তিনি ২১ জুলাই ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ ২৪ রজব ১৩২৯ হিজরি ৬ শ্রাবণ ১৩১৭ বাংলা শুক্রবার কুতুবদিয়া নিজ পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মহান পিতা হযরত হাফেজ সামশুদ্দীন (রহ.) বড় হাফেজ হুজুর নামে পরিচিতি ছিল। নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হেফ্জখানা। এতে আরাকান মায়ানমারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্ররা আসত পবিত্র কুরআন মজিদের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। হযরত মালেক শাহ (রহ.)’র মাতা বেগম বদিউজ্জমাল (রহ.) তাপসী মহিলা ছিলেন। তাঁর পিতা কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ নিবাসী হযরত মাওলানা মঈন উদ্দীন অতি উচ্চমানের আলেম ছিলেন। হযরত বেগম বদিউজ্জমালের পবিত্র কুরআনের আয়াত অধিকাংশ মুখস্থ ছিল। পূর্ণ অর্থ ব্যাখ্যায় তিনি ছিলেন পারদর্শী। এলাকার মহিলাগণের কাছে তিনি ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতেন।
এই মহিমান্বিত দম্পতির মেধাবী সন্তান শাহ আবদুল মালেক আল-কুতুবী (রহ.) নিজে বর্ণনা দেন,“তখন আমি চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসার আলিম জামাতের ছাত্র, ছুটিতে বাড়িতে আসি, শেষ রাতে যথারীতি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে মোনাজাত করতে আমার কান্না এসে যায়। আব্বাজান কান্না শুনে আম্মাজানকে ডেকে বললেন, দেখ তোমার ছেলে অল্প বয়সে কি কান্ড করছে”। মা জবাব দিলেন,“যেমন বাপের তেমন ছেলে” তাতে অবাক হবার কি আছে? বাবা বললেন,“তাঁর মাও কম কিসের।”
তাঁর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ছমদিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ঐ সময় তথা অল্প বয়সে সুলতানুল আউলিয়া হযরত হাফেজ মুনির উদ্দীন নুরুল্লাহ (রহ.)’র নিকট বায়াত লাভ করেন এবং পরবর্তীতে খেলাফত প্রাপ্ত হন। উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি ১৯৩৬/৩৭ খ্রিস্টাব্দে ভর্তি হন হিন্দুস্থানের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায়। তিনি শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাঁশখালী ছনুয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। এরপর কিছু দিন ছমদিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী লেমশীখালী গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন দাদাজীর আজমগড়ী হযরতের নামে সামশুল উলুম হামেদিয়া মাদ্রাসা। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি এ মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন স্থানে সফর করতে থাকেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবরে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের পর তিনি কুতুবদিয়া নিজ বাড়িতে কুতুব শরীফ দরবার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭৬-১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ তথা ১০ বছর কুতুব শরীফ দরবারে ৩ দিনব্যাপী সীরতুন্নবী (স.) মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। এতে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ওলামা মাশায়েকগণ তকরীর পেশ করতেন। শুধু তাই নয়, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ থেকে শুরু করে উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ববর্গ অংশ গ্রহণ করতেন।
এ মহান অলি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ ফাল্গুন ১৪০৭ বাংলা,১২ জিলক্বদ ১৪২১ হিজরি শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইন্তেকাল করেন।
হযরত মালেক শাহ (রহ.) দেশের বিভিন্ন অংশে অবস্থানের পর ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে কুতুবদিয়াতে অবস্থান করতে থাকেন। তথায় সব সময় কম বেশি মানব সমাগম থাকত তাঁর সান্নিধ্য লাভের আশায়।
তাঁর জীবনে বহু করামত রয়েছে। তবে জীবনের শেষ করামত হল তাঁর ইন্তেকাল পরবর্তী জানাযা। তিনি তেমন সফর করতেন না। কুতুবদিয়াতে অবস্থান করতেন। সফর করলেও কদাচিৎ। কিন্তু চিকিৎসার তাগিদে তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগরে আসতে হয় এবং চট্টগ্রাম শহরে ইন্তেকাল করেন। পরদিন সকাল নয় টায় বিশাল প্যারেড মাঠে তাঁর জানাযা। হযরত মালেক শাহ্ (রহ.) ফানাফিল্লাহ জগতে বিচরণ করায় তাঁর ভক্ত ছাড়া মুরিদ থাকার কথা নয়। তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে কুতুবদিয়ায় অবস্থান করে আসছেন। তারপরেও প্যারেড মাঠে লক্ষাধিক লোকের সমাগমে জানাযা তাঁর জীবনের অন্যতম করামত বলে মনে করি।
মহান আল্লাহ পাক আমাকে আমার পীর গারাংগিয়ার হযরত বড় হুজুর (রহ.)’র ৪৩২ পৃষ্ঠাব্যাপী তথ্যসমৃদ্ধ জীবনী গ্রন্থ লিখার সৌভাগ্য দান করেন। প্রায় বৎসরকাল ধরে তথ্য তালাশে আজমগড়ী সিলসিলার বহু দুর্লভ বিষয় জানার সৌভাগ্য হয়। তেমনিভাবে হযরত মালেক শাহ (রহ.)’র একাধিক করামত জানার সুযোগ হয়। তৎমধ্যে নিম্ন করামত পাঠক মহলে উপস্থাপন করলাম:-
আজমগড়ী হযরত (রহ.) উপমহাদেশ বিভাগের আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলা হতে তথা তার নিজ বাড়ি হতে বৎসরে একবার চট্টগ্রাম সফর করতেন তরিক্বতে তাবলীগের উদ্দেশ্যে। তেমনি একবার তিনি তরিক্বতের তাবলীগে সফর করে রেলযোগে চট্টগ্রাম ত্যাগ করছিলেন। তখন হযরত মালেক শাহ (রহ.)’র যৌবনকাল বলে জানতে পারি।
রেল স্টেশনে হালিশহরের হাফেজ মুনির উদ্দীন (রহ.) গারাংগিয়ার বড় হুজুর (রহ.) সহ আজমগড়ী হযরত (রহ.)’র স্বনামধন্য খলিফাগণ থাকা স্বাভাবিক তাঁদের হযরত পীর সাহেবকে বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে। তেমনিভাবে আজমগড়ী সিলসিলার বহু মুরিদ ও অনুসারী ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত থাকার কথা।
আজমগড়ী হযরত (রহ.) যথারীতি সকলের থেকে বিদায় নিয়ে ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে ট্রেনে আরোহণ করে তাঁর কক্ষে বসে পড়েন। অপরদিকে হযরত মালেক শাহ (রহ.) চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দ্রুতগতিতে পূর্ব-পশ্চিমে হাঁটাহাঁটি করতে থাকেন। আর বলতে থাকেন তাঁর মাতৃভাষায়,“তুই কেনে যাবি যা চাই,আঁরে কি দিবি দি যা।” অর্থাৎ আপনি কেমনে যাবেন যান দেখি,আমাকে কি দিবেন দিয়ে যান।
রেলের গার্ড সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেন ছাড়ার দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু চালক চেষ্টা করলেও ট্রেন চলে না। অপরদিকে,হযরত মালেক শাহ (রহ.) রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঐ একই কথা বারেবারে পুনরাবৃত্তি করে করে দ্রুত পায়চারি করতে থাকেন।
ট্রেন না চলার কারণ মহান আল্লাহ পাকের জিন্দা অলি আজমগড়ী হযরত (রহ.) না জানার কথা নয়। তিনি ট্রেনে তাঁর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে ট্রেনের দরজায় দাঁড়ান এবং উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে বলেন,“মালেক কো পাকড়াও”। অর্থাৎ মালেককে ধরে নিয়ে আস। এখানে উল্লেখ্য আজমগড়ী হযরত (রহ.) তাঁর স্বনামধন্য খলিফাগণকে এক শব্দের নামে ডাকতেন। যেমন সালাম-হযরত আবদুস সালাম আরকানী (রহ.),মুনির-হালিশহরের হযরত হাফেজ মুনির উদ্দীন (রহ.), নজির- চুনতীর হযরত নজির আহমদ (রহ.),মজিদ- গারাংগিয়ার হযরত বড় হুজুর (রহ.),রশিদ- গারাংগিয়ার হযরত ছোট হুজুর (রহ.) ইত্যাদি।
তেমনিভাবে মালেক কো পাকড়াও বলার সাথে সাথে ৪/৫ জন যুবকশ্রেণির লোক দ্রুত গিয়ে প্ল্যাটফর্মে পায়চারী করা অবস্থায় হযরত মালেক শাহ (রহ.) কে ধরে ফেলেন এবং টেনে টেনে আজমগড়ী হযরত(রহ.)’র ট্রেনের কক্ষের দরজায় নিয়ে আসেন। আজমগড়ী হযরত (রহ.) হযরত মালেক শাহ (রহ.)’র ঘাড়ে একটি থাপ্পড় মারেন। সাথে সাথে হযরত মালেক শাহ্ হুশহারা হয়ে প্ল্যাটফর্মে পড়ে যায়। তখন আজমগড়ী হযরত (রহ.) বললেন,“ড্রাইভারকো বোলো ট্রেন ছাড়নে কে লিয়ে”। অর্থাৎ ড্রাইভারকে বল ট্রেন ছাড়ার জন্য। সাথে সাথে ড্রাইভার ট্রেন চালিয়ে নিয়ে যায়।
ছনুয়া মনুমিয়াজি জমিদার বাড়ির মরহুম মুহাম্মদ উল্লাহ মিয়া চৌধুরী আজমগড়ী হযরত (রহ.)’র অন্যতম মুরিদ ছিলেন। তিনি ৮৫ বছর বয়সে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। আজমগড়ী হযরত (রহ.) চট্টগ্রাম অঞ্চলে সফরকালে ছনুয়া মনু মিয়াজি বাড়িতে তশরীফ নিতেন। তথায় মাগরিবের নামাজান্তে আজমগড়ী হযরত (রহ.)’র পিছনে অনেকে মোরাকাবায় (ধ্যান) নিমগ্ন থাকাটা স্বাভাবিক।
উক্ত সময় হযরত মালেক শাহ (রহ.) ও অন্যান্যদের সাথে মোরাকাবায় বসে যান। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই তাঁর শরীরে আগুন ধরে যায়। সাথে সাথে তিনি দৌঁড়ে গিয়ে নিকটস্থ পুকুরে ঝাপিয়ে পড়েন।
মূলত হযরত মালেক শাহ (রহ.) ফানাফিল্লাহ জগতে বিচরণ করায় তাঁরই আপাদমস্তক অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্নতর হওয়া স্বাভাবিক।
১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে আজমগড়ী হযরত (রহ.) বার্ধক্যের চাপ উপেক্ষা করে সপ্তাহখানেকের প্রোগ্রাম নিয়ে শেষবারের মত দীর্ঘ ১৭ বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সফর করেন আজমগড়ী সিলসিলার গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনার প্রয়োজনের তাগিদে। ঐ সময় কয়েকদিন তিনি হালিশহরে হযরত হাফেজ ছাহেব (রহ.)’র বাড়িতে অবস্থান করেন। সে সময় হযরত মালেক শাহ (রহ.) তাঁর কয়েকজন ভক্তসহ হালিশহরে হাফেজ ছাহেব হুজুরের বাড়ির নিকটতম স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন।
হযরত মালেক শাহ্ (রহ.) প্রখ্যাত অলি হযরত হাফেজ মুনির উদ্দীন (রহ.)’র হাতে তরিক্বতে দাখিল হয়ে দ্রুত আধ্যাত্নিক সাগরে প্রবেশ করে ফানাফিল্লাহ জগতে পৌঁছে যান,যা কি না হযরত হাফেজ ছাহেব (রহ.)’র মাধ্যমে আজমগড়ী হযরত (রহ.)’র নূরে নজর বলতে পারি।
বছরের যে কোন সময় তাঁর কবর শরীফে যেয়ারতকালীন দোয়া দরুদ পড়ে সওয়াব বকশিস করা যাবে। তাঁর উছিলা দিয়ে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে চাওয়া যাবে। কিন্তু তিনি ফানাফিল্লাহ জগতে থেকে ইন্তেকাল করায় তাঁর কবরে মোরাকাবা করা যাবে না। মহান আল্লাহপাক হযরত মালেক শাহ (রহ.) কে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন ॥
লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিষ্ট
Friday, 31 July 2020
সাত ভাগে কুরবানী
Tuesday, 28 July 2020
عدد الركعات التراويح
السؤال 82152
نص الجواب
الحمد لله.
