Saturday, 15 May 2021
মৃত্যুর পর বর্জনীয় কাজ
তালাকের পর ছেলে মেয়ে কার কাছে থাকবে
বুখারী ও মুসলিমের ১৪টি যঈফ হাদিস
বুখারী মুসলিমের ১৪টি যঈফ হাদিস। যা লা-মাজহাবীদের গুরু মরহুম আলবানী বলেছেন।
Wednesday, 12 May 2021
নামধারী আহলে হাদিস
ইমাম আ'মাশ রহঃ বলেন:— নামধারী আহলে হাদীসদের চাইতে নিকৃষ্টতর কেউ এই দুনিয়াতে নেই,,
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ هِلَالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَفَّارُ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْوَلِيدِ الْجَشَّاشُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: " مَا فِي الدُّنْيَا قَوْمٌ شَرٌّ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ
ইমাম আ'মাশ রহঃ বলেন:— নামধারী আহলে হাদীসদের চাইতে নিকৃষ্টতর কেউ এই দুনিয়াতে নেই ৷
(শরফু আসবাবে হাদীস লি খতিব বাগদাদীঃ১৩১)
↓
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْخُوَارَزْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ الْأَنْبُذُونِيُّ، يَقُولُ قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَنْبَرٍ الْبَغْدَادِيِّ، حَدَّثَكُمُ الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ: قَالَ لِي يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ: قَالَ الْأَعْمَشُ: «لَوْ كَانَتْ لِي أَكْلُبٌ، كُنْتُ أُرْسِلُهَا عَلَى أَصْحَابِ الْحَدِيثِ»
ইমাম আ'মাশ রহঃ আরো বলেন:- যদি আমার কাছে কুকুর থাকতো, তাহলে নামধারী আহলে হাদীসদের উপরে আক্রমন করাতাম ৷
(শরফু আসবাবে হাদীস লি খতিব বাগদাদীঃ১৩১)
↓
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْبَرْقَانِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُمَيْرَوَيْهِ الْهَرَوِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عَمَّارٍ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَيَّاشٍ، يَقُولُ: أَصْحَابُ الْحَدِيثِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ، هُمُ الْمُجَّانُ
ইমাম আবু বকর বিন আইয়াশ রহঃ বলেন:— নামধারী আহলে হাদীসরা সৃষ্টজীবের মধ্যে সবচাইতে নিকৃষ্টতম ৷
ওরা নির্লজ্জ-বেহায়া ৷
(শরফু আসবাবে হাদীস লি খতিব বাগদাদীঃ১৩৬)
↓
হাফেজ ইবনে সালাহ বলেন:কখনো কোন কোন আহলে হাদিস বেদাতী হয়
فتاوى ابن الصلاح 1/139-140
জুমা ও ঈদ একসাথে হলে করণীয়
ঈদ ও জুমুআ
-------------------জুমুআর ঈদ হলে জুমুআর নামাজ এবং ঈদের নামাজ উভয়টিই পড়তে হবে।
.
এ ব্যাপারে বিভিন্ন মাজহাবের ইমামদের অভিমত:
১/ হানাফী মাজহাব:
---------------------------
ইমাম মুহাম্মদ রহ. ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে "আল জামিউস সগীর" গ্রন্থে বর্ণনা করেন,
.
"ﻋﻴﺪاﻥ اﺟﺘﻤﻌﺎ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﻭاﺣﺪ ﻓﺎﻷﻭﻝ ﺳﻨﺔ ﻭاﻵﺧﺮ ﻓﺮﻳﻀﺔ ﻭﻻ ﻳﺘﺮﻙ ﻭاﺣﺪ ﻣﻨﻬﻤﺎ.
.
দুই ঈদ [1] একই দিনে একত্রিত হয়েছে। প্রথমটি সুন্নাত [2]। অপরটি ফরজ। দুটোর একটিও ছাড়া যাবে না।"
(আল জামিউস সগীর তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আন নাফিউল কাবির সহ, পৃষ্ঠা ১১৩)
.
২/ ইমাম শাফেয়ী রহ. এর অভিমত:
.
ইমাম শাফেয়ী রহ. তার লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ "কিতাবুল উম্ম"এর মধ্যে বলেছেন,
.
"ﻭﺇﺫا ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡ اﻟﻔﻄﺮ ﻳﻮﻡ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﺻﻠﻰ اﻹﻣﺎﻡ اﻟﻌﻴﺪ ﺣﻴﻦ ﺗﺤﻞ اﻟﺼﻼﺓ ﺛﻢ ﺃﺫﻥ ﻟﻤﻦ ﺣﻀﺮﻩ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺃﻫﻞ اﻟﻤﺼﺮ ﻓﻲ ﺃﻥ ﻳﻨﺼﺮﻓﻮا ﺇﻥ ﺷﺎءﻭا ﺇﻟﻰ ﺃﻫﻠﻴﻬﻢ، ﻭﻻ ﻳﻌﻮﺩﻭﻥ ﺇﻟﻰ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭاﻻﺧﺘﻴﺎﺭ ﻟﻬﻢ ﺃﻥ ﻳﻘﻴﻤﻮا ﺣﺘﻰ ﻳﺠﻤﻌﻮا ﺃﻭ ﻳﻌﻮﺩﻭا ﺑﻌﺪ اﻧﺼﺮاﻓﻬﻢ ﺇﻥ ﻗﺪﺭﻭا ﺣﺘﻰ ﻳﺠﻤﻌﻮا ﻭﺇﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻮا ﻓﻼ ﺣﺮﺝ ﺇﻥ ﺷﺎء اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ (ﻗﺎﻝ اﻟﺸﺎﻓﻌﻲ) : ﻭﻻ ﻳﺠﻮﺯ ﻫﺬا ﻷﺣﺪ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ اﻟﻤﺼﺮ ﺃﻥ ﻳﺪﻋﻮا ﺃﻥ ﻳﺠﻤﻌﻮا ﺇﻻ ﻣﻦ ﻋﺬﺭ ﻳﺠﻮﺯ ﻟﻬﻢ ﺑﻪ ﺗﺮﻙ اﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡ ﻋﻴﺪ (ﻗﺎﻝ اﻟﺸﺎﻓﻌﻲ) : ﻭﻫﻜﺬا ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡ اﻷﺿﺤﻰ ﻻ ﻳﺨﺘﻠﻒ ﺇﺫا ﻛﺎﻥ ﺑﺒﻠﺪ ﻳﺠﻤﻊ ﻓﻴﻪ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭيصلى اﻟﻌﻴﺪ، ﻭﻻ ﻳﺼﻠﻲ ﺃﻫﻞ ﻣﻨﻰ ﺻﻼﺓ اﻷﺿﺤﻰ، ﻭﻻ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻷﻧﻬﺎ ﻟﻴﺴﺖ ﺑﻤﺼﺮ.
.ঈদুল ফিতরের দিন যদি জুমার দিন হয় ইমাম সূর্যোদয়ের পর যখন নামাজ পড়া বৈধ তখন ইমাম ঈদের নামাজ পড়বে। এরপর শহরবাসী ব্যতীত পল্লী থেকে যারা তার সাথে ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়েছিল তাদেরকে অনুমতি দিবেন এ ব্যাপারে যে তারা ইচ্ছা করলে তাদের পরিবারের কাছে চলে যাবে এবং জুমায় পুনরায় ফিরে আসবে না। এক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। হয়তো তারা জুমার নামাজ পড়া পর্যন্ত অবস্থান করবে অথবা বাড়িতে চলে যাবে অতঃপর আবার ফিরে এসে জুমা আদায় করবে যদি সক্ষম হয়। যদি তারা জুমা নাও পড়ে কোন অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ।
.
তবে শহরবাসীর কারোর জন্য জুমা পরিত্যাগ করা বৈধ হবে না। তবে যদি কোন ওজর থাকে তাহলে পরিত্যাগ করা বৈধ হবে যদিও তা ঈদের দিন হয়ে থাকে। অনুরূপ ঈদুল আযহা যদি জুমার দিনে হয় হুকুম ভিন্ন হবে না; যখন তা এমন এলাকায় হবে যেখানে জুমার নামাজ এবং ঈদের নামাজ আদায় করা বৈধ হয়। মিনা বাসীরা ঈদুল আযহার নামাজ পড়বে না এবং জুমার নামাজ না। কেন মিনা শহর [1] নয়।"
(কিতাবুল উম্ম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৪)
.
উল্লেখ্য বর্তমানে আমাদের দেশের প্রায় সকল গ্রামই সম্ভাবনার সাথে শরীয়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে শহর বলে গণ্য।
.
৩/ ইমাম মালেক রহ. এর অভিমত:
.
মালিকী মাযহাব এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফিকহী গ্রন্থ "আল মুদাওয়ানাহ"-তে এসেছে,
.
"كان مالك يقول: لا يضَع ذلك عنه ما وجب عليه مِن إتيان الجمعة، وقال مالك: ولم يَبلُغني أن أحدًا أَذِنَ لأهل العوالي إلا عثمان، ولم يكن مالك يرى الذي فعل عُثمان، وكان يرى أن مَن وجبَت عليه الجمعة لا يَضعُها عنه إذن الإمام، وإن شهد مع الإمام قبل ذلك مِن يَومِه ذلك عيدًا.
.
ইমাম মালেক বলতেন, "ঈদের নামাজ ব্যক্তির উপর জুমার নামাজ আদায়ের আবশ্যকতাকে রহিত করবে না।" তিনি আরো বলেন, "আমার নিকট পৌঁছেনি হযরত উসমান রা. ব্যতীত অন্য কেউ "আওয়ালী" (মদীনার চার মাইল পূর্বে অবস্থিত) এর অধিবাসীদের জন্য জুম্মার নামাজ না পড়ার অনুমতি দিয়েছেন।" ইমাম মালেক উসমান রা. এর মতের উপর আমল করত না। তার মত ছিল, যার উপর জুমআর নামায আবশ্যক হয়েছে ইমামের অনুমতি সে অবশ্যকতাকে কখনো রহিত করে না। যদিও সে জুমার পূর্বে ইমামের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করুক না কেন।"
(১/৫৩; মিনাহুল জালীল শারহু মুখতাসারি খালীল, ২/৩০৬)
.
৪/ ইমাম আহমাদ রহ. এর এ বিষয়ে বহু মত রয়েছে। কোনটা যে ওনার আসল মত সেটাই বুঝা মুশকিল। প্রায় সব ইখতেলাফী মাসআলাতেই ওনার একাধিক মত থাকে।
.
কোন কোন মাসআলায় দশ থেকে বারোটি মতও থেকে থাকে। আল্লামা কাউছারী রহ. এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ওনার কাছ থেকে ওনার মত বর্ণকারী রাবীরাই এ সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
তারা যে যে মতকে বিশুদ্ধ মনে করত সেটাকেই ইমাম আহমাদের মত বলে চালিয়ে দিত।
.
এজন্য আল্লামা ইবনে জারীর আত-ত্ববারী রহ. তার গ্রন্থসমূহে ইমাম আবু হানীফা, মুহাম্মাদ, আবু ইউসূফ, মালেক, শাফেয়ী ও অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরাম রাহিমাহুমুল্লাহ-দের মতামত আনলেও ইমাম আহমাদ রহ. এর মতামত আনেননি।
.
কারণ কোনটা যে ওনার প্রকৃত মত সেটা যাচাই করা কষ্টসাধ্য করেছেন। এ কারণে হাম্বলীরা ইমাম তাবারী রহ.-কে অনেক কষ্টও দিয়েছে।
.
এজন্যই আমরা এ মাসআলায় হাম্বলীদের মাযহাব বর্ণনায় তাদের মাযহাবের হেদায়া "মুগনী" এর উপর নির্ভর করব। ইবনে কুদামা বলেন,
.
ﻭ"ﺇﻥ اﺗﻔﻖ ﻋﻴﺪ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﺟﻤﻌﺔ، ﺳﻘﻂ ﺣﻀﻮﺭ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻋﻤﻦ ﺻﻠﻰ اﻟﻌﻴﺪ، ﺇﻻ اﻹﻣﺎﻡ، ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻻ ﺗﺴﻘﻂ ﻋﻨﻪ ﺇﻻ ﺃﻥ ﻻ ﻳﺠﺘﻤﻊ ﻟﻪ ﻣﻦ ﻳﺼﻠﻲ ﺑﻪ اﻟﺠﻤﻌﺔ. ﻭﻗﻴﻞ: ﻓﻲ ﻭﺟﻮﺑﻬﺎ ﻋﻠﻰ اﻹﻣﺎﻡ ﺭﻭاﻳﺘﺎﻥ.
.
