙ্গ ও উন্নততর।
খ. দুনিয়ার জীবনের সাথে তাঁদের কবরের জীবনের কিছু কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।যেমন কবরে তাঁদের দেহ মোবারক সুসংরক্ষিত রয়েছে। তাঁরা কবরে নামায আদায় করেন। যারা কবরের নিকট গিয়ে ছালাত ও সালাম পেশ করে তাঁরা তা সরাসরি শুনেন এবং যারা দূর থেকে সালাম পাঠান তা ফেরেশতা তাদের কাছে (কবরে) পৌঁছে দেন এবং তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রিযিক প্রাপ্ত হন।
গ. কবরের জীবনের ধরণ সম্পর্কে যে বিষয়গুলো কুরআন-সুন্নাহয় পাওয়া যায় না সে বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করি।
৩. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এ-ও বিশ্বাস করে যে, তাদের কবর-জীবন হুবহু দুনিয়ার জীবনের মত নয়। কবর থেকে স্বাভাবিকভাবে যথা ইচ্ছা গমনাগমন করা, মৃত্যু-পূর্ববর্তী সময়ের মত আদেশ নিষেধ ও পরামর্শ দেওয়া, কারো সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ, কথোপকথন ও মুসাফাহা করা ইত্যাদি বিষয়ে শরয়ী কোনো দলিল নেই। তবে যদি স্বপ্ন, কাশফ বা কারামাতের মাধ্যমে এমন কোনো কিছু ঘটা প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি ভিন্ন বিষয়। হায়াতুল আম্বিয়ার আকীদার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা একথা দিবা লোকের ন্যায় পরিস্কার হয়ে গেল যে, নবীগণ কবরে জীবিত।
No comments:
Post a Comment