أولا :
جاء الأمر عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه بصلاة العشرين ركعة عن أربعة من التابعين ، وهذه رواياتهم :
1- عن السائب بن يزيد أنه قال : ( أَنَّ عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أُبَيِّ بنِ كَعبٍ وَعَلَى تَمِيمٍ الدَّارِيِّ عَلَى إِحدَى وَعِشرِينَ رَكعَةً ، يَقرَؤُونَ بِالمِئِينَ ، وَيَنصَرِفُونَ عِندَ فُرُوعِ الفَجرِ )
رواه عن السائب جماعة من الرواة : ومنهم من يذكر ( العشرين ) أو ( إحدى وعشرين ) أو ( ثلاث وعشرين ) وهم :
محمد بن يوسف ابن أخت السائب عن السائب : كما عند عبد الرزاق في "المصنف" (4/260) من رواية داود بن قيس وغيره عنه .
ويزيد بن خصيفة : أخرجه ابن الجعد في "المسند" (1/413) ، ومن طريقه البيهقي في السنن (2/496)
والحارث بن عبد الرحمن بن أبي ذباب : أخرجه عبد الرزاق في "المصنف" (4/261)
فهذه روايات صحيحة من رواة ثقات عن السائب بن يزيد ، وفيها ذكر العشرين ركعة في زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ، والزيادة في رواية ( إحدى وعشرين ) أو ( ثلاث وعشرين ) إنما هو باعتبار القيام مع الوتر .
2- عن يزيد بن رومان قال : ( كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاثٍ وَعِشرِينَ رَكعةً )
رواه عنه مالك في "الموطأ" (1/115) ، وقال النووي في "المجموع" (4/33) : " مرسل ، فإن يزيد بن رومان لم يدرك عمر " انتهى .
3- عن يحيى بن سعيد القطان : ( أَنَّ عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ أَمَرَ رَجُلا يُصَلِّي بِهِم عِشرِينَ رَكعَةً )
أخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف" (2/163) عن وكيع عن مالك به ، ولكن يحيى بن سعيد لم يدرك عمر .
4- عن عبد العزيز بن رفيع قال : ( كَانَ أُبَيُّ بنُ كَعبٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ بِالمَدِينَةِ عِشرِينَ رَكعَةً ، وَيُوتِرُ بِثَلاثٍ )
أخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف" (2/163) .
وبمجموع هذه الروايات يتبين أن العشرين ركعة كانت هي السنة الغالبة على التراويح في زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ، ومثل صلاة التراويح أمر مشهور يتناقله الجيل وعامة الناس ، ورواية يزيد بن رومان ويحيى القطان يعتبر بهما وإن كانا لم يدركا عمر ، فإنهما ولا شك تلقياه عن مجموع الناس الذين أدركوهم ، وذلك أمر لا يحتاج إلى رجل يسنده ، فإن المدينة كلها تسنده .
قال الإمام الترمذي رحمه الله في سننه (3/169) :
" وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ .
وقَالَ الشَّافِعِيُّ وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً .
وقال ابن عبد البر في "الاستذكار" (2/69) :
" وروي عشرون ركعة عن علي ، وشتير بن شكل ، وابن أبي مليكة ، والحارث الهمداني ، وأبي البختري ، وهو قول جمهور العلماء ، وبه قال الكوفيون والشافعي وأكثر الفقهاء ، وهو الصحيح عن أبي بن كعب ، من غير خلاف من الصحابة ، وقال عطاء : أدركت الناس وهم يصلون ثلاثا وعشرين ركعة بالوتر " انتهى .
وانظر ذلك مسندا في "مصنف ابن أبي شيبة" (2/163)
يقول ابن تيمية رحمه الله تعالى "مجموع الفتاوى" (23/112) :
" ثبت أن أُبَىَّ بن كعب كان يقوم بالناس عشرين ركعة فى قيام رمضان ، ويوتر بثلاث ، فرأى كثير من العلماء أن ذلك هو السنة ؛ لأنه أقامه بين المهاجرين والانصار ولم ينكره منكر ، واستحب آخرون تسعة وثلاثين ركعة ، بناء على أنه عمل أهل المدينة القديم " انتهى .
أما ما جاء من رواية الإمام مالك ويحيى القطان وغيرهما عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد في "الموطأ" (1/115) وفي "مصنف ابن أبي شيبة" (2/162) بلفظ : ( إحدى عشرة ركعة ) فهو محمول على أنه كان في بداية الأمر ، ثم خُفِّفَ بعدُ على الناس ، فزاد عمر الركعات إلى عشرين ليخفف على الناس القراءة في القيام .
قال ابن عبد البر في "الاستذكار" (2/68) :
" إلا أنه يحتمل أن يكون القيام في أول ما عمل به عمر بإحدى عشرة ركعة ، ثم خفف عليهم طول القيام ، ونقلهم إلى إحدى وعشرين ركعة ، يخففون فيها القراءة ويزيدون في الركوع والسجود ، إلا أن الأغلب عندي في إحدى عشرة ركعة الوهم ، والله أعلم " انتهى .
ويقول ابن تيمية رحمه الله "مجموع الفتاوى" (23/113) :
" وأُبَىٌّ بن كعب لما قام بهم وهم جماعة واحدة لم يمكن أن يطيل بهم القيام ، فكثر الركعات ليكون ذلك عوضا عن طول القيام ، وجعلوا ذلك ضعف عدد ركعاته ، فإنه كان يقوم بالليل إحدى عشرة ركعة أو ثلاث عشرة ، ثم بعد ذلك كأن الناس بالمدينة ضعفوا عن طول القيام ، فكثروا الركعات ، حتى بلغت تسعا وثلاثين " انتهى .
ثانيا :
صلاة الليل الباب فيها واسع ، وهي غير محصورة بعدد ، فمن شاء قامها بإحدى عشرة ركعة ، ومن شاء زاد أو نقص ، وكذلك صلاة التراويح في رمضان .
يقول ابن تيمية رحمه الله "مجموع الفتاوى" (23/113) :
" وقال طائفة : قد ثبت فى الصحيح عن عائشة ( أن النبى لم يكن يزيد فى رمضان ولا غيره على ثلاث عشرة ركعة ) واضطرب قوم فى هذا الأصل ؛ لما ظنوه من معارضة الحديث الصحيح لما ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين .
والصواب أن ذلك جميعه حسن ، كما قد نص على ذلك الامام أحمد رضى الله عنه ، وأنه لا يتوقت فى قيام رمضان عدد ، فان النبى لم يوقت فيها عددا " انتهى .
ويقول الشيخ ابن باز رحمه الله تعالى "مجموع الفتاوى" (11/322) :
" وثبت عن عمر رضي لله عنه أنه أمر من عين من الصحابة أن يصلي إحدى عشرة ، وثبت عنهم أنهم صلوا بأمره ثلاثا وعشرين ، وهذا يدل على التوسعة في ذلك ، وأن الأمر عند الصحابة واسع ، كما دل عليه قوله عليه الصلاة والسلام : ( صلاة الليل مثنى مثنى ) " انتهى
Monday, 27 July 2020
হযরত মাওলা আলীর রদিয়াল্লাহু আনহু মদ পান করেন নি।
Friday, 24 July 2020
গনহারে মাথা ন্যারা করা
কুরবানী ও তার কিছু আহকাম
Tuesday, 21 July 2020
জিলহজ্বেৱ প্রথম দশ দিনের ফজিলত
মহরে ফাতেমী
Thursday, 16 July 2020
খাসী কুরবানী করা যাবে কিনা
Monday, 13 July 2020
হালী শহরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এর নাতি মাওলানা জালালুদ্দিন রহমতুল্লাহ আলাইহি
পরিস্হিতি২৪ডটকম/এস. এম. ওসমান : ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে আউলিয়ায়ে কেরামের ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল, তারা আপন জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হয়। তেমনি চট্টগ্রামও তাদের পদচারণ থেকে বাদ যায়নি। যারা এদেশে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করে নওমুসলিমদের ফেলে নিজ দেশে ফিরেনি তাদের মধ্যে হযরত মাহী আসওয়ার (রহ.) তথা হালিশহর দরবার শরীফের পূর্বপুরুষ অন্যতম।
শত বছর পূর্বে এই সৈয়দ পরিবারে জন্ম নেন সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব হযরত সৈয়দ হাফেজ মুনির উদ্দীন নুরুল্লাহ (র.)। হাফেজী পড়ার সময় (হুজুরের মামা) এনায়েত বাজারের নজু সওদাগর হযরত আহমদুল্লাহ (ক.) মাইজভাণ্ডারীর দরবারে নিয়ে যান। ঐ দিন হযরত কেবলা (ক.) মুরিদানগণকে বললেন, আজ আমার দরবারে শরীয়তের সম্রাট আসবে। তোমাদের ঢোল-তবলা উত্তর বিলের উত্তর মাথায় রেখে আস। সকাল থেকে সবাই দরবার শরীফে অধীরে আগ্রহে অপেমাণ। মেহমানকে না দেখে শেষবেলায় একজন জিজ্ঞাসা করলে হযরত বলেন, কেন তোমরা দেখনি ছোট ছেলে এসেছিল, তিনিই তো।হাফেজ সাহেব হুজুরের বড় ভাই সৈয়দ মৌলানা জমির উদ্দিন(রহ.)বাড়ীতে ভারতের প্রখ্যাত পীরে তরীক্বত হযরত সৈয়দ হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজম গড়ি(রা.)। হাফেজ সাহেব হুজুর পীর ছাহেব কেবলার (রহ.) এর খেতমতে নিয়োজিত ছিলেন কিন্তু তরিক্বতের দীক্ষা গ্রহণ করেন নি। মৌলানা জমির উদ্দিন (রহ.) বাড়ী ত্যাগ করার সময় পীর ছাহেব হুজুর হাফেজ ছাহেব হুজুরকে বললেন, ‘মনির মাই তুমারে লিয়ে আইয়া তুম এক নজর বি নিহী দেখা।’ হাফেজ সাহেব হুজুরের মকাম বর্ণনা করতে গিয়ে হাফেজ হামেদ হাসান আলভী হুজুর বলেন, নজির বে নজির হে, মনির আওয়ার হে। এই প্রচারবিমুখ দরবারের অন্য মাশায়েকগণকে নিয়ে অন্য সময় আলোচনা করব ইনশ-আল্লাহ।
চট্টগ্রাম তথা উপমহাদেশে যে ‘ক’জন ইসলামী শরিয়তের পাবন্ধকারী পীরের সাথে আমার দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে তার মধ্যে কুতুবুল এরশাদ গাউছে জামান হযরত আলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ শামসুল হক মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন (র.) অন্যতম। এই মাশায়েখে তরীক্বতে আবির্ভাব থেকে ওফাত পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক কুদরতের রহস্যে ভরপুর।
হুজুরের জন্মের সময় বাচ্চা না হয়ে আম্মাজান থেকে টিউমার সদৃশ (রক্তের পিণ্ড) বের হয়। যা পরে হুজুরদের পশ্চিমে রেললাইনের ওপারে ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়। এই খবর তাহার দাদাজান সুলতানুল আউলিয়ার কাছে পৌঁছলে তিনি সৈয়দ মাহমুদুল হককে রক্ত পিণ্ডটি দেখাতে বলেন। তিনি(কামালের বাপ) গিয়ে রক্ত পিণ্ডটি নিয়ে আসেন এবং তা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পৃথক করে তার থেকে বের করে হুজুর মহিউত তরিক্বতকে । যা দ্বারা এই ধরাপৃষ্ঠে প্রকাশ পায় “এক কুদরত”।
হালিশহর দরবারের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা খাজায়ে বাঙাল সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল এরশাদ হযরত হাফেজ মুনির উদ্দীন নুরুল্লাহ (র.) নিজের বংশে কত বড় আল্লাহর অলি এসেছিলেন তা সেদিন প্রকাশ না করলেও ধীরে ধীরে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এমনকি দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে সুরভিত সুঘ্রাণ।
এই অলৌকিক মানুষটি ছাত্রজীবনে তীক্ষ্ণ মেধা ও আদর্শের অধিকারী থাকায় ওস্তাদমণ্ডলীর কাছে সমাদৃত হয়। এই রাহবারে শরিয়ত চট্টগ্রামের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন ছোবহানিয়া আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ‘ফাজিল’, দরুল উলুম থেকে ‘কামিল হাদিস’, ওয়াজেদিয়া আলীয়া থেকে ‘ফিকাহ্’ শাস্ত্রের উপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
শরিয়তের জাহেরী জ্ঞান অর্জনের পর জ্ঞানবিজ্ঞানের সূতিকাগার কলকাতা আলীয়া ও মুসলিম আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপমহাদেশের আলোড়িত আলেমদ্বীন স্বীয়পিতা শামসুল ওলামা হযরত কাজী সিরাজুল মোস্তফা (রা.) থেকে তরিকতের সুধা পান করে আল্লাহ ও রাসুলের অনুগ্রহে হাকিকত ও মারেফতের উচ্চ মকামে অধিষ্ঠিত হন।