যদি জুম'আর দিনের সাথে ঈদ মিলে যায় তাহলে, ইমাম ব্যতীত অন্যান্য ঈদের নামায আদায়কারীর উপর জুম'আয় উপস্থিত হওয়াটা রহিত হয়ে যায়। ইমাম থেকে রহিত না হওয়ার কারণ হল, যারা জুমআর জন্য উপস্থিত হবে তারা যাতে জুম'আ আদায় করতে পারে। বলা হয়, ইমাম আহমদ থেকে এমতাবস্থায় জুম'আ ওয়াজিব হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।"
(আল-মুগনী, ২/২৬৫)
.
তিনি আরো বলেছেন,
.
ﻭﺇﻥ ﻗﺪﻡ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﺼﻼﻫﺎ ﻓﻲ ﻭﻗﺖ اﻟﻌﻴﺪ، ﻓﻘﺪ ﺭﻭﻱ ﻋﻦ ﺃﺣﻤﺪ، ﻗﺎﻝ: ﺗﺠﺰﺉ اﻷﻭﻟﻰ ﻣﻨﻬﻤﺎ، ﻓﻌﻠﻰ ﻫﺬا ﺗﺠﺰﺋﻪ ﻋﻦ اﻟﻌﻴﺪ ﻭاﻟﻈﻬﺮ، ﻭﻻ ﻳﻠﺰﻣﻪ ﺷﻲء ﺇﻟﻰ اﻟﻌﺼﺮ ﻋﻨﺪ ﻣﻦ ﺟﻮﺯ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻲ ﻭﻗﺖ اﻟﻌﻴﺪ.
.
(জুম'আও ঈদ এক হওয়া অবস্থায়) কেউ যদি জুমার নামাজ আগে পড়ে ফেলে ঈদের নামাজের সময়ে তাহলে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত আছে, উভয়টার মধ্যে প্রথমটা (জুম'আ) পড়াই যথেষ্ট হবে। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় (জুম'আ) পড়াটাই ঈদের নামাজ ও যোহরের নামাজের জন্য যথেষ্ট হবে (অর্থাৎ পড়া লাগবে না)।"
(আল-মুগনী, ২/২৬৬)
.
৫/ আহলে হাদীস সালাফীদের মত:
.
জুমু’আহর দিনে ঈদ হলে সেদিন জুমু’আহ সলাত আদায়ও ঐচ্ছিক। অর্থাৎ জুমু’আহ মসজিদ হতে দূরবর্তী এলাকাবাসী নিজ নিজ ওয়াক্তিয়া মাসজিদে ইচ্ছে করলে জুমু’আর পরিবর্তে যুহরের সলাত আদায় করতে পারবে।
.
সূত্র: https://islamqa.info/bn/answers/109323
.
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, হাম্বলী মাযহাব ছাড়া বাকী মাযহাবের ইমামগণ দু ঈদ একত্রিত হলে একটির দ্বারা অন্যটির আবশ্যকতা রহিত না হওয়ার বিষয়ে একমত।
.
হাম্বলী মাযহাবের মত হল, আগে ঈদের নামাজ পড়লে ইমাম ছাড়া বাকিদের ওপর জুমু'আয় উপস্থিত হওয়ার আবশ্যিকতা রহিত হয়ে যায়, তবে যোহর আদায় করতে হবে। আর জুমআকে যদি যোহরের ওয়াক্তে না পড়ে ঈদের নামাজের ওয়াক্তে পড়া হয়, তাহলে আর ঈদের নামাজ পড়াই লাগবে না।
.
জমহুর ফুকাহাদের দলীল সমূহ:
--------------------------------------------
জুমার নামাজ ফরজ। যা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। আর দুই ঈদের নামাজ আমাদের মাজহাবের ওয়াজিব অন্যদের নিকট সুন্নাত। আর কোন ফরজ সুন্নত কিংবা ওয়াজিব দ্বারা রহিত হয় না।
.
১. জুমু'আর নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
.
"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
.
মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।" (সূরা জুমু'আহ, আয়াত: ৯)
.
২. জুমু'আ পরিত্যাগের মারাত্মক পরিণতির ব্যপারে হুঁশিয়ারি প্রদর্শনপূর্বক হাদিসে এসেছে,
.
وَحَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - وَهُوَ ابْنُ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي أَخَاهُ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مِينَاءَ، أَنَّحَدَّثَاهُ أَنَّهُمَا، سَمِعَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ " لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ ".
.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার ও আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর মিম্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, যারা জুমু‘আর নামাজ ত্যাগ করে তাদেরকে এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে সীল মেরে দিবেন, অতঃপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
(সহিহ মুসলিম ৮৬৫ ও ১৮৮৭, নাসাঈ ১৩৭০, মুসনাদে আহমদ ২৩৩, ২২৯০, ৩০৮৯ ও ৫৫৩৫, ইবনে মাজাহ ৭৯৪ ও ১১২৭, সুনানে দারেমী ১৫৭০)
.
৩. এ ব্যপারে সাহাবী আবুল জা'দ দ্বামরী রা. থেকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরেকটি হাদিস এসেছে-
.
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبِيدَةَ بْنِ سُفْيَانَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ ثَلَاثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ»
.
হযরত আবুল জা’দ দ্বামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, --তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন-- নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তিনটি জুমু’আ অবহেলা প্রদর্শন পূর্বক ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা’আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
(নাসায়ী: ১৩৬৯, তিরমিজি: ৫০০, আবু দাউদ: ১০৫২; হাদিসটি সহীহ)
.
৪. জামে মসজিদের জুমআর আযান যে স্থান পর্যন্ত শোনা যায় সে স্থানের পুরুষদের ওপর জুমুআ আবশ্যক। হাদিসে এসেছে-
.
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ ﷺ: «الْجُمُعَةُ عَلى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু‘আর আযান শুনতে পায়, তার ওপর জুমু‘আর নামাজ আবশ্যক ।
(আবূ দাউদ ১০৫৬, দারাকুত্বনী ১৫৯০, সুনানে কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৫৮১; হাদিসটি হাসান)
.
৫. বিনা কারণে জুমুআ পরিত্যাগকারীকে অর্ধ দিনার সাদাকাহ করার আদেশ-
.
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻳﺰﻳﺪ ﺑﻦ ﻫﺎﺭﻭﻥ، ﻗﺎﻝ: ﺃﻧﺎ ﻫﻤﺎﻡ ﺑﻦ ﻳﺤﻴﻰ، ﻋﻦ ﻗﺘﺎﺩﺓ، ﻋﻦ ﻗﺪاﻣﺔ ﺑﻦ ﻭﺑﺮﺓ اﻟﻌﺠﻠﻲ، ﻋﻦ ﺳﻤﺮﺓ ﺑﻦ ﺟﻨﺪﺏ، ﻋﻦ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: «ﻣﻦ ﺗﺮﻙ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﻋﺬﺭ، ﻓﻠﻴﺘﺼﺪﻕ ﺑﺪﻳﻨﺎﺭ، ﻓﺈﻥ ﻟﻢ ﻳﺠﺪ، ﻓﺒﻨﺼﻒ ﺩﻳﻨﺎﺭ»
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি ওজর ছাড়াই জুমুআ পরিত্যাগ করল সে যেন অর্ধ দিনার সাদাকাহ দেয়।"
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, ৫৫৩৫, ইবনে হিব্বান, ২৭৮৮, সনদটি দ্বয়ীফ কুদামা ইবনে ওয়াবরা দ্বয়ীফ হওয়ায়)
.
৬. জামাআত ও জুমু'আ পরিত্যাগ জাহান্নামের প্রবেশের কারণ হয়। যেমনটি ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,
.
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺣﻔﺺ، ﻋﻦ ﻟﻴﺚ، ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ، ﻗﺎﻝ: اﺧﺘﻠﻒ ﺭﺟﻞ ﺇﻟﻰ اﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺷﻬﺮا، ﻳﻘﻮﻡ اﻟﻠﻴﻞ ﻭﻳﺼﻮﻡ اﻟﻨﻬﺎﺭ، ﻭﻻ ﻳﺸﻬﺪ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻭﻻ ﺟﻤﻌﺔ، ﻗﺎﻝ: «ﻓﻲ اﻟﻨﺎﺭ»
.
প্রখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর নিকট এক মাস যাবৎ আসা যাওয়া করতো। সে রাত জেগে নামাজ পড়তো এবং দিনে রোজা রাখতো, কিন্তু জামাআত এবং জুমুআতে উপস্থিত হতো না। (তার ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে ইবনে আব্বাস রা. জবাবে) বললেন, সে জাহান্নামী।
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, ৫৫৪০, সনদ সহীহ মাওকূফ)
.
✒️ তবে যারা শহর বা শহরতলীর অধিবাসী নয় তাদের উপর জুমা ফরয নয় বরং ঐচ্ছিক।
.
◾যেমন হাদিসে এসেছে,
.
ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻃﺎﻫﺮ اﻟﻔﻘﻴﻪ، ﺃﻧﺒﺄ ﺃﺑﻮ ﻋﺜﻤﺎﻥ اﻟﺒﺼﺮﻱ، ﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻮﻫﺎﺏ، ﺃﻧﺒﺄ ﻳﻌﻠﻰ ﺑﻦ ﻋﺒﻴﺪ، ﺛﻨﺎ ﺳﻔﻴﺎﻥ، ﻋﻦ ﺯﺑﻴﺪ، ﻋﻦ ﺳﻌﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﻴﺪﺓ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪ اﻟﺮﺣﻤﻦ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ اﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ: " ﻻ ﺟﻤﻌﺔ ﻭﻻ ﺗﺸﺮﻳﻖ ﺇﻻ ﻓﻲ ﻣﺼﺮ ﺟﺎﻣﻊ "
.
সায়্যিদুনা হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, 'মিছরে জামে'(1) ব্যতিত অন্য স্থানে জুমু'আর নামাজ ও তাকবীরে তাশরীক্ব আবশ্যক নয়।
.
(১/ মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার, ৬৩৩০;
২/ আস-সুনানুল কুবরা, ৫৬১৫;
৩/ শরহে মুশকিলুল আছার, ৩/১৮৮;
৪/ "আল জুমুআতু ওয়া ফাদ্বলুহা" লি আবি বকর আল মারওয়াযী, ৬৯)
.
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী ফতহুল বারীতে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, ২/৪৫৭ ।
-----------------------
] শাব্দিক অর্থ একত্রকারী শহর; অর্থাৎ এমন এলাকা যেখানে সরকারী প্রশাসক থাকেন এবং সেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পাওয়া যায়। তবে এর সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক মতানৈক্য রয়েছে।
.
◾কতিপয় সাহাবী রা.-গণের আমল সম্পর্কে আল্লামা বায়হাকী রহ. বলেছেন,
.
"ﻳﺬﻛﺮ ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ: ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺄﺗﻲ ﻣﻦ اﻟﺰاﻭﻳﺔ ﻋﻠﻰ ﻓﺮﺳﺨﻴﻦ ﻣﻦ اﻟﺒﺼﺮﺓ ﻟﻴﺸﻬﺪ اﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻭﺃﺣﻴﺎﻧﺎ ﻻ. ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﻤﺮﻭ، ﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ اﻟﻌﺒﺎﺱ اﻷﺻﻢ، ﺃﻧﺒﺄ اﻟﺮﺑﻴﻊ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ اﻟﺸﺎﻓﻌﻲ: " ﻭﻗﺪ ﻛﺎﻥ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ، ﻭﺃﺑﻮ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻳﻜﻮﻧﺎﻥ ﺑﺎﻟﺸﺠﺮﺓ ﻋﻠﻰ ﺃﻗﻞ ﻣﻦ ﺳﺘﺔ ﺃﻣﻴﺎﻝ ﻓﻴﺸﻬﺪاﻥ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﻳﺪﻋﺎﻧﻬﺎ " ﻗﺎﻝ: " ﻭﻳﺮﻭﻯ ﺃﻥ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ اﻟﻌﺎﺹ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻣﻴﻠﻴﻦ ﻣﻦ اﻟﻄﺎﺋﻒ ﻓﻴﺸﻬﺪ اﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﻳﺪﻋﻬﺎ .
.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বসরা থেকে দুই ফারসাখ [1] দূরে অবস্থিত যাভিয়া নামক স্থান থেকে জুমুআয় উপস্থিত হওয়ার জন্য কখনো আগমণ করতেন, কখনো করতেন না। [2] সনদ.............শাফেয়ী রহ. বলেছেন, "সায়ীদ ইবনে যায়েদ ও আবু হুরায়রা রা. শাজারাহ নামক স্থানে (জামে মসজিদ থেকে) ছয় মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থান করতেন। তাঁরা উভয়েই কখনো জুমুআ পড়তেন, কখনো ছেড়ে দিতেন।"
তিনি (শাফেয়ী) আরো বলেছেন, "বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. তায়েফ থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থান করতেন। তিনি সেখান থেকেও কখনো জুমুআয় আসতেন, কখনো ছেড়ে দিতেন।"
(মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার, ৫৫৯৩)
-----------------------
1. এক ফারসাখ = ৩ হাজার হাত। (মু'জামুল ফিকহ আল ইসলামী)
2. কারণ 'মিছরে জামে' থেকে দূরবর্তী এলাকার লোকদের জন্য জুমুআ ঐচ্ছিক বিষয়। ইচ্ছা করলে আদায় করবে, নতুবা যোহর পড়ে নিবে।
.
অত্র আলোচনা থেকে আমরা বুঝলাম, জুমুআর নামাজ একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদাত। এটা 'মিছরে জামে' এর বালেগ ও সুস্থ বিবেকবোধসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান পুরুষদের উপর আবশ্যক হয়।
.
পক্ষান্তরে একেবারে পল্লী কিংবা অস্থায়ী যাযাবরদের উপর আবশ্যক হয় না। তবে ইচ্ছা করলে তারা 'মিছরে জামে'-তে এসে জুমুআয় শরীক হতে পারে।
.
এ মানের একটি ফরয ইবাদাতের আবশ্যকতা কোন নফল বা সুন্নাত কিংবা ওয়াজিব দ্বারা রহিত হতে পারে না এবং হওয়ার উদাহারণ ও শরীয়তে নেই।
.
সুতরাং ঈদের নামাজ পড়ার দ্বারাও জুমুআর মত ফরজ ইবাদাত রহিত হতে পারে না অকাট্য দলীল ব্যতিরেকে।
.
আল্লাহ তায়ালা সবাইকে দ্বীনে সহিহ বুঝ দান করুক। আমিন
ডাঃ কামাল ইসমাইল
এই সেই ব্যক্তি যিনি দুটি পবিত্রতম মসজিদকে নকশা করেছেন--- আল-মসজিদ-আল-হারাম এবং
আল-মসজিদ-উন-নববী।
তিনি একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি ছিলেন ।
যিনি জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন ।
অনেকের কাছেই অজানা এই বিশেষ ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ ডঃ মুহাম্মদ কামাল ইসমা'ইল।
(১৯০৮ – ২০০৮)
তিনি হাই স্কুল (সার্টিফিকেট) পাওয়ার জন্য মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন । প্রথম রয়্যাল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন এবং সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন এটি থেকে স্নাতক পাশ করার সময়েও।
এই সর্বকনিষ্ঠকে মিশর থেকে ইউরোপে পাঠানো হয় । এখানে তিনি তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন ইসলামিক স্থাপত্যে ।
রাষ্ট্রীয় সম্মানসুচক রাষ্ট্র প্রধানের কাছ থেকে ′′ নাইল ′′ স্কার্ফ এবং ′′ লৌহ ′′ পদমর্যাদা অর্জন করার জন্যও তিনি সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ।
তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি (হেরেম শরীফ ) মক্কা ও মদিনা মসজিদ ( মসজিদে নববী ) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন ।
কিং ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্য নির্মাণ তত্ত্বাবধানের জন্য কোন বেতন বা সম্মানী ভাতা নিতে অস্বীকার করেন। যখন তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দেন তখন তিনি বকর বিন লাদেনকে বলেন:
′′ পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য কেন অর্থ গ্রহণ করবো? আমি কিয়ামতের দিন কিভাবে আল্লাহর মুখোমুখি হবো ? "
তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন , পুত্র সন্তান জন্ম দেন এবং এরপর স্ত্রী ও পুত্র সন্তান মারা যায় । অতঃপর তিনি একাকী ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিষ্ঠার সাথে ব্যয় করেছেন ।
গণমাধ্যমে জনসম্মুখে,খ্যাতি ও অর্থ থেকে দূরে থেকে দুই পবিত্র মসজিদের খেদমতে বহু বছর অতিক্রম করেছেন ।
হেরেম শরীফ ( পবিত্র মসজিদ ) এর মার্বেল এর ( কাজ ) সম্পর্কে এই প্রতিভাটির একটি আশ্চর্যজনক গল্প আছে , যেহেতু তিনি ' তাওয়াফ ' তৈরির জন্য হারাম মসজিদের মেঝে ঢেকে দিতে চেয়েছিলেন তাপ শোষণের জন্য বিশেষ মার্বেল পাথর দিয়ে । এই মার্বেল শুধুমাত্র গ্রীসের একটি ছোট পাহাড়ে পাওয়া যেত ।
তিনি গ্রীসে ভ্রমণ করেছেন এবং হারাম শরীফ ( মার্বলিং ) এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মার্বেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন যা পর্বতের প্রায় অর্ধেক ।
তিনি চুক্তি স্বাক্ষর করে ফিরে এসেছেন ( মক্কায় ) । পাহাড় কেটে সাদা মার্বেল এসেছে এবং মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে মার্বেল স্থাপন সম্পন্ন করেছেন ।
এর ১৫ বছর পর সৌদি সরকার তাকে মদিনার পবিত্র মসজিদে একই ধরনের মার্বেল স্থাপন করতে বলেছিলো।
প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামাল বলেন,
যখন সৌদি সরকারের বাদশা তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মসজিদ ” মসজিদে নববী “ কে একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন , আমি খুব বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম , কারণ এই ধরনের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে মাত্র একটি জায়গা ছিল , তা হল গ্রীস , এবং আমি ইতিমধ্যে অর্ধেক কিনে নিয়েছি।
এরপর তার উপলব্ধি ।
কামাল বলেন , তিনি গ্রিসের একই কোম্পানিতে গিয়ে সিইও-র সঙ্গে দেখা করেন, এবং যে পরিমাণ অবশিষ্ট আছে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন ।
সিইও বলেন , আপনি ১৫ বছর আগে চলে যাওয়ার পরই বিক্রি হয়ে গেছে অবশিষ্ট পরিমাণ মার্বেল পাথর । কামাল খুব দুঃখিত হয়ে গেলেন । কামাল মিটিং শেষে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় দপ্তর সচিবের সাথে দেখা করে অনুরোধ করেন , অবশিষ্ট পরিমাণ মার্বেল ক্রয়কৃত ব্যক্তি কোথায় ব্যবসা করেন তা জানাতে ?
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে এত পুরনো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে । কামালের অনুরোধে তিনি পুরনো রেকর্ডে খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।
ডঃ কামাল তার হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়ে আসেন এবং পরের দিন পুনর্বিবেচনা করে খুঁজে তাকে জানাতে বলেন । কামাল বলেন অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ভাবলেন ,
“ আমি কেন জানতে চাই কে কিনেছে ( এটা )? ”
নিজেকে সান্তনা দিলেন , আল্লাহ কিছু একটা সুন্দর ব্যবস্থা করে দিবেন । পরদিন বিমানবন্দরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ডঃ কামাল সচিবের ফোন কল পেলেন ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন বলে । ডঃ কামাল ধীর গতিতে তাদের অফিসে চলে গেলেন , এই ভেবে যে , ক্রেতার ঠিকানা দিয়ে কি করব , এতো বছর হয়ে গেছে! ডঃ কামাল অফিসে পৌঁছলে বাকি মার্বেল কেনা কোম্পানির ঠিকানা দিলেন সচিব । ডঃ কামাল বলেন , তার হৃদয় স্পন্দন বেড়ে গভীর ভাবে পাম্প করেছে যখন তিনি আবিষ্কার করেন , যে এই মার্বেল কিনেছে সেই কোম্পানিটি সৌদি কোম্পানি ।
ডঃ কামাল সৌদি আরবে ফিরে গিয়ে সোজা সেই কোম্পানির অফিসে গিয়েছিলেন যিনি মার্বেল কিনেছিলেন । তিনি কোম্পানির পরিচালকের সাথে দেখা করেছিলেন , এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ,
তিনি গ্রিস থেকে বহু বছর আগে কেনা মার্বেল দিয়ে কি করেছিলেন ? কোম্পানির পরিচালক বলেছিলেন , আমি মনে করতে পারছি না। তিনি স্টক রুমে ( কোম্পানির ) যোগাযোগ করেন এবং তাদের কেনা গ্রীসের সাদা মার্বেল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং তারা তাকে বলেন যে , যে পরিমান কেনা হয়েছিল সেই পরিমাণই স্টকে পাওয়া যাচ্ছে , কখনই তা বিক্রি বা ব্যবহার করা হয়নি ।
শিশুর মত কাঁদতে শুরু করলেন ডঃ কামাল , আর পুরো গল্পটি শুনালেন কোম্পানির মালিককে ।
কামাল মালিককে একটি অলিখিত চেক দিলেন , আর বললেন তোমার যা লাগবে লিখে নাও । মালিক যখন জানতে পারলো যে মার্বেলটা মসজিদে নবীজির (সাঃ) অর্থাৎ মসজিদে নববীর জন্য , তখন মালিক বললো আমি এক রিয়ালও নিবো না ।
পবিত্র নবীজির মসজিদে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে এই মার্বেল কেনা এবং বিক্রি বা ব্যবহার করার কথা ভুলিয়ে রেখেছেন । এটাই আল্লাহর ইচ্ছা ।
আল্লাহ সুবহান হু তায়ালা ডঃ মুহাম্মদ কামাল ইসমা'ইলকে ' জান্নাতের ' সর্বোচ্চ স্থান দান করুন-আমীন ইয়া রাব্বুল আলামিন ।
Zee Thebo এর পোষ্ট থেকে অনুবাদকৃত ।
Tuesday, 11 May 2021
অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউমের শরঈ বিধান
#অ্যালকোহল_মিশ্রিত_পারফিউমের_শরঈ_বিধান
লিখেছেন মুহতারাম মুফতী Abdullah Al Mamun হাফিযাহুল্লাহ
বর্তমানে বডি স্প্রে বা পারফিউমে এ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে স্প্রে ব্যবহার করে সালাত আদায় করা যাবে কিনা? আর এই স্প্রে বিক্রি করা শরীয়তসম্মত কিনা?
উত্তরঃ প্রচলিত অধিকাংশ বডি স্প্রে ও সেন্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারে ও বিক্রিতে কোন সমস্যা নেই। তবে না করাই উত্তম। এর বিপরীতে এলকোহল মুক্ত আতর ব্যবহার করা উচিৎ।
১) যে সমস্ত এলকোহল খেজুর বা আঙ্গুর দ্বারা তৈরী করা হয়নি, সেগুলো মৌলিকভাবে নাপাক না এবং যতটুকু ব্যবহারে নেশার উদ্রেক হয়না ততটুকু ব্যবহার জায়েজ।
ইহা ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মতানুসারে।
[ফাতহুল ক্বদীর-৮/১৬০, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৫/৪১২, আল বাহরুর রায়েক-৮/২১৭-২১৮, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৯; তানভীরুল আবসার মা'আত দুররিল মুখতার ২/২৫৯]
والمحرم منها أربعة ) أنواع الأول ( الخمر وهي النيء من ماء العنب إذا غلى واشتد وقذف بالزبد وحرم قليلها وكثيرها ) بالإجماع ( و ) الثاني ( الطلاء وهو العصير يطبخ حتى يذهب أقل من ثلثيه وقيل ما طبخ من ماء العنب حتى ذهب ثلثاه وبقي ثلثه ) وصار مسكرا ( وهو الصواب ونجاسته كالخمر ) به يفتي ( و ) الثالث ( السكروهو النيء ماء الرطب )
( و ) الرابع ( نقيع الزبيب وهو النيء من ماء الزبيب ) بشرط أن يقذف بالزبد بعد الغليان ( والكل ) أي الثلاثة المذكورة ( حرام إذا غلي واشتد ) وإلا لم يحرم اتفاقا وإن قذف حرم اتفاقا وظاهر كلامه فبقية المتون أنه اختار ها هنا قولهما
(تنوير الأبصار مع الدر المختار- كتاب الأشربة -2/259)
২) বর্তমানে সুগন্ধিযুক্ত বস্তু যেমন—সেন্ট, বডি স্প্রে ইত্যাদি অ্যালকোহল ছাড়া প্রস্তুত করা দুষ্কর।
আর এখনকার সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সাধারণত আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছপালার ছাল,ভাত, মধু, শস্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট, অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল মেশানো হয়।জ
[এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা : খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪- প্রকাশকাল ১৯৫০ খ্রি.]
আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ সহ বেশ কিছু উলামাদের স্বতন্ত্র গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, বর্তমানে বেশির ভাগ অ্যালকোহল আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরি হয় না। সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তদ্রুপ ওষুধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে। অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
[তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮]
.
.