মুনিরীয়া তরিকতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র তরিকতের দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষ ওজিফা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় এবং মা-বাবার খেদমত করতে বলতেন। আর যদি মা-বাবা বেঁচে নাই বললে তখন তাকে ভালোভাবে শরিয়ত অনুসরণের কথা বলতেন। তারপরও যদি কেউ ওজিফা চাইতেন তখন তিনি আরও হালাল খাবার উপদেশ দিতেন। অনেকে ইসলামের এই মূল আদর্শ অনুসরণ করতে না পেরে হুজুরের নিকট থেকে ওজিফা না নিয়ে চলে যেতেন। কিন্তু যারা কষ্ট করে হুজুরের পিছনে লেগে থাকতেন তিনি তাদেরকে প্রথমে ওজিফা পরে শরীরের কোন অংশের সাথে কোরআনের কোন আয়াতের কি সম্পর্ক ইত্যাদি হাতে ধরে ধরে বিশেষ আলোচনা করে বুঝায়ে দিয়ে (কলব কোথায় অন্য লতিফাগুলো কোথায়) প্রথম ছবক দিয়ে হুজুর তরিকতের উর্বর চারণ ভূমি তৈয়ার করতেন। তিনি সাত তরিকীর খেলাফত প্রাপ্ত ছিলেন। তিনি তরিকতের মাশায়েখ হিসেবে যখন তখন বাইয়াত করাতেন না। গাউসে পাকের আশেক হিসেবে কাদেরীয়া তরিকায় বাইয়াত করাতেন। তিনি ২০০৮ সালে সর্বশেষ দরবারের মসজিদে বাইয়াত করান।
তিনি সরাসরি রাজনীতি না করলেও সুন্নিয়তভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী ফ্রন্ট ও ছাত্রসেনাকে সহযোগিতা করতেন নীরবে। হুজুর রাজনৈতিকভাবে খুবই সচেতন ছিলেন। রাজনীতির খবরাখবর নিতেন। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক পত্রিকা ও তার উপসম্পাদকীয় পাঠ করতেন। তিনি বিশেষভাবে লেখকদেরকে মূল্যায়ন করতেন। আমাকে যখন গবেষণার জন্য “চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র” থেকে সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত করেন, সে সম্মাননা নিয়ে হুজুর কেবলাকে দিলে তিনি বিস্তারিত জিজ্ঞেস করে নিজ হাতে আবার ঐ (উত্তরীয়) পরিয়ে দিয়ে বলে, আমিও তোমাকে পরিয়ে দিলাম। দোয়া করি যাতে বড় লেখক হতে পার।
জ্ঞানপিপাসু এই মহান সাধক শিক্ষা বিস্তারে ফেরীওয়ালা হয়ে পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন নীরবে। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি স্কুলেও করেছেন পৃষ্ঠপোষকতা। যাহা ওফাতের পরে শতকোটি আলোকবর্ষ দূরে নীহারিকার মতো মানব সমাজের সামনে আসে।
মুসলিম বিবাহের (রেজিস্ট্রেশন) কাজী সাহেবদের একত্রিতকরণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজীর কাজ পরিচালনার জন্য সরকার দেশের শ্রেষ্ঠ কাজী হিসেবে পুরস্কৃত করেন।
আমদানী রপ্তানি ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও তিনি আমদানি নির্ভর দুগ্ধখাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রতিষ্ঠা করেন গরুর খামার। যা ২০০৪ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ খামারীর পুরস্কার পায়। গত জোট সরকারের কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার দেশের দুগ্ধ খাতকে এগিয়ে নেওয়া অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পরিদর্শন করেন হুজুরের খামার।
বহু প্রতিভাবান এই ফানাফির রাসুল (দ.) থেকে তরিকতের দায়িত্ব পালনকালে অসংখ্য কারামত প্রকাশ পায়। ’৯৭ সালের এক সকালে আমার এক নিকট আত্মীয়কে নিয়ে দরবারে উপস্থিত হই। হুজুর তখন ক্ষেতে কাজ করছিলেন।ক্ষেত থেকে এসে উপস্থিত মুরিদ ও অনুগামীদের বিদায় করছিলেন। এমন সময় আমি এগিয়ে কথা বললে তিনি নতুন বিল্ডিংয়ের নিচে দাঁড়াতে বলেন। কিছুক্ষণ পর এগিয়ে বললাম হুজুর ওনার হার্টের বাল্ব দুইটি নষ্ট হয়ে গেছে ভারতের ডা. শেটি বলছে বাঁচবে না। তিনি হার্ট বরাবর ধরার পর (আমার)আত্মীয়টা লাফালাফি করতে লাগল। এরপর অনেক বছর কোন ঔষধ ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে হুজুরের খাদেম জামিল ভাই বলেন তিনি হজ্বের সময় মদিনা শরীফের মসজিদে নববীতে জেয়ারত করার জন্য বসে আছে পুলিশ নবী করিম (দ.) রওজা মোবারকের কাছে যাইতে দিচ্ছে না। কিন্তু জামিলের ইচ্ছা তিনি রওজা মোবারকের কাছে গিয়ে জেয়ারত করার এমন সময় হুজুর জামিলের হাতের বাহু ধরে রওজা মোবারকের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে হুজুরে আকরাম(দ.) এর সাথে দীদার করিয়ে দেন। (সুবহান্নালা)।
একদিন হুজুর ট্রাকে করে খামারে ইট নিয়ে যাচ্ছেন। খামারের কাছাকাছি গেলে দেখা যায় ব্রিজ ভাঙা। ড্রাইভার ছিলেন হুজুরের মুরিদ। তিনি চালককে বলেন, তুমি গিয়ে ব্রিজের নিচে দাঁড়াও আমি গাড়িটা চালিয়ে নিয়ে যাই। ড্রাইভার নিচে দাঁড়ালে তিনি গাড়িটা চালাইয়ে নিয়ে যান।
চট্টগ্রামে সুনামী ও ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দেওয়া হলে সরকার উপকূলীয় এলাকা থেকে জানমাল রক্ষার জন্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পুলিশের পাশাপাশি অন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে। কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক স্বেচ্ছাসেবক কর্মকর্তা সৈকতে দাঁড়ানো এক হুজুরকে দেখেন হাত দিয়ে আকাশের মেঘগুলো সরিয়ে দিচ্ছে। এইটা দেখে হুজুরের সাথে কথা বলতে চাইলে, তিনি কোন কথা না বলে চলে আসেন। কিন্তু ঐ কর্মকর্তা কোনভাবে এই কথা ভুলেনি। একদিন চট্টগ্রাম শহরে হুজুরকে ঐ কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি হুজুরের গাড়ি অনুসরণ করে, দরবারে চলে আসলে তখন ঘটনা প্রকাশ পায়।
হুজুরের অন্যতম কেরামত আমার ছেলের জন্ম। আমার স্ত্রী কনসিভ করার আগে ডা. শাহানারা বলেন, তার কাছে অসংখ্য টিউমার, যা অপারেশন ছাড়া কোন পথ নাই। আমার স্ত্রীকে নিয়ে হুজুরের কাছে গেলে তিনি দোয়া করে বলেন, ভালো হয়ে যাবে। আল্লাহর বিশেষ রহমত আমার স্ত্রী ভাল হয়ে যায়। এবং কনসিভ করে। বাচ্চার জন্মের ১৫ দিন আগে আমার স্ত্রীকে স্বপ্নে বলেন, দাঁড়া তোর জন্য লওহে মাহাফুজ হতে একটি জিনিস এনেছি। তিনি কাজী সাহেব হুজুরের মাজারের সামনে একটি ছেলে এনে আমার স্ত্রীর হাতে দিয়ে বলে তোমার জন্য রাখা ছেলেটি নাও। তাহার সাথে কথা বলতে চাইলে সময় নাই বলে দ্রুত পশ্চিম দিকে চলে যায়। ডা. তাহেরা তার মেধা ও মনন দিয়ে জন্মের আগ পর্যন্ত পরিচর্যা করেন। শেভরন ও ইপিকের রিপোর্টে আসে মেয়ে হবে হুজুর বলেন ছেলে হবে হুজুরের দোয়ায় আল্লাহ আমাকে ছেলে দান করেছেন।
এই আওলাদে রাসুলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছোবহানিয়া আলী মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হযরত জুলফিকার আলী (ম.আ.) বলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত মোহাদ্দেস হযরত ইউনুস সাহেব(র.) সাথে হালিশহর দরবার শরীফে যান শুক্রবার। মোহাদ্দেস সাহেব (র.) হুজুরের ওস্তাদ, আর হুজুর ছিলেন মোহাদ্দেস সাহেব (র.) পীর। মোহাদ্দেস সাহেব হুজুরের (ছাত্রের) সামনে বসে তরিকতের ছবক নিলেন। অর্থাৎ ইউনুস সাহেব প্রখ্যাত মোহাদ্দেস হলেও তরিকতের জগতে আপন ছাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র হওয়ায় পীর হিসেবে গ্রহণ করে জগতবাসীর সম্মুখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। হুজুর মোহাদ্দেস সাহেবকে নিজের অন্দরমহলে নিয়ে আথিতেয়তা করেন। আর মোহাদ্দেস সাহেবকে বলেন হুজুর আপনি আমাদেরকে কিতাব পড়ায়াছেন। এইগুলো এখনো আমার মুখস্থ আছে বলব বলব বলে এক নিমিষে দুই পৃষ্ঠার মতো বলে ফেলেন। আসার সময় গাড়িভাড়ার জন্য মোহাদ্দেস সাহেবকে হাদিয়া দেন।
শরিয়ত বান্ধব এই দরবারের পীর ছিলেন গরীব মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। তিনি মানুষদেরকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শন দিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধানে হাত বাড়িয়ে দিতেন। কখনো তিনি আগত মানুষদেরকে দরবারে গরু ছাগল বা টাকা পয়সা মানতের জন্য বলতে শোনা যায় নি। বরং কেউ পাঁচশত টাকা দিলে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন এইগুলো কিসের টাকা। তিনি সকলের (যাদের টাকা বৈধ নয়) টাকা নিতেন না।
এক লোক এসে হুজুরকে এক লক্ষ টাকা দিলে হুজুর রাগান্বিত হয়ে বলেন, মৌলানা জালাল সুদ খায় না বলে টাকাগুলো ফেরত দেন। আগত লোক টাকাগুলো নিয়ে চলে গেলে হুজুর বলেন, একটি ব্যবসায় লাভ হলে ঐ খান থেকে এক লক্ষ টাকা দেওয়া মান্নত করে কিন্তু সে লাভের টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা করে ঐ থেকে এক লক্ষ টাকা আমার জন্য আনে।
হুজুর দরবার সমূহের উপর বাতিলদের আনিত অভিযোগের কালিমাযুক্ত কাফনের নেকাব উপড়ে ফেলে ইসলামী শরীয়তের উপর দরবার পরিচালনা করেছেন। তিনি নিজ কোষাগার থেকে প্রতিদিন দরবারে আগত শত শত মানুষকে তাবলিগ মঞ্জিলে খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। শুক্রবার হাজার হাজার লোক জুমার নামাজ পড়ে খেতেন।
এই মাহাবুবে রাব্বানি নিজের ওফাত সম্পর্কে আগে অবগত থাকা নির্দশন রেখে যান এইভাবে। হুজুরের বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে নিজের কৃষিজমিতে প্রতি বছর শীতকালে সবজি তে করতো। এই বছর ক্ষেতের সময় আসলে হুজুরে অনুমতি চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই বছর জমিটি তার লাগবে। দেখা গেল হুজুরের ওফাতের পর সমস্ত অনুষ্ঠান হয় ঐ জমিতে।
হুজুর অসুস্থ হওয়ার আগে খেলাফতের উত্তরাধিকারী আদরের দৌহিত্র বর্তমান পীর সাহেব কেবলার একমাত্র সাহেবজাদা মোস্তফাকে হুজুর ডেকে বলেন, যাও পশ্চিমের বেড়ি বাঁধটির কাজ শেষ হয়েছে কিনা দেখে আস। কারণ তিনি জানতেন তাহার জানাজায় এত মানুষ হবে সাগরের পাড় ছাড়া চট্টগ্রামে কোন স্থান নাই। বাস্তবে তা হল সাগর পাড়ের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। তাহার কথাগুলো দ্বারা কেউ বুঝতে পারেনি, তিনি চলে যাওয়ার জন্য এত আয়োজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ওফাতের আগে সবার সাথে কথা বলেন, আর সবাইকে কলেমা পড়তে বলেন। তিনিও কলেমা শরিফ পাঠ করতে করতে ১৫ জানুয়ারী ২০১৯ ইং ৪ টা ২৫ মিনিটে ৮২ বছর বয়সে আল্লাহর দীদার লাভে ধন্য হন। ইনল্লিলাহি….। তিনি হজ্বব্রত পালন, আরব আমিরাত, ভারতসহ ইসলাম ও তরিক্বতের প্রচারের লক্ষ্যে বহু দেশ ভ্রমণ করেন।
তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে, ৩ মেয়ে, লক্ষ লক্ষ মুরিদানকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।
তাহার ওফাতের খবর দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়লে নেমে আসে শোকের ছায়া।
এই সদরুশ শরীয়তের নিথর দেহ মোবারকটি যখন হালিশহর দরবার শরীফে আনা হয় লক্ষ লক্ষ ভক্ত মুরিদানকে অশ্রু সজল নয়নে একনজর দেখতে নির্ঘুম রাত কাটান, আর কুরআন মজিদ তেলাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ জানাজাটি দেখে মানুষ ব্যাকুল হয়ে উঠে। জানাজায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ছাড়াও রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দরবারের গদীনশীনগণ অংশগ্রহণ করেন। অন্তধানের বছর পরে রাব্বুল আলামীনের দরবারে আকুতি পরকালীন জগতে তাঁকে উচ্চ মকামে আধিষ্ঠ্য করে সম্মানি করুণ।
লেখক: গবেষক ও প্রাবন্ধিক
কুতুবদিয়ার কুতুব হযরত মালেক শাহ রহমতুল্লাহ আলাইহি
হাফেজ মুনির উদ্দিনের নামে বে- টার্মিনাল
Friday, 10 July 2020
সর্বোত্তম রাত
Wednesday, 8 July 2020
فقه الحنفية عند ترجيح المسائل
القول المعتمد في المذهب الحنفي
السؤال 262280
نص الجواب
الحمد لله
المذهب الحنفي نسبة إلى الإمام أبي حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله (ت 150 هـ)، ولهذا الإمام أصحاب مجتهدون أقوالهم معتبرة في مذهبه، وهم:
أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم بن حبيب رحمه الله (ت181هـ).