৩)অনুরুপ ভাবে বিভিন্ন হালাল-হারাম উপাদান মিক্সড করে যদি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রিফাইন করার মাধ্যমে এর মৌলিকত্ব নিঃশেষ করা হয় তাহলে সেটিকে হারাম বলা যাবেনা।
আর যদি সেসব হারাম বস্তুর মৌলিকত্ব বাকি থাকে, তাহলে উক্ত বস্তু যাতে মিশ্রিত করা হবে, তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। [নিহায়াতুল মুহতাজ লির রামালি-৮/১২]ঋ
কেননা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -
‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।’
[বুখারি, হাদিস নং : ৪৩৪৩]ঋ
ففي حاشية السندي على ابن ماجة عند شرح الحديث: أيْ: مَا يَحْصُلُ السُّكْرُ بِشُرْبِ كَثِيرِهِ فَهُوَ حَرَامٌ قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ وَإِنْ كَانَ قَلِيلُهُ غَيْرَ مُسْكِرٍ، وَبِهِ أَخَذَ الْجُمْهُورُ، وَعَلَيْهِ الِاعْتِمَادُ عِنْدَ عُلَمَائِنَا الْحَنَفِيَّةِ وَالِاعْتِمَادُ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّ الْحَرَامَ الشَّرْبَةُ الْمُسْكِرَةُ وَمَا كَانَ قَبْلَهَا فَحَلَالٌ قَدْ رَدَّهُ الْمُحَقِّقُونَ. انتهى.
أما (الخمر) إذا خلله بعلاج بالملح أو بغيره يحل عندنا
"মদকে যখন লবন বা অন্য কিছু দ্বারা সির্কা বানিয়ে ফেলা হয়, তখন তা আমাদের (হানাফীদের) নিকট হালাল হয়ে যায়।"
[ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৪১০, মাজমাউল আনহুর-৪/২৫১, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৮]
তাই এসব বডি স্প্রে ও সেন্ট নাপাক নয়। আর এগুলো নেশার উদ্রেকও হয়না।উপরন্তু এসব উপাদান গুলো রিফাইনও হয়।এবং শরীরে কোনরুপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করেনা।তাই এগুলো ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম।
[জাদীদ ফিকহি মাসাইল : ১/৩৮ ; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ু : ১/২৯৮]
৪) আর যদি এতে নেশাজাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে, তবুও আহনাফদের নিকট ইহা খাওয়া ব্যতিত এর পানীয় কাপড়ে বা অন্য কোথাও ব্যবহার করা সরাসরি হারাম ও নাপাক নয়।
সুতরাং এক্ষেত্রে বডি স্প্রে ব্যবহার করলেও সালাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ইমাম আবূ হানীফা(রহঃ) এর মতে পানি না পেলে নাবীয (এক প্রকার মাদকতাময় পানীয়) দিয়ে ওজূ করা যাবে।
يتوضأ به إن لم يجد غيره.
[আল মাবসূত্বঃ২/৯০; বাদায়েউস সানায়ে' ১/১৫; আল ইনায়াহ শরহুল হিদায়াহ ১/১১৮;আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৫৪৩]
ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) এর মতে- ওজুর সাথে তায়াম্মুমও করবে।
وقيل: يتوضأ به ويتيمم،
[আল বিনায়াহ ১/৪৬৪; ফাতহুল ক্বদীর ১/১১৮-১২৯; বাদায়েদুস সানায়ে' ১/১৫]
অর্থাৎ একে সরাসরি নাপাক বলা যাবেনা।
দলীলঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন-
যে রাতে রাসুল (ﷺ) জিনদের সাথে দেখা করেন, সে রাতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) সাথে ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আব্দুল্লাহ তোমার কাছে কাছে পানি আছে কিনা। তিনি বললেন- আমার কাছে নবীয (খেজুর ডুবিয়ে রাখা একটু আঠালো পানি) আছে পাত্রে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "আমাকে দাও, ওযু করব।'' তিনি তাই করলেন।
রাসুল (ﷺ) বললেনঃ "হে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ! এটা একটা পানীয় আর পবিত্র।"
أنه كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة الجن فقال له النبي صلى الله عليه وسلم يا عبد الله أمعك ماء قال معي نبيذ في إداوة فقال اصبب علي فتوضأ قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا عبد الله بن مسعود شراب وطهور.
[মুসনাদ আহমাদঃ ৩৫৯৪; মুসান্নাফ ইবনু আব্দির রাযযাক্বঃ৬৯৩; মু'জামুল কাবীর,তাবারানীঃ৯৯৬১; মুসনাদে বাযযারঃ১৪৩৭; সুনানু দারি কুত্বনী ১/৭৬; সুনানু ইবনি মাজাহঃ৩৮৫; শরহু মা'আনিউল আসার,ত্বহাবী ১/৯৪; তাফসীরু ইবনি কাসীর ১৩/৩৬]
★উল্লেখিত হাদীসের সনদে ইবনু লাহী'য়াহ নামক এক বিতর্কিত রাবী রয়েছে এবং তার দুর্বলতা সবার নিকটই প্রসিদ্ধ । কিন্তু এই হাদীসটির বিভিন্ন সনদসূত্র রয়েছে।
তবে ইমাম ত্বহাবীও ইমাম আবূ ইউসূফ থেকে এর বিপরীত মতও পাওয়া যায়।
[আল মাবসূত্বঃ২/৯০; বাদায়েউস সানায়ে' ১/১৫; আল ইনায়াহ শরহুল হিদায়াহ ১/১১৮; তাবয়ীনুল হাক্বায়েক্ব ১/৩৫]
এদিক বিবেচনা করলেও সেন্ট ও বডি স্প্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম বলা যায়না
(আল্লাহু আ'লামু বিস সাওয়াব)ছ
বিঃদ্রঃ
একইসাথে এই বিধান হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন হ্যাক্সিসল ইত্যাদি । যদিও এতে ৭০% এলকোহল থাকে। এটি হাতে দিয়ে সালাত আদায়ে সমস্যা নেই।
والله اعلم
ওমরী কাযা হাদিস শরীফে আছে কিনা?
🌺🌺 ওমরী কাযা কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত 🌺🌺
.
------------------------------
🌻 সালাত আরবি শব্দ আর নামায হচ্ছে ফার্সি। অনেক নামায একসঙ্গে কাজা হয়ে গেলে সাধারণের পরিভাষায় এটাকে ‘উমরি কাযা’ বলে।’
🌻 আর ফিকহের পরিভাষায় ﻗﻀﺎﺀ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺖ বলা হয়। সুতরাং উমরি কাজা বলতে শরিয়তে কোনো নামায নেই। তবে নামায [ফরজ, ওয়াজিব] ছুটে গেলে পরবর্তীতে পড়া আবশ্যক। সুতরাং আমরা উমরি কাজা পড়ব না। কোনো নামায ছুটে গেলে পড়ব। এক দুই ওয়াক্তও পড়তে হবে, #হাজার_ওয়াক্ত হলেও পড়তে হবে।
🌻 আপনার কাছ থেকে এক/দু টাকা ঋণ নিলে পরিশোধ করা আবশ্যক; আর লাখ লাখ টাকা নিলে কি পরিশোধ করা জরুরি নয়? ঋণ বেশি হলে কি মাফ হয়ে যায় ??
মাসআলাটি এত প্রসিদ্ধ যে, সাধারণ মুসলিম সমাজও এ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু ইদানীং এ নিয়ে নতুন এক বিভ্রান্তির সূচনা হয়েছে।
তাদের দাবি হচ্ছে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ নামায ছেড়ে দিলে কাযা করতে হবে না। তাওবা করলেই মাফ হয়ে যাবে। তবে ঘুমের কারণে ও ভুলবশত নামায ছুটে গেলে কাযা করা আবশ্যক।’
👇
কিন্তু ইচ্ছাকৃত নামায পরিত্যাগ করলে কাযা করতে হবে না-- এই মতবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া, দলিলবিহীন। কুরআন-সুন্নাহ, ইজমায়ে উম্মত এবং উম্মতের ধারাবাহিক আমলের বিরোধী।
আমরা সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি আলোকপাত করব- ইনশাল্লাহ।
.
🌺🌺 হাদিস শরিফে কাযার নীতিঃ-
নামায ব্যতীত আরো কিছু ইবাদতের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সময়ের ভেতরে তা পালন করতে না পারলে পরবর্তীতে আদায় করা আবশ্যক। যেমন রোযা ও হজ। নির্ধারিত সময়ে নামায/রোযা/হজ আদায় করতে না পারলে পরবর্তীতে কাযা করে নেওয়া আবশ্যক।
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার ও সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। দুয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক :
👉 ১. রোজার কাযা
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ - ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ﻗَﺎﻝَ ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻫَﻠَﻜْﺖُ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ . ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻫْﻠَﻜَﻚَ . ﻗَﺎﻝَ ﻭَﻗَﻌْﺖُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗِﻰ ﻓِﻰ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ . ﻗَﺎﻝَ ﻫَﻞْ ﺗَﺠِﺪُ ﻣَﺎ ﺗُﻌْﺘِﻖُ ﺭَﻗَﺒَﺔً . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻬَﻞْ ﺗَﺴْﺘَﻄِﻴﻊُ ﺃَﻥْ ﺗَﺼُﻮﻡَ ﺷَﻬْﺮَﻳْﻦِ ﻣُﺘَﺘَﺎﺑِﻌَﻴْﻦِ . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻬَﻞْ ﺗَﺠِﺪُ ﻣَﺎ ﺗُﻄْﻌِﻢُ ﺳِﺘِّﻴﻦَ ﻣِﺴْﻜِﻴﻨًﺎ . ﻗَﺎﻝَ ﻻَ - ﻗَﺎﻝَ - ﺛُﻢَّ ﺟَﻠَﺲَ ﻓَﺄُﺗِﻰَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺑِﻌَﺮَﻕٍ ﻓِﻴﻪِ ﺗَﻤْﺮٌ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺗَﺼَﺪَّﻕْ ﺑِﻬَﺬَﺍ . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻓْﻘَﺮَ ﻣِﻨَّﺎ ﻓَﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻻَﺑَﺘَﻴْﻬَﺎ ﺃَﻫْﻞُ ﺑَﻴْﺖٍ ﺃَﺣْﻮَﺝُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣِﻨَّﺎ . ﻓَﻀَﺤِﻚَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺣَﺘَّﻰ ﺑَﺪَﺕْ ﺃَﻧْﻴَﺎﺑُﻪُ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺍﺫْﻫَﺐْ ﻓَﺄَﻃْﻌِﻤْﻪُ ﺃَﻫْﻠَﻚَ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, একব্যক্তি রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে তুমি ধ্বংস হয়েছ? সে বলল, আমি রমজান মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে ফেলেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আজাদ করতে পারবে? সে বলল, না। রাসুল সা. বললেন, তুমি দুই মাস লাগাতার রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। রাসুল সা. বললেন, ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে পারবে? সে বলল, তাও পারব না। অতঃপর সে বসে রইল। ইতোমধ্যে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খেজুরভর্তি ঝুড়ি (হাদিয়া বা দান) আসল। রাসুল সা. তাকে বললেন, তুমি এই খেজুর নিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হুজুর! মদিনার দুই উপত্যকার মাঝে আমার চেয়ে গরিব ও অভাবগ্রস্তকোনো পরিবার নেই। এ কথা শুনে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন; ফলে হুজুরের দাঁত মোবারক দেখা গেল। এরপর রাসুল সা. তাকে বললেন, খেজুর নিয়ে তোমার পরিবারকে খাইয়ে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ১৮৩৪, ১৮৩৫, ৫০৫৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৫১)।
👇
এটি অত্যন্ত শক্তিশালী সহিহ হাদিস। এর দ্বারা প্রমাণিত হল, ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা নষ্ট করার কারণে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই ব্যক্তিকে রোযা কাযা করতে বললেন কেন? তাওবা করার কথা বলেননি কেন? সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা নষ্ট করার কারণে যেমন কাযা আবশ্যক তদ্রূপ ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগ করলেও কাযা আবশ্যক।
.