ومحمد بن الحسن الشيباني رحمه الله (ت 189هـ).
وهذان يقال عنهما : "صاحبا الإمام أبي حنيفة" .
وزفر بن الهذيل بن قيس العنبري (ت158هـ).
وللحنفية قواعد في ترجيح ما هو المذهب.
جاء في كتاب "فقه العبادات على المذهب الحنفي" للحاجة نجاح الحلبي:
" القواعد العامة في ترجيح أقوال أئمة الحنفية:
أولاً: إذا اتفق الإمام أبو حنيفة وصاحباه على جواب واحد في مسألة من المسائل لا يجوز العدول عنه مطلقاً.
ثانياً: إذا وافق الإمام أحد صاحبيه لا يعدل عن قولهما إلى المخالف.
ثالثاً: إذا انفرد الإمام ، واتفق صاحباه : يرجح قول الإمام ، على الغالب ، في العبادات .
أما في القضاء : فيقدم قول أبي يوسف.
وفيما يتعلق بذوي الأرحام يؤخذ بقول الإمام محمد" انتهى، ص16 ترقيم الشاملة.
وهذا ما نص عليه ابن عابدين في عقود رسم المفتي، ص6، حيث قال:
وهنا ضوابطٌ محررة *** غدت لدى أهل النهى مقررة
في كل أبواب العبادات رجَحْ*** قول الإمام مطلقاً ما لم تصحْ
عنه رواية بها الغيرُ أخذْ*** مثلُ تيممٍ لمن تمراً نبذْ
وكل فرعٍ بالقضا تعلقا *** قول أبي يوسف فيه يُنتقى
وفي مسائل ذوي الأرحامِ قدْ*** أفتواْ بما يقوله محمّدْ " انتهى.
ولبعضهم تفصيل في الضابط الثالث:
ففي الفتاوى الخانية (1/ 3): " المفتي في زماننا من أصحابنا : إذا استفتي في مسألة ، وسُئل عن واقعة:
إن كانت المسألة مروية عن أصحابنا في الروايات الظاهرة ، بلا خلاف بينهم : فإنه يميل إليهم ويفتي بقولهم، ولا يخالفهم برأيه وإن كان مجتهدا متقنا؛ لأن الظاهر أن يكون الحق مع أصحابنا ولا يعدوهم ، واجتهاده لا يبلغ اجتهادهم .
ولا ينظر قول من خالفهم ، ولا يقبل حجته ؛ لأنهم عرفوا الأدلة ، وميزوا بين ما صح وما ثبت ، وبين ضده.
فإن كانت المسألة مختلفا فيها بين أصحابنا:
فإن كان مع أبي حنيفة رحمه الله تعالى أحد صاحبيه: يؤخذ بقولهما؛ لوفور الشرائط ، واستجماع أدلة الصواب فيهما.
وإن خالف أبا حنيفة رحمه الله صاحباه في ذلك:
فإن كان اختلافهم اختلاف عصر وزمان، كالقضاء بظاهر العدالة: يؤخذ بقول صاحبيه؛ لتغير أحوال الناس، وفي المزارعة والمعاملة ونحوهما يختار قولهما؛ لاجتماع المتأخرين على ذلك.
وفيما سوى ذلك: قال بعضهم: يتخير المجتهد ، ويعمل بما أفضى إليه رأيه.
وقال عبد الله بن المبارك: يأخذ بقول أبي حنيفة رحمه الله" انتهى.
وهذه الضوابط السابقة فيما اذا كان لأبي حنيفة قول في المسألة .
أما اذا لم يكن له قول، ووردت في ظاهر الرواية ؛ يقدم قول أبي يوسف .
فإن لم يكن له قول : يقدم قول محمد .
فإن لم يكن له قول : يقدم قول زفر والحسن بن زياد وغيرهم ، الأكبر فالأكبر الى آخر من كان من كبار الأصحاب .
وهذا الترتيب يعتمد من قبل المفتي غير المجتهد .
أما المجتهد فيتخير بما يترجح عنده دليله.
قال الدكتور محمد إبراهيم علي ، رحمه الله :
" وينبغي أن يكون هذا عند عدم ذكر أهل المتون للتصحيح ؛ وإلا ، فالحكم بما في المتون ، كما لا يخفى " انتهى، من "المذهب عند الحنفية" (104) .
والباحث المعاصر إذا أراد أن يعرف معتمد المذهب فعليه مراجعة الكتب المعتمدة.
وأهمها:
1-كتب ظاهر الرواية ، وهذه لا يقدم عليها غيرها . وهي : " المبسوط " ؛ "والزيادات " ، " والجامع الصغير " ، " والجامع الكبير " ، " والسِّيَر " للإمام محمد بن الحسن الشيباني ، وإنما سميت بظاهر الرواية، لأنها رويت عن محمد بروايات الثقات، فهي ثابتةٌ عنه؛ إما متواترة، أو مشهورة.
2- الكافي للحاكم الشهيد محمد بن محمد المروزي البلخي المتوفي سنة 334 هـ ، فقد جمع كتب ظاهر الرواية، و"المبسوط " للسرخسي المتوفى سنة 483 هـ ، وهو شرح للكافي .
3-ومن معتمد كتب الحنفية: الاختيار لتعليل المختار، لعبد الله بن محمود بن مودود الموصلي (ت 683 هـ)، البحر الرائق لابن نجيم (ت 970 هـ)، شرح كنز الدقائق لأبي البركات النسفي (ت 710 هـ)، ومجمع الأنهر في شرح ملتقى الأبحر، لعبد الرحمن بن محمد بن سليمان المدعو بشيخي زاده, ويعرف بداماد أفندي (ت 1078هـ)، وردّ المحتار المشهور بحاشية ابن عابدين (ت 1252 هـ)، وهي حاشية على كتاب الدُّرِّ الْمُخْتَارِ شَرْحٌ تَنْوِيرِ الْأَبْصَارِ، للحصكفي (ت 1088 هـ).
قال ابن عابدين في حاشيته (1/ 77): " أصحاب المتون المعتبرة من المتأخرين، مثل صاحب الكنز، وصاحب المختار، وصاحب الوقاية، وصاحب المجمع، وشأنهم أن لا ينقلوا الأقوال المردودة والروايات الضعيفة" انتهى.
فإذا أردتِ معرفة المذهب المعتمد عند الحنفية في مسألة من هذه المسائل فراجعي هذه الكتب.
ولمعرفة تفاصيل مهمة حول أدوار المذهب ، واصطلاحه ، والمعتمد فيه : ننصحك بمراجعة بحث محرر ، للدكتور محمد إبراهيم أحمد علي ، رحمه الله ، بعنوان : "المذهب عند الحنفية" ، طبع مفردا ، وطبع أيضا ضمن بحوث أخرى ، ضمن سلسلة إصدارات "الوعي الإسلامي" ، الإصدار الخامس والأربعون ، ص (23) وما بعدها .
وينظر أيضا بحثا أوسع من ذلك ، بعنوان : "المذهب الحنفي ـ مراحله وطبقاته ، ضوابطه ومصطلحاته .. " ، للدكتور أحمد بن محمد نصير الدين النقيب ، طبعتها مكتبة الرشد في الرياض ، وهي أطروحته للحصول على درجة الماجتسير .
وكلا الكتابين متاح على الشبكة ، يمكن قراءته أو تحميله .
والله أعلم.
কুরআন হাদিসের আলোকে স্বপ্ন
أهم المراجع لهذا الكتاب :
1- الرؤيا وما يتعلق بها – للشيخ عبد الله بن جار الله الجار الله
2- تفسير الأحلام - للإمام محمد بن سيرين رحمه الله
3- القواعد الحسنى في تأويل الرؤى – للشيخ عبد الله بن محمد السدحان
4- مقدمة ابن خلدون
5- إعلام الموقعين - للإمام ابن القيم رحمه الله
6- تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان للشيخ عبد الرحمن السعدي – رحمه الله
২- স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু কথা
৩- স্বপ্ন দেখলে করণীয়
৪- মিথ্যা স্বপ্নের কথা বলা অন্যায়
৫- ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে
৬- কয়েকটি ভাল স্বপ্নের উদাহরণ
৭- স্বপ্ন দেখলে যা করতে হবে
৮- খারাপ স্বপ্ন দেখলে কি করবে?
৯- কে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেবে?