👉 ২. হজ্জ ও ঋণের কাযা
ﺃَﻥَّ ﺍِﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺟُﻬَﻴْﻨَﺔَ ﺟَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺍَﻟﻨَّﺒِﻲِّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﻥَّ ﺃُﻣِّﻲ ﻧَﺬَﺭَﺕْ ﺃَﻥْ ﺗَﺤُﺞَّ , ﻓَﻠَﻢْ ﺗَﺤُﺞَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺗَﺖْ , ﺃَﻓَﺄَﺣُﺞُّ ﻋَﻨْﻬَﺎ ? ﻗَﺎﻝَ : " ﻧَﻌَﻢْ ," ﺣُﺠِّﻲ ﻋَﻨْﻬَﺎ , ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖِ ﻟَﻮْ (২) ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻚِ ﺩَﻳْﻦٌ , ﺃَﻛُﻨْﺖِ ﻗَﺎﺿِﻴَﺘَﻪُ ? ﺍِﻗْﻀُﻮﺍ ﺍَﻟﻠَّﻪَ , ﻓَﺎَﻟﻠَّﻪُ ﺃَﺣَﻖُّ ﺑِﺎﻟْﻮَﻓَﺎﺀِ
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমার মা হজের মান্নত করেছিলেন। কিন্তু তা আদায় করার আগেই তিনি মারা গেছেন। এখন আমার করণীয় কী? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় কর। বল তো, তোমার মায়ের কোনো ঋণ থাকলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? মহিলাটি বলল, হ্যাঁ করতাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তোমরা আল্লাহর ঋণও পরিশোধ কর। কারণ, তিনি তাঁর প্রাপ্য পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। (সহিহ বুখারি, ১/২৪৯-২৫০। সুনানে নাসায়ি ২/২)
আরেকটি হাদিসে এসেছে :
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ : ﺃَﻥَّ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﺟَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻬَﺎ ﺻَﻮْﻡُ ﺷَﻬْﺮٍ ﺃَﻓَﺄَﻗْﻀِﻴﻪِ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻚِ ﺩَﻳْﻦٌ ﺃَﻛُﻨْﺖِ ﻗَﺎﺿِﻴَﺘَﻪُ . ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻧَﻌَﻢْ . ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺪَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন : এক মহিলা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমার মায়ের ওপর একমাসের রোযা ফরজ রয়ে গেছে, আমি কি তার পক্ষ থেকে কাযা করে দেব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকলে তুমি তা পরিশোধ করতে কি-না? সে বলল, হ্যাঁ করতাম। রাসুল বললেন : তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা অধিক উপযুক্ত। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং- ৩৩১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৭৪৯)।
🌻 উপর্যুক্ত বর্ণনাসমূহে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- ﺍِﻗْﻀُﻮﺍ ﺍَﻟﻠَّﻪَ ‘তোমরা আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর’ এবং ﻓَﺪَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ‘আল্লাহর ঋণ আদায়ের অধিক উপযুক্ত’ এসব থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে, যে ইবাদাত বান্দার ওপর ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য, তা থেকে দায়মুক্তির পথ হল তা আদায় করা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার দ্বারা যেমন মানুষের ঋণ থেকে দায়মুক্ত হওয়া যায় না, তেমনি আল্লাহর ঋণ থেকেও দায়মুক্ত হওয়া যায় না।
.
🌺🌺 সালাত কাযা পড়ার হাদিস
অন্যান্য ইবাদতের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাযের ক্ষেত্রেও এই মূলনীতি প্রযোজ্য। আল্লার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্ম এবং সাহাবায়ে কেরামের ‘আছার’ এই প্রমাণই বহন করে। নমুনাস্বরূপ কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিচে দেওয়া গেল :
👉 ১.
একরাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে নিয়ে সফর করছিলেন। শেষরাতে তাঁরা বিশ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রাবিরতি করলেন এবং হযরত বিলাল রা. -কে ফজরের নামাযের জন্য জাগিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল রা. এর চোখও লেগে গেল আর এতে করে সবার নামাযই কাযা হয়ে গেল। ঘুম থেকে জাগার পর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন। এরপর বললেন, ঘুম বা বিস্মৃতির কারণে যার নামায ছুটে গেল, যখন সে জাগ্রত হবে তখন যেন তা আদায় করে নেয়। হাদিস ও ফিকহের কিতাবে এই রাতটি ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻌﺮﻳﺲ – ﻭﺍﻗﻌﺔ ﺍﻟﺘﻌﺮﻳﺲ যাত্রাবিরতির রাত এবং এই ঘটনাটি যাত্রাবিরতির ঘটনা নামে পরিচিত। প্রসিদ্ধ সকল হাদিসগ্রন্থেই ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর অন্যতম বর্ণনাকারী হযরত ইবনে আব্বাস রা. ঘটনাটি বর্ণনা করার পর বলেন, ‘সেই দুই রাকাত নামায (যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা হিসেবে আদায় করেছিলেন) আমার কাছে গোটা দুনিয়া থেকে বেশি প্রিয়। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস নং- ২৯৯১; মুসনাদে আহমদ ৪/১৮১; হাদিস নং ২৩৪৯।
হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর খুশির কারণ হল, এই ঘটনার মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণের সামনে এ মূলনীতি স্পষ্ট হল, নামায নির্ধারিত সময়ে আদায়যোগ্য ইবাদাত হলেও যদি তা সময়মত আদায় করা না হয়, তবে পরে হলেও আদায় করতে হবে। আলইসতিযকার ১/৩০০।
.
👉 ২.
ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ : ﺃﻥ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺟﺎﺀ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻨﺪﻕ ﺑﻌﺪﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﻓﺠﻌﻞ ﻳﺴﺐ ﻛﻔﺎﺭ ﻗﺮﻳﺶ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻛﺪﺕ ﺃﺻﻠﻲ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺣﺘﻰ ﻛﺎﺩﺕ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺗﻐﺮﺏ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ( ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﺻﻠﻴﺘﻬﺎ ) . ﻓﻘﻤﻨﺎ ﺇﻟﻰ ﺑﻄﺤﺎﻥ ﻓﺘﻮﺿﺄ ﻟﻠﺼﻼﺓ ﻭﺗﻮﺿﺄﻧﺎ ﻟﻬﺎ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺑﻌﺪﻣﺎ ﻏﺮﺑﺖ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺛﻢ ﺻﻠﻰ ﺑﻌﺪﻫﺎ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ
[ 573 ، 615 ، 903 ، 3886 ]
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত-ওমর বিন খাত্তাব রা. খন্দকের দিন সূর্য ডুবার পর কুরাইশ কাফেরদের তিরস্কার করতে করতে এলেন। নবীজী সাঃ কে বললেন-“হে আল্লাহর নবী! আমি আসরের নামায পড়তে পারিনি এরই মাঝে সূর্য ডুবে গেছে”।
নবীজী সাঃ বললেন-“হায় আল্লাহ! আমরাওতো পড়তে পারিনি! তারপর আমরা সমতল ভূমিতে দাঁড়ালাম। আর তিনি নামাযের জন্য অযু করলেন। আর আমরাও নামাযের জন্য অযু করলাম। তারপর সূর্য ডুবে গেলেও প্রথমে আমরা আসর পড়লাম। তারপর মাগরিব পড়লাম।(বুখারী শরীফ-হাদিস নং ৫৭১,৫৭৩,৬১৫, ৯০৩,৩৮৮৬,)
👉 ৩.
ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻗﺎﻝ : ﺳﺌﻞ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻳﺮﻗﺪ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺃﻭ ﻳﻐﻔﻞ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻝ : ﻛﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﻳﺼﻠﻴﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺫﻛﺮﻫﺎ
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে নামায রেখে ঘুমিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও নামায সম্পর্কে গাফেল ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-এর কাফফারা হল যখনই নামাযের কথা স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে।
(সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯৯১,মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১০৪১,মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩০৬৫,মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩২৬২,সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৫৮৫)
ﺃَﻥَّ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦَ ﻋُﻤَﺮَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮﻟُﻤَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ ﺻَﻠَﺎﺓً ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮْﻫَﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﺈِﻣَﺎﻡُ ﻓَﻠْﻴُﺼَﻞِّ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻧَﺴِﻲَ ﺛُﻢَّ ﻟِﻴُﺼَﻞِّ ﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﺍﻟْﺄُﺧْﺮَﻯ
-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ বলতেন-যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় তারপর তা স্মরণ হয় ইমামের সাথে জামাতে নামাযরত অব্স্থায়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর যে নামায ভুলে পড়েনি, তা আদায় করবে, তারপর অন্য নামায পড়বে।
(মু্য়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৫৮৪,সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩০১২)
👉 ৪.
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ : ﻧَﺎﺩَﻯ ﻓِﻴﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻧْﺼَﺮَﻑَ ﻣِﻦَ ﺍﻷَﺣْﺰَﺍﺏِ ﺃَﻻَ ﻻَ ﻳُﺼَﻠِّﻴَﻦَّ ﺃَﺣَﺪٌ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ﺇِﻻَّ ﻓِﻰ ﺑَﻨِﻰ ﻗُﺮَﻳْﻈَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺘَﺨَﻮَّﻑَ ﻧَﺎﺱٌ ﻓَﻮْﺕَ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖِ ﻓَﺼَﻠُّﻮﺍ ﺩُﻭﻥَ ﺑَﻨِﻰ ﻗُﺮَﻳْﻈَﺔَ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺁﺧَﺮُﻭﻥَ ﻻَ ﻧُﺼَﻠِّﻰ ﺇِﻻَّ ﺣَﻴْﺚُ ﺃَﻣَﺮَﻧَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻭَﺇِﻥْ ﻓَﺎﺗَﻨَﺎ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖُ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻤَﺎ ﻋَﻨَّﻒَ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﺮِﻳﻘَﻴْﻦِ .
হযরত আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফেরার দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের বললেন, তোমাদের কেউ যেন বনি কুরাইযায় না পৌঁছে আসরের নামায না পড়ে। অর্থাৎ বনি কুরাইযায় গিয়ে আসরের নামায পড়বে।
সাহাবায়ে কেরাম রওয়ানা হলেন। পথে আছরের নামাযের সময় অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকজন সাহাবি পথেই আছর পড়লেন। আর কয়েকজন বনি কুরাইযায় পৌঁছে সময়ের পর আসরের নামায কাযা পড়লেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকেই তিরস্কার করেননি। (সহিহ বুখারি, ১/১২৯; ২/৫৯০; সহিহ মুসলিম ২/ ৯৬; সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ২০৮৬৯)।
🌻🌻 লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ঘটনা পেশ করা হলে তিনি কাযা আদায়কারী সাহাবিদের একথা বলেন নি যে, নামায শুধু নির্ধারিত সময়েই পড়া যায, সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তা আর পড়া যায় না কিংবা পড়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
👇
এসব দৃষ্টান্তের বিপরীতে একটি হাদিস বা সাহাবির বক্তব্যেও একথা বলা হয় নি যে, নির্ধারিত সময়ে পড়া না হলে তা আর পড়তে হবে না, বরং শুধু ইস্তেগফার করাই যথেষ্ট। অতএব এটা স্পষ্ট যে, কারো ওপর যে নামায ফরজ রয়েছে তা আদায় করা ছাড়া দায়মুক্তির কোনো উপায় নেই। শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে কাযা হলেও এই বিধান। আর যদি শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া আল্লাহ না করুন শুধু অবহেলাবশত নামায ত্যাগ করা হয় তাহলে তা কত মারাত্মক অপরাধ তা বলাবাহুল্য। এক্ষেত্রে ওই নামাযটি আদায় করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করার অপরাধে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমাপ্রার্থনা করাও জরুরি। এটি হাদিস শরিফের সুস্পষ্ট মূলনীতি এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম, বাণী ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত।
👇
ﻋَﻦْ ﺃَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺇِﺫَﺍ ﺭَﻗَﺪَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺃَﻭْ ﻏَﻔَﻞَ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴُﺼَﻠِّﻬَﺎ ﺇِﺫَﺍ ﺫَﻛَﺮَﻫَﺎ ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻟِﺬِﻛْﺮِﻯ .
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমন্ত থাকে কিংবা নামাযের সময় নামাযের কথা ভুলে যায় তাহলে যখন তার স্মরণে আসবে তখনই সে নামায আদায় করে নেবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি নামায আদায় কর আমাকে স্মরণ করার সময়। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৬০১)।
👇
ﻋَﻦْ ﻧَﺎﻓِﻊِ ﺑْﻦِ ﺟُﺒَﻴْﺮٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﻋُﺒَﻴْﺪَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ : ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﺷَﻐَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻋَﻦْ ﺃَﺭْﺑَﻊِ ﺻَﻠَﻮَﺍﺕٍ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﺨَﻨْﺪَﻕِ ﺣَﺘَّﻰ ﺫَﻫَﺐَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻣَﺎ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﻓَﺄَﻣَﺮَ ﺑِﻼَﻻً ﻓَﺄَﺫَّﻥَ ﻭَﺃَﻗَﺎﻡَ ، ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏَ ، ﺛُﻢَّ ﺃَﻗَﺎﻡَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَ . ﺍﻟِﺎﻛْﺘِﻔَﺎﺀُ ﺑِﺎﻟْﺈِﻗَﺎﻣَﺔِ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻠَﺎﺓٍ
আবু উবায়দা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চার ওয়াক্ত নামায কাযা করে দিয়েছিল। এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা. -কে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি ইকামাত দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের নামায আদায় করলেন। এরপর বিলাল আবার ইকামাত দিলেন নবীজি আসরের নামায আদায় করলেন। এরপর আবার তিনি ইকামাত দিলেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায পড়ালেন। অর্থাৎ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা হয়ে যাওয়া প্রত্যেক নামাযের জন্য প্রতিবার আযান না দিয়ে শুধু ইকামাতের ওপর ক্ষান্ত দিয়েছেন। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং- ১৯৬৭; সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং- ১৬২৬)।
.