১০- স্বপ্নের ব্যাখ্যা যেভাবে করা হয় তা-ই সংঘটিত হয়
১১- তাবীরের বিভিন্ন প্রকার
১২- কোরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত
১৩- হাদীস দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যার কয়েকটি দৃষ্টান্ত
১৪- বিপরীত অর্থ গ্রহণ নীতিতে স্বপ্ন ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত
১৫- কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ
১৬- মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা
১৭- স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. এর কিছু বক্তব্য
১৮- ভাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেরীতে হয়
১৯- শেষ কথা
ভূমিকা
যার শুভাগমনে আঁধার ঘুচে মানবতার পূর্ব দিগন্তে এক নতুন সূর্যের উদয় হল। মানবতার মুক্তির জন্য মানুষেরই হাতে তায়েফের মাটি যার রক্তে রঞ্জিত হল; সেই নবী রাহমাতুল্লিল আলামীনের প্রতি আমার বিরহী আত্মার সালাত ও সালাম। মদীনা স্বপ্নে বিভোর আমার হৃদয়ের প্রেম-পয়গাম।
মানুষ স্বপ্ন দেখে। ভাল স্বপ্ন দেখে, বলে সুন্দর স্বপ্ন দেখেছি। দেখে খারাপ স্বপ্ন, বলে ভয়ানক এক স্বপ্ন দেখেছি। আবার কখনো বলে একটি বাজে স্বপ্ন দেখেছি।
আসলে স্বপ্ন কি? এ নিয়ে গবেষণা কম হয়নি, মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। কেউ বলেছেন, এটা একটি মানসিক চাপ থেকে আসে। কেউ বলেছেন, শারীরিক বিভিন্ন ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটলে এটা দেখা যায়, সে অনুযায়ী। কেউ বলেছেন, সারাদিন মনে যা কল্পনা করে তার প্রভাবে রাতে স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্ন আধুনিক মনোবিজ্ঞানেরও একটি বিষয়।
আবার অনেকে স্বপ্ন না দেখেও বলে এটা আমার স্বপ্ন ছিল। অথবা আমার জীবনের স্বপ্ন এ রকম ছিল না। মানে, মনের আশা, পরিকল্পনা। তাই স্বপ্নের অর্থ এখানে রূপক।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসাবে এসেছে ইসলাম। এই ইসলাম মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারেও উদাসীন থাকেনি। স্বপ্ন সম্পর্কে তার একটি নিজস্ব বক্তব্য আছে। তার এ বক্তব্য কোনো দার্শনিক বা বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সাথে মিলে যাবে, এমনটি জরুরী নয়। মিলে গেলেও কোনো দোষ নেই।
স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ. বলেছেন :
ইসলামে স্বপ্নের একটি গুরুত্ব আছে। নি:সন্দেহে এটা ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এক চোখা বস্তুবাদীরা বলে থাকে, মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার মস্তিস্ক তার স্মৃতিগুলো নাড়াচাড়া করে। যাচাই-বাছাই করে, কিছু পুনর্বিন্যাস করে। তারপর স্মৃতির ফাইলে যত্ন করে রেখে দেয়। এই কাজটা সে করে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন। মস্তিস্কের এই কাজ-কর্মই আমাদের কাছে ধরা দেয় স্বপ্ন হিসেবে।”
কথাটা শুনতে মন্দ নয়। তবে এটি স্বপ্নের একটি প্রকার মাত্র। বাকী দু প্রকার কি আপনাদের মস্তিস্কে ধরা পড়ে? ইসলাম তো বলে স্বপ্ন তিন প্রকার।
হাদীসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসতেন। প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন, গত রাতে তোমাদের কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছ?
আল-কোরআনে নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালামের স্বপ্ন, ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্নের কথা উল্লেখ আছে। ইউসূফ আলাইহিস সালামের সময়ে মিশরের বাদশার স্বপ্ন, তাঁর জেলখানার সঙ্গীদের স্বপ্ন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্ন নিয়ে তো আল কোরআনে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
মিশরের বাদশা তার সভাসদের স্বপ্ন বিশেষজ্ঞদেরকে নিজ স্বপ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। জানতে চেয়েছিল, সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা। তারা বলেছিল, এটা এলোমেলো অলীক স্বপ্ন। তারা এর ব্যাখ্যা দিতে পারল না।
নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন। নিজের পক্ষ থেকে নয়। আল্লাহ তাআলার শিখানো ইলম থেকে। (সূরা ইউসূফের ৩৬ থেকে ৪৯ আয়াত দ্রষ্টব্য)
আমি বক্ষমান বইতে কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার কিছু মৌলিক ধারনা দেয়ার চেষ্টা করব। তবে কি স্বপ্ন দেখলে কি হয়, তা এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে না । এটা নির্দিষ্ট করে আলোচনা করা সম্ভবও নয়। মানে এটা বাজারে প্রচলিত কোনো খাবনামা নয়। স্বপ্ন সম্পর্কে মৌলিক কিছু আলোচনা ও একটি ধারনা দেয়ার প্রয়াস মাত্র।
স্বপ্ন দ্রষ্টার অবস্থা ভেদে একই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে।
স্বপ্ন তিন প্রকার:
এক. মনে মনে যা সারাদিন কল্পনা করে তার প্রভাবে ঘুমের মধ্যে ভাল-মন্দ কিছু দেখা। এগুলো আরবীতে আদগাছু আহলাম বা অলীক স্বপ্ন বলে।
দুই. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে স্বপ্ন দেখা। সাধারণত এ সকল স্বপ্ন ভীতিকর হয়ে থাকে।
তিন. আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইশারা, ইঙ্গিত হিসাবে স্বপ্ন দেখা।
বিষয়টি উপরে বর্ণিত হাদীসেও উল্লেখ হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাটুকু কবুল করুন। বইটিকে পাঠকদের কল্যাণে গ্রহণ করুন। আর আমরা আমাদের সকল পাওনা ও প্রাপ্তি তার কাছেই আশা করি। তিনি মুহসিনদের সৎকর্ম ব্যর্থ হতে দেন না।
এ হাদীস থেকে আমরা যা জানতে পারলাম:
এক. স্বপ্ন নবুওয়তের একটি অংশ। নবী ও রাসূলদের কাছে জিবরীল যেমন সরাসরি ওহী নিয়ে আসতেন, তেমনি স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নবী ও রাসূলদের কাছে প্রত্যাদেশ পাঠাতেন।
দুই. মুসলিম জীবনে স্বপ্ন শুধু একটি স্বপ্ন নয়। এটা হতে পারে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে স্বপ্নদ্রষ্টার প্রতি একটি বার্তা।
তিন. আল মুবাশশিরাত অর্থ সুসংবাদ। সঠিক স্বপ্ন যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তা স্বপ্ন দ্রষ্টার জন্য একটি সুসংবাদ।
হাদীসে এসেছে
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের মধ্যে যে লোক যত বেশী সত্যবাদি হবে তার স্বপ্ন তত বেশী সত্যে পরিণত হবে।
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. মুমিনের জীবনে স্বপ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেয়ামত যত নিকটে আসবে ঈমানদারের স্বপ্ন তত বেশী সত্য হতে থাকবে।
দুই. ঈমানদারের জীবনে স্বপ্ন এত গুরুত্ব রাখে যে, তাকে নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে।
তিন. মানুষ যত বেশী সততা ও সত্যবাদিতার চর্চা করবে সে ততবেশী সত্য স্বপ্ন দেখতে পাবে।
চার. যদি কেউ চায় সে সত্য স্বপ্ন দেখেব, সে যেন সৎ, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে জীবন যাপন করে।
হাদীসে এসেছে
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখবে সে সত্যিকারভাবেই তাকে দেখেছে।
দুই. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। শয়তান মানুষকে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখাতে পারে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আকৃতি ধরে ধোকা দিতে পারে না।
তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখা একটি সৌভাগ্য। খুব কম ঈমানদারই আছেন, যারা এ সৌভাগ্যটি অর্জন করেছেন।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,
এ স্বপ্নের কথা শুধু তাকে বলবে, যে তাকে ভালোবাসে।
আর যদি স্বপ্ন অপছন্দের হয়, তাহলে বুঝে নেবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। তখন সে শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে আর এ স্বপ্নের কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ খারাপ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. যা কিছু ভাল স্বপ্ন, সেটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবের কারণে দেখে থাকে।
দুই. ভাল স্বপ্ন দেখলে এমন ব্যক্তির কাছে বলা যাবে, যে তাকে ভালোবাসে। যে ভালোবাসে না, এমন ব্যক্তির কাছে কোনো স্বপ্নের কথা বলা যাবে না। হতে পারে সে ভাল স্বপ্নটির একটি খারাপ ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেবে।
তিন. ভাল স্বপ্ন দেখলে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করতে হবে।
চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলা উচিত নয়।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়া মাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতে হবে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।
হাদীসে এসেছে :
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
দুই. খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে।
তিন. খারাপ স্বপ্ন দেখলে সাথে সাথে তিনবার বাম দিকে থুথু ফেলে আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানের রাজীম বলতে হবে। তবে সত্যিকার থুথু ফেলবে না। মানে মুখ থেকে পানি নির্গত হবে না। শুধু আওয়াজ করবে। কেননা হাদীসে নাফাস শব্দ এসেছে। যার অর্থ এমন হাল্কা থুথু যাতে পানি বা শ্লেষ্মা নেই।
চার. এই আমলটা করলে খারাপ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।
হাদীসে এসেছে
হাদীস থেকে আমরা শিখতে পারলাম :
এক. খারাপ স্বপ্ন দেখলে তিনবার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা ও তিনবার আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলা তারপর পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া সুন্নাত।
দুই. পার্শ্ব পরিবর্তন করা মানে হল, ডান কাতে শুয়ে থাকলে বাম দিকে ফিরবে। তেমনি বাম কাতে শুয়ে থাকলে ডানে ফিরবে।
হাদীস থেকে আমরা শিখতে পারলাম:
সবচয়ে বড় মিথ্যা হল তিনটি,
(ক) নিজের পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।
(খ) যে স্বপ্ন দেখেনি তা বানিয়ে বলা। অর্থ্যাৎ মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।
(গ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি, তা তার কথা বলে চালিয়ে দেয়া।
যারা মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করে আর মনে করে, এতে এমন কি ক্ষতি? তাদের জন্য এ হাদীস একটি সাবধান বাণী। এটাকে ছোট পাপ বলে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
সব ধরনের মিথ্যা-ই অন্যায়। এমনকি হাসি ঠাট্টা করে মিথ্যা বলাও পাপ। তবে মিথ্যার মধ্যে এ তিনটি হল খুবই মারাত্মক।
যে পিতা নয় তাকে পিতা বলে লেখা বা ঘোষণা দেয়া এমন অন্যায় যার মাধ্যমে পরিবার প্রথা ও বংশের উপর আঘাত আসে। আর মাতা-পিতার অবদানকে অস্বীকার করা হয়।
কেউ মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনা দিলে তার ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। আর যদি ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে তা সংঘটিত হয়ে যায়।
উদাহরণ :
এক ব্যক্তি ইমাম ইবনে সীরিন রহ. এর কাছে এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমার হাতে যেন একটি কাঁচের পেয়ালা। সেটি ভেঙ্গে গেল কিন্তু তার পানি রয়ে গেছে।
ইবনে সীরিন রহ. বললেন, তুমি কিন্তু এ রকম কোনো স্বপ্ন দেখোনি। লোকটি রাগ হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! (আমি মিথ্যে বলিনি)
ইবনে সীরিন রহ. বললেন, যদি স্বপ্ন মিথ্যা হয়, তাহলে আমাকে দোষারোপ করতে পারবে না।
আর এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল, তোমার স্ত্রী মারা যাবে আর পেটের বাচ্চাটি জীবিত থাকবে।
এ কথা শোনার পর লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি আসলে কোনো স্বপ্ন দেখিনি।
এর কিছুক্ষণ পর তার একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে এবং তাতে আর স্ত্রী মারা গেছে।
(ইমাম জাহাবী রহ. প্রণীত সীয়ার আল-আলাম আন নুবালা)
আরেকটি উদাহরণ:
এক ব্যক্তি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি, জমিন তরু-তাজা সবুজ হয়েছে। এরপর আবার শুকিয়ে গেছে। আবার সবুজ-তরুতাজা হয়েছে, আবার শুকিয়ে গেছে।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর ব্যাখা হল তুমি প্রথমে মুমিন থাকবে পরে কাফের হয়ে যাবে। আমার মুমিন হবে, এরপর আবার কাফের হয়ে যাবে আর কাফের অবস্থায় তুমি মৃত্যু বরণ করবে।
এ কথা শুনে লোকটি বলল, আসলে আমি এ রকম কোনো স্বপ্ন দেখিনি। ওমর বাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন :
যে বিষয়ে তুমি প্রশ্ন করেছিলে তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
তোমার বিষয়ে ফয়সালা হয়ে গেছে যেমন ফয়সালা হয়েছিল, ইউসূফ আলাইহিস সালামের সাথীর ব্যাপারে।
(মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, বর্ণনার সনদ সহীহ)
তাই কখনো কাল্পনিক বা মিথ্যা স্বপ্ন বলা ও তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া ঠিক নয়।
আর যদি স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখে তাহলে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে। ( বলবে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। আর কারো কাছে স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তার ক্ষতি করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