🌺🌺 ইজমায়ে উম্মতঃ-
এ প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল ইজমা। মুসলিম উম্মাহর সকল মুজতাহিদ ইমাম একমত যে, ফরজ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় না করলে পরে তা কাযা করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করুক বা ওজরবশত। এ ব্যাপারে সকল পথ ও মতের ইমামগণ একমত পোষণ করেছেন।
🌻 আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহর মধ্যে রয়েছে :
ﻗَﺎﻝ ﻋِﻴَﺎﺽٌ : ﻭَﻻَ ﻳَﺼِﺢُّ ﻋِﻨْﺪَ ﺃَﺣَﺪٍ ﺳِﻮَﻯ ﺩَﺍﻭُﺩَ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﻲِّ
অর্থাৎ কাজী ইয়ায বলেন, দাউদ ও ইবনে আবদুর রহমান ব্যতীত আর কেউই ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিলে কাযা না করার কথা বলেন না। সবাই কাযা করার কথা বলেন। [খ. ৩৪, পৃ. ২৭; আরও দেখা যাবে : ﺍﻟﺸﺮﺡ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ ১ / ৩৬৪ ، ﻭﺍﻧﻈﺮ ﺍﻟﺒﻨﺎﻳﺔ ২ / ৬২৩ ، ﻭﺍﻟﻘﻮﺍﻧﻴﻦ ﺍﻟﻔﻘﻬﻴﺔ ﺹ ৭২ . ]
মনে রাখা দরকার, আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ফিকহী বিশ্বকোষ, যা কুয়েত সরকার প্রণয়ন করেছে। দুনিয়ার সব জ্ঞানী এর দ্বারা উপকৃত হয়।
🌻 ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেন : বিনা ওজরে কাযা হয়ে যাওয়া ফরজ নামাযের কাযা আদায় করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে শরিয়তের অকাট্য দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন :
নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ফরয নামায ফরয রোযার মতো কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে দলিল হিসেবে যদিও উম্মতের ইজমাই যথেষ্ট, যার অনুসরণ করা ওই সব শায (তথা সিরাতে মুসতাকিম থেকে বিচ্যুত) মতের প্রবক্তাদের জন্যও অপরিহার্য ছিল, তারপরও কিছু দলিল উল্লেখ করা হল। যথা : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী...( আলইসতিযকার১/৩০২-৩০৩)
👇
কাযা নামায আদায় করাও তাওবার অংশ
একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, হুককুল ইবাদ বা বান্দার হক নষ্ট করা হলে শুধু অনুতপ্ত হওয়া ও ইস্তিগফার করা যথেষ্ট নয়; বরং হকদারের পাওনা আদায় করাও তাওবার অংশ। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক সহিহ হাদিসে আল্লাহর হক কে বান্দার হকের সাথে তুলনা করে বলেছেন : ﺩَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ ‘আল্লাহর হক নষ্ট হলে তা আদায় করা বান্দার হকের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’ অতএব, আলোচ্য মাসআলায় নামাযের কাযা আদায় করা তাওবারই নামান্তর । কৃতকর্মের ওপর অনুতপ্ত হওয়া, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা, আগামীতে নামায না ছাড়ার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প হওয়া এবং ছুটেযাওয়া নামাযসমূহ আদায় করা- এই সবকিছু মিলেই তাওবা পূর্ণ হবে। শরিয়তের দলিলসমূহ থেকে তাই প্রমাণিত হয় এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমাও রয়েছে।
.
🌻 মালেকি মাযহাবের বিখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বিষয়টিকে এভাবে উল্লেখ করেন :
ﻭﺃﺟﻤﻌﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺎﺻﻲ ﺃﻥ ﻳﺘﻮﺏ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻪ ﺑﺎﻟﻨﺪﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻋﺘﻘﺎﺩ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﻌﻮﺩﺓ ﺇﻟﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ^ ﻭﺗﻮﺑﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﻤﻴﻌﺎ ... ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻟﻌﻠﻜﻢ ﺗﻔﻠﺤﻮﻥ ( ﺍﻟﻨﻮﺭ ৩১(
ﻭﻣﻦ ﻟﺰﻣﻪ ﺣﻖ ﻟﻠﻪ ﺃﻭ ﻟﻌﺒﺎﺩﻩ ﻟﺰﻣﻪ ﺍﻟﺨﺮﻭﺝ ﻣﻨﻪ
ﻭﻗﺪ ﺷﺒﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺣﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺑﺤﻘﻮﻕ ﺍﻵﺩﻣﻴﻴﻦ ﻭﻗﺎﻝ ( ( ﺩﻳﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺣﻖ ﺃﻥ ﻳﻘﻀﻰ ) )
ওলামায়ে কেরাম একমত যে, পাপীর জন্যে আবশ্যক হচ্ছে স্বীয় পাপ থেকে তাওবা করবে ওই কাজের ওপর লজ্জিত হয়ে এবং এই সঙ্কল্পের সাথে যে, ওই পাপ আর করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর... সূরা নূর-৩১।
যে ব্যক্তির ওপর আল্লাহর কিংবা মানুষের হক রয়েছে তা আদায় করা আবশ্যক। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর হক ও অধিকারকে মানুষের অধিকারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন : ﺩَﻳْﻦُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺣَﻖُّ ﺃَﻥْ ﻳُﻘْﻀَﻰ : আল্লাহর হক আদায় করা অধিক উপযুক্ত।
👇
সুতরাং ভুলবশত নামায পরিত্যাগকারীর নামায কাযা করতে হবে আর ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পরিত্যাগকারীর ওপর কাযা না করে কেবল তাওবা করলেই যথেষ্ট হবে এই মতবাদটি কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার আলোকে সঠিক নয়। একটি ভ্রান্ত মতবাদ। বর্তমানের তথাকথিত আহলে হাদিস যেসব পূর্বসূরিদের দোহাই দেয় তাদের কেউই এ মতকে সমর্থন করেন না।
.
তারা আরও বলে, হাদিসে তো কেবল ভুলবশত নামায পরিত্যাগ করলে কাজা করার কথা এসেছে; ইচ্ছাকৃত নামায ছাড়লে কাজা করার কথা নেই!!
কুরআন তো নির্দেশ দিয়েছে, পিতা-মাতাকে উফ বলো না। এখন পিতা-মাতাকে প্রহার করা হারাম হবে কেন??
এরা আসলে শরিয়তের মেজাজই বোঝে না। পাগলামির একটা সীমা থাকার দরকার।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ এর ফাতওয়াও তাই-
المسارعة الى قضاء الفوائت الحثيرة اولى من الأشتغال بالنوافل، واما مع قلة الفوائت فقضاء السنن معها احسن،
অনুবাদ-যদি কাযা নামাযের পরিমাণ অনেক বেশি হয়,ম তবে সুন্নাত নামাযে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে ফরয নামাযসমূহ আদায় করাই উত্তম। আর যদি কাযা নামাযের পরিমাণ কম হয়,তবে ফরযের সাথে সুন্নাত নামায আদায় করলে তা একটি উত্তম কাজ হবে। {ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-২২/১০৪}
🌻 রাসুল সা. এর যমানায় ইচ্ছাকৃত নামায পরিত্যাগ করার কল্পনাও করা যেত না। প্রকাশ্য কাফির ছাড়া সবাই নামায পড়ত। মুনাফিকও জামাতে শামিল হতো।
বলতে চাচ্ছি, বিষয়টিতে উম্মাহর সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর বিপরীত বলা ও করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক সমঝ ও বুঝ দান করুন। আমিন।
লেখক : মুফতি জুবায়ের আহমদ ভৈরবী হাফি.
জানাযার নামাজের পর দোয়া
সালাতুল জানাযা তথা জানাযার নামাজ ফরজে কিফায়াহ। জানাযা নামাজের পূর্বে, পরে ও দাফনের পরে মাইয়্যিতের জন্য হাত উঠিয়ে দোয়া করা জায়িয ও সুন্নাত।
জানাযা নামাজের পর কাতার ভঙ্গ করে মাইয়্যিতের জন্য ইজতিমায়ী ভাবে হাত তুলে দোয়া করা জায়িয ও সুন্নাত।
এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এর ফতওয়া গ্রাহ্য মত।
যারা এ মতের বীপরিত মত পোষন করে, তাদের কথা পরিত্যজ্য এবং কুরআন, হাদীস, ইজমা, ও কিয়াসের খিলাফ।
মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন-
واذا سألك عبادي عني فاني قريب اجيب دعوة الدعي اذا دعان
হে আমার রাসূল (সা:) ! আমার বান্দাগণ যখন আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করে, আমার ব্যাপারে মূলত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা দোয়া করে তাদের দোয়া কবুল করে নেই।যখন আমার কাছে দোয়া করে।
(সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)
অত্র আয়াতে কারীমায় اذا دعان যখনই দোয়া করবে এর দ্বারা অন্যান্য সময়ের মত জানাযা নামাজের পরের সময়টিও অন্তর্ভুক্ত। যা এই আয়াতের হুকুম থেকে খালি নয়।
তাই, জানাযা নামাজের পরও দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি এই আয়াতে দৃষ্টিগোচর হয়। তাই জানাযা নামাজের পর দোয়া করা জায়িয।
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত,
النبي صلي الله عليه وسلم قال ما من عبد يبسط كفيه في دبر كل صلوة يقول اللهم الهي . . . . الا كان حقا علي الله ان الا يرد يديه خأئبتين
রাসূল (সা:) বলেন, যখন কোন বান্দা প্রত্যেক নামাজের পর উভয় হাত উঠিয়ে বলবে, আয় আল্লাহ পাক . . . . তখন আল্লাহ পাক উনার দায়িত্ব হয়ে যায়, তাকে খালি হাতে না ফিরানো। (আল আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইল লিইবনিস সিন্নী)।
এই হাদীস থেকে কি জানাযার নামাজ বাদ পরে যায়?
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত,
قال سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول اذا صليتم علي الميت فاخلصوا له الدعاء
রাসূল (সা:) বলেছেন, যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ে ফেল, তখন তার জন্য খাছ করে দোয়া কর। (আবু দাউদ শরীফ; ২/৪৫৬ পৃষ্ঠা)
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত,
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم علي جنازة فقال اللهم اغفر لحينا وميتنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وانثانا وشاهدنا وغائبنا اللهم من احييته منا فاحيه علي الايمان ومن توفيته منا فتوفه علي الاسلام اللهم لا تحرمنا اجره ولا تضلنا بعده
রাসূল (সা:) জনৈক ব্যক্তির জানাযার নামাজ আদায়ের পর এরূপ দোয়া করেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবিত ও মৃতদের ক্ষমা করুন।
আমাদের ছোট ও বড় , পুরুষ ও মহিলা, উপিস্থত ও অনুপস্থিত সকলকে ক্ষমা করুন।
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ঈমানের উপর জীবিত রাখুন এবং যাকে মৃত্যু দেন তাকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করুন।
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে বিনিময় হতে মাহরূম করবেন না এবং এরপর আমাদেরকে গোমরাহ করবেন না। (আবু দাউদ শরীফ; ২/১০০ পৃষ্ঠা )
এনায়া শহরে হেদায়া গ্রন্থে উল্লেখ আছে –
روي ان رسول الله صلي الله عليه وسلم وأي رجلا فعل هكذا بعد الفراغ من الصلاة فقال صلي الله عليه وسلم ادع استجيب لك
রাসূল (সা:) সালাতুল জানাযার পরে জনৈক ব্যক্তিকে এমত দোয়া করতে দেখে তাকে সম্বোধন করে বললেন দোয়া কর্।নিশ্চয়ই তোমার দোয়া কবুল করা হবে। (এনায়া শহরে হেদায়া)
অন্য হাদীসে আছে-
روي عن ابن عباس رضي الله تعالي عنهما وابن عمر رضي الله تعالي عنهما انهما فاتهما الصلاة علي الجنازة فلما حضرا مازادا علي الاستغفارله
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) ও হযরত ইবনে উমর (রা:) থেকে বর্ণিত। তাদের দু’জনের একদা জানাযা নামাজ ফউত হলো। যখন তারা (নামাজের পর মাইয়্যিতের কাছে) উপস্থিত হলেন, তখন মাইয়্যিতের জন্য অতিরিক্ত ইস্তিগফার করলেন।(আল মাবসূত লিস সারাখসী; ২য় জি: ৬৭ পৃষ্ঠা)
অন্য যায়গায় উল্লেখ আছে-
وعبد الله ابن سلام رضي الله عنه فاتته الصلاة علي جنازة عمر فلما حضر قال ان سبقتموني با الصلاة عليه فلا تسبقوني بالدعاء
হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রা:) আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর (রা:) এর জানাযার নামাজ পাননি। (জানাযার পর) তিনি যখন (সেখানে) উপস্থিত হলেন তখন বললেন, “তোমরা জানাযার নামাজ যদিও আমার পূর্বে পড়ে ফেলেছ, তবে দোয়ার ক্ষেত্রে আমার থেকে অগ্রগামী হয়ো না।
(আল মাবসূত লিস সারাখসী; ২য় জি: ৬৭ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম আবু হানীফা (রহ:) বলেন যে, দাফনের পরে নয় বরং দাফনের আগে সমবেদনা জ্ঞাপন করা সুন্নাত।কেননা, দাফনের আগে বিরহ-বেদনা অনেক বেশি থাকে।তাই (দাফনের পূর্বে) শোক প্রকাশ করবেন এবং মাইয়্যিতের জন্য দোয়া করবেন।(মিযানুল কুবরা নিশ শা’রানী, জায়াল হক্ব ১ম হিচ্ছা ২৬৪ পৃষ্ঠা)
নাফিউল মুসলিমীন কিতারে উল্লেখ আছে যে, মাইয়্যিতের জন্য দাফনের পূর্বে (অর্থাৎ জানাযা নামাজের পর) উভয় হাত উঠিয়ে দোয়া করা জায়িয।(জাওয়াহিরুন নাফীস শরহে দুররুল ক্বাইস; ১৩২ পৃষ্ঠা)
(নাফিউল মুসলিমীন)
✅ দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের অভিমত।
প্রশ্ন: জানাযা নামাজের পর ঈসালে সওয়ার প্রসঙ্গে: সওয়াল ৩১০৩): জানাযা নামাজের পর মৃতের ওলী উপস্থিত মুসল্লীদেরকে লক্ষ করে বলেন যে, আপনারা তিন বার সূরা ইখলাছ পড়ে মাইয়্যিতের উপর সওয়ার বখশিয়ে দিন। (এটা কিরূপ?)