দুই. খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে।
তিন. খারাপ স্বপ্ন দেখলে সাথে সাথে তিনবার বাম দিকে থুথু ফেলে আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলতে হবে। তবে সত্যিকার থুথু ফেলবে না। মানে মুখ থেকে পানি নির্গত হবে না। শুধু আওয়ায করবে। কেননা হাদীসে নাফাস শব্দ এসেছে। যার অর্থ এমন হাল্কা থুথু যাতে পানি বা শ্লেষ্মা নেই।
চার. এই আমলটুকু করলে খারাপ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে তা বর্ণনা করবে না।
ছয়. ভাল স্বপ্ন দেখলে তার কাছেই বর্ণনা করবে যে তাকে ভালোবাসে। শত্রু ভাবাপন্ন বা হিংসুক ধরনের কারো কাছে ভাল স্বপ্নও বর্ণনা করতে নেই। কারণ, হতে পারে ভাল স্বপ্নটির একটি খারাপ ব্যাখ্যা সে শুনিয়ে দেবে। ফলে অস্থিরতা, দু:চিন্তা ও উদ্বেগ বেড়ে যাবে।
দেখুন ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্ন দেখেছিলেন:
যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।’সে বলল, হে আমার পুত্র, তুমি তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্নের বর্ণনা দিও না, তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।’(সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪-৫)
এ আয়াতে আমরা দেখলাম ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্ন দেখে তার পিতাকে বর্ণনা করলেন। আর পিতা আল্লাহ তাআলার নবী ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাকে স্বপ্নের কথা নিজ ভাইদের বলতে নিষেধ করলেন। কারণ, ভাইয়েরা তাকে ভালোবাসত না। বরং হিংসা করত।
যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। আর তোমাকে যদি তিনি তাদেরকে বেশি সংখ্যায় দেখাতেন, তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহসহারা হয়ে পড়তে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে। কিন্তু আল্লাহ নিরাপত্তা দিয়েছেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি সে সব বিষয়ে অবগত। (সূরা আনফাল : ৪৩)
বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে বিজয় লাভের সুন্দর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাকে শত্রু বাহিনীর সংখ্যা অনেক কম করে দেখিয়েছেন। বেশি করে দেখালে তিনি হয়ত ভয় পেয়ে যেতেন।
তাই এটি একটি ভাল স্বপ্ন।
এভাবে আল্লাহ তাআলা স্বপ্নের মাধ্যমে তার নবী ও রাসূলদের কাছে ওহী প্রেরণ করতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে মসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়। (সূরা ফাতাহ : ২৭)
আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ তাআলার তাঁর রাসূলকে মক্কা জয় করার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আর সে স্বপ্ন আল্লাহ তাআলাই বাস্তবায়ন করেছিলেন।
এমনিভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কোরআনে মিশরের বাদশার স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন। সে স্বপ্নের সুন্দর ব্যাখ্যা করেছিলেন, নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম। বিষয়টি আল কোরআনের সূরা ইউসুফের ৪৩ আয়াত থেকে ৫৫ আয়াত পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে।
এর আগে সূরার ৩৬ আয়াত থেকে ৪২ আয়াত পর্যন্ত ইউসুফ আলাইহিস সালামের জেল জীবনের দুজন সাথীর স্বপ্ন ও ইউসুফ আলাইহিস সালাম কর্তৃক তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি বিষয় তা আল-কোরআনে নবী ইউসুফের ভাষায় বলা হয়েছে এভাবে:
হে আমার রব, আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন (সূরা ইউসুফ : ১০১)
এমনিভাবে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আব্দে রাব্বিহী ও ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা স্বপ্নে আজান দেখেছিলেন। আর তাদের স্বপ্নে দেখা আজান-কেই নামাজের বর্তমান আজান ও ইকামত হিসাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো এভাবেই ইসলামের নিদর্শন হিসাবে বাস্তবে রূপ লাভ করেছে অনন্তকালের জন্য।
আমাদের আরো মনে রাখতে হবে যে, ভালো ও সুন্দর স্বপ্নগুলো কখনো হুবহু বাস্তব রূপে দেখা যায় আবার কখনো রূপকভাবে ভিন্ন আকৃতিতে ।
যেমন আজান দেয়ার পদ্ধতি সংক্রান্ত স্বপ্ন হুবহু দেখানো হয়েছে। অপরদিকে ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্নগুলো ভিন্ন আকৃতিতে রূপকভাবে দেখানো হয়েছে।
যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে তার দেখলে যা করতে হবে
যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে তার তিনটি কাজ করতে হবে :
এক. আল্লাহ তাআলার প্রশংসা স্বরূপ আল হামদুলিল্লাহ বলতে হবে।
দুই. এটা অন্যকে সুসংবাদ হিসাবে জানাবে।
তিন. স্বপ্ন সম্পর্কে এমন ব্যক্তিদেরকে জানাবে যারা তাকে ভালোবাসে।
হাদীসে এসেছে :
আর যদি অন্য স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তাহলে বুঝে নেবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলবে) এবং কাউকে এ স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তাকে ক্ষতি করবে না। (সহীহ বুখারী)
স্বপ্ন ভাল হলে তা শুভাকাংখী ব্যতীত অন্য কারো কাছে বলা ঠিক নয়। এ কারণে ইয়াকুব আ. তার ছেলে ইউসূফ কে বলেছিলেন :
হে আমার বৎস! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বলো না। (সূরা ইউসুফ : ৫)
খারাপ স্বপ্ন দেখলে যা করতে হবে :
এক. এই খারাপ স্বপ্নের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এভাবে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।
দুই. শয়তানের অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এবং এর জন্য আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়তে হবে। কারণ, খারাপ স্বপ্ন শয়তানের কুপ্রভাবে হয়ে থাকে।
তিন. বাঁ দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করতে হবে। এটা করতে হবে শয়তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও তার চক্রান্ত-কে অপমান করার জন্য ।
চার. যে কাতে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে তা পরিবর্তন করে অন্য কাতে শুতে হবে। অবস্থাকে বদলে দেয়ার ইঙ্গিত স্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না।
হাদীসে এসেছে
হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. সাহাবীগণ কোনো স্বপ্ন দেখলে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার ব্যাখ্যা জানতে চাইতেন। তারা এভাবে কোনো স্বপ্নকে অযথা মনে না করে এর গুরুত্ব দিতেন।
দুই. খারাপ স্বপ্ন দেখলে তা কাউকে বলতে নেই।
তিন. খারাপ ও নেতিবাচক স্বপ্ন শয়তানের একটি কুমন্ত্রণা।
এমন ব্যক্তিই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেয়ার অধিকার রাখে, যে কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও স্বপ্ন ব্যাখ্যার মূলনীতি সম্পর্কে ওয়াকেফহাল। সাথে সাথে তাকে মানব-দরদী ও সকলের প্রতি কল্যাণকামী মনোভাবের অধিকারী হতে হবে।
তাই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
শায়খ আব্দুর রহমান আস সাদী রহ. বলতেন, স্বপ্নের ব্যাখ্যা একটি শরয়ী বিদ্যা। এটা শিক্ষা করা, শিক্ষা দেয়া ও চর্চার করলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রতিদান পাওয়া যাবে। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যা ফতোয়ার মর্যাদা রাখে।
তাইতো দেখি ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে ফতোয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন তিনি তার জেল সঙ্গী দুজনেকে তাদের জানতে চাওয়া স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে বলেছিলেন :
তোমরা দুজনে যে বিষয়ে ফতোয়া চেয়েছিলে তার ফয়সালা হয়ে গেছে। (সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪১)
হাদীসে আরো এসেছে -
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ভাল স্বপ্ন দেখেছো। ইনশা আল্লাহ তোমার স্বামী তোমার কাছে সহীহ-সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে আর তুমি একটি সুস্থ-সুন্দর সন্তান প্রসব করবে।
এভাবে সে দু বার বা তিনবার স্বপ্ন দেখেছে। আর প্রতিবারই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছে। তিনি প্রতিবার এরকম ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। আর প্রতিবার সে রকমই বাস্তবায়িত হয়েছে।
একদিন মহিলা আগের মতই আসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন অনুপস্থিত ছিলেন। সে স্বপ্ন দেখেই এসেছে।
আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর বান্দী! তুমি রাসুলুল্লাহর নিকট কী জিজ্ঞেস করবে?
সে বলল, আমি একটি স্বপ্ন প্রায়ই দেখি। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসি। তিনি সুন্দর ব্যাখ্যা দেন। সেটাই বাস্তবে পরিণত হয়।
আমি বললাম, তুমি আমাকে বল, কী স্বপ্ন দেখেছো? সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসুক, তারপর বলব।
আমি তাকে বারবার অনুরোধ করতে লাগলাম স্বপ্নটি বলার জন্য- যেমনটি আমার অভ্যাস। অবশেষে সে আমাকে স্বপ্নের কথা বলতে বাধ্য হল। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! তোমার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে তোমার স্বামী মারা যাবে। আর তুমি একটি অপূর্ণাঙ্গ বা অসুস্থ ছেলে প্রসব করবে।
তখন মহিলাটি বসে কাঁদতে লাগল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে বললেন: হে আয়েশা! এর কি হয়েছে?
তখন আমি পুরো ঘটনা ও স্বপ্ন সম্পর্কে আমার দেয়া ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানালাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে আয়েশা এটা কী করলে? যখন কোনো মুসলমানের স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবে তখন সুন্দর ও কল্যাণকর ব্যাখ্যা দেবে। মনে রাখবে স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়, বাস্তবে তাই সংঘটিত হয়।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন : আল্লাহ তাআলার কি ইচ্ছা জানি না। মহিলাটির স্বামী মারা গেল আর দেখলাম সে একটি অসুস্থ অপূর্ণাঙ্গ ছেলে প্রসব করল। (বর্ণনায় : দারামী। ইবনে হাজার রহ. হাদীসটিকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন।)
হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
এক. স্বপ্ন বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাকে তাকে স্বপ্নের কথা বলা উচিত নয়।
দুই. সর্বদা আলেম, শুভাকাংখীর কাছে স্বপ্নের কথা বলবে। যে শুভাকাংখী নয় তার কাছে কোনো ধরনের স্বপ্নের কথা বলবে না।
তিন. স্বপ্ন একটি উড়ন্ত পায়ের মত। এ কথার অর্থ হল শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা পা যেমন যে কোনো সময় মাটিতে রাখা যায় আবার নীচে আগুন থাকলে তাতেও রাখা যায়। স্বপ্ন এমনই, এর ব্যাখ্যা ভাল করা যায় আবার খারাপও করা যায়। যে ব্যাখ্যাই করা হোক, সেটিই সংঘটিত হবে।
চার. মদীনার এই মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে আসতেন। স্বপ্নটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে খারাপ হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাল ও সুন্দর ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন।
তাই স্বপ্ন দ্রষ্টার পরিচিতদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে ভাল আলেম তার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।
পাঁচ. প্রশ্ন হতে পারে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কেন এ ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন? এর উত্তর হল :
(ক) এ মহিলার স্বপ্নের ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে করেছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা জানতেন না। তাই তিনি নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খ) আয়েশা রা. স্বপ্নের বাহ্যিক দিক তাকিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ঘরের চৌকাঠ দ্বারা স্বামী বুঝেছেন। আর এক চোখ অন্ধ সন্তান দ্বারা অপূর্ণাঙ্গ সন্তান বুঝেছেন।
(গ) স্বপ্নের খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা করা অনুচিত।স্বপ্ন ব্যাখ্যার এ মূলনীতির কথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আগে থেকে জানতেন না। এ ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জানিয়েছেন। এবং তিনি জেনেছেন।
(ঘ) এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করা যেত, যা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। তাহল: ঘরের চৌকাঠ ভেঙ্গে যাওয়ার অর্থ হল, ঘর প্রশস্ত হবে। প্রাচুর্য ও সচ্ছলতা আসবে। আর এক চোখ কানা সন্তানের অর্থ হল, সন্তানটি তার চোখ দিয়ে শুধু ভাল বিষয় দেখবে।
এটা হল দূরবর্তী ব্যাখ্যা। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা করেছেন নিকটবর্তী ব্যাখ্যা।
ছয়. যার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে, তিনি যদি জানেন, এর ব্যাখ্যা খারাপ তবে তিনি তা বলবেন না। যথাসম্ভব ভাল ব্যাখ্যা করে দেবেন। নয়তো চুপ থাকবেন। অথবা বলবেন, আল্লাহ ভাল জানেন।
সায়ীদ ইবনে মানসূর বর্ণনা করেন, আতা রহ. সব সময় বলতেন : স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা দেয়া হয়, সেটাই সংঘটিত হয়। (ফাতহুল বারী)
প্রশ্ন হতে পারে তাহলে তাকদীরের ব্যাপারটা কি হবে?
উত্তর সোজা। তাকদীরে এভাবেই লেখা আছে যে, অমুক ব্যক্তি এভাবে ব্যাখ্যা করবে। আর তাই সংঘটিত হবে। কিন্তু আমাদের কর্তব্য হবে, কখনো খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা না দেয়া। তাকদীরে কি আছে আমরা তা জানি না।
এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোনো মানুষের কাছে স্বপ্নের কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
স্বপ্নের কথা শুধু তাকে বলা যাবে যে আলেম, বন্ধু, শুভাকাংখী ও কল্যাণকামী। এ ছাড়া অন্য কারো কাছে নয়।
আরেকটি ঘটনা :
এক মহিলা একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে ইমাম ইবনে সীরিন রহ.-এর শিক্ষা মজলিসে আসল। এসে তিনি ইমামের ছাত্রদের কাছে জিজ্ঞেস করল, ইমাম সাহেব কোথায়? ইমাম সাহেবের একজন বোকা ছাত্র বলল, আপনি তার কাছে কেন এসেছেন?
মহিলাটি বলল, আমি এ ছেলেটির ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখেছি, তার ব্যাখ্যা জানার জন্য এসেছি।
ছাত্রটি বলল, কি স্বপ্ন দেখেছেন? মহিলাটি বলল, আমি দেখেছি আমার এ ছেলেটি সাগর থেকে পানি পান করছে।
ছাত্রটি তাড়াতাড়ি ব্যাখ্যা দিল, বলল, তাহলে তো সে পেট ফুলে মারা যাবে।
তৎক্ষনাৎ শিশুটির পেট ফুলে উঠল। আর চিৎকার করে মারা গেল।
মহিলাটি কাঁদা শুরু করল। এরই মধ্যে ইমাম সাহেব এসে পড়লেন। ঘটনা শুনে তিনি বললেন: যদি তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করে ছেড়ে দিতে তাহলে ছেলেটি এ দেশের সবচেয়ে বড় আলেম ও বিদ্যান হত।
সাগরের অর্থ শুধু পানের অযোগ্য নোনা পানিই নয়। সাগরের ব্যাখ্যা হল, মনি, মুক্তা, হীরা, প্রবাল।
কাজেই যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবেন তিনি সব সময় ইতিবাচক ও কল্যাণকর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবেন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
তাবীর মানে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করা। যার মাধ্যমে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হয় তার বিবেচনায় কয়েক প্রকার হয়ে থাকে।
ইমাম বগভী রহ. বলেন: স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার দিক দিয়ে কয়েক প্রকার হতে পারে।
প্রথমত: আল কোরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করা।
দ্বিতীয়ত: হাদীসে রাসূল দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা।
তৃতীয়ত: মানুষে মাঝে প্রচলিত বিভিন্ন প্রসিদ্ধ উক্তি দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা।
চতুর্থত: কখনো বিপরীত অর্থ গ্রহণ নীতির আলোকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা।
স্বপ্নে রশি দেখার অর্থ হল, ওয়াদা, অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি।
এ ব্যাখ্যাটি আল কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
তোমরা আল্লাহ তাআলার রশিকে শক্তভাবে ধারণ করো। (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)
স্বপ্নে নৌকা বা জাহাজ দেখার ব্যাখ্যা হল মুক্তি পাওয়া।
এ অর্থটি আল কোরআনের এ আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে।
আমি তাকে উদ্ধার করেছি এবং উদ্ধার করেছি জাহাজের আরোহীদের। (সূরা আল আনকাবুত : ১৫)
স্বপ্নে কাঠ দেখার ব্যাখ্যা হল, মুনাফেকী বা কপটতা। এ ব্যাখ্যাটি আল কোরআনের এ আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন :
যেন তারা দেয়ালে ঠেস দেয়া কাঠের মতই। (সূরা আল মুনাফিকুন: ৪)
পাথর স্বপ্ন দেখলে তার ব্যাখ্যা হবে অন্তরের কঠোরতা ও পাষন্ডতা।
এ ব্যাখ্যাটি আল কোরআনের এ আয়াত থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন:
অত:পর তোমাদের অন্তরগুলো কঠিন হয়ে গেল, যেন তা পাথরের মত কিংবা তার চেয়েও শক্ত। (সূরা আল বাকারা: ৭৪)
যদি স্বপ্নে রোগ-ব্যধি দেখা হয়, তাহলে তার ব্যাখ্যা হবে মুনাফিক। কারণ, আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন :
তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যধি। (সূরা আল বাকারা, আয়াত ১০)
যদি স্বপ্নে গোশত খেতে দেখে তাহলে তার অর্থ হতে পারে গীবত বা পরনিন্দা। কেননা গীবত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? (সূরা আল হুজুরাত: ১৩)
এই যে ব্যাখ্যার কথাগুলো বলা হল, এগুলো যে এমন হতেই হবে তা জরুরী নয়। আবার সকলের ব্যাপারে ব্যাখ্যা একটিই হবে, তাও ঠিক নয়। একজন রোগীর স্বপ্ন আর সুস্থ মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা এক রকম হবে না। যদিও স্বপ্ন এক রকম হয়। তেমনি একজন মুক্ত মানুষ ও একজন বন্দী মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা এক রকম হবে না। স্বপ্নের ব্যাখ্যায় যেমন স্বপ্ন দ্রষ্টার অবস্থা লক্ষ্য করা হবে তেমনি স্বপ্নে যা দেখেছে তার অবস্থাও দেখতে হবে। যেমন কেউ স্বপ্নে দড়ি বা রশি দেখল। একজন স্বপ্নে দেখল সে একটি মজবুত রশি পেয়েছে। যা ছেড়া যাচ্ছে না। আরেক জন দেখল, সে একটা রশি ধরেছে কিন্তু তা ছিল নরম। দুটো স্বপ্নের ব্যাখ্যার মধ্যে বিশাল পার্থক্য হবে।
এক ব্যক্তি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সীরিন রহ. এর কাছে বলল, আমি স্বপ্ন দেখলাম যে আমি আজান দিচ্ছি। তিনি বললেন, এর ব্যাখ্যা হল, তুমি হজ করবে।
আরেক ব্যক্তি এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আজান দিচ্ছি। তিনি বললেন, এর অর্থ হল, চুরির অপরাধে তোমার হাত কাটা যাবে।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি একই স্বপ্নের দু ধরনের ব্যাখ্যা করলেন?
তিনি বললেন, প্রথম লোকটি নেক আমল প্রিয়। সে ভাল কাজ করে থাকে। সে জন্য তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা নেক আমল হতে পারে। আমি আল কোরআনের আয়াত -
তুমি মানুষের মাঝে হজের জন্য আজান তথা এলান দাও। (সূরা হজ্জ:২৭)
আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে পাপাচারী। তাই তার স্বপ্নের ব্যাখা পাপের শাস্তিই মানায়। তাই আমি আল কোরআনের আয়াত
অত:পর এক মুয়াজ্জিন (ঘোষণা কারী) আজান (ঘোষণা) দিল, হে কাফেলা! তোমরা তো চোর। (সূরা ইউসুফ : ৭০)
স্বপ্নে
স্বপ্নে কাক দেখার ব্যাখ্যা হল, পাপাচারী পুরুষ। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাকের নাম রেখেছেন ফাসেক। মানে, পাপী।
তেমনি ইঁদুর স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যা হল, পাপাচারী নারী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইঁদুরের নাম রেখেছেন, ফাসেকা। মানে পাপাচারী মহিলা।
স্বপ্নে পাঁজর বা পাঁজরের হাড় দেখলে এর ব্যাখ্যা হবে, নারী। কারণ, নারীকে পাঁজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে হাদীসে এসেছে।
এমনিভাবে কাঁচের পান-পাত্র স্বপ্ন দেখার ব্যাখ্যা হল, নারী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁচের পান-পাত্র-কে নারীর রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন:
হে আনজাশা! আরে আস্তে চল, নয়তো কাঁচের পান-পাত্রগুলো ভেঙ্গে যাবে। (বর্ণনায় : মুসলিম)
এখানে কাঁচের পান-পাত্র বলতে তিনি সফর সঙ্গী মেয়েদের বুঝিয়েছেন। মানে তাড়াতাড়ি হাটলে মেয়েরা পিছনে পড়ে যাবে। তাই তাদের জন্য তিনি ধীরে ধীরে পথ চলতে বললেন।
কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে ভীতিকর কিছু দেখল বা ভয় পেল। তার অবস্থার বিবেচনায় এর ব্যাখ্যা হতে পারে শান্তি ও নিরাপত্তা।
যেমন আল্লাহর তাআলার বাণী
তিনি তাদের ভয়-ভীতিকে শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন। (সূরা আল নূর : ৫৫)
এমনিভাবে স্বপ্নে কান্না দেখলে এর ব্যাখ্যা হতে পারে আনন্দ। স্বপ্নে হাসতে দেখলে এর ব্যাখ্যা হতে পারে দু:খ-কষ্ট।
এ বিপরীত অর্থ গ্রহণ নীতি স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার রহস্য হল, স্বপ্নের দায়িত্বশীল ফেরেশতা যখন স্বপ্নে ইঙ্গিত প্রদান করে তখন সে বিষয়টি উল্টো করে দেখায়। কারণ, নিদ্রা আর জাগ্রত অবস্থা একটা আরেকটার বিপরীত।
তাবীর বা স্বপ্ন ব্যাখ্যার ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ.- এর কাছে এক মহিলা আসল। তিনি তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। মহিলা বলল, হে আবু বকর! আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। ইবনে সীরিন রহ. বললেন, তুমি এক্ষুণি বলবে না আমাকে খেতে দেবে? মহিলা বলল, ঠিক আছে, আপনি খাওয়া শেষ করুন। খাওয়া শেষ করার পর তিনি মহিলাকে বললেন: এখন বল, তোমার দেখা স্বপ্ন। মহিলা বলল : আমি দেখলাম, আকাশের চন্দ্র সাতটি তারা (সূরাইয়া) র মধ্যে ঢুকে গেল। এরপর স্বপ্নের মধ্যে লোকেরা আমাকে বলল, ইবনে সীরিনের কাছে খবরটা তাড়াতাড়ি পৌঁছে দাও।
ইবনে সীরিন বললেন, ধিক! তোমাকে। কি দেখলে? আবার বল। এভাবে কয়েকবার তিনি বললেন। আর তিনি খুব অস্থির হয়ে গেলেন। তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তার বোন তাকে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে?
তিনি বললেন, এ মহিলাটি বলছে আমি সাত দিন পর মৃত্যু বরণ করব।
বর্ণনাকারী আসআছ বলেন : ঠিক সাত দিনের মাথায় আমরা ইমাম ইবনে সীরিন- রহ.-কে দাফন করলাম।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নের কথা শুনতে পছন্দ করতেন। তিনি একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ গত রাতে স্বপ্ন দেখেছ?