জওয়াব: এরূপ করাতে কোন দোষ বা ক্ষতি নেই। সুতরাং জানাযা নামাজের পর যদি সকল লোক অথবা কিছু লোক সূরা ইখলাছ তিনবার পড়ে মাইয়্যিতের জন্য সওয়ার রিসানী করে তাতে কোনই ক্ষতি নেই। (অর্থাৎ জায়িয) (ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ ৫ম জি: ৪১৮ পৃষ্ঠা)
জানাযা নামাজের পর ঈসালে সওয়ার প্রসঙ্গে: সওয়াল ৩১৩৪) জানাযা নামাজের পর দাফনের পূর্বে কতক মুসল্লী (মৃতের প্রতি) সওয়ার রিসানী করার জন্য অল্প আওয়াজে একবার সূরা ফাতিহা, তিনবার সূরা ইখলাছ পড়া এবং জানাযা নামাজের ইমাম অথবা কোন নেক লোকের জন্যে (জানাযা নামাজের পরে) উভয় হাত উঠিয়ে সংক্ষিপ্ত দোয়া করা জায়িয কি না?
জওয়াব: এরূপ পদ্ধতিতে দোয়া করাতে কোন ক্ষতি নেই।
(ফতওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ, ৫ম জি: ৪৩৪, ৪৩৫)
অতএব উপরোক্ত বর্ণনার পরে প্রতিয়মান হয় যে কেহ যদি জানাযার নামাজ পর মৌখিকভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করে তবে তা সুন্নাত হিসেবে প্রমাণিত হবে।
আর সবাই মিলে দু’হাত তুলে মহান আল্লাহর কাছে মৃত ব্যক্তির ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তা আরো উত্তমতার দাবী
Wednesday, 5 May 2021
যাকাতের নিসাবের বিবরণ
যাকাতের নিসাবের বিবরণ
১. স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।
২. রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হল দু’শ দিরহাম। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯
আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত দিতে হবে।
৩. প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৭৯৭,৬৮৫১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৩৭
৪. যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩
কিছু দৃষ্টান্ত ক) কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রুপার মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
খ) কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর যাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
গ) কারো কাছে নিসাবের কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এরও যাকাত দিতে হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩
১৫. নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের যাকাত আনুপাতিক হারে দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২, ৭০৭৪, ৭০৭৫, ৭০৭৯, ৭০৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৯
৫. কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরো কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৮৭২,৭০৪০,৭০৪৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫,১০৩২৭
৬. বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৪২,৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২
#মাসিক_আলকাউসার » রমযান ১৪২৯ . সেপ্টেম্বর ২০০৮ ]
যাকাত নিয়ে পর্যালোচনা
যাকাত : গুরুত্ব ও মাসায়িল
.
-- মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ
.
যাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন। ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত। কুরআন মজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ۱۱۰
‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। -সূরা বাকারা : ১১০
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۵۶
‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’-সূরা নূর : ৫৬
সূরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আযীম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠۱۶۲
‘এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’
অন্য আয়াতে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-
خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ۱۰۳
‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’-সূরা তাওবা : ১০৩
এছাড়া কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সালাত ও যাকাতের পাবন্দী ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রশ্নই অবান্তর। কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি মু’মিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের কথা এসেছে অপরিহার্যভাবে।
কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত পুণ্যশীলদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের উল্লেখ এসেছে। (সূরা বাকারা ১৭৭)
মুমিনের বন্ধু কারা-এই প্রশ্নের উত্তরেও সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ শামিল রয়েছে। (সূরা মায়েদা : ৫৫)
‘সৎকর্মপরায়ণদের বৈশিষ্ট্য ও কর্মের তালিকায় সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ অনিবার্য। (সূরা লুকমান : ৪)
মসজিদ আবাদকারীদের পরিচয় জানতে চাইলেও সালাত-যাকাত তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। (সূরা তাওবা : ১৮)
কুরআন মজীদ কাদের জন্য হেদায়েত ও শুভসংবাদ দাতা-এর উত্তর পেতে চাইলেও সালাত-যাকাত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। (সূরা নামল : ৩)
ভূপৃষ্ঠে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের পরও মুমিনদের অবস্থা কী তা জানতে চাইলে সালাত-যাকাতই অগ্রগণ্য। (সূরা হজ্জ্ব : ৪১)
বিধর্মী কখন মুসলিম ভ্রাতৃত্বে শামিল হয়- এ প্রশ্নের উত্তরে তাওবার সঙ্গে সালাত-যাকাতও উল্লেখিত। (সূরা তাওবা : ১১)
দ্বীনের মৌলিক পরিচয় পেতে চাইলে সালাত-যাকাত ছাড়া পরিচয় দান অসম্ভব। (সূরা বাইয়েনা : ৫)
মোটকথা, এত অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সালাত-যাকাত প্রসঙ্গে কুরআন মজীদে এসেছে যে, এটা ছাড়া দ্বীন ও ঈমানের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। মুমিনের অন্তরের ঈমান সালাত-যাকাতের বিশ্বাসের ওপর এবং তার কর্মের ঈমান সালাত-যাকাতের কর্মগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর ভাষায়-
والزكاة أمر مقطوع به في الشرع يستغني عن تكلف الاحتجاج له، وإنما وقع الاختلاف في بعض فروعه، وأما أصل فرضية الزكاة فمن جحدها كفر.
‘যাকাত শরীয়তের এমন এক অকাট্য বিধান, যে সম্পর্কে দলীল-প্রমাণের আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। যাকাত সংক্রান্ত কিছু কিছু মাসআলায় ইমামদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও মূল বিষয়ে অর্থাৎ যাকাত ফরয হওয়া সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। যাকাতের ফরযিয়তকে যে অস্বীকার করে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।’ -ফাতহুল বারী ৩/৩০৯
.
উপরের আলোচনা থেকে যাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায় যে, ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা যাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত-তার শিকার! যাকাতের সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদেরকে যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তা-ও কুরআন মজীদে বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ؕ سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ لِلّٰهِ مِیْرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ۠۱۸۰
আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত। -সূরা আলইমরান : ১৮০
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তার যাকাত দেয়নি কিয়ামতের দিন তা বিষধর স্বর্পরূপে উপস্থিত হবে এবং তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার উভয় অধরপ্রান্তে দংশন করবে এবং বলবে, আমিই তোমার ঐ ধন, আমিই তোমরা পুঞ্জিভূত সম্পদ।’ -সহীহ বুখারী
.
এই গুরুত্বপূর্ণ ফরয আদায়ের জন্য কর্তব্য হল এ বিষয়ের শরয়ী মাসআলাগুলোর যথাযথ জ্ঞান লাভ করা। এ উদ্দেশ্যে যাকাতের মৌলিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসায়েল এই প্রবন্ধে ফিকহ ও হাদীসের কিতাবের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হবে। তবে সকল মাসআলা এখানে আলোচিত হয়নি। বিস্তারিত জানার জন্য ফিকহ ও ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির সাহায্য নিতে হবে। যাকাত বিষয়ক সমসাময়িক মাসায়েল জানার জন্য ‘আলকাউসার’ অক্টোবর-নভেম্বর ’০৫ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘রোযা ও যাকাত : গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাসআলা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি দ্রষ্টব্য।
.
যাদের উপর যাকাত ফরয হয়
.
১. আগেই বলা হয়েছে যে, যাকাত ইসলামের একটি অপরিহার্য ইবাদত। এজন্য শুধু মুসলিমগণই যাকাত আদায়ের জন্য সম্বোধিত হন। সুস্থমস্তিষ্ক, আযাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরয হয়ে যায়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২
কাফির যেহেতু ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না তাই তাদের ওপর যাকাত আসে না।
এছাড়া অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিমের ওপর এবং নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপরও যাকাত ফরয নয়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬১-৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৯ রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮
.
যেসব জিনিসের উপর যাকাত ফরয হয়
.
২. সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হয়।
৩. সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১
৪. অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হয়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২
৫. জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৬৪৮,১০৬৪৯,১০৬৫১
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরয নয়।-কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮
৬. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরয হয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২
তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরয হয়।
৭. টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরয হয়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২,৩০০
৮. হজ্বের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরয হবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫
৯. দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরয। -সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩
১০. ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪
.
যে সব জিনিসের ওপর যাকাত ফরয নয়
.
১১. নিজ ও পোষ্য পরিজনের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বাহনের ওপর যাকাত ফরয নয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৯-২০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫
১২. গৃহের আসবাবপত্র যেমন খাট-পালঙ্ক, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি এবং গার্হস্থ সামগ্রী যেমন হাড়ি-পাতিল, থালা-বাটি, গ্লাস ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তা যত উচ্চমূল্যেরই হোক না কেন।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৯৩,৭১০২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫
তবে এক্ষেত্রে মনে রাখাতে হবে য, যেসব বস্ত্তর উপর যাকাত আসে না সেগুলোতে যদি সোনা-রুপা সংযুক্ত থাকে তাহলে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে এই সংযুক্ত সোনা-রুপারও যাকাত ফরয হবে।
১৩. পরিধেয় বস্ত্র, জুতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশিও থাকে তবুও তাতে যাকাত ফরয হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫
১৪. দোকান-পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন আসবাবপত্র যা ব্যবসাপণ্য নয়, তার ওপর যাকাত ফরয নয়। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেসব ফার্নিচার রাখা থাকে তা যেহেতু বাণিজ্যদ্রব্য তাই এসবের ওপর যাকাত ফরয হবে।
১৫. ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দিলে তাতেও যাকাত ফরয নয়। তবে এসব ক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ যে অর্থ পাওয়া যাবে তার ওপর মাসআলা নং ৬ প্রযোজ্য হবে।
১৬. ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর-বাড়ি বা অন্য কোনো সামগ্রী যেমন ডেকোরেটরের বড় বড় ডেগ, থালা-বাটি ইত্যাদি ক্রয় করলে তার ওপরও যাকাত ফরয নয়। তবে ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের উপর যাকাত আসবে।
.
ঋণ ও পাওনা প্রসঙ্গ
.
১৭. কারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয নয়। -মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সকল ঋণের ক্ষেত্রে নয়। ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে যাকাত ফরয হবে, অন্যথায় নয়। কিন্তু যে সকল ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে যাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৮৭
১৮. বিয়ে-শাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা। কিন্তু এই পাওনা স্বামীর ওপর যাকাত ফরয হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় এই ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না; বরং সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/২৬১
উল্লেখ্য যে, বিনা ওযরে মোহরানা আদায়ে বিলম্ব করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
১৯. অন্যকে যে টাকা কর্জ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলিতভাবে নিসাব পূর্ণ করলে তারও যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১১-৭১১৩,৭১২১,৭১২৩,৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৮৪-৪৮৬
২০. পাওনা উসূল হওয়ার পর ওই টাকার যাকাত আদায় করা ফরয হয়। তার আগে আদায় করা জরুরি নয়, তবে আদায় করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৭, ১০৩৫৬
২১. উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসূল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের যাকাত আদায় করা ফরয হয়। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১৬,৭১২৯,৭১৩১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৬,১০৩৫৬
২২. স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা নিসাব পরিমাণ হলেও তা স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে যাকাত ফরয হয় না। হস্তগত হওয়ার পর যদি আগে থেকেই ঐ মহিলার কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে এখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে।
২৩. আর যদি স্ত্রী মোহরানা পাওয়ার আগ থেকেই নিসাব পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক থেকে থাকে তাহলে এই সদ্যপ্রাপ্ত মোহরানা অন্যান্য টাকা-পয়সা বা সম্পদের সাথে যোগ হবে এবং সেই সব পুরানো সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে।
.