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন : আমি স্বপ্ন দেখেছি, আকাশ থেকে তিনটি চাঁদ আমার ঘরের মধ্যে পতিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে তোমার ঘরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন জন মানুষকে দাফন করা হবে।
এরপরে তো পর্যায়ক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার ঘরে দাফন করা হয়েছে।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান। বর্ণনায় : মুস্তাদরাক হাকেম)
ইরাকের শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসূফ একদিন স্বপ্নে দেখলেন, আকাশ থেকে বেহেশতের হুর সাদৃশ দুটো দাসী অবতীর্ণ হল। একজনকে তিনি ধরতে পারলেন অন্য জন আকাশে উঠে গেল।
স্বপ্ন দেখে তিনি খুব খুশী হলেন। এর ব্যাখ্যা জানার জন্য ইমাম ইবনে সীরিন-কে ডাকলেন।
ইবনে সীরিন রহ. বললেন: এর ব্যাখ্যা হল, দুটো বিদ্রোহ (ফিতনা) সংঘটিত হবে। আপনি একটির মোকাবেলা করবেন। অন্যটিকে আপনি পাবেন না। (হয়ত আপনার পরে আসবে)
পরে দেখা গেল হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ, ইবনুল আসআছের বিদ্রোহ মোকাবেলা করলেন। আর ইবনুল মুলাহহাবের বিদ্রোহ তিনি দেখে যাননি।
কিভাবে এ ব্যাখ্যা দেয়া হল? এর রহস্য কী?
এ স্বপ্নে দুটো ইঙ্গিত ছিল। প্রথমটি দাসী আর দ্বিতীয়টি হল বেহেশতের হুর।
দুটো ইঙ্গিত পরস্পর বিরোধী। কারণ, হুর হল সুরক্ষিত। কিন্তু দাসী সুরক্ষিত নয়। অপর দিকে হুরের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়, আর দাসীর বিষয়টি দৃশ্যমান। স্বপ্ন ব্যাখ্যার নিয়ম হল, এ রকম পরস্পর বিরোধী ইঙ্গিত দেখলে বাস্তব বা দৃশ্যমান ইঙ্গিত গ্রহণ করা হবে। এ বিবেচনায় এখানে দাসী দেখার বিষয়টি গ্রহণ করা হল আর হুরের বিষয়টি গ্রহণ করা হল না।
আর দাসী হল স্ত্রী নয়, এমন মেয়ে লোক। আর মেয়ে লোক হল ফিতনা-বিশৃংখলার উপকরণ। কেননা রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার চলে যাওয়ার পর আমার উম্মতের উপর সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিতনা হিসাবে মেয়েদের রেখে গেলাম।
তাই ইমাম ইবনে সীরিন এ রকম ব্যাখ্যা করেছেন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
এ ব্যক্তি ইমাম জাফর সাদিকের কাছে এসে বলল, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নটি হল, একটি কাঁচের পেয়ালা আছে আমার। আমি তা থেকে পানাহার করি। কিন্তু তার মধ্যে একটি পিঁপড়া দেখলাম। সেও তা থেকে খাবার খায়।
এর অর্থ কী?
ইমাম সাহেব বললেন, তোমার কি স্ত্রী আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাসায় কি কোনো পুরুষ কাজের লোক (দাস) আছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, কাজের লোকটিকে বিদায় করে দাও। তাকে রাখায় তোমার কোনো কল্যাণ নেই।
লোকটি বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার কথা বলল। স্ত্রী বলল, এখন তোমার সিদ্ধান্ত কী?
লোকটি বলল, আমি দাসটিকে বিক্রি করে বিদায় করে দেব।
স্ত্রী বলল, যদি তাকে বিদায় করো তাহলে আমাকে তালাক দাও। লোকটি স্ত্রীকে তালাক দিল। স্ত্রী দাসটিকে কিনে নিল ও তাকে বিয়ে করল।
এ স্বপ্নের মধ্যে তিনটি বিষয়কে ইঙ্গিত হিসাবে ধরা হয়েছে। প্রথম হল, পুরুষ লোকটি। দ্বিতীয় হল, পেয়ালা। আর তৃতীয়টি হল, পিঁপড়া।
ইমাম জাফর সাদেক রহ. ব্যাখা করার আগে পুরুষ লোকটিকে জেনে নিলেন। আর এভাবেই কারো স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার আগে তার সম্পর্কে জেনে নিতে হয়।
দ্বিতীয় ইঙ্গিত, কাঁচের পেয়ালা দ্বারা স্ত্রীকে বুঝায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের কাঁচের পাত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
তার থেকে পানাহার করার অর্থ হল সহবাস। আর পিঁপড়া ও তার খাওয়ার অর্থ হল সে তার স্ত্রীতে অংশ গ্রহণ করে। পিঁপড়া দ্বারা দুর্বল সত্বা ও চোর বুঝায়। সে এমনভাবে খায়, কেউ দেখে না। এর মানে কাজের লোকটি পিঁপড়ার মত চুপিসারে তার স্ত্রীকে ভোগ করে।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ. বলেন : যদি স্বপ্নে কেউ মৃত ব্যক্তিকে দেখে তাহলে তাকে যে অবস্থায় দেখবে সেটাই বাস্তব বলে ধরা হবে। তাকে যা বলতে শুনবে, সেটা সত্যি বলে ধরা হবে। কারণ, সে এমন জগতে অবস্থান করছে যেখানে সত্য ছাড়া আর কিছু নেই।
যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।
কয়েকটি উদাহরণ :
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর বাসভবন ঘেরাও করল, তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে।
আর ঐ দিনই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার হাত দিয়ে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে ইশারা করছেন।
আমি আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিখে জানাবেন?
আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়?
এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হয়ে গেলেন।
কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
বাস্তব জীবনে ঘটবে এমন কিছু আকৃতি-প্রকৃতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। এ দেখানোটা স্বপ্নে কখনো সরাসরি আবার কখনো ইঙ্গিত বা প্রতীকি বার্তায় হয়ে থাকে।
যেমন আমরা বলে থাকি, স্বপ্নে কাপড় বা জামা দেখার মানে হল দীন-ধর্ম। যদি কাপড় ভাল ও বড় দেখা হয়, তবে তা দীন-ধর্ম, তাকওয়া-পরহেজগারীর উন্নতি নির্দেশ করে। আর তা যদি মলিন, সংকীর্ণ, ছিড়া-ফাটা দেখা হয় তবে তা দীন-ধর্মের অবনতি বলে মনে করা হয়ে থাকে।
দীন -ধর্ম যেমন মানুষের আত্মাকে রক্ষা করে, পোশাক তেমনি মানুষের শরীর-স্বাস্থ্যকে হেফাজত করে। এ জন্য পোশাক আর ধর্ম একে অপরের ইঙ্গিত বহন করে।
স্বপ্নে আগুন দেখা মানে ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা আর অরাজকতা নির্দেশ করে। কারণ আগুন দৃশ্যমান ধন-সম্পদ জ্বালিয়ে দেয় আর ফিতনা-অরাজকতা মানুষের অন্তর জ্বালায়। মানুষকে অস্থির করে তোলে।
নক্ষত্র বা তারকা স্বপ্নে দেখলে তার অর্থ হয় আলেম- উলামা, জ্ঞানী-গুণি। কারণ আলেম-উলামা ও জ্ঞানীরা মানুষকে পথ প্রদর্শন করে, আলো দেয়।
স্বপ্নে ইহুদী দেখার অর্থ হল দীন-ধর্মের বিষয়ে অবাধ্যতা আর খৃষ্টান দেখার অর্থ হল, দীন-ধর্মে বিদআত প্রবর্তন ও ধর্মীয় বিষয়ে পথভ্রষ্টতা।
স্বপ্নে লৌহ দেখার অর্থ হল, শক্তি।
আর দাড়ি-পাল্লা দেখার অর্থ হল, ন্যায়পরায়ণতা।
স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ হল, শত্রু ।
স্বপ্নে নীচে পড়ে যেতে দেখার অর্থ হল, অবনতি আর উর্দ্ধে উঠতে দেখার অর্থ হল, উন্নতি।
কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে সে চুপচাপ ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে মৃত্যু। আর যদি সে স্বপ্ন দেখে কথা বলতে বলতে সে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে জীবন ও সুস্থতা।
যদি কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে, সে মৃত্যু বরণ করছে, তাহলে এর অর্থ হবে সে পাপাচার থেকে তওবা করবে। কেননা মৃত্যু মানে হল, আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন :
অত:পর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তাদের সত্যিকার প্রভূ আল্লাহর কাছে। (সূরা আল আনআম : ৬২)
এখানে ফিরিয়ে নেয়া মানে মৃত্যু। আর তাওবা অর্থ ফিরে আসা।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাবেছ ইবনে সাআদ আত তাঈকে বিচারক হিসাবে নিয়োগ দিলেন। একদিন হাবেছ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি স্বপ্নে দেখলাম, চাঁদ আর সূর্য যুদ্ধ করছে। আর নক্ষত্রগুলো দু পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তুমি কার পক্ষে ছিলে? চাঁদের পক্ষে না সূর্যের?
তিনি উত্তরে বললেন, আমি চাঁদের পক্ষে ছিলাম।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তাহলে আমি তোমার নিয়োগ প্রত্যাহার করে নিলাম। কারণ, তুমি একটি মুছে যাওয়া শক্তির পক্ষে ছিলে।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
আর আমি রাত ও দিনকে করেছি দুটো নিদর্শন। অত:পর মুছে দিয়েছি রাতের নিদর্শন (চাঁদকে) আর দিনের নিদর্শন (সূর্য্য) কে করেছি আলোকময়। (সূরা আল ইসরা : আয়াত ১২)
আর তুমি একটি বিভ্রান্তিতে নিহত হবে। পরে দেখা গেল সত্যিই সে সিফফীনের যুদ্ধে সিরিয়াবাসীদের দলে থেকে নিহত হল।
(সুত্র : আল ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ : ইবনে হাজার রহ.)
স্বপ্নে বাগান দেখার অর্থ হল কাজ ও চাকুরী। আর বাগান পুড়ে যাওয়া দেখলে অর্থ হবে বেকারত্ব ও পতন।
যে স্বপ্নের ফলাফল ভাল তা বাস্তবায়নে দেরী হয়। আর যার ফলাফল খারাপ তার বাস্তবায়নে কোন দেরী হয় না।
দেখুন, ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য আর এগারটি নক্ষত্র তাকে সিজদা করেছে।
তার এ স্বপ্নটার বাস্তবায়ন অনেক বছর পর হয়েছে।
ইবেন সীরিন রহ. দরবারে একটি শিশুর মৃত্যুর কাহিনীতে আমরা দেখলাম, খারাপ স্বপ্নের বাস্তবায়ন তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।
মক্কী জীবনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার স্বপ্ন দেখলেন, যে আবু জাহল জান্নাতে ঘোরা-ফিরা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবলেন, তাহলে আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু করল না। মক্কা বিজয়ের পর যখন আবু জাহলের ছেলে ইকরামা ইসলাম গ্রহণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটাই ছিল তার সেই স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
ইমাম মালেক রহ. কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সকলে কি স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা করবে?
তিনি বলেছিলেন, নবুওয়তের একটি বিষয় নিয়ে কি তামাশা করা যায়?
যে ব্যক্তি সঠিক ও সুন্দরভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে জানবে, শুধু সে-ই ব্যাখ্যা দেবে। যদি স্বপ্নটা ভাল হয়, তাহলে বলে দেবে। আর যদি স্বপ্নটা খারাপ হয়, তাহলে ভাল ব্যাখ্যা দেবে। তা সম্ভব না হলে চুপ থাকবে।
(মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা)
সৌদী আরবের প্রখ্যাত আলেম, ও আল-কোরআনের তাফসীরবিদ, শায়খ আব্দুর রহমান আস সাদী রহ. বলতেন : স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা উলূমুশ শরইয়্যার একটি বিষয়। এটি শিক্ষা করা ও শিক্ষা দান করার কারণে আল্লাহ তাআলা সওয়াব ও প্রতিদান দেবেন।
(তাইসীরুল কারীম আর রহমান ফী তাফসীরিল কালামিল মান্নান)
معني اللغوي الاستوي
1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...
-
হানাফী ও আহলে হাদীসদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ নামাযের মাসআলা ও তার প্রামাণিক পর্যালোচনা بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين- والص...
-
الآية (( لا خوف عليهم ولا هم يحزنون)) وردت في القرآن الكريم 14 مرة 6 منها في سورة البقرة وجاء هذا التكرار بهدف تثبيت العقيدة وبث الطمأنينة ف...
-
الضرب وسيلة مفيدة ، لإدراك غاية حميدة، فإذا أدراك المعلم أنّ مقصود الضرب حصول العلم و الادب: توفي الضرب المبرِّح الذي يلحق بالصبي الإتلاف و ...