কীভাবে যাকাত দিতে হবে
.
কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা তার অনুগত বান্দাদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন-
وَ الَّذِیْنَ یُؤْتُوْنَ مَاۤ اٰتَوْا وَّ قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ اَنَّهُمْ اِلٰی رَبِّهِمْ رٰجِعُوْنَۙ۶۰
আর তারা যা কিছু দান করে এভাবে দান করে যে, তাদের হৃদয় ভীতকম্পিত থাকে (একথা ভেবে) যে, তারা তাদের রবের নিকটে ফিরে যাবে।’ -সূরা মুমিনূন : ৬০
এক আয়াতে মু’মিনদের সম্বোধন করে বলেন-
وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلِاَنْفُسِكُمْ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْنَ اِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللّٰهِ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ یُّوَفَّ اِلَیْكُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ۲۷۲
... এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ব্যয় করে থাক। যে ধনসম্পদ তোমরা ব্যয় কর তার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরোপুরিভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। -সূরা বাকারা : ২৭২
অন্য এক আয়াতে ঈমানদারদের সতর্ক করা হয়েছে তারা যেন অসংযত আচরণের মাধ্যমে তাদের দান-সদকাকে ব্যর্থ না করে দেয়। ইরশাদ হয়েছে-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُبْطِلُوْا صَدَقٰتِكُمْ بِالْمَنِّ وَ الْاَذٰی ۙ كَالَّذِیْ یُنْفِقُ مَالَهٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَ لَا یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা অনুগ্রহ ফলিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-সদকাকে বিনষ্ট করো না। ওই লোকের মতো যে লোক দেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয় করে আর ঈমান রাখে না আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর।-সূরা বাকারা : ২৬৪
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
واحسنوا ان الله يحب المحسنين
কুরআন মজীদের উপরোক্ত আয়াতসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিনয়, খোদাভীতি, ইখলাস ও আখলাকে হাসানা হল দান-সদকা আল্লাহর দরবারে মকবুল হওয়ার অভ্যন্তরীণ শর্ত। এসব বিষয়ে যত্নবান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়মতো যাকাত আদায় করে দেওয়া কর্তব্য।
২৪. বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যাকাত আদায়ে বিলম্ব করা যায় না। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَكُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ۱۰
আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। অন্যথায় মৃত্যু এল সে বলবে হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরও কিছু কালের অবকাশ কেন দিলে না! তাহলে আমি সদাকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’-সূরা মুনাফিকূন : ১০
এক্ষেত্রে করণীয় হল, নিসাবের মালিক হওয়ার সময়টি সামনে রাখা এবং ঠিক তার এক বছর পর সেই সময়েই যাকাত আদায় করা। নির্দিষ্ট সময়টি জানা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো মাসের অপেক্ষায় বসে থাকা উচিত নয়।
২৫. যে দিন এক বছর পূর্ণ হবে সেদিনই যাকাত আদায় করা ফরয হয়। এরপর যখনই যাকাত আদায় করুক সে পরিমাণই আদায় করতে হবে যা সেই দিন ফরয হয়েছিল। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৫৯
২৬. বছর পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্রবর্ষের হিসাব ধর্তব্য, সৌর বর্ষের নয়।
.
#নিয়তকরা
.
২৭. যাকাত আদায় হওয়ার জন্য যাকাত প্রদানের নিয়ত করা জরুরি। -রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮
২৮.একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই যাকাত প্রদান করতে হবে। জনসমর্থন অর্জনের জন্য, লোকের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কিংবা অন্য কোনো জাগতিক উদ্দেশ্যে যাকাত দেওয়া হলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।-সূরা বাক্বারা ২৬৪
যাকাতের উপযুক্ত খাতে যেমন ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করতে হবে। এটাই মূল নিয়ম। তবে নিজের সম্পদ থেকে যাকাতের টাকা পৃথক করে রাখলে পৃথক করার সময়ের নিয়তই যথেষ্ট হবে। এখান থেকে ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার সময় নতুন নিয়ত না করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে।-রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮
২৯. যাকাতের উদ্দেশ্যে টাকা পৃথক করে রাখলেও মালিক তা প্রয়োজনে খরচ করতে পারবে। তবে পরে যাকাত আদায়ের সময় যাকাতের নিয়ত করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৯১, ১০৩৯২
৩০. যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কিছু টাকা দান করা হয়েছে, কিন্তু দান করার সময় দানকারীর মনে যাকাতের নিয়ত ছিল না তো গ্রহীতার কাছে সেই টাকা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যাকাতের নিয়ত করলে যাকাত আদায় হবে। তদ্রূপ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে কোনো খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হলে গ্রহীতা তা খেয়ে ফেলার বা বিক্রি করে দেওয়ার আগে যাকাতের নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হবে। এরপরে যাকাতের নিয়ত করলে যাকাত হিসাবে আদায় হবে না।-আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮-২৬৯
৩১. যাকাতের টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ফকীর-মিসকীনকে দেওয়ার আগেই তা চুরি হয়ে গেল বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেল তাহলে যাকাত আদায় হয়নি। পুনরায় যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৯৩৬,৬৯৩৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৩১-৫৩২; রদ্দুল মুহতার ২/২৭০
৩২. যে সম্পদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে তার চল্লিশ ভাগের একভাগ (২.৫০%) যাকাত দেওয়া ফরয। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে শতকরা আড়াই টাকা হারে নগদ টাকা কিংবা ওই পরিমাণ টাকার কাপড়-চোপড় বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও যাকাত আদায় হবে। -সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৩০-২২৩৩; সুনানে আবু দাউদ হাদীস ১৫৭০-১৫৭২; সুনানে তিরমিযী হাদীস ৬২৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস ১৮০৩ ; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৩৩-৭১৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৩৯-১০৫৮১
৩৩. যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয় স্বেচ্ছায় তার চেয়ে বেশি দিয়ে দিলেও অসুবিধা নেই। এতে যাকাত আদায় এবং বাড়তি দান দু’টোরই ছওয়াব পাওয়া যাবে।- মুসনাদে আহমদ হাদীস ২০৭৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৯০৭
৩৪. যাকাত গ্রহণকারীকে একথা জানানোর প্রয়োজন নেই যে, তাকে যাকাত দেওয়া হচ্ছে। যেকোনোভাবে দরিদ্র ব্যক্তিকে যাকাতের মাল দেওয়া হলে মালিক যদি মনে মনে যাকাতের নিয়ত করে তাহলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে।-রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮
৩৫. অন্যের পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় সে ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাত আদায় হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/২৬৯
৩৬. গৃহকর্তা যদি ঘরের লোকদেরকে যাকাত দেওয়ার অনুমতি দিয়ে রাখেন তাহলে তারা যাকাতের নিয়তে কাউকে কিছু দিলে তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে। আর যদি পূর্বাগ্রে অনুমতি না দেওয়া থাকে আর ঘরের লোকেরা যাকাত হিসেবে কিছু দান করে তাহলে যাকে দান করা হল সে সেই অর্থ খরচ করার আগেই যদি গৃহকর্তা অনুমতি পাওয়া যায় তাহলেও তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে। অন্যথায় যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় আদায় করতে হবে।
৩৭. কোনো দরিদ্র ব্যক্তির কাছে কারো কিছু টাকা পাওনা আছে। এখন সে যদি যাকাতের নিয়তে পাওনা মাফ করে দেয় তাহলে যাকাত আদায় হবে না। তাকে যাকাত দিতে হলে নিয়ম হল, প্রথমে তাকে যাকাত প্রদান করা এরপর সেখান থেকে ঋণ উসূল করে নেওয়া।-আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০; রদ্দুল মুহতার ২/২৭১
ঋণগ্রস্তকেই যাকাতের টাকা প্রদান করা উত্তম। কেননা এতে তাকে ঋণের দায় থেকে মুক্ত করা হয়। আর কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি যদি যাকাত থেকে গণ্য করা নিয়ত ছাড়াই ঋণগ্রহীতার ঋণ ক্ষমা করে দেয় তবে তো কথাই নেই।-রদ্দুল মুহতার ২/২৭১
.
#যাদেরকে_যাকাত দেওয়া যাবে
.
কুরআন মজীদে যাকাতের খাত নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। এখাত ছাড়া অন্য কোথাও যাকাত প্রদান করা জায়েয নয়। ইরশাদ হয়েছে-
اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ۶۰
যাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও যাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, যাদের মনোরঞ্জন উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা তাওবা : ৬০
৩৮. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
৩৯. যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
৪০. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে যাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৫৬
এই ব্যক্তির উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।
৪১. যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই এই ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৩৬
৪২. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
৪৩. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েয, এর বেশি নয়।
৪৪. যাকাতের টাকা এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি যাকাতের উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে, যাকাতের টাকা দেওয়া হলে লোকটি সে টাকা গুনাহের কাজে ব্যয় করবে তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়।
৪৫. যাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বা অন্য কোনো অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া হলে যাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান-খায়রাত অমুসলিমকেও করা যায়। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৬৬,৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫১৬-৫১৭
৪৬. যাকাতের টাকা যাকাতের হক্বদারদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। যাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করা, কুপ খনন করা, বিদ্যুত-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
৪৭. যাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েয নয়।
মোটকথা, যাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও যাকাত আদায় হবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০
৪৮. যাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হল, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এরূপ না করে যদি যাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে যেমন, তার ঘর সংস্কার করে দিল, টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করল তাহলে যাকাত আদায় হবে না।-রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭
নিয়ম হল, যাকাতের টাকা দরিদ্র ব্যক্তির মালিকানায় দিয়ে দেওয়া। এরপর যদি সে নিজের খুশি মতো এসব কাজেই ব্যয় করে তাহলেও যাকাতদাতার যাকাত আদায় হয়ে যাবে।
৪৯. আত্মীয়-স্বজন যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয় তাহলে তাদেরকে যাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা এবং অন্যান্য আত্মীয়দেরকে যাকাত দেওয়া যাবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১৬০,৭১৬১,৭১৬৪,৭১৭১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪২-৫৪৬
দেওয়ার সময় যাকাতের উল্লেখ না করে মনে মনে যাকাতের নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম।
৫০. নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যারা তার জন্মের উৎস তাদেরকে নিজের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়।-রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮
৫১. বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে যাকাত দেওয়া জায়েয যদি তারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে যাকাতের অর্থ দিলে যাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অংক পাবে। এক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা যাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।
৫২. কোনো লোককে যাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে যাকাত দেওয়া হল, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় যাকাত দিতে হবে না। তবে যাকে যাকাত দেওয়া হয়েছে সে যদি জানতে পারে যে, এটা যাকাতের টাকা ছিল সেক্ষেত্রে তার ওপর তা ফেরৎ দেওয়া ওয়াজিব।
৫৩. যাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, যাকাত-গ্রহীতা অমুসলিম ছিল তাহলে যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় যাকাত দিতে হবে।
৫৪. অপ্রাপ্তবয়স্ক (বুঝমান) ছেলে-মেয়েকে যাকাত দেওয়া যায়।-রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১
.
#মাসিক_আলকাউসার » রমযান ১৪২৯ . সেপ্টেম্বর ২০০৮
معني اللغوي الاستوي
1.اللغوي السلفي الأديب أبو عبد الرحمن عبد الله بن يحيى بن المبارك [ت237هـ]، كان عارفا باللغة والنحو، قال في كتابه "غريب ...
-
হানাফী ও আহলে হাদীসদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ নামাযের মাসআলা ও তার প্রামাণিক পর্যালোচনা بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين- والص...
-
الآية (( لا خوف عليهم ولا هم يحزنون)) وردت في القرآن الكريم 14 مرة 6 منها في سورة البقرة وجاء هذا التكرار بهدف تثبيت العقيدة وبث الطمأنينة ف...
-
الضرب وسيلة مفيدة ، لإدراك غاية حميدة، فإذا أدراك المعلم أنّ مقصود الضرب حصول العلم و الادب: توفي الضرب المبرِّح الذي يلحق بالصبي الإتلاف و ...